সামাজিক স্তরবিন্যাস (Social Stratification)

সামাজিক স্তরবিন্যাস

স্তরবিন্যাস শব্দটি মৃত্তিকা বিজ্ঞান থেকে এসেছে। মত্তিকা ম-লে ভূ-গঠনে মাটির বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এসব স্তর যেমন একটি থেকে অন্যটিকে পৃথক করেছে, তেমনি সামাজিক স্তরবিন্যাস্ও সমাজের বিভিন্ন মানুষ্ও শ্রেণীকে নানাবিধ স্তরে বিভক্ত করেছে। উপাদানের ভিত্তিতে যা উঁচু-নীচু বিন্যাস মানুষের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় সাধারণ অর্থে তাকে সামাজিক স্তরবিন্যাস বলে। সামাজিক স্তরব্যিাস ঘনিষ্ঠভাবে সমাজ কাঠামোর সাথে সম্পৃক্ত। এটি মূলত সামাজিক ঘটনা ও মিথষ্ক্রিয়ার ফলশ্রুতি। সামাজিক গতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সামাজিক স্তরবিন্যাসের সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। এটি সামাজিকভাবে স্বীকৃত, প্রতিষ্ঠিত, নিয়ন্ত্রিত, নমুনায়িত এবং কাঠামোবদ্ধ।

বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে সামাজিক স্তরবিন্যাসকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন-

H. R. Kerbo তাঁর Social Stratification and Inequality (1983:11) গ্রন্থে সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি গরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞায় বলেছেন সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে ঐ অসমতাকে বোঝায় যা সুদৃঢ় কিংবা প্রাতিষ্ঠানিকীকৃত এবং সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে কে কি পাবে, কেন পাবে সে ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। যখন আমরা বলি প্রাতিষ্ঠানিকীকৃত তখন উঁচু-নীচু অবস্থান ও স্তরের এমন ব্যবস্থাকে বুঝাই যা প্রতিষ্ঠিত বা স্থায়ী।

জিসবার্ট তাঁর Fundamental of Sociology গ্রন্থে বলেছেন, সমাজকে একটি স্থায়ী দল বা প্রকরণে বিভক্ত করাই হচ্ছে সামাজিক স্তরবিন্যাস- যেখানে একে অন্যেও সাথে উচ্চক্রম এবং নিন্মক্রমের ভিত্তিতে সম্পর্কিত।

ম্যাক্সওয়েবার এর মতে- সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে সামাজিক মানুষের বিভাজন। এর ভিত্তি হচ্ছে সম্পত্তি ক্ষমতা ও মর্যাদা।

পরিশেষে বলা যায়, বিভিন্ন উপাদান এবং সামাজিক রীতিনীতি ও প্রথার ভিত্তিতে সমাজের সদস্যদের মধ্যে যে পার্থক্য এবং ভেদাভেদ পরিলক্ষিত হয় তাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। এখানে সামাজিক ভিন্নতা, অসমতা এবং পার্থক্য স্থায়ী, প্রতিষ্ঠিত এবং কাঠামোবদ্ধরূপ পরিগ্রহ করে। এটি সমাজের আদি এবং চিরন্তন একটি বিষয়। এ জন্য সমাজবিজ্ঞানে প্রত্যয়টির গুরুত্ব অপরিসীম। এ প্রসঙ্গে M. M. Tumin- – এর একটি উদ্ধৃতি প্রণিধানযোগ্য। উদ্ধৃতিটি হচ্ছে- Social stratification is ancient, universal, patterned diverse and consequential makes it a matter of great interest to sociologists.

 

সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরণ

অধিকাংশ সমাজবিজ্ঞানী সামাজিক স্তরবিন্যাসের নিন্মোক্ত চারটি ধরণের উল্লেখ করেছেন। যথাঃ

১। দাস ব্যবস্থা

২। সামন্ত বা এস্টেট ব্যবস্থা

৩। অর্থনৈতিক শ্রেণী

৪। মর্যাদা অনুযায়ী শ্রেণী

৫। বর্ণপ্রথা

১। দাস ব্যবস্থা

সামাজিক স্তরবিন্যাসের প্রথম ও প্রধান প্রকরণ হচ্ছে দাস ব্যস্থা। দাস ব্যবস্থা প্রাচীন ও প্রথম শ্রেণীভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা। আদিম সমাজব্যবস্থার মধ্য থেকেই দাস ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছে। শিকার ও খাদ্য সংগ্রহ ভিত্তিক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার পরে যখন কৃষি সমাজ ব্যবস্থার গোড়ার দিকে সম্পত্তিতে ব্যক্তি মালিকানা আরোপিত হয় তখন দাস ব্যবস্থার উদ্ভব হয়। এ প্রসঙ্গে H. R. Kerbo তাঁর Social Stratification and Inequality (1983:11) গ্রন্থে বলেছেন, আধিপত্য বিস্তারের এ ধরণটি মানব জাতির কৃষি সম্পদায়ে স্থায়ী এবং প্রতিষ্ঠিত হবার পরে উদ্ভব ঘটে। কৃষি সভ্যতার সাথে সাথেই এটি শীর্ষ বিন্দুতে আরোহণ করে।

দাস ব্যবস্থার গোড়ার দিকে যখন ব্যক্তি মালিকানার প্রচলন শুরু হয় তখন সম্পত্তির উপর মানুষের অধিকার আরোপের জন্য প্রায়ই যুদ্ধ সংঘটিত হত। যুদ্ধে পরাজিত সৈন্যদেরকে বিজয়ী গোষ্ঠীর বা ব্যক্তির দাস হিসেবে ব্যবহার করা হত। মূলত এভাবেই দাস ব্যবস্থার  উদ্ভব হয়। প্রাচীন গ্রীক ও রোমান সভ্যতা দাস ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। আমেরিকা আফ্রিকা থেকে জাহাজ ভরে ক্রীতদাস আমদানি করত- এটা খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। অসম সামাজিক সম্পর্কের চরম নিদর্শন হচ্ছে দাস ব্যবস্থা। গ্রীক পন্ডিত এরিস্টটল মনে করতেন আধিপত্য ও বশ্যতার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে দাস ব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে। দাসকে তিনি জীবন্ত সম্পত্তি বলে মনে করতেন।

দাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞায় L. T. Hobhouse বলেছেন, দাস হচ্ছে এমন একজন মানুষ আইন ও প্রথা যাকে সম্পত্তিরূপে পরিগণিত করে। চূড়ান্ত বিচারে সে যাবতীয় অধিকার থেকে মুক্ত, বিশুদ্ধ অস্থাবর সম্পত্তি। অন্যদিকে সে কিছু নিশ্চিত বিষয়ে অধিকার সংরক্ষণ করত, কিন্তু এটি অনেকটা ষাঁড় বা গাধার মতই।

রোমান আইনে দাসকে বস্তু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা প্রভুর উদ্দেশ্য সিদ্ধিও মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। দাস তার প্রভুর অধিকারভ’ক্ত সম্পত্তি। এখানে দাস ও দাস-মালিকের মধ্যে চরম পার্থক্যের ভিত্তিতে সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রচলিত ছিল।

দাস ব্যবস্থা প্রসঙ্গে B. Bhushan তাঁর “Dictionary of Sociology”- তে বলেছেন, একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাস ব্যবস্থাকে সম্পত্তির একটি ধরণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। এটা একজন মানুষকে অন্য মানুষে উপর মালিকানা আরোপের অধিকার দেয়। উৎপাদনের অন্যান্য উপাদানের মত দাস্ও একটি বস্তু।

দাস প্রথা প্রথমত একটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক নির্ভর আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা। মার্ক্সের মতে দাস ব্যবস্থাই প্রথম শ্রেণীভিত্তিক শোষণমূলক সমাজ। এখানে দাস ও দাস-মালিকের দু’টি পৃথক শ্রেণী, যাদেও সামাজিক মর্যাদা ও অবস্থান সম্পূর্ণ আলঅদা। দাস হচ্ছে দাস-মালিকের অধিকারভ’ক্ত সম্পত্তি। আইন ও সমাজ ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ সমর্থনে দাস-মালিক তার এ সম্পত্তিকে ব্যবহার করতে পাতেন। দাসেরা উৎপাদনের জীবন্ত হাতিয়ার। গৃহ পালিত পশু আর দাসদের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য ছিল না। দাস-মালিকারা তাদের প্রয়োজনে দাসদের প্রতিপালন এবং কেনাবেচা করত। ব্যাপক অসমতা, শ্রেণী বৈষম্য ও শোষণে দাসদের কোনরূপ সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা ছিল না। তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্য ছিল না। প্রভু যা বলতেন এবং যে কাজ করাতেন তা-ই তার জন্য চূড়ান্ত ছিল।

দাস ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য

Bottomore (P.1964:180) দাস ব্যবস্থার কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের কয়েকটি উল্লেখ করেছেন। যেমনঃ

ক) প্রত্যেক দাসেরই একজন প্রভু থাকে, যার কাছে সে বিষয় হিসাবে গণ্য।

খ) মুক্ত মানুষের তুলনায় দাস নিন্মঅবস্থায় বিদ্যমান।

গ) দাস কাজ করতে বাধ্য।

ঘ) দাস ব্যবস্থার ভিত্তি সব সময়ই অর্থনৈতিক।

এছাড়্ও-

ঙ) দাসেরা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে অংশ্রগহণ করতে পারতনা।

চ) তারা প্রভুর অধীনে সম্পূর্ণভাবে অনুগত থাকত এবং আদেশ মানতে বাধ্য ছিল।

ছ) উৎপাদিকা শক্তির মূল হাতিয়ার ছিল দাসেরা।

জ) অনেকে দাস ব্যবস্থাকে শিল্প ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করল্ওে অধিকাংশ লেখক মনে করেন দাস শ্রম ছিল অনুৎপাদনশীল। দাস ব্যবস্থা পতনের করণ্ও মূলত সেটাই।

তখন দাসদের সাথে অমানবিক ব্যবহার এবং চরম জুলুম ও অত্যাচার করা হত। গ্রীস ও রোমে গোটা দাসযুগ ধরে ক্রীতদাসের ধারণা এবং উৎপাদন সম্পর্কে শ্রণীসংঘাত বিদ্যমান ছিল। দাস রা ক্রমশ বিপ্লবী হয়ে ওঠে। গ্রীক-রোমান দ্বন্দ্ব, রাজা-বাদশাদের বিলাস-ব্যাসন ইত্যাদি দাস ব্যবস্থা পতনের এবং সামন্ত প্রথা উদ্ভবের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করেছে। উল্লেখ্য যে, ভারতবর্ষে পাশ্চাত্যের মত দাস ব্যবস্থা ছিল না। এখাসে দাস-নিপীড়নের তেমন কোন ইতিহাস প্ওায়া যায় না। তবে গৃহভৃত্য প্রথা প্রচলিত ছিল- যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আজকের অনেক সভ্য সমাজ্ওে বিদ্যমান।

Nieboer তাঁর Slavery as Industrial System  গ্রন্থে দাস ব্যবস্থাকে তিনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। যেমনঃ

ক) দাস-প্রভুর ক্ষমতা থাকবে অসীম। সীমাহীন ক্ষমতার উপর শর্তারোপিত হলে তাকে দাস ব্যবস্থা বলা যাবে না।

খ) মুক্ত মানুষের সাথে তুলনা করলে দাসেরা তুলনামূলকভাবে নীচুস্তরের। মুক্ত মানুষের ন্যায় দাসের কোন সামাজিক-রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকবে না। দাসের কোন সামাজিক, রাজনৈতিক অধির্কাও থাকবে না।

গ) দাসেরা হচ্ছে বাধ্যতামূলক শ্রমিক। তারা যে কোন কাজ করতে বাধ্য।

এ তিনটি বিষয়ে ব্যতিক্রম হলে দাস ব্যবস্থা বলা যাবে না। অতএব দাস ব্যবস্থা হচ্ছে এমন এক ধরনের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে মানুষ মানুষের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হত। আইন এবং সমাজব্যবস্থাও এটাকে স্বীকৃতি দিত। এখানে দাস-মালিক ও দাস দু’টি পৃথক শ্রেণী এবং দাস ছিল সম্পূর্ণভাবে দাস-মালিকের আজ্ঞাবহ।

২। এস্টেট ব্যবস্থা

মানব সভ্যতার বিবর্তনে সামাজিক স্তরবিন্যাসের দ্বিতীয় ধরণ হলো এস্টেট- যা মধ্যযুগে একটি বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ইউরোপে বিকশিত হয়েছিল। অনেকে এস্টেট বলতে সামন্ত ব্যবস্থাকে বুঝিয়ে থাকেন। তবে Estate শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে জমিদারের মালিকানাধীন জমি। অষ্টাদশ শতকে এস্টেট দ্বারা বিশেষ বিশেষ শ্রেণীকে বুঝানো হতো। বস্তুত সামন্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমি ও আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে তিনটি ক্রমোচ্চ শ্রেণী সমাজে অবস্থান করত তাকে এস্টেট বলে। শ্রেণীগুলোই এখানে এস্টেট হিসেবে পরিচিত।

এস্টেট B. Bhushan (ibd) বলেছেন, এস্টেট প্রথা হচ্ছে সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি ব্যবস্থা যা ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপ ও রাশিয়ায় পরিলক্ষিত হত অনেকটা বর্ণ পথার মত। ক্ষুদ্র সংখ্যক স্তরের মধ্যে তীক্ষ পার্থক্য এবং স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান।

এস্টেট ব্যবস্থায় কোন ব্যক্তি বা দল রাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ’খন্ড পেত এবং ঐ নির্দিষ্ট এলাকায় আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালিত হত। প্রাপ্ত ভূমিকে কেন্দ্র করে এবং যিনি বা যারা ভূমি পেতেন তাদের মতে সমাজ পরিচালিত হত। সাধারণ শ্রেণী তাদের আনুগত্য থাকতে বাধ্য থাকত। এস্টেট ব্যবস্থায় তিনটি শ্রেণীকে ঘিরে সমাজ ব্যবস্থা এবং সামাজিক স্তরবিন্যাস পরিচালিত ছিল। শ্রেণী তিনটি হচ্ছে –

১. যাজক শ্রেণী

২. অভিজাত শ্রেণী

৩. সাধারণ শ্রেণী

উল্লিখিত তিনটি এস্টেট সম্পর্কে Bottomore পতাঁর Sociology- বলেছেন, অভিজাত শ্রেণী সবার ভাগ্য নির্ধরণ ও নিরাপত্তা বিধান করে। যাজক শ্রেণী সবার জন্য প্রার্থনা করে এবং সাধারণ শ্রেণী সবার জন্য খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে।

বস্তুত অভিজাত শ্রেণীর তত্ত্বাবধানে এস্টেট ব্যবস্থা বিকশিত হয়েছিল। সমাজ পরিচালনায় এবং অন্য শ্রেণীকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এ শ্রেণী প্রধান ভূমিকা পালন করত। অন্য শ্রেণী দু’টির উপর বিশেষ করে তৃতীয় শ্রেণী ছিল অভিজাতদের অধীন কর্মচারীরন্যায়। নিরাপত্তার বিনিময়ে এ শ্রেণী অভিজাত শ্রেণীর সেবাদাস হিসেবে গণ্য হত।

এস্টেট ব্যবস্থা প্রসঙ্গে Biezanz and Biezanz Zvui Introduction to Sociology ((1969:179) গ্রন্থে বলছেন, সামাজিক স্তরবিন্যাসের এস্টেট ব্যবস্থা ভূমিভিত্তিক বংশানুক্রমিক সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল। এ ব্যবস্থা কৃষিভিত্তিক সমাজে সর্বাধিক উপযোগী এবং এখানে ন্যূনতম শ্রমবিভাজন রয়েছে।

এ ব্যবস্থায় প্রতিটি এস্টেটের মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা, অধিকার ও দায়িত্ব অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে আইন দ্বারা সুনির্দিষ্ট ছিল। তাই এস্টেট ব্যবস্থাকে অনেকে বর্ণপ্রথার সাথে তুলনা করে থাকে। এস্টেট ব্যবস্থায় তৃতীয় এস্টেটের মানুষ ছিল নীচুমর্যাদার, শোষিত এবং বঞ্চিত। অভিজাত শ্রেণী ছিল সমাজের এলিট এবং শাসক। তাই সামাজিক স্তরবিন্যাসের এ প্রকরণটি ব্যাপকভাবে শ্রেণী শাসিত এবং বৈষম্যমূলক।

এস্টেট ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য

বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীর আলোচনা থেকে এস্টেট ব্যবস্থার নিন্মোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করা যায়। যথাঃ

ক) এস্টেটস্ আইনের দ্বারা সুনির্দিষ্ট হত এবং প্রতিটা এস্টেটের মর্যাদা নির্ধারিত ছিল।

খ) সমাজের লোকেরা তিন শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল। প্রত্যেক শ্রেণী এস্টেটের হিসেবে পরিচিত ছিল।

গ) এখানে যাজক সম্প্রদায় ও অভিজাত সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অধিকার স্বীকৃত ছিল। সাধারণ শ্রেণী এ অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল।

ঘ) এস্টেটস্ ব্যবস্থায় (ব্যাপক) ন্যূনতম সামাজিক শ্রমবিভাগ বিদ্যমান ছিল।

এস্টেটস্ ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণের (জমির) মালিক হচ্ছে ভূস্বামী বা অবিজাত শ্রেণী (দ্বিতীয় এস্টেটস)। তৃতীয় এস্টেটস হচ্ছে শোষিত বঞ্চিত উৎপাদক শ্রেণী। অভিজাত শ্রেণীর দয়া ও ইচ্ছার উপর তৃতীয় এস্টেটের জীবন ও জীবিকা নির্ভর করত। প্রথম ও দ্বিতীয় এস্টেট ছিল উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। দ্বাদশ শতকে সামন্ত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এর পূর্ণ বিকাশ ঘটে। H. R. Kerbo (ibd P.21) বলেছেন, প্রারম্ভিক সামন্ত-রাষ্ট্রসমূহের সুসংহত রূপ দ্বাদশ শতাব্দীতে বিদ্যমান ছিল এবং এ সময়ই এস্টেট ব্যবস্থার প্রবর্তন সত্যিকার পরিপূর্ণ বিকাশ হয়েছিল।

বস্তুত এস্টেটস ব্যবস্থা সামন্তপ্রথার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একট আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা- যা সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি অপরিহার্য প্রকরণ হিসেবে স্কীকৃত। যেখানে সামন্ত প্রথা নেই, সেখানে এস্টেট ব্যবস্থাও নেই। সুতরাং সামন্ত ব্যবস্থার মধ্যে ভ’মি মালিক, যাজক সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের ক্রমোচ্চ সম্পর্কের ভিত্তিতে সামাজিক স্তরবিন্যাসের যে ধরণটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল তাই এস্টেট ব্যবস্থা।

৩। অর্থনৈতিক শ্রেণী

সামন্ততন্ত্রের অবসানের পর ধনতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে। ধনতন্ত্র বিকাশের সাথে সাথে সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে। ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সমাজের লোকের উত্তরোত্তর অর্থনৈতিক ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিবক্ত হতে থাকে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা চলতে থাকে এবং সমজে শ্রেণী মর্যাদা নিরূপিত হতে থাকে। কারণ, অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল হলে শিকার সুযোগ-সুবিধা অপেক্ষাকৃত সহজলভ্য হয় এবং অধিক উপার্জন করার সম্ভাবনা থাকে। ফলে, শ্রেণীর প্রচলিত মান অনুযায়ী জীবনযাপন করা সম্ভব হয়। সুতরাং শ্রেণীর সঙ্গে আয়ের প্রশ্ন্ও জড়িত। এই দিক দিয়ে বিচার করলে ধনী ও দরিদ্র এই দু’টি শব্দের ব্যাখ্যা শ্রেণীর মান অনুযায়ী করা হত। যিনি শ্রেণীর প্রচলিত মান অনুযায়ী চলতে অক্ষম তিনিই দরিদ্র। আবার যিনি শ্রিণীর প্রচলিত মানু হতে অধিকতর উন্নত মান বজায় রাখতে সক্ষম তিনিই ধনী। আবর যাহারা ধনী ও দরিদ্রের মাঝামাঝি পর্যায়ের মান অনুযায়ী টিকে থাকছে তাদের মধ্যবর্তী বা মধ্যম শ্রেণী বলে আমরা জানি। এভাবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দ্বারা সমাজে শ্রেণীমান নির্ণয় হতেথাকে। ফলে, সমাজে একশ্রেণীর উপর অপর শ্রেণীর প্রভুত্ব ও শোষণ সমাজ ব্যবস্থায় গড়ে উঠে এবং শ্রেণী চেতনার নতুন রূপ নেয়।

৪। মর্যাদা অনুযায়ী শ্রেণী

অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের ফলে সমাজব্যবস্থার মানুষের ধ্যান-ধারণা, ভাবনা-কল্পনার ও চেতনার বিকাশ ঘটে। সামাজিক মানুষের চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে তার জীবনযাপনের বিশেষ রীতির উপর। কেবলমাত্র অর্থ হলেই মানুষ সমাজে উচ্চ শ্রেণীর অধিকারী হবার যোগ্যতা অর্জনকরা যায় না যদি তার মধ্যে মর্যাদাবোধ চেতনা জাগ্রত না থাকে।

অর্থনেতিক শ্রেণী ও মর্যাদা অনুযায়ী শ্রেণীর মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে সর্বপ্রথম আলোচনার অবতারণা করেন ম্যাক্স ওয়েবার। তাঁর আলোচনা অনুসরণ করে সমাজ বিজ্ঞানীগণ এই বিষয় সম্পর্কে অনেক গবেষণা করেছেন। এ প্রসঙ্গে বটোমরের নিন্মোক্ত উক্তি প্রণিধানয্যো। ……………… পাশ্চাত্য সমাজগুলিতে সামাজিক স্তর-বিন্যাস বলতে মূলত মর্যাদা-অনুযায়ী শ্রেণীবিভাগ বোঝায়। অর্থনৈতিক শ্রেণীবিভাগ অপেক্ষাকৃত গৌণ স্থান অধিকার করে।

মর্যাদা অনুযায়ী শ্রেণীবিভাগে বিভন্ন শ্রেণীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক প্রতিযোগিতামূলক। এক শ্রেণী অপর শ্রেণীর সমক্ষ হতে বা অপর শ্রেণী থেকে উপরে যেতে সচেষ্ট থাকে। সুতরাং, মযাদা-অনুযায়ী শ্রেণী ব্যবস্থার বিভিন্ন শ্রেণীর পারস্পরিক সম্পর্ক অর্থনৈতিক শ্রেণীর ন্যায় সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে না। সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্র্ওে ব্যাপক ব্যবধান পরিলক্ষিত হয় না।

মর্যাদা অনুযায়ী শ্রেণী ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব থাকে। ফলে, সুখ সমৃদ্ধি আপেক্ষিকভাবে বিবেচিত হয়। মানুষ সর্বদা লাভের জন্য সচেষ্ট হয়। এই মর্যাদা প্রতিযোগিতামূলকভাবে সমাজে অর্জিত হয়। মেযন- প্রতিবেশীদের বা পরিচিত গোন্ডির মধ্যে কার কি আছে বা না আছে তার উপর সন্তুষ্টি নির্ভর করে।

৫। বর্ণপ্রথা

বর্ণপ্রথার ইংরেজী প্রতিশব্দ ‘Caste’ শব্দটি এসেছে পর্তুগীজ শব্দ ‘Casta’ থেকে। ‘Casta’ অর্থ বংশধর, কুল বা জাতি। ব্যাপক অর্থে বর্ণ হচ্ছে বংশগত গুণের ভিত্তিতে বেশেষ কোন মানব গোষ্ঠী। প্রকৃতপক্ষে বর্ণ শব্দটি জাতিকে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।

সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরণ হচ্ছে জাতি-বর্ণ-প্রথা। ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থায় বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এ প্রথার প্রচলন রয়েছে। তবে এর উৎপত্তি সম্পর্কে সঠিক কোন ধারণা প্ওায়া যায় না। এ জন্যই Kerbo (ibd) বলেছেন, বর্ণপ্রথা উদ্ভব সম্পর্কে কোন সুস্পষ্ট তথ্য-উপাত্ত নেই। এটি মনে করা হয় যে চার হাজার বছর পূর্বে যাযাবর আর্য হানাদারদের আধিপত্য বিস্তারের একটি ব্যবস্থা হিসেবে এর সূত্রপাত হয়।

হিন্দুদের প্রাচীন শাস্ত্রে জাতিকে বর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণ হচ্ছে একটা বিশেষ ধরনের ব্যবস্থা- যা মূলত হিন্দু ধর্মের ঘটনা। ভারতীয় হিন্দু সমাজে যে বিভিন্ন শ্রেণী আছে, যাদের পেশা, রীতিনীতি, সুযোগ-সুবিধা, কর্তব্য ও মূল্যবোধ বংশধারা ও ধর্মীয় নীতিমালার সাথে সম্পৃক্ত তারাই বর্ণ বা জাতি।

বর্ণ পথার সংজ্ঞায় A. Beteille তাঁর Class and Power (1969:46)’ গন্থে বলেছেন, বর্ণ প্রথা কিছু লোকের ক্ষুদ্র এবং নাম বিশিষ্ট একটি দল হিসেবে সংজ্ঞায়িত হতে পারে। এটি অন্তর্বিবাহ বংশধারার ভিত্তিতে সদস্যপদ এবং একটি সুনির্দিষ্ট জীবনধারার ভিত্তিতে বৈশিষ্ট্য মন্ডিত। এটি মাঝে মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সুনির্দিষ্ট পেশা অন্তর্ভ’ক্তির প্ররোচনা দেয় এবং স্বভাবতই কমবেশি স্বতন্ত্র কিছু অনুষ্ঠান, উঁচু-নীচু ক্রমানুসারে পদমর্যাদাকে সংগঠিত করার প্রয়াস পায়।

বর্ণপ্রথা প্রসঙ্গে Risley বলেছেন, বর্ণ ব্যবস্থা হচ্ছে কতগুলো পরিবারের সমষ্টি, যাদের একটা অভিন্ন পদবী আছে এবং যারা একটা অভিন্ন বংশধারার সাথে পরিচিত। রিজলে বর্ণ প্রথার তিনটি পূর্বশর্তের  (বৈশিষ্ট্য) উল্লেখ করেছেন। যেমন-

ক) একই পূর্বপুরুষের পেশা থেকে আগত।

খ) বাইরের সম্প্রদায়ের সাথে কোন সখ্যতা গড়ে তোলে না।

গ) পূর্বপুরুষের পেশায় নিয়োজিত থাকে। যেমন- ব্রাহ্মণ বংশানুক্রমে ধর্মচর্চা, পূজা আর্চনা পেশায় নিয়োজিত। এর কোন ব্যতিক্রম নেই।

বর্ণপ্রথার সংজ্ঞায় B. Bhushan (ibd) বলেছেন, বর্ণপ্রথা হচ্ছে সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি ধরন, যেখানে রীতিনীতি এবং আচার-অনুষ্ঠানের বিশুদ্ধতায় একে অন্যের থেকে উঁচু-নীচু ক্রমানুসারে সংগঠিত এবং পৃথককৃত।

T. B. Bottomore বর্ণপ্রথাকে একটি অর্থনৈতিক বিভাজন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় বর্ণপ্রথা সামাজিক স্তরবিন্যাসের অনন্য ব্যবস্থা। বর্ণপ্রথা প্রত্যক্ষভাবে অর্থনৈতিক পার্থক্যের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। জাতির অর্থনৈতিক গুরুত্ব সুস্পষ্ট। তারা পেশাভিত্তিক দলের অপরিহার্য অংশ। ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ অর্থনীতিতে বর্ণপ্রথা দ্রব্য এবং সেবার বিনিময়ে ব্যাপকভাবে যন্ত্রপাতি প্রয়োগ করে থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, বর্ণ প্রথা হচ্ছে ভারতীয় সমাজের একটি অপরিহার্য সামাজিক সংগঠন। ধর্মীয় নীতিমালা এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা এ সংগঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। এখানে মানুষের মর্যাদা, পরিচিতি, পেশা, সংস্কৃতি সবকিছু বংশগতভাবে নির্ধারিত হয়।

বর্ণের ধরণ

হিন্দুদের শান্ত্রীয় বিধানে চারটি বর্ণের উল্লেখ করা হয়েছে। গীতায় শ্রী ভগবান উল্লেখ করেছেন, চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্ম বিভাগশঃ। সুতরাং বর্ণের ক্ষেত্রে গুণ ও কর্ম বড় দু’টি উপাদান। এর ভিত্তিতে চারট্ বর্ণ হচ্ছে –

ক) ব্রাহ্মণঃ এ বর্ণের সদস্যরা প্রধানত ধর্ম ও বিদ্যাচর্চা করে থাকেন।

খ) ক্ষত্রীয়ঃ এ বর্ণ যোদ্ধা শ্রেণী হিসেবে পরিচিত।

গ) বৈশ্যঃ এরা ব্যবসায়ী শ্রেণী।

ঘ) শূদ্রঃ উল্লিখিত তিনটি শ্রেণীর বাইরে অন্যান্য পেশাজীবী নিন্ম শ্রেণী।

এ চারটি শ্রেণী একদিকে যেমন আর্থ-সামাজিক শ্রেণী বিভাজন নিশ্চিত করেছে, তেমনি ক্রমোচ্চ সামাজিক মর্যাদ্ওা নির্ধারণ করেছে। মর্যাদা ও অবস্থানগত দিক থেকে ব্রাহ্মণগণ সবার উপরে। ঋগে¦দে পুরুষ সুক্তের ভাষ্যানুযায়ী এ চতুর্বর্ণের সৃষ্টিকর্তা হল প্রজাপতি ব্রহ্মা। অনেকে মনে করেন আর্যরা এদেশে এসে এদেশীয়দেরকে দমন করে রাখার লক্ষ্যেই পবিত্রতা এবং অপবিত্রতার ধুয়া তুলে বর্ণ প্রথার উদ্ভব ঘটায়। এ প্রক্রিয়াটিই হিন্দু ধর্মের নির্দেশনায় পরিণত হয়। অনেকের মতে সেন রাজারা ভারতবর্ষে বর্ণপ্রথার প্রবর্তন করেন। এক্ষেত্রে রাজা বল্লাল সেনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বর্ণপ্রথায় উল্লিখিত চারটি বর্ণের প্রতিটি আবার অসংখ্য উপবর্ণে বিভক্ত। Blunt তাঁর The Caste System in North Indiaগ্রন্থে বলেছেন, ভারতে সাড়ে তিন হাজারের  বেশি উপবর্ণ রয়েছে। এসব উপবর্ণের লোকদের বলা হয় নমশূদ্র। এরা সমাজে অস্পৃশ্য বলে ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষার নামে এদের সাথে অন্যান্য বর্ণের কোন সামাজিক সম্পর্ক বা মিথষ্ক্রিয়া হয় না।

বর্ণপ্রথা শুধু ভারতীয় হিন্দু সমাজে নয়, কিছু পরিবর্তিত রূপে অন্য অঞ্চল বা ধর্মের লোকদের মধ্য্ওে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে Beteille (ibd. P. 15) বলেছেন, এখানে বর্ণ প্রথা শুধুমাত্র হিন্দু সমাজে পরিচালিত হয়। যদ্ওি একই প্রপঞ্চ মুসলিম এবং খ্রিস্টান সমাজ্ওে দেখা যায়।

উল্লিখিত বক্তব্যের সাথে সমাজবিজ্ঞানী Bottomore ও একই মতামত পোষণ করেছেন। তাঁর মতে, সামাজিক স্তরবিন্যাসের অন্য কোন ব্যবস্থার সাথে বর্ণ প্রথার সাদৃশ্য যে একেবারেই নেই তা নয়। ভারতের হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়্ও মুসলমানসহ অন্যান্য অহিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্য্ওে জাতিভেদ প্রথা প্রচলিত। তবে পাশ্চাত্যের শ্রেণী ব্যবস্থার সাথে জাতিভেদ প্রথার সম্পৃক্ততার বিষয়টি তিনি নাকচ করে দেন। তাঁর মতে, শ্রেণী ব্যবস্থার সাথে এর বিস্তর পার্থক্য রয়েছে, তবে অর্থনীতি ও সামাজিক স্তরবিন্যাসের সাথে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।

জাতিবর্ণ প্রথায় ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান, মর্যাদা, অধিকার, কর্তব্য সবকিছু নির্দিষ্ট এবং স্থির। সাধারণত এ ব্যবস্থার পরিবর্তন হয় না। জন্মসূত্রেই সবকিছু নির্ধারিত হয়। কোন ব্যক্তি চাইল্ওে ক্ষত্রিয় থেকে ব্রাহ্মণ হয়ে যেতে পারে না। এ ব্যবস্থায় একই পেশার মানুষ একই জাতের ছিল। বংশগত পবিত্রতা রক্ষার জন্য এখানে অন্তর্বিবাহ প্রথা প্রচলিত। এ প্রসঙ্গে K. Davis তাঁর ‘‘Human Society’ গ্রন্থে বলেছেন, বর্ণ প্রথায় সদস্যপদ হচ্ছে বংশগত। শিশু জন্মগতভাবেই তার পিতামাতার মর্যাদা গ্রহণ করে। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এ সদস্যপদ জীবনের জন্য স্থিরীকৃত। বিবাহের পাত্রপাত্রী পছন্দ কঠোরভাবে স্বগোত্রীয়।

প্রাচীন ব্যবস্থায় মনে করা হত বংশগতভাবে পেশা নির্ধারিত থাকলে পেশাগত দায়িত্ব পালন সহজ ও সুন্দর হয়। কেননা সংশ্লিষ্ট পেশায় নির্দিষ্ট ব্যক্তি বংশগতভাবেই দক্ষতা অর্জন করে। তাই কামারের ছেলে কামার, কুমারের ছেলে কুমার, ব্রাহ্মণের ছেলে ধর্মচর্চা করবে- এটিই ছিল প্রচলিত রীতি। তবে সামাজিকভাবে এ অবস্থার যেমন পরিবর্তন হয়েছে তেমনি বর্ণ প্রথ্ওা আজ অনেকটা শিথিল। একজন ব্রাহ্মণ বা নমশূদ্র সন্তান আধুনিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সফল প্রকৌশলী, ডাক্তার, বৈমানিক বা সৈনিক হতে পারে এবং হচ্ছ্ওে।

বর্ণপ্রথার বৈশিষ্ট্য

বর্ণপ্রথাকে র্আও সুস্পষ্টভাবে জানতে হলে এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য জানা দরকার। নিচে কয়েকটি কয়েকটি বৈশিষ্ট্য দেয়া হলো –

১)  সামাজিক স্তরবিন্যাসের ক্ষেত্রে বর্ণ ব্যস্থঅ একটা বিচিত্র ব্যবস্থা এবং উৎপত্তিগতভাবে এটি একটি ভারতীয় ঘটনা।

২) বর্ণ ব্যবস্থা দু’টি দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বদ্ধ ব্যবস্থা।

ক) কোন ব্যক্তি ইচ্ছা করলেই তার সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নতুন কোন বর্ণের সাথে মিলিত হতে পারে না। কেননা জন্মসূত্রেই সে একটি নির্দিষ্ট বর্ণের সদস্য এবং সেখানেই তাকে আমরণ অবস্থান করতে হবে।

খ)  বংশগতভাবে অভিন্ন মর্যাদা থাকে। এটি পরিবর্তন সম্ভব নয়। এটি সব সময়ই সুনির্দিষ্ট।

৩)  বর্ণ ব্যবস্থা একটি বিশুদ্ধ ব্যবস্থা। কেননা এখানে কিছু নির্দিষ্ট সংস্কার রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জন্য সবসময় অনুসরণীয়।

৪)  এটি একটি অন্তর্বৈবাহিক দল। সবাই এ রীতি অনুসরণ করে থাকে।

৫)  বর্ণ ব্যবস্থা জন্মগতভাবে এবং ব্যক্তির বর্তব্যবোধ নির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে বংশগত ধারাকে শক্তিশালী করে।

৬)  এটি ঘনিষ্ঠভাবে অর্থনৈতিক বিভাজনের সাথে সংশ্লিষ্ট। কেননা প্রতিটি বর্ণের পৃথক পৃথক অর্থনৈতিক কাজ রয়েছে।

৭)  ঐতিহ্যবাহী সমাজে বর্ণ ব্যবস্থা দৃশ্য এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একটা বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।

৮)  পবিত্রতার ধারণানুযায়ী অন্য বর্ণের সাথে এদের মিথস্ক্রিয়ায় বিধিনেষেধ রয়েছে।

৯)  প্রত্যেক বর্ণের নির্দিষ্ট নাম ও পদবী আছে।

১০)     এটি পেশাগত ঐক্যের প্রতীক।

১১)      স্ব-অর্জিত গুণের দ্বারা জাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়।

১২)     শুদ্ধি-অশুদ্ধির মানদ- শুধু পেশার ক্ষেত্রে নয়, দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যমান।

 

বস্তুত ভারতীয় বর্ণ ব্যবস্থা আদিম সামাজিক শ্রেণী ব্যবস্থারই একটি বিশেষ রূপ। সিগেল বলেছেন, সব সমাজেই কিছু জাত-বিচার দেখা যায়। ভারতের বাইরে এর পূর্ণতা না পেল্ওে প্রচলন রয়েছে। কিনন্তুআধুনিক যুগে এর পরিবর্তন হচ্ছে সর্বত্র। মানুষের গুণই তার সামাজিক মর্যাদা ও অবস্থানের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, জন্ম বা বংশ নয়।

উল্লিখিত চারটি প্রকরণই সামাজিক স্তরবিন্যাসের পূর্ণাঙ্গ রূপ। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন মানব গোষ্ঠীর মধ্যে এর কোন না কোন প্রকরণের উপস্থিতি ছিল এবং আছে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, বৈষম্য, পার্থক্য, অসমতা, স্তরবিভাগ ইত্যাদি সৃষ্টিতে আলোচিত চারটি প্রকরণই মূল ভূমিকা পালন করেছে।

কার্ল মার্ক্স শ্রেণী প্রত্যয়টি ব্যাপক ব্যবহার করল্ওেতিনি এর তেমন কোন সংজ্ঞা দেননি। তাই শ্রেণীর সংজ্ঞায়ন প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। তবে সমাজবিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন দিক থেকে শ্রেণী চরিত্র ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। মার্ক্সের ধারণানুযায়ী R. Bendix and S.M. Lipset তাঁদের ‘Class Status and Power (1953:7)’ গ্রন্থে শ্রেণীর সংজ্ঞায় বলেছেন, মার্ক্সীয় প্রত্যয় হিসেবে শ্রেণী হচ্ছে কিছু মানুষের সমষ্টি, যারা উৎপাদন ব্যবস্থায় অভিন্ন কার্য সম্পাদন করে। মুক্ত মানুষ ও দাস, সম্ভ্রান্ত ও নিন্ম শ্রেণীর মানুষ, ভ’স্বামী ও ভুমিদাস, সংস্থা বা বড় খামার, দিনমজুর, শাসক এবং শাসিত ইত্যাদি সামাজিক শ্রেণীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়কালে বিদ্যমান ছিল।

মার্ক্স মনে করেন অর্থনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে এ শ্রেণীগুলোর প্রত্যেকটি একটি অন্যটি থেকে পৃথক। এখানে উৎপাদন ব্যবস্থায় ভূমিদাস এবং মালিকানা হচ্ছে শ্রেণী প্রধান নিয়ামক- শিল্প-কলকারখানায় পুঁজিপতি, মজুর, শ্রমিক ইত্যাদি শ্রেণী। উৎপাদনের উপকরণে মালিকানার ভিত্তিতে বলা হয়েছে ঐধারহম Having class এবং Have not class-দু’টি প্রধান সামাজিক শ্রেণী।

শ্রেণী সম্পর্কে লেনিন বলেছেন, “Classes are groups of people one of which can oppress the labour of the other.”  এখানে শ্রেণী হচ্ছে পরস্পর বিপরীত স্বার্থ নির্ভর দু’টি গোষ্ঠী। এক শ্রেণী অন্য শ্রেণীকে শোষণ করে। শোষিত শ্রেণী সমাজের মর্যাদাপূর্ণ আসন থেক্ওে দূরে থাকে। তারা মূলত সবদিক থেকেই বঞ্চিত। আর শোষক বা মালিক শ্রেণী একই সাথে ক্ষমতা ও মর্যাদার অধিকারী হয় এবং প্রচলিত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শ্রেণী শোষণ করে থাকে।

শ্রেণী সম্পর্কে Bottomore (1964:194) বলেন, সামাজিক শ্রেণীগুলো হচ্ছে কার্যত বিভিন্ন দল। তারা (দলগুলো) তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত- বদ্ধ নয়। নিঃসন্দেহে তাদের ভিত্তি হচ্ছে অর্থনৈতিক কিন্তু তারা অর্থনৈতিক দলের থেক্ওে বেশি কিছু।

অর্থনীতি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অনেক কিছু হল্ওে সবকিছু নয়। অর্থনীতির বাইরেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মানুষের মধ্যে অসমতা সৃষ্টি করে এবং স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে শ্রেণী বিভাজনের মাধ্যমে সামাজিক স্তর বিন্যাসকে প্রকট করে তোলে। মেযন- শিক্ষা (শিক্ষিত-অশিক্ষিত শ্রেণী)

সামাজিক শ্রেণীর একটি চমৎকার সংজ্ঞায় B. Bhushan (ibd) বলেছেন, সামাজিক শ্রেণী বলতে সামাজিক স্তরবিন্যাসের সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষের একটি বৃহৎ বিভাগ বা শ্রেণীকে বুঝায়, তাদের সমাজ-সম্প্রদায়ের অন্যান্য দলের সাথে সম্পর্কের আলোকে যারা অভিন্ন আর্থ-সামাজিক পদমর্যাদার অধিকারী।

শ্রেণী সম্পর্কে মার্কিন সমাজবিজ্ঞানীদের ধারণা র্আও বিশি মাত্রায় অর্থনীতি বহির্ভূত। মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী R. Centers (1989:27) বলেছেন, একটি সামাজিক শ্রেণী ব্যবস্থা যথাযথভাবেই একট মনস্তাত্ত্বিক প্রপঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বস্তুত শ্রেণীর ক্ষেত্রে শ্রেণী সচেতনতা একটি অপরিহার্য বিষয়। প্রত্যেক শ্রেণীর সদস্য নিজেকে একটি শ্রেণীভ’ক্ত এবং অন্য শ্রেণী থেকে পৃথক ধারণায় সদ পরিচালিত করবে। সমাজে যতই অসমতা থাক এবং শ্রেণীর উপাদানগত বৈষম্য পরিলক্ষিত হোক, যদি ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদেরকে শ্রেণীভ’ক্ত মনে না করে তবে শ্রেণীর সংজ্ঞায়ন ও সুনির্দিষ্টকরণ সম্ভব নয়। তাই সচেতনতা হচ্ছে শ্রেণীর পূর্বশর্ত। মার্ক্স্ও শ্রেণী সচেতনতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সচেতনতার উপর ভিত্তি করে তিনি শ্রেণীর দু’টি বিশেষ ধরর্ণেও উল্লেখ করেন। যথা-

১। সচেতন শ্রেনীঃ এ শ্রেণী তাদের উপর অন্য শ্রেণীর শোষণ-বঞ্চনা সম্পর্কে এবং তাদের অধিকার, জীবন-জীবিকা ইত্যাদির বিষয়ে সচেতন। এদের দ্বারা সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব নয়।

২। অসচেতন শ্রেনীঃ এ শ্রেণী তাদের অধিকার এবং শোষণ-বঞ্চনা সম্পর্কে সচেতন নয়। প্রচলিত নিয়মে জীবনকে ছেড়ে দিয়ে কাজ করে যায়। এদের দ্বারা সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব নয়।

ম্যাক্স ওয়েবার শ্রেণীর সাথে পদমর্যাদাকে যুক্ত করেছেন। ওয়েবারের মতে শ্রেণী প্রত্যেকটি উৎপাদনের উপকরণের সাথে সংযুক্ত। তবে অর্থনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে যে উৎপাদন হচ্ছে তার ভোগ কিভাবে হয়ে থাকে তা অনুধাবন করতে হবে। জীবনের ধরণ বা জীবনযাত্রার মান দিয়ে এটি নির্ণয় করা যাবে। শ্রেণীকে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে ওয়েবার জীবনধারণ প্রণালী অনুধাবনের উপর গুরুত্ব দেন।

পরিশেষে বলা যায়, শ্রেণী হচ্ছে এমন কিছু মানুষের সমষ্টি যারা উৎপাদনের অভিন্ন সংগঠনে অধিষ্ঠিত এবং এদের মধ্যে একটা সচেতনতাবোধ বিদ্যমান। এ শ্রেণীভ’ক্ত ব্যক্তিবর্গ সবসময় নিজেদের স্বার্থে কাজ করে থাকে। এখানে শ্রেণীর প্রধান তিনটি পূর্বশর্ত হচ্ছে-

১) কিছু মানুষের সমষ্টি

২) উৎপাদনের সংগঠনের সাথে যুক্ত এবং

৩) শেণী সম্পর্কে সচেতনতা। এ তিনটির যে কোন একটির অনুপস্থিতি থাকলে তাকে শ্রেণী বলা যাবে না।

শ্রেণীর ধরণঃ

সামাজিক স্তরবিন্যাসের সাথে সম্পৃক্ত শ্রেণী প্রত্যয়টিকে বিভিন্ন বিভিন উপাদানের ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞানীরা তিনভাগে বিভক্ত করেছেন। যথা –

১) উচ্চবিত্ত শ্রেণী

২) মধ্যবিত্ত শ্রেণী

৩) নিবিত্ত শ্রেণী

শ্রেণী নির্ভর সমাজে প্রধানত এ তিনটি শ্রেণীর উপস্থিতি লক্ষণীয়। উচ্চ শ্রেণী হচ্ছে যারা অধিক সম্পদের মালিক। অর্থনৈতিক উপাদানের অধিকাংশ যাদের হাতে তারাই উচ্চ শ্রেণী। মধ্যবিত্ত শ্রেণী হচ্ছে যাদের খুব বেশি সম্পত্তি নেই, কিন্তু অন্যের সাহায্য গ্রহনের ও প্রয়োজন হয় না। নিন্ম শ্রেণী হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ, যাদের তেমন কোন অর্থ-সম্পত্তি নেই। উপরোক্ত শ্রেণীগুলোর মধ্যে মধ্যবিত্ত শ্রেণীই অধিক আলোচিত।

মধ্যবিত্ত শ্রেণী হচ্ছে সমাজে যারা আর্থ-সামাজিক অবস্থানগত দিক থেকে উঁচু ও নয়, আবার নীচু ও নয়। Gould and Kolb বলেছেন, ব্যাপক অর্থে মধ্যবিত্ত শ্রেণী সামাজিক কাঠামোর সেই স্তরে অবস্থান করে, যাকে উচ্চ শ্রেণী এবং শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যবর্তী বলে মনে করা হয়।

Bottomore- এর মতে, মধ্যবিত্ত শ্রেণী অধিক মাত্রায় বিমূর্ত একটি দল, প্রায়শ এটি একটি অবশিষ্ট বিভাগ শ্রেণী হিসেবে বিবেচিত হয়।

ওয়েবার মনে করেন, শ্রেণী মূলত অভিন্ন কাজ্ ও সমতাভিত্তিক জীবনযাত্রায় পরিচালিত। এ কর্ম ও জীবন যাপনে যারা মধ্যম পর্যায় অনুসরণকরে তারাই মধ্যবিত্ত শ্রেণী।

Gisbert  মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আবার তিনটি উপবিভাগের উল্লেখ করেছেন। যথ

১। উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণী

২। মধ্য মধ্যবিত্ত শ্রেণী

৩। নিন্ম মধ্যবিত্ত শ্রেণী

মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য

১।     আকৃতিহীন দলের সদস্য সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়।

২।     ভাল পোশাক-পরিচ্ছদ ও বাহ্যিক আচরণে ভদ্রলোক হতে চায়।

৩।    এ শ্রেণী বস্তুগত সম্পত্তির মালিক হতে চায়।

৪।     অর্থনৈতিক ও নৈতিক উন্নতির জন্য সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি প্রভৃতির উপর গুরুত্ব প্রদান করে।

৫।     সম্পত্তির মালিক হতে চায়, কিন্তু সঞ্চয় করতে পারে না।

৬।     মধ্যবিত্ত শ্রেণী ব্যক্তিগত সম্পত্তি অর্জনের ইচ্ছা পোষণ করে। এ জন্য তারা কঠোর পরিশ্রম (দৈহিক বা মানসিক) করে।

৭।     এ শ্রেণী উচ্চ ও নিন্ম শ্রেণী দ্বারা নিন্দিত।

৮।    পরিবর্তনমুখী, প্রতিবাদী এব সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে।

৯।     উন্নত দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণী কারিগরী এবং প্রযুক্তিগত কাজ সম্পাদন করে, অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশে আমলা, কৃষি খামার মালিক, ছোট ছোট শিল্প-কারখানার মালিক, সামরিক কর্মকর্তা প্রমুখ মধ্য শ্রেণীভ’ক্ত।

১০।   সর্বোপরি মধ্যবিত্ত শ্রেণী বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে অগ্রসর। তারা সুচিন্তিতভাবে কাজ করতে পারে। ফলে যে কোন সমাজে মধ্যবিত্ত শ্রেণী একটা ভাল অবস্থানে থাকে এবং সামাজিক পরিবর্তনে ভ’মিকা রাখে।

11 Responses

  1. Its like you read my mind! You seem to know a lot about this, like you wrote the book in it or something.
    I think that you can do with a few pics to drive the message home a
    little bit, but instead of that, this is magnificent blog.
    A fantastic read. I’ll certainly be back.

    Like

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: