সমাজতন্ত্র Socialism

ভূমিকাঃ
পুঁজিবাজদের ঠিক উল্টোটাই হচ্ছে সমাজতন্ত্র। এটা এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে উৎপাদনের উপকরণসমূহের উপর ব্যক্তিগত কোন কর্তৃত্ব থাকে না। দেশের যাবতীয় উৎপাদনের উপকরণগুলোর উপর সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে ব্যক্তিগত মুনাফার কোন স্থান নেই।

সমাজতন্ত্র কিঃ
সাধারণভাবে বলা যায় যে, সমাজতন্ত্র এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে দেশের যাবতীয় উৎপাদনের উপাদান বা উপকরণগুলোর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা, কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রনে পরিচালিত হয় কোন ব্যক্তিগত মালিকানায় নয়। এতে দেশের সকল সম্পত্তি, ভূমি, প্রতিষ্ঠান সামাজিক সম্পত্তি হিসাবে পরিগণিত হয়।

উরপশবহংড়হ, খড়ঁপশ, ডবষফড়হ ঐড়ড়ঃ, গড়ৎৎরংড়হ ইত্যাদি সমাজ বিজ্ঞানীরা সমাজতন্ত্রের বিভিন্ন সংজ্ঞা দিলেও আসলেই সমাজতন্ত্র কি তার পুর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা কেউ দিতে পারেননি। একজন সুইডিস রাজা তাঁর মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ওভ ড়হব রং হড়ঃ ধ ংড়পরধষরংঃ ঁঢ় ঃড় ঃযব ধমব ড়ভ ঃবিহঃু-ভরাব, রঃ ংযড়ংি ঃযধঃ যব যধং হড় যবধৎঃ; নঁঃ রভ যব পড়হঃরহঁবং ঃড় নব ধ ংড়পরধষরংঃ ধভঃবৎ ঃযব ধমব ড়ভ ২৫, যব যধং হড় যবধফ.” অনেকে সমাজতন্ত্রকে যধঃ বা টুপির সাথে তুলনা করে বলেছেন যে, সমাজতন্ত্র অনেকটা টুপির মত। একটা টুপি অনেক জন ব্যবহার করায় এর আসল আকৃতি নষ্ট হয়ে গেছে। এই ধরণের আচরণের কারণে বলা হয়ে থাকে- “ঝড়পরধষরংস যধং নববহ পধষষবফ সধহু ঃযরহমং ধহফ সধহু ঃযরহমং যধাব নববহ পধষষবফ ংড়পরধষরংস.”

বর্ণচোরা প্রকৃতির এই সমাজতন্ত্রকে ঝধযফবিষষ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন- “ঝড়পরধষরংস নড়ঃয ধনংঃৎধপঃ ধহফ পড়হপৎবঃব, ঃযবড়ৎবঃরপধষ ধহফ ঢ়ৎধপঃরপধষ, রফবধষরংঃ ধহফ সধঃবৎরধষরংঃ, াবৎু মড়ষফ ধহফ বহঃরৎবষু সড়ফবৎহ.”

ই. ইযঁংযধহ তাঁর উরপঃরড়হধৎু ড়ভ ঝড়পরড়ষড়মু গ্রন্থে বলেছেন, “এবহবৎধষষু রঃ রং ধহফ বপড়হড়সরপ ধহফ ঢ়ড়ষরঃরপধষ ংুংঃবস যিরপয যধং নববহ নধংবফ ড়হ ংঃধঃব ড়হিবৎংযরঢ় ধহফ ড়ঢ়বৎধঃরড়হ ড়ভ ঃযব সবধহং ড়ভ ঢ়ৎড়ফঁপঃরড়হ ধহফ ফরংঃৎরনঁঃরড়হ. ওঃ ঁংঁধষষু রহপষঁফবং ৎধঃরড়হধষ ঢ়ষধহহরহম ঃড় ধপযরবাব ফবংরৎবফ মড়ধষং.”

উপসংহারঃ
সাধারণভাবে বলা যায় যে, সমাজতন্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থায় উৎপাদনের মালিক সমাজ। এই অর্থ ব্যবস্থায় উৎপাদনের সমতা ব্যতীত আয় এবং সুযোগ সুবিধা সকলের জন্য সমান। সমাজতন্ত্র বলতে এটা বোঝায় না যে, উৎপাদনের সকল উপাদান রাষ্ট্রের হাতে থাকবে, এখানে শুধুমাত্র কিছু মৌলিক উপাদান রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রনে থাকবে। কারণ এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ব্যক্তিগত মুনাফার চেয়ে সামাজিক সুযোগ সুবিধার দিকে বেশি নজর দেয়। মূলত সমাজতন্ত্র চাই পুরাতন পুঁজিবাদ পদ্ধতিকে পরিবর্তন করতে এবং সামাজিক ন্যায় বিচার ও সমতার উপর ভিত্তি করে নতুন অর্থনৈতিক পদ্ধতির প্রবর্তন করতে।

 সমাজতন্ত্রের প্রকারভেদ ঃ
সমাজতন্ত্র সম্পর্কে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন অভিমত থেকেই এর বিভিন্ন ঋড়ৎস এর উদ্ভব হয়েছে। নিম্নে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ

১. অঁঃযড়ৎরঃধৎরধহ ঝড়পরধষরংস:
এই ধরণের সমাজতন্ত্রে উৎপাদনের উপাদানের মালিক রাষ্ট্র। উৎপাদন ঢ়ষধহ ও বণ্টনের দায়িত্ব থাকে রাষ্ট্রের হাতে। এখানে যেমন ভোক্তারা কি ভোগ করবে তা ঠিক করার স্বাধীনতা নেই তেমনি শ্রেমিকরা কি উৎপাদন করবে তা ঠিক করারও স্বাধীনতা নেই। রাষ্ট্রই সব ঠিক করে দেয়। কি উৎপন্ন করা হবে, কিভাবে করা হবে, উৎপাদিত পণ্য কিভাবে ব্যয় হবে, অর্থনৈতিক উন্œয়নের জন্য কতটুকু রহাবংঃ করা হবে তার সবকিছুই ঠিক করে সরকার। এই ধরণের সমাজতন্ত্র রাশিয়া ও চায়নাতে দেখা যায়। এর বৈশিষ্ঠ্যগুলো নিম্নরূপঃ
    উৎপাদনের সকল দায়িত্ব রাষ্ট্র্রে হাতে।
    ভোক্তাদের পছন্দ এখানে প্রাধান্য পায় না।
    শ্রমিক কি উৎপাদন করবে তা রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত থাকে।
    উৎপাদিত পণ্য কি করা হবে তা সরকার নির্ধারণ করে।

২. খরনবৎধষ ঝড়পরধষরংস:
এই ধরণের সমাজতন্ত্রে সরকার উৎপাদনের উপকরণের মালিক থাকে ঠিকই কিন্তু মূল্য ব্যবস্থা বা বাজারের উপকরণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ভোক্তা নিজেই ঠিক করে যে সে কি ভোগ করবে। ফ্যাক্টরী ব্যবস্থাপকরা সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং তারা ভোক্তার চাহিদা অনুযাযী পণ্য উৎপন্ন করে তবে তার দাম নির্ধারণ করে সরকার। এই ধরণের ংড়পরধষরংস এর ধারণা দেন উরপশরহংড়হ, খধহমব এবং ঞধুষড়ৎ। এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপঃ
    এই ব্যবস্থায় সরকার উৎপাদনের উপকরণ সরবরাহ করে এবং পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে।
    কি পণ্য উৎপাদন করা হবে তা জনগণ নির্ধারণ করে।

৩. ঈড়ষষবপঃরাব ড়ভ ঝঃধঃব ঝড়পরধষরংস:
রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্র উৎপাদনের উপকরণের সংসদীয় গণতন্ত্র ও জাতীয়করণে বিশ্বাসী। তারা রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যকে আয়ত্তে আনতে চায়। এখানে সকল সম্পত্তি রাষ্ট্রের হাতে থাকে এবং রাষ্ট্রই সর্বেসর্বা। রাষ্ট্র সকল সম্পত্তি জনগণের মাঝে সমান ভাবে ভাগ করে দেয়। রাষ্ট্রের বেতনভোগী কর্মচারীরা সম্পদ দেখাশুনা করে, চৎড়ভরঃ লাভ করে জনসাধারণের জন্য তা ব্যবহার করে। ঈধঢ়রঃধষরংস এর সাথে ঝধঃব ঝড়পরধষরংস এর একটাই পার্থক্য যে এখানে উৎপাদনের সব উপকরণের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রাষ্ট্রের হাতে থাকে সেখানে ঈধঢ়রঃধষরংস এ সব দায়িত্ব বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট ছিল। ঝঃধঃব ঝড়পরধষরংস এর মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছেঃ
    উৎপাদনের উপকরণের মালিক রাষ্ট্র।
    জাতীয় আয়ের পুনর্বন্টন।
    অর্থনৈতিক ব্যবস্থার শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যায়ন।

৪. এঁরষফ ঝড়পরধষরংস:
এই ধরণের সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসীরা মনে করেন রাষ্ট্র কখনো উৎপাদনের উপকরণের সঠিক ব্যবহার করতে পারে না সম্প্রদায়ের জন্য। তাদের মতে, বেসরকারী মালিকানারও প্রয়োজন আছে। কিন্তু তারা চায় ব্যবসায়ী সংগঠন, ফ্যাক্টরী ইত্যাদি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বেসরকারী মালিকদের হাতে না থেকে শ্রমিক সংঘের হাতে থাকুক। আর রাষ্ট্র উৎপাদিত পণ্যের দাম, গুণগত মান, ক্রেতাদের চাওয়া-পাওয়া ইত্যাদি ব্যাপারগুলো দেখুক। এই ধরণের সমাজতন্ত্রের মূলনীতি হচ্ছে উৎপাদনের উপকরণের মালিক রাষ্ট্র হলেও তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে কর্মচারীদের হাতে। রাষ্ট্র শুধু দেখবে কর্মচারীদের দ্বারা ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কিনা। এই মতবাদের বিশ্বাসীরা মনে করেন কাজের এরূপ বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমেই সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এর কিছু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলোঃ
    উৎপাদনের উপকরণ রাষ্ট্র সরবরাহ করবে, কিন্তু তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
    ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্থ বা প্রতারিত হচ্ছে কিনা তা রাষ্ট্র দেখাশোনা করবে।
    সংগঠন, ফ্যাক্টরী ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব শ্রমিক সংঘের হাতে থাকবে।
    পণ্যের দাম, গুণগত মান, ক্রেতার চাহিদা রাষ্ট্র দেখাশোনা করবে।

৫. ঝুহফরপধষরংস:
এই মতবাদের সমর্থকরা এঁরষফ ঝড়পরধষরংস এর সমর্থকদের সাথে একমত হয়ে বলেন যে, রাষ্ট্রের হাতে সকল ক্ষমতা থাকা ঠিক নয়। তারা বলেন রাষ্ট্র খুব বেশী ক্ষমতাশালী হলে ক্ষমতার অপব্যবহার করবে। সেজন্য তারা চায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তিতে শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করা হোক। তারা জানে যে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ খুবই ক্ষমতাশালী। তাই তারা মনে করে যে, এই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দাবী আদায় করতে হলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর শ্রমিক সংঘের মাধ্যমে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের অধিকার আদায় করতে পারবে। যতক্ষণ না তাদের অধিকার আদায় না হয় ততক্ষণ তারা ধর্মঘট করতে থাকবে এবং প্রয়োজনে এই ধর্মঘট দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকবে এবং এক সময় তারা ক্ষমতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপঃ
    এক্ষেত্রে মনে করা হয় যে, রাজনৈতিক ক্ষমতার মাধ্যমে সামাজিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
    সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তিতে শ্রমিক সংিঘ গঠন করা হবে।
    অধিকার আদায়ের প্রধান হাতিয়ার ধর্মঘট।
    এদের মূলনীতি হল ধ্বংস নয় বরং সংগঠিত করা।

৬. ঈড়সসঁহরংস:
এই মতবাদের সমর্থক গধহরভবংঃড়. ১৮৪৫ সালে সমাজতন্ত্রের কৌশল সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন- নিজেদের দাবী আদায়ের জন্য প্রত্যেকটা দেেশর এবং সারা বিশ্বের পুঁজিবাদী সংগঠনের সধ্যে শক্তিশালী ঘবঃড়িৎশ প্রতিষ্ঠা করে ধীরে ধীরে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দখল করে সরকারের কাজের গবপযধহরংস গুলো আয়ত্ত্বে নিয়ে আসবে এবং নিম্নলিখিত ঈড়হপবঢ়ঃ চালু করবে-

এই ধরণের সমাজতেন্ত্র জনগণ তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করবে। কেউ নিজের পছন্দমত কাজ করতে পারবে না। প্রত্যেককে নির্দিষ্ট কাজ ভাগ করে দেওয়া হবে। প্রত্যেকে হবে সরকারী কর্মচারী কারো নিজস্ব বাড়ি বা ব্যাংক অপপড়ঁহঃ থাকবে না। কেউ কাজের বিনিময়ে ঈধংয পাবে না কিন্তু রাষ্ট্রের রান্নাঘর থেকে খাবার পাবে এবং থাকার জন্য কোয়ার্টার পাবে। কেউ তার ইচ্ছামত ভোগের জন্য দ্রব্য বা সেবা উৎপাদন করতে পারবে না। বরং কতটুকু সময়ে কতটুকু এবং কি উৎপাদন করতে হবে তা রাষ্ট্রই ঠিক করে দিবে। প্রত্যেকের ছেলে মেয়ের খাবার, লেখাপড়া ও কর্মসংস্থান দেখবে সরকার। রাষ্ট্র মুনাফা লাভের আশা ছেড়ে দিয়ে উৎপাদন, পণ্য বা সেবার দাম, গুণগত মান ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করবে। এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপঃ
    জনগণ দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় সবকিছু রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদান করা হবে।
    এখানে কোন বেকার থাকবে না এবং ধনী-গরীবের ভেদাভেদ থাকবে না।
    কারও ব্যক্তিগত সম্পদ থাকবে না এবং ব্যাংকে কোন সঞ্চয় করতে পারবে না।

৭. অহধৎপযরংস:
শাব্দিক অর্থে ধহধৎপযরংস বলতে হাঙ্গামাকে বুঝায় কিন্তু এখানে ধহধৎপযরংস বলতে বুঝানো হয়েছে সরকারের নিয়ম-নীতির অনুপস্থিতিকে। এই মতবাদের বিশ্বাসীরা মনে করেন যখন পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ধ্বংস হবে তখন পুঁজিবাদের সাথে সাথে মানুষে হিংসা, বিদ্বেষ, স্বার্থপরতা ইত্যাদি সমাজ থেকে চলে যাবে। তখন মানুষের আত্ম-উৎসর্গ, সামাজিক সেবা, প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষের আচরণে পরিবর্তন আসবে, মানুষ সব সময় অন্যের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবে, দ্বন্দ্ব-সংঘাত বন্ধ হবে এবং মানুষকে নিয়ন্ত্রনের জন্য পুলিশ প্রয়োজন হবে না বরং অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন হবে আত্মনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান। গাড়ী যেমন ংরমহধষ দেখে ধঁঃড়সধঃরপ থেকে যায় রাষ্ট্র্ও তেমনি ংরমহধষ মেনে চলার মত ধঁঃড়সধঃরপ চলতে থাকবে যেখানে কোন সরকার থাকবে না। এই ধরণের ঢ়ষধহ এর ড়ঁঃষরহব দিয়েছেন চৎরহপব কৎড়ঢ়ড়ঃশরহ. এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপঃ
    এখানে কোন সরকার ব্যবস্থা থাকবে না।
    ব্যক্তি নিজে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কার্যাবলী পরিচালনা করবে।
    প্রত্যেকে প্রত্যেকের অধিকারের সম্মান করবে, কোন গোলমাল থাকবে না
    রাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হতে থাকবে।

৮. ঋধনরধহ ঝড়পরধষরংস:
এই মতবাদের সমর্থকরা বিপ্লব করতে চায় না। তারা শান্তির পথে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই মতবাদের বিশ্বাসীরা হলেন বিভিন্ন বুদ্ধিজীবিগণ, লেখক, সাহিত্যিক ইত্যাদি সমাজে গণ্যমান্য শ্রেণী তাদের লেখা, কর্মকান্ডের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে চান। ইবৎহধৎফ ঝযধি এই মতবাদের অনুসারী। এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপঃ
    এই পদ্ধতিতে বিপ্লবের মাধ্যমে নয় শান্তির পথে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে।
    এ ব্যবস্থায় বিভিন্ন শ্রেণী বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাহিত্যিক তাদের লেখার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করবে।
 সমাজতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ঃ
সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো-

১. রাষ্ট্রের আওতাধীন উৎপাদন উপকরণ (ঝড়পরধষ ড়হিবৎংযরঢ় ড়ভ সবধহং ড়ভ ঢ়ৎড়ফঁপঃরড়হ):
সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উৎপাদনে উপকরণের ব্যক্তিগত মালিকানার অবসান ঘটে। এখানে সব ধরণের উৎপাদন উপকরণ জাতীয়করণ করা হয়। এগুলোর মলিকানা ও নিয়ন্ত্রন সরকারের হাতে থাকে এবং সরকার সমাজের প্রত্যেকের জন্য কাজ করে। এখানে কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থাকবে না।

২. বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের অনুপস্থিতি (ঘড়ঃ ঢ়ৎরাধঃব বহঃবৎঢ়ৎরংব):
এখানে সাধারণত কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থাকে না। রাষ্ট্র উৎপাদন কাজ শুরু করে ও পরিচালনা করে। রাষ্ট্র এর জন্য বেতন ও অন্যান্য খরচ দেয় এবং প্রাপ্ত মুনাফা সমাজ কল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যয় করে।

৩. অর্থনৈতিক সমতা (ঊপড়হড়সরপ বয়ঁধষরঃু):
সমাজতন্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো জাতীয় আয়ের সুষম বণ্টন। মূলত জাতীয় আয়ের সুষম বণ্টন দ্বারা সমাজে শ্রেণীভেদ বিলোপ করাই হলো সমাজতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য।

৪. সুযোগ-সুবিধার সমতা (ঊয়ঁধষরঃু ড়ভ ড়ঢ়ঢ়ড়ৎঃঁহরঃু):
সমাজতন্ত্র প্রত্যেককে কাজের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ দেয় সে ধনী হোক আর গরীব হোক। প্রত্যেকে নিজের খাওয়া-দাওয়া, ছেলেমেয়েদের খরচসহ কাজের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পায়। এখানে ধনী-দরিদ্র বিচার করা হয় না।

৫. অর্থনৈতিক পরিকল্পনা (ঊপড়হড়সরপ ঢ়ষধহ):
সমাজতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। প্রত্যেক সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ থাকে। উৎপাদনের নিয়ম, পরিমাণ, সময়, বণ্টন সবই পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হয়ে থাকে।

৬. সামাজিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা (ঝড়পরধষ বিষভধৎব ধহফ ংড়পরধষ ংবপঁৎরঃু):
সমাজতন্ত্রে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থা সামাজিক কল্যাণের দিকে দৃষ্টি রেখে পরিচালিত হয়। এখানে ব্যক্তিগত মালিকানা না থাকায় ব্যক্তিগত মুনাফারও কোন স্থান নেই। রাষ্ট্র যা উৎপাদন করে বা মুনাফা করে তা সমাজ কল্যাণে ও সমাজ নিরাপত্তাতেই ব্যবহার করে।

৭. শ্রেণীহীন সমাজব্যবস্থা (ঈষধংং-ষবংং ংড়পরবঃু):
সমাজতন্ত্রের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো শ্রেণীহীন সমাজ ব্যবস্থা। দেশের সকল সম্পত্তির মালিক রাষ্ট্র হওয়ায় উঁচু-নীচু শ্রেণীর জন্ম হয় না। সমাজে সবাই সমান।

 সমাজতন্ত্রের সুবিধা ঃ
সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার কিছু সুবিধা আছে। সেগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো ঃ

১. সামাজিক ন্যায়বিচার (ঝড়পরধষ লঁংঃরপব):
সমাজতন্ত্র ব্যবস্থার প্রধান সুবিধা হলো এটি সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করে। এখানে আয়ের অসমতা দূর হয় এবং জাতীয় আয়ের সুষম বণ্টন হয়। এখানে ধনী-দরিদ্র কোন শ্রেণী থাকে না, সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখা হয়। ফলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

২. সম্পদের সঠিক বণ্টন (ইবঃঃবৎ ধষষড়পধঃরড়হ ড়ভ ৎবংড়ঁৎপবং):
সমাজতন্ত্রে পুঁজিবাদী সমাজের তুলনায় জাতীয় উৎপাদনক্ষম সম্পদ অর্থনৈতিকভাবে আরো ভালভাবে বণ্টিত হয়। সামাজিক কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য সম্পদ কোথায়, কিভাবে বণ্টিত হবে তা ঠিক করে পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ। এই কর্তৃপক্ষ সম্পদের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে জনগনের সর্বোচ্চ চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করে।

৩. দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন (জধঢ়রফ বপড়হড়সরপ মৎড়ঃিয):
সমাজতন্ত্রের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দ্রুত করে। এখানে উৎপাদন পরিকল্পনা মাফিক পরিচালিত হয় বলে উৎপাদনের ক্ষেত্রে অতি উৎপাদন, কম-উৎপাদন বা অন্য কোন অসংগতি দেখা দেয় না। ফলে সমাজে বেকার সমস্যা বা নিজ অর্থনৈতিক কোন সমস্যা দেখা দেয় না। সমাজের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত হয়।

৪. উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি (ওসঢ়ৎড়ারহম ঢ়ৎড়ফঁপঃরাব বভভরপরবহপু):
সমাজতন্ত্রের উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন পদ্ধতির বিকাশ ঘটিয়ে সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মালিকানা নেই বলে প্রতিযোগিতা নেই বরং কাজের বা উৎপাদনের কৌশল গোপন করার প্রবণতা থাকে না। এজন্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে উৎপাদন পদ্ধতির দ্রুত বিকাশ হয়।

৫. সামাজিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা (ঝড়পরধষ ংবপঁৎরঃু ধহফ বিষভধৎব):
সমাতন্ত্র বিশ্বাস করে যে, মানুষ তার কর্মসংস্থান, আয়, বাসস্থঅন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। সমাজতন্ত্র এসব বিষয়ে নাগরিককে সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান করে। তাছাড়াও অসহায় সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায় বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এতে জনগণের কল্যাণও সাধিত হয়।

৬. অর্থনৈতিক স্থিরতা (ঊপড়হড়সরপ ংঃধনরষরঃু):
সমাজতন্ত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা হচ্ছে অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব। এখানে ব্যক্তিগত কোন সম্পত্তি থাকে না। সব কিছুই থাকে সমাজের কাছে এবং রাষ্ট্র তা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয় না। বাণিজ্য চক্র একই ধারায় চলে বলে অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়।

 সমাজতন্ত্রের অসুবিধা ঃ
সমাজতন্ত্রের সুবিধাগুলোর পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও রয়েছে। সেগুলো নিম্নরূপ ঃ

১. আমলাতন্ত্র ও লালফিতার দৌরাত্ম (ইঁৎবধঁপৎধপু ধহফ ৎবফ ঃধঢ়রংস):
সমাজতন্ত্রে রাষ্ট্রের উপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হয় এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলী রাষ্ট্র দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এজন্য বিপুল সংখ্যক সরকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হয়। ফলে আমলাতন্ত্রের উদ্ভব হয়। আমলারা অর্থনীতি পরিচালনার মূল হাতিয়ার হলেও বাড়তি সুবিধা ছাড়া তারা ভালভাবে কাজ করেনা বা করতে চায় না। ফলে লাল ফিতার দৌরাত্ম দেখা দেয়, সমাজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

২. ব্যবসায়ে সফল নয় (ঘড়ঃ ংঁপপবংংভঁষ রহ নঁংরহবংং):
সমাজতন্ত্রের সবকিছু সরকারের হাতে থাকে কিন্তু সকল বিভাগ ব্যবসায় সফল হয় না। আবার সব বিভাগ ব্যবসায় দক্ষও হয় না। ব্যবসা করার জন্য যে বীঃৎধ ড়ৎফরহধৎু দক্ষতা দরকার তা সরকারী সব কর্মচারীদের থাকে না। ফলে সরকার ব্যবসমায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

৩. অপর্যাপ্ত সম্পদ (খরসরঃধঃরড়হ ড়ভ বিধষঃয):
সমাজতন্ত্র একটি দেশের কৃষক-শ্রমিক, শোষিত-বঞ্চিত ও নিপীড়িত মেহনতি মানুষসহ আপামর জনসাধারণকে সকল প্রকার জুলুম ও অন্যায় থেকে রক্ষা করে তাদের ভাগ্যোন্নয়নের একটি সার্বিক আন্দোলন। এটি একটি ব্যাপক কর্মযজ্ঞ এবং এই কর্মযজ্ঞ সুচারুরূপে সম্পাদন করার জন্য বিপুল পরিমাণ পুঁজি ও সম্পদের প্রয়োজন হয়। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ যাবতীয় অর্থনৈতিক কাজ পরিচালনা করে। সমগ্র দেশের আপামর জনসাধারণের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে নতুন নতুন শিল্প স্থাপন এবং বিদ্যমান শিল্পকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য যে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও উপকরণ প্রয়োজন হয়, ঐ কর্তৃপক্ষের পক্ষে তা সংগ্রহ করা সম্ভবপর হয় না। তার ফলে জনগণের সার্বিক কল্যাণ অর্জনের উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

৪. সম্পদের অপ-বণ্টন (গধষ-ফরংঃৎরনঁঃরড়হ ড়ভ বিধষঃয):
সমাজতন্ত্রে দেশের সকল পুঁজি ও সম্পদের মালিক জনগণ হলেও তাদের মধ্যে এর ন্যায়সঙ্গত বণ্টন নিশ্চিত হয় না। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উৎপাদন বচ্যবস্থা পরিচালিত হয়। এখানে আমলাতান্ত্রিক গতানুগতিকতার কারণে উৎপাদনের কোন কোন ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় পণ্য ও সেবার সমাহার অধিক হয়ে যায় এবং কোন কোন ক্ষেত্রে চাহিদার অনুপাতে উৎপাদন অনেক কম হয়। এর ফলে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় সম্পদের অপ-বণ্টন ঘটে এবং জনগণ ভোগকারী হিসাবে সম্পদের সমবণ্টন থেকে বঞ্চিত হয়।

৫. ভোক্তার সার্বভৌমত্বের অভাব (খধপশ ড়ভ পড়হংঁসবৎ’ং ষরনবৎঃু):
মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে বিভিন্ন উৎপাদনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকার পণ্য ও সেবা উৎপাদন করে। উৎপাদনকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে এখানে বাজারে প্রচুর পণ্যের সমাহার ঘটে। ভোক্তা বা ক্রেতা সেগুলির ভিতর থেকে তার পছন্দমত জিনিসটি স্বাধীনভাবে ক্রয় বা ভোগ করতে পারে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে জনগণের সাধারণ কল্যাণের উপর গুরুত্ব আরোপ করে পণ্য ও সেবা উৎপাদন করা হয়। তাছাড়া, এখানে সকল পণ্য একই কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে উৎপাদিত হয় বলে সেগুলির গুণ ও মানেও কোন বৈচিত্র্য থাকে না। ফলে পণ্য ও সেবা ক্রয় বা ভোগের ক্ষেত্রে এখানে ভোগকারীর কোন স্বাধীনতা থাকে না।

৬. অনুপ্রেরণার অভাব (খধপশ ড়ভ রহপবহঃরাবং):
সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত মুনাফার কোন সুযোগ না থাকায় কর্মীদের কর্মদ্যোম হ্রাস পায়। কেউ ভাল করলে তাকে কোন সুবিধা দেওয়া হয় না। ব্যক্তিগত মুনাফা বা স্বার্থসিদ্ধির কোন সুযোগ না থাকায় কর্মীরা কর্মদক্ষতার পূর্ণ ব্যবহার করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে না।

৭. অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অভাব (খধপশ ড়ভ বপড়হড়সরপ ষরনবৎঃু):
সমাজতন্ত্রের আরেকটি ত্রুটি বা কুফল অথবা এর বিপক্ষে আরেকটি যুক্তি এই যে, এখানে ব্যক্তির অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়। শিল্প-মালিক ও শিল্প-সংগঠকদের দক্ষতাপূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও তৎপরতা, উদ্ভাবনী কৌশল, ঝুঁকি গ্রহণ প্রভৃতি গুণ যে কোন দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয় বলে এখানে ব্যক্তির অর্থনৈতিক কাজের কোন স্বাধীনতা থাকে না। এখানে ব্যক্তি নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী কোন শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে না এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত তার পেশাও পরিবর্তন করতে পারে না। আর এভাবেই এখানে ব্যক্তির অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়।

৮. অর্থনৈতিক অসমতা (ঘড় বপড়হড়সরপ বয়ঁধষরঃু):
যদিও বলা হয় সমাজতন্ত্র অর্থনৈতিক সমতা প্রতিষ্ঠা করে কিন্তু তা সত্য ও বাস্তব নয়। রাশিয়া যেখানে সমাজতন্ত্রের বাস্তব প্রয়োগ ঘটেছিল সেখানেই অর্থনৈতিক সমতা আনতে তারা ব্যর্থ হয়েছিল। সমাজতন্ত্রে ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে আর গরীবরা আরো গরীব হচ্ছে।

৯. রাষ্ট্্েরর হাতে অধিক ক্ষমতা (ঈড়হপবহঃৎধঃরড়হ ড়ৎ ঢ়ড়বিৎ রহ ঃযব ংঃধঃব):
সমাজতন্ত্রের একটা বড় অসুবিধা হচ্ছে রাষ্ট্রের হাতে অধিক ক্ষমতা দেওয়া থাকে। এখানে রাষ্ট্র শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা নয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও কর্তৃত্ব খাটায়। সব ক্ষমতা রাষ্ট্রের আওতায় দিয়ে ব্যক্তি স্বাধীনতা বলে কিছু থাকে না।

১০. ব্যক্তি স্বাধীনতার অভাব (খধপশ ড়ভ রহফরারফঁধষ ষরনবৎঃু):
সমাজতন্ত্রের সর্বপ্রথম ত্রুটি বা কুফল/বিপক্ষে সর্বপ্রথম যুক্তি এই যে, এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা বিলুপ্ত হয়। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডসহ রাষ্ট্রের সকল কাজ একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। এখানে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ব্যক্তির জন্য যে কাজ নির্ধারণ করে দেয়, তাকে সে কাজই করতে হয়। এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি তার নিজ ইচ্ছা মত যে কোন কাজ করতে পারে না এবং তার ফলে এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতার বিলোপ সাধিত হয়। আর যে ব্যবস্থায় ব্যক্তির স্বাধীনতা থাকে না, সে ব্যবস্থা কোন মতেই গ্রহণীয় হতে পারে না।

১১. স্বয়ংক্রিয় মূল্য পদ্ধতির অনুপস্থিতি (অনংবহপব ড়ভ ধঁঃড়সধঃরপ ঢ়ৎরপব):
সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। বাজারে একটি নির্দিষ্ট পণ্যের সরবরাহের মাত্রা কি পরিমাণ হবে এবং উক্ত পণ্যের মূল্য কত হবে, ঐ কর্তৃপক্ষই তা ঠিক করে দেয়। এ ক্ষেত্রে ভোক্তা বা ক্রেতার এক দিকে যেমন পছন্দের স্বাধীনতা থাকে না, অন্য দিকে তেমন দ্রব্যের মূল্য নিয়ে সে দর কষাকষিও করতে পারে না। এখানে ক্রেতার চাহিদার নিরিখে পণ্যের মূল্যের কোন তারতম্য ঘটে না। পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরণের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ এবং ঐগুলির উপর ভোক্তার তুলনামূলক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয়ে থাকে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ব্যববস্থায় একটি মাত্র কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সকল রকম পণ্যের সরবরাহ ঘটে বলে এখানে পণ্যের স্বয়ংক্রিয় মূল্য পদ্ধতি কাজ করে না।

১২. উপযুক্ত মেধার অপ্রাপ্যতা (ঘড়হ-ধাধরষধনরষরঃু ড়ভ সবৎরঃং):
সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের যাবতীয় কাজ একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। একটি দেশের জনসাধারণের সামগ্রিক প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রেখে এখানে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়। সমাজের সকল জনগোষ্ঠীর সকল ক্ষেত্রের যাবতীয় ভালমন্দের খুঁটিনাটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পর্যালোচনা করে তবেই একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যেতে পারে। এ জন্য যেমন দরকার সঠিক তথ্য, উপযুক্ত প্রযুক্তি ও কলাকৌশল, তেমনি দরকার এক দল চৌকস, মেধাসম্পন্ন ও স্বার্থত্যাগী অতিমানবের। এমন গুণসম্পন্ন অতিমানবের কথা কল্পনা করা যায় বটে, কিন্তু বাস্তবে তার দেখা মিলে না। তাই সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের বিষয়টি এক অলীক কল্পনাই থেকে যায়।

উপসংহারঃ
সমাজতন্ত্রের বিপক্ষে নানা যুক্তি ও সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও এ আন্দোলনের গুরুত্বকে পুরোপুরি অস্ব^ীকার করা যায় না। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলেও শোষিত-বঞ্চিত ও ভাগ্যহত মানুষের সামগ্রিক উন্নয়নের যে নৈতিক ও শাশ্বত লক্ষ্য এখানে নিহিত আছে, তার গুরুত্ব কেউই অস্বীকার করতে পারে না।

9 Responses

  1. It’s actually a nice and useful piece of info.
    I am happy that you shared this helpful information with us.
    Please keep us up to date like this. Thank you for sharing.

    Like

  2. Yes! Finally something about other.

    Like

  3. Somebody essentially assist to make significantly posts I
    might state. That is the very first time I frequented your website page and up to now?
    I surprised with the research you made to make this particular post incredible.
    Wonderful process!

    Like

  4. Thanks for another informative website. Where else may I
    get that type of information written in such a perfect way?
    I’ve a venture that I’m just now running on, and I’ve been at the glance out for
    such information.

    Like

  5. You have made some really good points there. I checked on the net to find out more about the
    issue and found most people will go along with your views on this web site.

    Like

  6. Spot on with this write-up, I absolutely feel this
    web site needs a great deal more attention. I’ll probably be back again to see more, thanks for
    the info!

    Like

  7. I’m not sure where you’re getting your information, but
    great topic. I needs to spend some time learning much more
    or understanding more. Thanks for great information I was looking for
    this information for my mission.

    Like

  8. I loved as much as you will receive carried out right here.
    The sketch is attractive, your authored subject matter stylish.
    nonetheless, you command get got an shakiness over that you wish be delivering the following.
    unwell unquestionably come further formerly again as exactly the same nearly
    a lot often inside case you shield this hike.

    Like

  9. I read this paragraph completely regarding the difference of most
    recent and previous technologies, it’s awesome article.

    Like

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: