Survey Research (জরিপ পদ্ধতি )

Survey Research

 জরিপ পদ্ধতি বর্ণনামূলক,ব্যাখ্যামূলক ও উদঘাটনমূলক গবেষণার উদ্দ্যেশে ব্যবহৃত হয়। কদাচিৎভাবে এটি কোন একক ব্যক্তি জনগণের (Unit of analysis) উপর করা হয়। যদিও এই পদ্ধতি অন্যান্য গবেষণা একক -এ ব্যবহৃত হয়।

জরিপ পদ্ধতি হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি। গবেষক প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের জন্য এবং বৃহৎ পরিমাণ জনগণকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে বর্ণনা করার জন্য এ পদ্ধতির ব্যবহার বেশি করে থাকে। এখানে সতর্কভাবে সম্ভাবনা নমুনার মাধ্যমে কাজ করা হয়। এই সম্ভাবনা নতুন একক বৃহৎ পরিমাণ জনগণকে প্রকাশ করে বা প্রতিনিধিত্ব করে এবং এখানে মানসম্মত প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সতর্কভাবে একই কাঠামো  বদ্ধ প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে সকল উত্তরদাতার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপ পদ্ধতি সমাজের কোন সমস্যা নিয়ে করা হয়। এখানে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করে। অর্থাৎ কোন বৃহৎ জনগোষ্ঠীর উপর গবেষণা করার জন্য জরিপ পদ্ধতি নির্বাচন করা সঠিক।

ÿ Guidelines for asking questions:

সামাজিক গবেষণায় চলক সমূহ কার্য উপযোগীকরণ করা হয় যখন গবেষক জনগণের নিকট থেকে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করার জন্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে। আবার কিছু সময় প্রশ্নপত্র লিখে উত্তরদাতাদের নিকট প্রদান করা হয় তা পূরণ করে ফেরত দেবার জন্য।

 

কিছু ক্ষেত্রে গবেষককে সাধারণ গবেষণার প্রশ্ন কাঠামো উত্তর সংগ্রহে সাহায্য করে থাকে। এর মাধ্যমে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা যায় বা ভুল তথ্য সংগ্রহ থেকে বিরত থাকা যায়। জরিপ পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র জড়িত। তাই প্রশ্নপত্রে এমনভাবে নকশা করতে হবে যাতে তা বিশ্লেষণের ক্ষেত্র  উপকারী হয়।

প্রশ্ন জিঙ্গাসা করার ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা আছে সেগুলো উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা করা হলো :

1. Choice appropriate questions form:

প্রশ্নপত্র তৈরী শুরুতে কিছু বিষয় চলে আসে যার মধ্যে প্রশ্নপত্র নির্বাচন করা হয়। এই বিষয়ের মধ্যে আছে-

ÌQuestions and statement ও

ÌOpen-ended and Close-ended questions.

 

Questions and statement:

সাধারণ ভাবে প্রশ্নপত্র বলতে একগুচ্ছ প্রশ্নকে বুঝায় যার মাধ্যমে বিভিন্ন উত্তর এবং উক্তি বেরিয়ে আসে। তাই গবেষণার ক্ষেত্রে গবেষক এমন পদ্ধতি ব্যবহার করেন যার সাহায্যে গবেষক প্রশ্নেরের পাশাপাশি উত্তরদাতার বিভিন্ন উক্তি বের করে আনতে সক্ষম হন। যা তিনি গবেষণার ক্ষেত্রে উত্তর এবং উক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

যেমন- উত্তরদাতাকে যদি বলা হয়, বাংলাদেশকে ৮টি প্রদেশে বিভক্ত করা উচিৎ এর সাথে আপনি একমত না কি দ্বিমত? এখানে যেমন তার মতামত জানা যাবে ঠিক তেমনি এটি তার উক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

 

Open-ended & Close-ended questions:

গবেষক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সময় তার দুটো উপায় থাকে, সে ১. Open-ended ২. Close-ended প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে।

 


Open-ended:

এ ক্ষেত্রে গবেষক এমন প্রশ্নের মাধ্যমে উত্তরদাতার কাছে প্রশ্ন করে যে উত্তরদাতাকে উত্তর প্রদানে কোন কাঠামো অনুসরণ করতে হয় না। উত্তরদাতা লিখিত বা বর্ণনা মূলক উত্তর প্রদান করতে পারে। এখানে উত্তরদাতা তার নিজের মতামত তুলে ধরতে পারে।

যেমন: বাংলাদেশে পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পর্কে আপনার ধারণা/অনুভূতি কী? এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য প্রশ্নপত্রে কিছু ফাঁকা জায়গা রাখা হলো এবং উত্তরদাতা সেখানে উত্তর লিখবেন।

 

Close-ended question:

এ ক্ষেত্রে উত্তরদাতাকে উত্তর প্রদানে কাঠামো প্রদান করা হয়। অর্থাৎ উত্তর দাতাকে প্রশ্ন করা হয় এবং ঐ প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর লিখে বা জানিয়ে দেওয়া হয়। উত্তর দাতা ঐ সম্ভাব্য উত্তর থেকে নিজের পছন্দের উত্তরটা প্রদান করে থাকে। যেমন: বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘটনা কী? তখন প্রশ্নে যদি উত্তর যথাক্রমে ১. স্বাধীনতা অর্জন, ২. গণতন্ত্র, ৩. ভাষা আন্দোলন ও ৪. ক্রিকেটে বাংলাদেশের সফলতা। উত্তরদাতা এর মাঝে থেকে নিজের উত্তরটা প্রদান করে।

 

Open-ended question এর অসুবিধা হচ্ছে ব্যখ্যা বিশ্লেষণের সময় সমস্যা সৃষ্টি হয়। আর Close-ended question এর সমস্যা হচ্ছে অনেক সময় উত্তর দাতার সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায় না।

 

2. Make items clear:

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে প্রশ্নপত্রের বিষয়গুলো পরিষ্কার হওয়া ও দ্বার্থবধোক না হওয়া উচিৎ। এমনভাবে প্রশ্নপত্র জিজ্ঞাসা করতে হবে যাতে উত্তরদাতা প্রশ্ন সম্পর্কে পরিষ্কার বুঝতে পারে। মনে রাখতে হবে যে উত্তরদাতার কাছে যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হবে উত্তরদাতার মনে যেন সে প্রশ্ন সম্পর্কে কোন জিজ্ঞাসা না আসে। কারণ উত্তরদাতা প্রশ্ন বুঝতে না পারলে সঠিক উত্তর প্রদানে ব্যাঘাত ঘটবে।

যেমন- উত্তরদাতাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, শান্তি পরিকল্পনা সম্পর্কে আপনার মতামত কি? তাহলে তার মনে প্রশ্ন আসতে পারে কোন শান্তি পরিকল্পনা?

 

3. Avoid double-barreled questions:

সধারণত গবেষক উত্তরদাতাকে একক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে থাকে। যার আসলে অনেকগুলো অংশ থাকতে পারে। যখন গবেষক ব্যক্তিগতভাবে জটিল প্রশ্ন সনাক্ত করেন তখন এ ধরণের ঘটনা ঘটতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ: উত্তরদাতার কাছে জানতে চাওয়া হলো যে, আপনি নিম্নক্ত উক্তির সাথে সম্মতি না কী অসম্মতি প্রদান করেন, যে “আমেরিকার মহাকাশ কর্মসূচী বাদ দিয়ে তা দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা উচীত?” এ রকম প্রশ্নের উত্তরে কিছু উত্তর দাতা সম্মতি প্রদান করবে, আবার কিছু উত্তরদাতা অসম্মতি প্রদান করবে বা কিছু উত্তরদাতা প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে চাইবে না। আবার কিছু উত্তরদাতা বলবে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণার কাজ বাদ দিয়ে ঐ অর্থ কর দাতাদের ফেরত দিতে। কেউবা মহাকাশ গবেষণার কাজ  করার পাশাপাশি আভ্যন্তরীণ কাজে ও অধিক পরিমাণ অর্থ ব্যবহার করতে হবে ইত্যাদি উত্তর প্রদান করতে পারে।এ রকম উত্তর পাওয়াতে গবেষণায় সমস্যা হবে। তাই এরকম প্রশ্ন বাদ দিতে হবে।

 

4. Respondents must be competent to answer:

উত্তর দাতাকে এমন বিষয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে যেন উত্তরদাতা প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম হয়। যেমন: কিছু পিতা-মাতার কাছে জিজ্ঞাসা করা হল কত বছর বয়সে তাদের প্রথম সন্তান কথা বলতে শেখে। এতে দেখা যায় অধিকাংশ পিতা-মাতাই সঠিক উত্তর প্রদান করতে পারে না। আবার, কোন গবেষণায় উত্তরদাতারা হচ্ছেন অশিক্ষিত। তাদেরকে প্রশ্ন করা হয় যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কী ধরণের শিক্ষা প্রদান করা হয়? তাহলে ঐ উত্তরদাতারা উত্তর প্রদান করতে পারবে না। কারণ তাদের সামর্থ্য নাই।

 

5. Respondents must be willing to answer:

সাধারণত যে সকল বিষয় লোকজন বলতে চায় না সে সকল বিষয়ে আমরা জনতে আগ্রহী থাকি।যেমন: চীনের জনগনের কাছ থেকে অকপট উত্তর পাওয়া যায় না। উত্তরদাতাদের এমন প্রশ্ন করতে হবে যার উত্তর প্রদানে উত্তরদাতাদের ইচ্ছা থাকে। যদিও প্রশ্নটি গবেষণার সাথে জড়িত তার পরেও এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে যার উত্তর প্রদানে গবেষকের ইচ্ছা থাকবে। যেমন:কোন গবেষণায় উত্তরদাতাদের জিজ্ঞাসা করা হলো যে,আপনি ঘুষ খান কি না? তাহলে উত্তরদাতা এরকম প্রশ্নের উত্তর দিবে না।

 

6. Questions should be relevant:

উত্তরদাতাদের কোন গবেষণার উত্তর সংগ্রহ করার জন্য অনেকগুলো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়ে থাকে। এই প্রশ্নগুলো ধারাবাহিক হতে হবে। অর্থাৎ একটার সাথে আরেকটার সম্পর্ক থাকবে। যেমন: কোন গবেষণার উত্তর দাতাদের জিজ্ঞাসা করা হল আপনার মাসিক আয় কত? এরকম প্রশ্নের পরে সাধারণত জানতে চাওয়া উচিত মাসিক ব্যয় কত? কিন্তু প্রশ্ন যদি করা হয় আপনি কি টি.ভি দেখেন? তাহলে ঐ প্রশ্নগুলো ধারাবাহিক হবে না। একটার সাথে আরেকটার সম্পর্ক থাকবে না।

 

7. Short items are best:

কোন বিষয়ে সুস্পষ্ট ভাবে জানার জন্য একজন গবেষক দ্বার্থবোধকহীন ও যথাযথ প্রশ্নপত্র তৈরী করতে গিয়ে, প্রশ্নপত্র দীর্ঘ ও জিটিল করে ফেলে যা একজন গবেষককে পরিহার করা উচিৎ। সভাবতই উত্তরদাতা দ্রুত প্রশ্নপত্র পড়ে এবং দ্রুততার সাথে উত্তর প্রদান করে। প্রশ্নপত্র এমন ভাবে তৈরী করতে হবে যেন একজন  উত্তরদাতা তা দ্রুততার সাথে পড়তে পারে, এক বারেই যেন বুঝতে পারে এবং কোন জটিলতা ছাড়া উত্তর প্রদান করতে পারে।

 

8. Avoid negative items:

উত্তরদাতাদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সময় নেতিবাচক বিষয়গুলো বাদ দিতে হবে। এতে উত্তরদাতা যেমন প্রেশ্নের উত্তর প্রদানে আগ্রহী হয় তেমনি গবেষণার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।

যেমন: যদি কোন গবেষণায় উত্তরদাতাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয় যে, বাংলাদেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিৎ নয়। এর সাথে আপনি একমত না দ্বিমত ? এ ধরণের প্রশ্নে উত্তরদাতার কাছ থেকে সাধারণত সঠিক উত্তর পাওয়া যায় না। তবে উত্তরদাতার কাছে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে, বাংলাদেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিৎ। এর সাথে আপনি একমত না দ্বিমত ? সেক্ষেত্রে সঠিক উত্তর পাওয়া যেতে পারে।

 

9. Avoid biased items and terms:

পক্ষপাতদৃষ্ট প্রশ্ন বলতে বোঝায় প্রশ্নের এমন একটি অংশ যা উত্তরদাতাকে বিশেষ ভাবে উত্তর প্রদান করতে উৎসাহিত করে। গবেষণার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সময় এমন ধরণের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে যাতে তা পক্ষপাতদৃষ্ট না হয়।

যেমন: এরশাদের লংমার্চ কি আপনি সমর্থন করেন? এ ধরণের প্রশ্নে উত্তরদাতারা অনেক সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও বলবে হ্যাঁ আমি সমর্থন করি। আবার সরাসরি না বুঝে বলবে সমর্থন করি না। তাই প্রশ্নপত্রে পক্ষপাতদৃষ্ট হয় এমন প্রশ্ন করা যাবে না।

 

Questionnaire Construction

 

সামাজিক গবেষণায় অনেক ধরণের প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সামাজিক গবেষণায় জরিপ পদ্ধতিতে কাঠামোগত প্রশ্নপত্রের প্রয়েজন হয়। তাছাড়া পরীক্ষামূলক বা উদঘাটনমূলক গবেষণায়, মাঠ পর্যায়ে গবেষণায় ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করার কার্যাবলীতে প্রশ্নপত্র ব্যবহৃত হয়। এই জন্য প্রশ্নপত্র গঠন গবেষকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক জ্ঞান। নিম্নে প্রশ্নপত্র গঠন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

 

1. General questionnaire formation:

একটি সুন্দর প্রশ্নপত্রের কাঠামোতে প্রশ্নপত্রে যে শব্দ ব্যবহার করে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হবে সেদিকে লক্ষ্য রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন অনুপযুক্ত প্রশ্নপত্র উত্তরদাতাদের প্রশ্ন বুঝতে বাঁধা প্রদান করে, দ্বৈত্ব মত সৃষ্টি করে, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে বাঁধা প্রদান করে, আবার উত্তরদাতাদের প্রশ্নপত্রের বাহিরে চলে যেতে বাধ্য করে।

সধারন নিয়মে একটি প্রশ্নপত্রের প্রশ্নগুলোকে উত্তরদাতার সামনে মেলে ধরতে হবে এবং প্রশ্নপত্রটি অবশ্যই সুশৃঙ্খল হতে হবে। অনভিঙ্গ গবেষকরা তাদের গবেষণার প্রশ্নপত্র যাতে দীর্ঘ না হয় সে জন্য কতকগুলো প্রশ্ন একটা লাইনে এক সাথে করে থাকে এবং অল্প কিছু পৃষ্ঠা ব্যবহার করার চেষ্টা করে। একটি লাইনে একের অধিক প্রশ্ন দেবার ফলে অনেক উত্তরদাতা একই সাথে দুইটা প্রশ্নের উত্তর দেবার সময় দ্বিতীয় প্রশ্নটি বাদ দিয়ে ফেলে বা উত্তর প্রদান করে না।

 

সুতরাং প্রশ্নপত্র এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যনো তা সংক্ষিপ্ত না হয়। প্রশ্নপত্রে কোন প্রকার শব্দসংক্ষেপ ব্যবহার করা যাবে না, যেমন- BCB, IMF ইত্যাদি। প্রশ্নগুলো যতটা সম্ভাব ছোট ছোট করে উত্তরদাতার সামনে তুলে ধরতে হবে।

 

2. Format for respondents:

সাধারণত উত্তর দাতারা ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নপত্র পছন্দ করে না। তারা প্রশ্নপত্রে বিভিন্ন ধরণের ছক পছন্দ করে। উত্তর দাতারা চায় অল্প সময়ের মধ্যে কোন নির্দিষ্ট বক্স বা ছকে টিক চিহ্ন (P) দিয়ে উত্তর প্রদান করতে। যেমন:£ ™ ইত্যাদি রকমের ছক বা চিহ্ন। Close ended question এর ক্ষেত্রে গবেষক ১,২,৩,৪ এমন সংখ্যা ব্যবহার করে সঠিক উত্তর বৃত্তের দ্বারা ঘিরে দিতে বলতে পারেন। উত্তরদাতাকে এ বিষয়ে সঠিক নির্দেষোনা না দিলে উত্তরদাতা সঠিক উত্তরের সংখ্যাটিতে  cross* চিহ্ণ দিতে পারে এতে গবেষকের তথ্য প্রক্রিয়াকরন বাধার সমূখীন হয়।

 

3. Contingency questions:

            যখন কোন গবেষক উত্তরদাতাকে কোন প্রশ্ন জিঙ্গাস করার পর, উত্তরদাতা যে উত্তর প্রদান করে সে উত্তর গবেষকে আবারও প্রশ্ন করতে আগ্রহীকরে তোলে। এই পরবর্তী প্রশ্নকে  আকষ্মিক প্রশ্ন বা Contingency questions বলে।

 

যেমন,

কোন গবেষণার উত্তর দাতাদের জিজ্ঞাসা করা হল যে, আপনি কী কখনও Marijuana গ্রহণ করেছেন?

উত্তর:       [  ] Yes

[  ] No

যদি উত্তর Yes হয় তাহলে আবার প্রশ্ন করা যেতে পারে,

কতবার Marijuana গ্রহণ করেছেন?

উত্তর:       [  ] Once

[  ] 2 to 5 times

[  ] 6 to 10 times

[  ] More than 10 times

এই একটা প্রশ্নের পরে ঐ প্রশ্নের সাথে সম্পর্ক রেখে আরও প্রশ্ন করার পদ্ধতি হচ্ছে Contingency।

4. Matrix questions:

অনেক সময় উত্তরদাতাদের পৃথক পৃথক প্রশ্ন করা হয় কিন্তু এ ক্ষেত্রে একই ধরণের উত্তর কাঠামো ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিকে Matrix questions বলা হয়। অর্থাৎ এখানে একাধিক প্রশ্নের উত্তর কাঠামো একই রকমের হয়।

 

যেমন: নিম্নের প্রশ্নপত্র গুলোতে বা ধারণাগুলোতে যদি Strongly Agree করেন তাহলে (SA) তে টিক দেন,আর যদি Agree করেন তাহলে (A) তে, আর যদি Disagree করেন তাহলে (D), আর Strongly Disagree হলে (SD) তে, এবং সিদ্ধান্ত না দিতে চাইলে (U) তে টিক দেন।

 

   

SA

A

D

SD

U

 
ক. বাংলাদেশকে ৮টি প্রদেশে বিভক্ত করা উচিৎ …….  

[  ]

 

[  ]

 

[  ]

 

[  ]

 

[  ]

 
খ. বাংলাদেশের পুলিশকে অস্ত্রবিহীন করা উচিৎ ……. [  ] [  ] [  ] [  ] [  ]
গ. সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করা উচিৎ ……… [  ] [  ] [  ] [  ] [  ]  

 

এ রকম কাঠামোতে উত্তরদাতা শুধু একবার প্রশ্নপত্র বুঝে উত্তর প্রদান করতে থাকেন।

 

5. Ordering items in a questionnaire:

যে পদ্ধতির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র উপস্থাপন করা হয় তা উত্তরদাতাকে উত্তর প্রদানে প্রভাবিত করে থাকে। প্রশ্নপত্রের একটি প্রশ্নের উপস্থিতি উত্তরদাতাকে পরবর্তীতে আরেকটা প্রশ্নের উত্তর প্রদানে প্রভাবিত করে।

যেমন: বাংলাদেশের কোন নাগরিককে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করার পর তাকে যদি  বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরস্থিতি কেমন জিঙ্গাসা করা হয় তবে প্রশ্নের ধারাবাহিকতা থাকে না। অথবা প্রশ্ন যদি প্রথমটি Open-ended এবং পরবর্তীটি Close-ended হয় তাহলেও প্রশ্নের ধারাবাহিকতা থাকে না। তাই উত্তরদাতাদের সুবিধার্থে প্রশ্নপত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে

 

6. Questionnaire instructions:

যে কোন গবেষণায় উত্তরদাতার নিকট থেকে প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে উত্তর সংগ্রহের পূর্বে কিছু সূচনা বক্তব্য বা নির্দেশনা প্রদান করতে হয়। অর্থাৎ সরাসরি প্রশ্নপত্র প্রদান করে উত্তর চাওয়া হয় না। এখানে উত্তর চাওয়ার পূর্বে বিভিন্ন বিষয় তাকে জানানো হয়। যেমন:উত্তরদাতাকে বলা যেতে পারে যে- আলোচ্য গবেষণাটি শুধুমাত্র আলোচ্য বিষয়ে অধিক জানার জন্য গবেষণা করা, আপনার/উত্তরদাতাদের নাম উল্লেখ করা হবে না, সংগৃহিত তথ্যাবলীর গোপনীয়তা রক্ষাকরা হবে,  গবেষক গবেষণার মাধ্যমে কী করতে চাচ্ছে তা ব্যাখ্যা করবে ইত্যাদি।

অর্থাৎ প্রশ্নপত্রে উত্তর প্রদানে কোন নির্দেশনা থাকলে উত্তরদাতাকে উত্তর প্রদানের পূর্বে তা ব্যাখ্যা করবে। যেমন:Matrix questionnaire যা করা ঐ রকম। আবার উত্তর যদি Close-ended বা Open-ended হয় তাহলে তাও ব্যাখ্যা করতে হবে। এই প্রশ্নপত্রের নির্দেশনা উত্তরদাতাকে সঠিক উত্তর প্রদানে সাহায্য করে থাকে।

 

7. Pretesting the questionnaire:

একজন গবেষক তথ্য সংগ্রহের নকশা যেভাবে করুক না কেন তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই জন্য প্রশ্নপত্র তৈরী করার পর তা পুনরায় পরীক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ কোন প্রশ্ন তৈরী করার পর তার উত্তর কেমন হতে পারে বা উত্তরদাতা উত্তর প্রদান করতে পারবে কী না তা ভাবতে হবে এবং সে অনুসারে প্রশ্ন তৈরী করতে হবে। প্রশ্নপত্র তৈরি করার পর প্রয়োজনে কছের ১০ জন ব্যাক্তিকে দিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে তাদেরকে প্রশ্নপত্র দিতে হবে যাদের কাছে এই  প্রশ্নপত্র অন্তত প্রাসঙ্গিক কিন্তু এদেরকে নমুনা হিসেবে ধরা যাবে না। তাদেরকে ভুল খুঁজে বের করতে বালার থেকে প্রশ্নপত্র পূরন করতে বলা অধিক কর্যকরী।

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: