সামাজিক যোগাযোগে ফেসবুকের ব্যবহার এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপর এর প্রভাব

মূখবন্ধ

আধুনিক কালে সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়সমূহের বিকাশ প্রক্রিয়ায় জ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে লোক প্রশাসন যখন চরম উৎকর্ষ এবং স্বীকৃতি লাভ করেছে তখন সমাজ বিষয়ক যে কোন গবেষণা কর্মের জন্য যে একটি উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব রয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

লোক প্রশাসন অধ্যায়নে সামাজিক গবেষণা একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামাজিক গবেষণা সমাজ ও ব্যক্তির একটি বিশ্লেষণমূলক অনুসন্ধান। গবেষণার ফলে মানুষের জ্ঞান ক্রমশঃ সমৃদ্ধ হচ্ছে। সামাজিক গবেষণা সমাজ সম্পর্কে আমাদের নতুন জ্ঞান লাভে সাহায্য করে। এই জ্ঞানের মূল্য অপরিসীম। জ্ঞানই শক্তি, সুতরাং মানুষের সমাজ সম্পর্কে নতুন জ্ঞান লাভ করে সমাজকে পরিবর্তন করা এবং পরিকল্পিত পথে চালনা করার জন্য আমরা শক্তি লাভ করতে পারি। এখানেই সমাজ বিজ্ঞানের গবেষণার স্বার্থকতা।

লোক প্রশাসনের ছাত্র হিসেবে আমাকেও একটি গবেষণামূলক কার্য সম্পাদন করতে হয়েছে। আমার গবেষণার বিষয়বস্তু “সামাজিক যোগাযোগে ফেসবুকের ব্যবহার এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপর এর প্রভাব।” আমার জানা মতে এই শিরোনামে কোন গবেষণা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত হয়নি। সেক্ষেত্রে আমার গবেষণা কর্মটি সম্ভবত প্রথম প্রয়াস। এ গবেষণাটি অনেকের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

গবেষণার ক্ষেত্রে আমার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। তবে এ কথা স্বীকার করতে দ্বীধা নেই যে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও কৌশলের ক্ষেত্রে আমার যথেষ্ট দৈন্যতা আছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ত্রুটি বিচ্যুতি থাকতে পারে। তথাপি গবেষণাকর্মে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি সমস্যার প্রতি সত্যনিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বস্তুনিষ্ট ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং উপস্থাপনে। আশা করি নবীন গবেষক হিসেবে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াসের ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হবে। আমার গবেষণা কর্ম পাঠকদের চিন্তা-চেতনায় কিঞ্চিত খোরাক যোগাতে পারলেও আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস ও প্রচেষ্টা সফল হয়েছে বলে মনে করবো।

নিবেদক
মোঃ মাসুদ রানা
লোক প্রশাসন বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

কৃতজ্ঞতা স্বীকার

একটি গবেষণা কর্ম পরিচালনা বা তার প্রতিবেদন তৈরী করতে যে সমস্ত পর্যায় অতিক্রম করতে হয় সে বিষয়ে পর্যাপ্ত সাহায্য সহযোগীতা, প্রয়োজনীয় উপদেশ ও নির্দেশনাবলী এবং অনুপ্রেরণা ব্যতীত সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না।

আমার এ গবেষণা কর্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে আমি সর্ব প্রথম শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি মহান আল্লাহর যিনি আমাকে সুস্থ রেখে গবেষণাটি পরিচালনা ও সুসম্পন্ন করার তৌফিক দান করেছেন। আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি লোক প্রশাসন বিভাগের সকল শিক্ষকদের প্রতি যারা অত্র বিভাগের প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছেন।

আমার পছন্দ মত বিষয় নির্ধারণ করে দেয়ার কৃতিত্ব আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক জনাব জে. এম. আব্দুল্লাহ এর। শুধুমাত্র বিষয়বস্তু নির্ধারণ করেই নয়, গবেষণার প্রতিটি স্তরেই তার মূল্যবান উপদেশ এবং নির্দেশনা আমার গবেষণা কাজকে ত্বরানিত করেছেন। আমি তার কাছে এ জন্য চির কৃতজ্ঞ।

আমার গবেষণার উপাত্ত সংগ্রহের বিষয়টি প্রথমে আমার কাছে বেশ কষ্টের মনে হচ্ছিল। এ ব্যাপারে আমার বন্ধুদের সহযোগীতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি।

সর্বপোরি গবেষণা এলাকার যে সকল ছাত্র-ছাত্রী আমার প্রয়োজনে তাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

কৃতজ্ঞতা স্বীকারে
মোঃ মাসুদ রানা
লোক প্রশাসন বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সারসংক্ষেপ

সমাজ বিজ্ঞানের গবেষণা কতকগুলো সামাজিক ঘটনা, যেগুলো ইতিপূর্বে ছিল রহস্যাবৃত, সেগুলোর প্রতি আমাদের দৃষ্টি খুলে দিচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন সমাজিক বিষয় সম্পর্কে আমরা যা জানি, গবেষণার ফলে সে জ্ঞান ক্রমশ আরও পরিশিলিত ও সমৃদ্ধ হচ্ছে। সামাজিক গবেষণার ফলে যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত কুসংস্কার দূরীভূত হচ্ছে, ভ্রান্ত বিশ্বাস ও অপ্রযোজ্য তত্ত্বের ত্রুটিগুলো ধরা পড়ছে এবং এসব ভ্রান্ত তত্ত্বের বদলে গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের উদ্ভব ঘটছে।

আমার গবেষণার বিষয় হলো “সামাজিক যোগাযোগে ফেসবুকের ব্যবহার এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপর এর প্রভাব।” আমার এ গবেষণায় আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপর ফেসবুক ব্যবহারের প্রভাব, সুবিধা, অসুবিধা এবং কিছু সুপারিশ পেশ করেছি।

এই গবেষণায় আমি প্রথমেই গবেষণার বিষয়ের সমস্যাগুলো বের করেছি। এরপর বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই বিষয়ের উপর গবেষণা করা কতটুকু যৌক্তিক সে বিষয়ে আলোচনা করেছি।

এছাড়া আমার গবেষণা কোন ধরণের এবং তথ্যগুলো কিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে সে বিষয়ে বর্ণনা করেছি। আমার গবেষণার উদ্দেশ্য যেমন- ফেসবুক ব্যবহারের ফলে কি ধরণের সুবিধা বা অসুবিধা, এর নেতিবাচক প্রভাব ইত্যাদি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এর পরের ধাপে ফেসবুক সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় যেমন-ফেসবুকের ইতিহাস, প্রতিষ্ঠাতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেছি।

পরবর্তীতে আমি আমার গবেষণার মাধ্যমে কি ফলাফল পেলাম এবং এর আলোকে কিছু সুপারিশমালা প্রদান করেছি। ফেসবুক ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন অনেকের উপকার হয় অন্যদিকে তেমনি অনেকে এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। ফেসবুককে কিভাবে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো যায় এবং এর নেতিবাচক দিকগুলো থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে আমি কিছু সমাধান এবং সুপারিশ করেছি।

সূচীপত্র

বিষয় পৃষ্ঠা

প্রথম অধ্যায়ঃ গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ( ১-৮ )
১.১ ভূমিকা ………………………………………………………………… ১
১.২ গবেষণা সমস্যার বিবৃতি ……………………………………………… ১
১.৩ গবেষণার যৌক্তিকতা …………………………………………………… ২
১.৪ গবেষণার উদ্দেশ্য …………………………………………………….. ৩
১.৫ নৈতিকতার বিবেচ্য বিষয় ……………………………………………… ৪
১.৬ সাহিত্য পর্যালোচনা …………………………………………………… ৪
১.৭ গবেষণার সীমাবদ্ধতা …………………………………………………. ৮
দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ গবেষণা পদ্ধতি ( ৯-১৩ )
২.১ গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতি ……………………………………………. ৯
২.২ গবেষণা এলাকা ……………………………………………………… ১০
২.৩ গবেষণার সময়কাল …………………………………………………. ১০
২.৪ নমুনায়ন …………………………………………………………….. ১১
২.৫ চলক ………………………………………………………………… ১১
২.৬ তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ………………………………………………… ১২
তৃতীয় অধ্যায়ঃ গবেষণার মৌলিক প্রত্যয়সমূহ ( ১৪-২৪ )
৩.১ ফেসবুক ……………………………………………………………… ১৪
৩.২ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ………………………………………………… ১৫
৩.৩ ফেসবুকের ঐতিহাসিক পটভূমি ……………………………………… ১৬
৩.৪ ফেসবুকের মৌলিক প্রত্যয় ………………………………………….. ১৯
চতুর্থ অধ্যায়ঃ তথ্য প্রকিয়াজাতকরণ ও বিশ্লেষণ ( ২৫-৩৩ )
৪.১ তথ্য উপস্থাপনা……………………………………………………… ২৫
৪.২ তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিশ্লেষণ ……………………………….. ২৫
পঞ্চম অধ্যায়ঃ ফলাফল এবং সুপারিশ ( ৩৪-৪৪ )
৫.১ যাদের ফেসবুকে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি……………………… ৩৪
৫.২ ফেসবুক আসক্তির প্রধান কারণ………………………………………. ৩৫
৫.৩ ফলাফল …………………………………………………………….. ৩৮
৫.৪ ফেসবুকে আসক্তির লক্ষণ …………………………………………… ৩৯
৫.৫ প্রতিকার/চিকিৎসা এবং সুপারিশমালা ……………………………….. ৪১
৫.৬ ফেসবুক এবং ইন্টারনেট আসক্তি নিরাময় কেন্দ্র …………………….. ৪২
উপসংহার ………………………………………………………………… ৪২
সহায়ক গ্রন্থাবলী এবং তথ্যসূত্র …………………………………………… ৪৭
গবেষণা প্রশ্নপত্র ………………………………………………………….. ৪৯


প্রথম অধ্যায়

গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা

১.১ ভূমিকাঃ
বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষ বিশেষ করে যুব সমাজ প্রযুক্তির বিভিন্ন উপকরণ ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস ইত্যাদির দিকে ব্যাপকহারে ঝুকে পড়েছে। বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকরীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনের বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত করেন বিভিন্ন ধরণের সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহারের মাধ্যমে। বর্তমান সময়টা হচ্ছে ইন্টারনেটের। আর ইন্টারনেট বলতেই এখন এক কথা সর্বপ্রথম যে সাইটটির নাম চলে আসে তা হলো ফেসবুক। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগের ধারণা নিয়ে চালু হওয়া ফেসবুক পাল্টে দিয়েছে ইন্টারনেট বিশ্বকে।

সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাপনের ধারণাটি পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সাথে সাথে দৈনন্দিন জীবন যাপনের ধারায় যুক্ত হচ্ছে নিত্য নতুন অনুষঙ্গ। আর ক্রমেই বিশ্ব হয়ে উঠছে ইন্টারনেট নির্ভর। ইন্টানেটের বিস্তার গত এক দশকে পৃথিবীর আর্থ-সামাজিক অবস্থায় নিয়ে এসেছে বড় ধরণের পরিরর্তন। পাশ্চাত্যের দেশগুলো প্রযুক্তির ব্যবহারে বেশি অগ্রসর হলেও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই এশিয়ার দেশগুলো। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ যুক্ত রয়েছে ইন্টারনেটে। আর এর বড় একটি অংশই রয়েছে এশিয়ার।

১.২ গবেষণা সমস্যার বিবৃতিঃ
প্রকৃতপক্ষে একটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের শুরুই হয় একটি সমস্যা দিয়ে। এ সমস্যার একটি আবশ্যকীয় শর্ত হচ্ছে এটিকে সমাধানযোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ লভ্য যন্ত্রপাতি বা উপকরণাদির সাহায্যে গবেষকের উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভবপর হবে। এছাড়াও বিজ্ঞান বা সামাজিক বিজ্ঞানের আওতাধীন যে কোন বিষয়ের সংগেই সমস্যাটি সংশ্লিষ্ট হতে পারে। গবেষণার সমস্যা এমন কিছু ধারণা উপস্থাপন করে যা গবেষণার লক্ষ্য নির্ধারণে মূল প্রসঙ্গকে চিহ্নিত করে। তবে গবেষণা সমস্যা শুধুমাত্র কিছু সমস্যাকে নিজস্ব ধারণার আলোকে গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে দৃষ্টিকোণ বা তাত্ত্বিক কাঠামোর রূপরেখায় সমস্যার অন্তর্গত প্রশ্নগুলোর উত্তর খোজার চেষ্টা করতে চাওয়া হচ্ছে তারও উল্লেখ বুঝায়।

আমার গবেষণারও কিছু নির্দিষ্ট সমস্যার আলোকে শুরু হয়েছে। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় বিশেষ করে যুবসমাজ ইন্টারনেটের দিকে ব্যাপকভাবে ঝুকে পড়ছে। আর যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাদের অনেকেই বর্তমানে ফেসবুক নিয়ে মেতে থাকে। কিন্তু ফেসবুকের অত্যধিক ব্যবহার আমাদের জীবন ক্রমশ অভিশাপে রূপ নিচ্ছে। বিজ্ঞানের প্রতিটি অবদানই আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। কিন্তু এই আশীর্বাদ আবার অভিশাপে রূপান্তরিত হয় যখন ওই অবদানকে বেশি ব্যবহার করা হয়।
বর্তমানে শিক্ষিত সমাজ যেমন-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ফেসবুকের প্রতি বেশি মাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। আর তাই ফেসবুককে নেশার জগতে আবির্ভূত এক নতুন উপকরণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

ছাত্র-ছাত্রীরা ফেসবুকে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে। এর ফলে দেখা যাচ্ছে একদিকে যেমন তাদের মানসিক এবং শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে অপর দিকে সময়ের অপচয় হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে।

অর্থাৎ ফেসবুক ছাড়া যেন তাদের এক মুহূর্তও কাটেনা। যেখানেই যাই সেখানেই ফেসবুক চাই। আর এই প্রক্রিয়াটি আরো সহজতর হয়ে উঠেছে বর্তমানে মোবাইলে ফেসবুক ব্যবহারের সুবিধা চালু হওয়ায়।

আমার এ গবেষণার মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহার সম্পর্কিত এ সকল সমস্যাগুলো তুলে ধরার চ্ষ্টো করা হয়েছে এবং এই সমস্যাগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সুপারিশমূলক আলোচনাও করা হয়েছে।

১.৩ গবেষণার যৌক্তিকতাঃ
তরুণ তরুনীদের মধ্যে যারা মাত্রাতিরিক্ত ফেসবুকে ম্যাসেজ পাঠান কিংবা দিনের অনেক সময় ব্যয় করেন ফেসবুকের পেছনে তারা শারীরিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েন। বিশেষ করে এদের মাঝে ধূমপান, মদ্যপান এবং যৌনকর্মের প্রবণতা বেশি।

আমার গবেষণা এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়ছে। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় ইন্টারনেট ছাড়া মানুষ এক দিনও চলতে পারেনা। যদিও এই ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ আজ যারা বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনেছে। কিন্তু কেউ যদি মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেটে ফেসবুক ব্যবহার করে এবং যার কারণে তার স্বাভাবিক জীবন যাত্রা বিঘ্নিত হয় তখনই সমস্যা। আর তাই ফেসবুক আসক্তির ব্যাপারে আমাদের সমাজের মানুষকে বিশেষ করে তরুণ সমাজকে সচেতন করে তুলতে হবে এবং এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে তাদের ভালোভাবে ধারণা প্রদান করতে হবে।

আর তাই এ গবেষণা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে খুবই উপযুক্ত। কারণ গবেষণার মাধ্যমে আমি ফেসবুকের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ফেসুবকে মানুষ কিভাবে আসক্ত হতে পারে বা কাদের মাঝে এই আসক্ত থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

সুতরাং আমি বর্তমান সময়ের ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম তথা ফেসবুকের ব্যবহার এবং এর প্রতি মানুষ যে পরিমাণে আসক্ত হচ্ছে তাতে থেকে বলতে পারি যে, আমার গবেষণার যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে। আমার মনে হয়, এই গবেষণাটি বর্তমানে তরুণ-তরুণীদের ফেসবুকের প্রতি আসক্ত হওয়ার এবং এর ক্ষতিকর দিকগুলোর ব্যাপারে সচেতন হতে সাহায্য করবে।

১.৪ গবেষণার উদ্দেশ্যঃ
প্রতিটি গবেষণারই কিছু মৌলিক উদ্দেশ্য থাকে। উদ্দেশ্য ছাড়া কোন গবেষণা সফল হতে পারে না। আর সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণায় সাধারণত সমাজের বিভিন্ন সমস্যার আলোকে গবেষণা করা হয়। সামাজিক বাস্তবতার প্রকৃতি অনুসন্ধান করা হয়। নির্ভরযোগ্য, যথার্থ ও তথ্য নির্ভর প্রমাণের মাধ্যমে সমাজ জীবনকে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। এছাড়াও সামাজিক অবস্থা এবং সমস্যা সমূহের মূল্যায়ন বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সামাজিক বিভিন্নক সমূহের দ্বারা ভিবিষ্যৎ বাণী করা, সামাজিক আচরণ ও প্রক্রিয়া প্রতিক্রিয়া আন্ত প্রতিক্রিয়াকে অনুধাবনের চেষ্টা করা হয়। সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ের সমালোচনার মাধ্যমে জনগণের মুক্তি আনয়ন করা হয়। সমাজে যারা বিশেষ ভাবে অসুবিধাগ্রস্থ তাদের ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
আমার গবেষণায়েও নির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বর্তমানে ফেসবুক ব্যাপক মাত্রায় ব্যবহার হচ্ছে। আর তাই ফেসবুক নামক আসক্তি থেকে বর্তমান যুব সমাজকে কিভাবে রক্ষা করা যায় এবং এর খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে সবাইকে জানানোই মূলত আমার এ গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। আমার গবেষণার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো নিম্নরূপ-

– বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণ।
– ফেসবুক ব্যবহারের ফলে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানসিক, শারীরিক ইত্যাদির উপর প্রভাব সমূহ।
– তরুণ-তরুণীদেরকে ফেসবুক আসক্তির কুপ্রভাব থেকে রক্ষার উপায় বের করা।

১.৫ নৈতিকতা বিবেচ্য বিষয়ঃ
একজন গবেষক হিসেবে গবেষণা কার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে নৈতিক দিকগুলো বিবেচেনা করা একান্ত আবশ্যক। গবেষণার উদ্দেশ্যকে যদি সফল করতে হয় তাহলে গবেষককে তার নৈতিক আচরণের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কারণ সামাজিক গবেষণা সাধারণত সমাজে এবং সমাজে অবস্থিত মানুষের বিভিন্ন সমস্যার আলোকে হয়ে থাকে।

আর এখানে গবেষককে তার গবেষণার জন্য সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের কাছে যেতে হয়। কিন্তু সমাজের সকল মানুষের আচার-আচরণ, মূল্যবোধ, কথা-বার্তা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ইত্যাদির মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। আর একজন গবেষক যদি সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সাথে একই ব্যবহার করেন তাহলে তিনি তার গবেষণার জন্য সঠিক তথ্য নাও পেতে পারেন।

আর তাই একজন গবেষক হিসেবে সমাজের প্রতিটি শ্রেণীর মানুষের মধ্যে এ সকল বৈচিত্র্যময় বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রেখেই গবেষণা কার্য পরিচালনা করা উচিত। আমার গবেষণার ক্ষেত্রে আমি নৈতিকতার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি, বিশেষ করে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে। কারণ আমার গবেষণার বিষয়টি অনেক সংবেদনশীল। তাই তথ্য প্রদানকারীর সাথে যথাযথ আচরণ এবং শৃঙ্খলার মাধ্যমে সঠিক তথ্য উদঘাটন করার চেষ্টা করেছি যাতে করে আমার গবেষণার উদ্দেশ্য সফল হয়।

১.৬ সাহিত্য পর্যালোচনাঃ
গবেষণার সংগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো উপযুক্ত সমস্যা নির্বাচন। আর উপযুক্ত সমস্যা নির্বাচন করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান থাকা একান্ত প্রয়োজন। প্রাসঙ্গিক বই, সাময়িকী, পত্র-পত্রিকা পাঠ বা পর্যালোচনা নির্দিষ্ট ক্ষেত্র সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান লাভের একটি উত্তম উপায়। অন্যান্য বই বা গবেষণার প্রতিবেদন পাঠের মাধ্যমে গবেষণার সমস্যা সম্পর্কে গবেষকের অস্পষ্ট ধারণা প্রায়ই অধিকতই বাস্তব রূপ লাভ করে থাকে। প্রাসঙ্গিক জ্ঞানের পর্যালোচনা থেকে গবেষক জানতে পারেন যে, নির্দিষ্ট গবেষণাটি আদৌ পরিচালনা করার প্রয়োজন আছে কিনা? প্রাথমিক অবস্থায় কোন সমস্যা নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে গবেষকদের কাছে কোন অস্পষ্ট চিন্তা থাকতে পারে, কিন্তু বই পত্র ও সাময়িকী পর্যালোচনা থেকে তিনি জানতে পারেন যে, হুবহু ঐ সমস্যা নিয়ে কেউ গবেষণা করেছে কিনা। প্রাসঙ্গিক জ্ঞানের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পর্যালোচনা পরীক্ষণ পরিকল্পনায় ভ্রান্তি বা অন্যান্য জটিলতা সম্মুখীন হওয়া থেকে গবেষককে রক্ষা করে।

সোস্যাল নেটওয়াকিং আজ বিশ্ব জুড়ে। ফেসবুক, টেক্সটিং, তড়িৎ মেসেজ- এসব বিষয় ছোট ছেলে-মেয়ে, তরুণ, টিনএজারের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। ফেসবুকের বিরূপ প্রভাব এবং এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার সম্পর্কে লিখেছেন সোস্যাল নেটওয়াকিং নিয়ে নামকরা গবেষক, ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সংস্থা।

মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ল্যারি ডি রোজেনঃ
যেসব টিনএজার ফেসবুক ব্যবহার করে, তারা আত্মপ্রেমিক বা আত্মবিলাসী হলেও যারা ফেসবুক ব্যবহার করে না, তাদের চেয়ে অনেক বেশি সহমর্মী। উদ্বিগ্ন মা-বাবার প্রতি রোজেনের পরামর্শ—বাচ্চাদের ফেসবুকে বিনিময়, ভাব প্রকাশ গোপনে তদারক করা বা তাদের বিরত করা কাজের কথা নয়। কত দিন তাদের বিরত রাখা যাবে? বরং তাদের সঙ্গে এই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করুন। বাচ্চাদের কাছ থেকেও অনেক জানার আছে,তারাও আলাপে উৎসাহিত হবে।

মার্কিন মনোবিজ্ঞানী সমিতির অধিবেশনে সম্প্রতি রোজেন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের ঝুঁকি ও ভালো দিক নিয়ে কম্পিউটারনির্ভর সমীক্ষা পেশ করেন। তবে সে সমীক্ষায় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের সঙ্গে মনোগত প্রবণতার সম্পর্ক তুলে ধরা গেছে। এর কারণ ও ফলাফল এতে প্রতিফলিত হয়নি। ভালো দিক আগে বলি। এক হাজার ২০০ টিনএজার ও তরুণের মধ্যে পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেল, ফেসবুক ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং বা ত্বরিতবার্তায় যত বেশি সময় তারা অতিবাহিত করেছে, তত বেশি অনলাইনে থাকা, বাস্তব জগতে সমমর্মী হওয়া, অন্যদের অনুভূতিতে সাড়া দেওয়া, সম্পর্কিত হওয়া বেড়েছে।

ডেভিড কার্লসন,‘অনেক তরুণকে দেখেছি,তারা অনলাইনে বন্ধুদের কাছে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে,বন্ধুদের প্রতি অনেক কেয়ারিং এবং পর্যায়ক্রমে অফলাইনে এসেছে তারা,বাস্তব জগতে বন্ধুর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।’

ডিজঅ্যাবিলিটি গ্রুপের একটি অনলাইন ‘বিস্ক্যান’ তেমন একটি উদাহরণ এ দেশে। বিভিন্ন বয়সের তিন হাজার ৭০২ জনের মধ্যে সাম্প্রতিক দুটি সমীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, ৩২ বছর বয়স্ক লোক বা এর চেয়ে তরুণ বয়সী লোক ফেসবুককে যোগাযোগের মাধ্যম, যেমন—টেক্সটিং ও ফোনকোল হিসেবে ব্যবহার করে।

অনলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং লাজুক ছেলেমেয়ে ও টিনএজারদের ব্যক্তিগত দেখাদেখির চেয়ে আরও স্মার্ট কৌশল, যেমন—ফেসবুকের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্যের কাছাকাছি যেতে সহায়তা করে। এর ঝুঁকির দিকও আছে। এক হাজার ৩০ জন মা-বাবার মধ্যে ২০০৯ সালে একটি সমীক্ষায় রোজেন ও সহকর্মীরা দেখেছেন, শিশু ও টিনএজার যারা গণমাধ্যমে (অনলাইন ও অফলাইন) বেশি সময় ব্যয় করে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ-দুশ্চিন্তা, পেটব্যথা ও স্কুলে অসুস্থতার জন্য অনুপস্থিতির মাত্রা বেশি।

টিনএজ যাদের হয়নি এবং টিনএজার যারা ভিডিও গেমে বেশি সময় ব্যয় করেছে, তাদেরও রুগ্ণ স্বাস্থ্য হয়েছে বেশি। ৭৭৭ জন টিনএজার ও তরুণের মধ্যে একটি চলমান গবেষণায় দেখেছেন ড. রোজেন। গড়পড়তা যারা বেশি সময় ফেসবুকে কাটায়, তাদের মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও বাইপোলার ডিজ-অর্ডার বেশি—মনোবিজ্ঞান পরীক্ষায় দেখা গেছে। ২০১১ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৯ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে পরিচালিত আরও একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, এমন অভ্যাস যাদের আছে, তারা লেখাপড়া ও অন্যান্য কাজের ১৫ মিনিটের মধ্যে গড়ে তিন মিনিট সময় মনোযোগ হারায়। ওয়েকফিল্ড রিসার্চের সমীক্ষায় দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ কলেজছাত্র কোনো রকমের প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া অধ্যয়ন করতে পারে না, আর ৩৮ শতাংশ ছাত্র একটানা ১০ মিনিটের বেশি সময় তাদের ল্যাপটপ, ফোন বা অন্যান্য মাধ্যম চেক না করে থাকতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মডার্ন টেকনোলজি’স ইফেক্ট রিসার্চ সেন্টারঃ
-যুক্তরাষ্ট্রের হায়ার লেভেল স্কুলের ৩য় গ্রেডের একজন ছাত্র বছরে ১৮০০ ঘন্টা ফেইসবুকের রঙিন দুনিয়ার সামনে কাটিয়ে দিচ্ছে। অথচ ঐ একই ছাত্র বছরে তার বইয়ের সামনে বসছে মাত্র ১২০০ ঘন্টার সমপরিমাণ সময়। আবার নিউক্যালস মিডিয়া রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে টিনএজ অপরাধ পুরো আমেরিকায় সর্বোচ্চ। টিনএজ এ বালকরা ব্যাংক ডাকাতি থেকে খুন, গুম, ধর্ষন, ছিনতাই, বর্ণবাদসহ বিভিন্ন ধরণের মারাত্মক অপরাধ সংগঠন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আচরণ গবেষণা সংশ্লিষ্ট ফার্ম এন্টার পেরিয়েন্সেঃ
-নেশার জগতে আবির্ভূত নতুন উপকরণগুলোর নাম ফেসবুক, টুইটার এবং গুগল। আর এ নেশার জগতে আচ্ছন্ন হওয়াদের মধ্যে সিংহভাগই তরুণ। অবশ্য যেভাবেই হোক এ জালে জড়িয়ে আছেন অনেক মধ্যবয়সীরা।

ইউনির্ভাসিটি অফ মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রঃ
-সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করলেও মনের অগোচরেই ব্যবহারকারীদের ক্রমেই নেশাগ্রস্ত করে তুলছে সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুক, টুইটার এবং সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল। এখানে আরও বলা হয়েছে, অনলাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ফেসবুক, টুইটার এবং গুগলের মতো সাইট পরিদর্শকদের মধ্যে গড়ে ৫৩ জন বিচলিত হয়ে পড়ে। একই কারণে একাকিত্ব যাতনায় ভোগে শতকরা ৪০ জন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নুরুল ইসলামঃ
-মানুষ অনলাইনে অবস্থান তৈরি করতে এবং আবেগপূর্ণ বেদনা দূর করতে ফেসবুকের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। ফেসবুক মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে একসময় তারা আসক্তিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়বে। আর ফেসবুক মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে তাদের মস্তিষ্ক-ক্যান্সার, মানসিক রোগী ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যখন কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি ফেসবুকের প্রতি আসক্ত হয়ে যায়, তখন তার কাজের গতি কমে আসে। সঠিকভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা উচিত।

সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক হাসানুজ্জামান চৌধুরীঃ
-অফিস সময়ে ফেসবুক ব্যবহার করার ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারীদের অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এভাবে কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার ফলে একসময় অফিসের চেইন অব কমান্ড ভেঙে যেতে পারে। এ ছাড়া অফিস সময়ে ফেসবুক ব্যবহারের ফলে জনগণ ও রাষ্ট্র ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফেসবুক ব্যবহার করার বিষয়ে কঠোর হওয়া উচিত। তবে বেসরকারি কর্মকর্তারাও এর বাইরে নন।

ড. জোনাহ বার্গারঃ
-বন্ধুদের মধ্যে তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আসক্তি ও সক্রিয় অংশগ্রহণই ফেসবুকের সাফল্যের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ব্যবহারকারীদের শক্তিশালী আবেগ-অনুভূতিগুলোকে জাগিয়ে তোলে ফেসবুক। এর মধ্যে আছে সুখ, হাসি; এমনকি রাগও। অনলাইনে এ বিষয়গুলো বিনিময় করা বা অন্যকে জানানোর মধ্য দিয়ে সেগুলো অনেক সময়ই সক্রিয় হয়ে ওঠে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ফেসবুক ও টুইটারের বিস্ময়কর সাফল্যের অন্যতম কারণ হচ্ছে এগুলো সরাসরি মানুষের মনে বা চৈতন্যে আঘাত করে।
ড. বার্গারের বিশ্বাস,তাঁর এ গবেষণা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক ব্যবহারের সফলতা সম্পর্কে বুঝতে সহায়তা করবে। তাঁর মতে, ফেসবুক একই পেশা বা মতের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের আলোচনা ও বোঝাপাড়ার ক্ষেত্রটিকে আরো সহজ করে দিয়েছে। গবেষণার জন্য ড. ডার্গার সুনির্দিষ্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। তিনি ৯৩ জন শিক্ষার্থীকে সুনির্দিষ্ট আবেগ প্রকাশের জন্য দুই ধরনের সুযোগ দেন। ফলাফলে দেখা যায়,যেসব শিক্ষার্থীকে খুব আবেগঘনিষ্ঠ বিষয় দেওয়া হয়েছে,তারা ভালো করেছে। প্রথম পরীক্ষায় একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। এটি দেখে যারা অতিরিক্ত মাত্রায় উদ্বিগ্ন হয়েছে,তারা বেশি করে অন্যদের জানিয়েছে। অন্য পরীক্ষায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার বাইরের একটি প্রবন্ধ পড়তে দিয়ে অন্যদের জানাতে বা পাঠাতে বলা হয়। এ ক্ষেত্রেও দেখা যায়,এ বিষয়টি যেসব শিক্ষার্থীর স্মৃতিকে নাড়া দিয়েছে এবং যারা অন্যকে বিষয়টি জানানোর আসক্তিতে ভোগে তারাই বেশি লোককে মেইল পাঠিয়ে বা তথ্যবিনিময় করে বিষয়টি জানিয়েছে। ড. বার্গারের মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে,সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটে ইতিবাচক বিষয়গুলোতেই বেশি সাড়া পড়ে।

১.৭ গবেষণার সীমাবদ্ধতাঃ
সৃজনশীল সামাজিক গবেষণা দেশের সমস্যা নির্ণয়, চিহ্নিত করণ, নীতি নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পক্ষে জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাত্রা সর্বাধিক করতে পারেন। যেহেতু গবেষণা একটি সুদীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া তাই স্বল্প সময়ের মধ্যে এ রকম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কাজ সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা খুবই দুরূহ ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। একজন নবীন গবেষক হিসেবে অভিজ্ঞ ও সময়ের অপ্রতুলতার কারণে গবেষণাকালীন সর্বাধিক সতর্কতা ও যত্নবান হওয়া সত্ত্বেও আমার গবেষণায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিম্নে এগুলো তুলে ধরা হলোঃ
 উত্তর দাতাদের উত্তর দানে অনীহা;
 গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সময়, শ্রম ও অর্থের অভাব;
 উত্তর দাতাদের সঠিক তথ্য না দেয়ার প্রবণতা;
 উত্তর দাতাদের সকল প্রশ্নের উত্তর না দেয়ার প্রবণতা;
 প্রশ্নপত্র ফেরত না দেয়ার প্রবণতা;
‌ গবেষণা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব ইত্যাদি।

দ্বিতীয় অধ্যায়

গবেষণা পদ্ধতি

সমাজ গবেষণার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত প্রশ্ন এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। আর তাই সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণায় বিভিন্ন পদ্ধতির একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। গবেষণার স্থর ভিত্তিক উন্নয়নের উপায়, তথ্য বা উপাত্ত সংগ্রহের সাথে জড়িত নিয়ম ও কৌশল, তথ্য বিশ্লেষণের বিভিন্ন উপায় ও কৌশল গবেষণা পদ্ধতির অন্তর্ভূক্ত। বর্তমান অধ্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সাথে জড়িত পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

পদ্ধতি বলতে আমরা এখানে এমন কিছু পরস্পর বৈশাসদৃশ্যপূর্ণ উপায় আলোচনা করব যেগুলো একাধিক কৌশলের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ভাবে পরিচিত স্বয়ংসম্পূর্ণ উপায়। কোন বিশেষ গবেষণাকর্মে যেমন একাধিক পদ্ধতির সমাবেশ ঘটতে পারে, তেমনি আবার বিভিন্ন পদ্ধতি উপাদান হিসেবে কোন একটি কৌশল অন্তর্ভূক্ত থাকতে পারে।

২.১ গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতিঃ
গবেষণা পদ্ধতির মৌলিক উপাদান হলো গবেষণার বিষয়বস্তুকে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিচার বিশ্লেষণ করা। প্রকৃতভাবে যা পর্যবেক্ষণ করা হয় তার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই গবেষণা পদ্ধতির দ্বারা সামাজিক আচার আচরণের ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। সামাজিক বাস্তবতাকে কিভাবে দেখা উচিত, এর স্বরূপ কেমন করে দেখা যুক্তি সঙ্গত হবে এবং কি ধরণের তাত্ত্বিক অভিমূখীতা তথ্য সংগ্রহের জন্য গবেষককে অনুপ্রাণিত করবে- সে বিষয়ে আলাদা কিছু দৃষ্টিকোণকে পদ্ধতি তাত্ত্বিক অভিমূখীতা আলোচনায় আনা হবে।

আমরা পদ্ধতি ও পদ্ধতি তাত্ত্বিক অভিমূখীতা আলাদা ভাবে সজ্জিত না করলেও উভয় প্রকৃতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরার চেষ্টা করব। সামাজিক সমস্যাবলী পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের জন্য কতগুলো গবেষণা বিদ্যমান-
 মৌলিক গবেষণা
 ফলিত গবেষণা
 সংখ্যাত্মক গবেষণা
 গুণাত্মক গবেষণা
 উদঘাটনমূলক গবেষণা
 ব্যাখ্যামূলক গবেষণা
 বর্ণনামূলক গবেষণা
 বিশ্লেষণমূলক গবেষণা
 আন্তসম্পর্কীয় গবেষণা

আমার গবেষণার বিষয়বস্তু বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ শ্রেণীর অর্থাৎ যারা ফেসবুক ব্যবহার করে তাদের নিয়ে করা হয়েছে। আমি আমার গবেষণায় মূলত ফেসবুকের প্রতি মানুষের আসক্ত হওয়ার করণগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি এবং ফেসবুকের প্রতি মানুষ কেন আসক্ত হচ্ছে অর্থাৎ ফেসবুকে কি এমন জিনিস বা উপাদান আছে যার জন্য মানুষ এত ব্যাপকহারে ফেসবুকের প্রতি নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে তার কারণগুলো বের করে তার বিশ্লেষণমূলক আলোচনাও আছে।

২.২ গবেষণা এলাকাঃ
বর্তমানে ফেসবুক সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে আছে। যুবসমাজ থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর মানুষ ফেসবুকের সাথে পরিচিত আছে। আর্থ-সামাজিক দিক থেকে ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো অন্তর্নিহিত শক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে নেই এশিয়ার দেশগুলোর।

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশেও ইন্টারনেট ব্যবহারে বিস্তৃতি লাভ করেছে। বাংলাদেশেও ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ফেসবুককে মত প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে নিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাও এদিক থেকে পিছিয়ে নেই। বর্তমানে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং মোবাইলে ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ায় তারা ব্যাপকভাবে ফেসবুক ব্যবহারের প্রতি ঝুকে পড়েছে। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আমার গবেষণার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নিয়েছি।

২.৩ গবেষণার সময়কালঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের একজন নিয়মিত ছাত্র হিসেবে গবেষণা কার্য পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গবেষণার জন্য প্রথমেই আমার শ্রদ্ধেয় স্যারের নেতৃত্বে গবেষণার বিষয়বস্তু ঠিক করে নেই। অবশ্য বিষয়বস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়। এরপর গবেষণা প্রস্তাবনা পেশ করি। তারপর প্রস্তাবনার কিছু ভুল ত্রুটি ধরা পড়ে, এবং সেগুলো সংশোধনের পর গবেষণার তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশ্নমালা তৈরী করি। প্রশ্নমালা তৈরী করে তথ্য সংগ্রহ করতে প্রায় ৯-১০ দিন সময় লাগে। তথ্যগুলো সংগ্রহের পর সেগুলো বিশ্লেষণ করতে ৫-৬ দিন সময় লাগে। তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে পরবর্তীতে গবেষণা রিপোর্ট পেশ করি।

২.৪ নমুনায়নঃ
সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণায় নমুনা নির্বাচন প্রায় অবিচ্ছেদ্য। ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষেও এখন সমগ্র জনসংখ্যার উপর জরিপ বা শুমারী ব্যয়বহুল ব্যাপার। যে পদ্ধতিতে গবেষণার জন্য চিহ্নিত জনসংখ্যার মধ্য থেকে নমুনা নির্বাচন করা হয় তাকে নমুনায়ন বলে। আবার এভাবেও বলা যায়, নমুনায়ন হলো এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় সমগ্রকের একটি অংশের উপর গবেষণা পরিচালনা করে সমগ্রকের কোন বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য এবং যথার্থ অনুমান করা হয়। কোন বিষয় বা সমস্যা, বিশেষ করে সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে গবেষণা দুভাবে করা হয়-

 ঐ সমস্যার সাথে সম্পর্কিত জনসমষ্টির উপর অনুসন্ধান বা জরিপ।
 উক্ত সমস্যার সাথে সম্পর্কিত জনসমষ্টির প্রতিনিধিত্বমূলক অংশের উপর জরিপ।

 সমগ্রকঃ একটি অনুসন্ধানের আওতাভূক্ত বিশ্লেষণের একক সমুদয় হল সমগ্রক। অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট গুণাবলী বিশিষ্ট প্রাণী, বস্তু, বিষয় বা ঘটনা সমারোহকে সমগ্রক বলা হয়।
 এককঃ একটি নমুনায়ন নির্বাচিত কোন সমগ্রকের প্রতিটি উপাদানকে একক বলা হয়।

আমার গবেষণাও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নমুনায়ন ব্যবহার করা হয়েছে। আমার এ গবেষণায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী সমগ্রক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত ছিল। কিন্তু এত বিশাল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর কাছে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা যেমন ব্যয়বহুল তেমনি সময় সাপেক্ষ। তাই আমি নমুনায়ন হিসেবে ২০ জন ছাত্র ছাত্রীর উপর গবেষণা কার্য পরিচালনা করেছি।

২.৫ চলকঃ
গবেষণার মাধ্যমে প্রাণী ও বস্তু জগতের বিভিন্ন বিষয় বা বস্তুর বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই বৈশিষ্ঠ্যগুলো একটি একক হতে অন্য এককে পরিবর্তনযোগ্য। একটি পরিমাণগত বৈশিষ্ঠ্য যা এক ব্যক্তি হতে অপর ব্যক্তিতে পরিবর্তনযোগ্য তাকে চলক বলা হয়। যেমন- উচ্চতা, ওজন, আয়, বয়স ইত্যাদি বৈশিষ্ঠ্যগুলো এক ব্যক্তি হতে অন্য ব্যক্তিতে পার্থক্য থাকতে পারে এবং এগুলোর পরিমাণ সংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা সম্ভব- তাই এগুলোকে চলক বলা হয়।

কিন্তু এমন কতগুলো বৈশিষ্ঠ্য যা সংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা যায় না, যেমন- মানুষের গোত্র, বর্ণ, চোখের রং, চুলের বর্ণ ইত্যাদি, এগুলো চলকের আওতায় পড়ে না।

এই গবেষণায় কিছু চলকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যেমন- মানসিক অশান্তি, অনিন্দ্রা, নোশাগ্রস্থ হওয়া, উচ্ছৃঙ্খলতা, অতিমাত্রায় ফেসবুকের প্রতি আসক্তি ইত্যাদি। চলক সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে-
 স্বাধীন চলক
 অধীন চলক

 স্বাধীন চলকঃ স্বাধীন চলক হলো, সেই সমস্ত বিষয়, অবস্থা বা বৈশিষ্ঠ্য যা গবেষক অন্য বিষয়, অবস্থা বা বৈশিষ্ঠ্যের উপর তা প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া বা সম্পর্ক নির্ধারণের জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে ব্যবহার করেন বা নিয়ন্ত্রণ করেন।

আমার এই গবেষনায় উল্লেখযোগ্য স্বাধীন চলকগুলো হলো- অতিমাত্রায় ফেসবুকের প্রতি আসক্তি, মানসিক অশান্তি, সামাজিক বা পারিবারিক কলহ, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ইত্যাদি।

 অধীন চলকঃ অধীন চলক হলো সেই সমস্ত অবস্থা বা বৈশিষ্ঠ্য যা স্বাধীন চলকের প্রভাবে সৃষ্টি হয়, পিরিবর্তিত হয় বা অদৃশ্য হয়।

এই গবেষণার উল্লেখযোগ্য অধীন চলকগুলো হলো- নেশাগ্রস্থ হওয়া, সামাজিক অপকর্ম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব, হতাশা, উচ্চ আকাঙ্খা ইত্যাদি।

২.৬ তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিঃ
সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণায় তথ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিক এবং নির্ভুল তথ্যই গবেষণাকে সফল করতে পারে। সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণায় মানুষের প্রতিক্রিয়া লিপিবদ্ধ করণ প্রক্রিয়ার ফলাফলই হলো তথ্য। অর্থাৎ যন্ত্রপাতি বা প্রশ্নমালার মাধ্যমে মানুষের আচরণ বা বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে আমরা যা সংগ্রহ করি তাই হলো তথ্য। তবে তথ্যের দুটি উৎস থাকতে পারে –
 প্রাথমিক উৎস
 গৌণ উৎস

 প্রাথমিক উৎসঃ পরীক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণ থেকে সরাসরিভাবে প্রাপ্ত তথ্যকে প্রাথমিক তথ্য বলা হয়।

 গৌণ উৎসঃ বই, পত্র, সাময়িকী গবেষণার প্রতিবেদন ইত্যাদিতে লিখিত আকারে প্রাপ্ত তথ্যকে গৌণ তথ্য বলা হয়।

আমার গবেষণায় এই দুই ধরণের তথ্যই ব্যবহার করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিভিন্ন বই, পত্র, পত্রিকা, সাময়িকী গবেষণা পত্র, ওয়েবসাইট ইত্যাদির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহের কৌশল হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞানে কতগুলো পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। যেসব পদ্ধতি সামাজিক বিজ্ঞানে বেশি ব্যবহৃত হয় এখানে সেগুলো দেয়া হলো –
 পরীক্ষণ পদ্ধতি
 পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি
 সাক্ষাৎকার পদ্ধতি
 প্রশ্নমালা পদ্ধতি
 ঘটনা অনুধাবন পদ্ধতি
 বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ পদ্ধতি

আমার এ গবেষণার তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রধানত প্রশ্নমালা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। যেহেতু এই গবেষণার তথ্য প্রদান কারীরা শিক্ষিত তাই আমি কিছু নির্ধারিত প্রশ্নমালা এবং উন্মুক্ত প্রশ্নমালা ব্যবহার করেছি।

তৃতীয় অধ্যায়

গবেষণার মৌলিক প্রত্যয়সমূহ

ইন্টারনেটে গড়ে উঠেছে সামাজিক সম্পর্কের শক্তিশালী এক নেটওয়ার্ক। যে নেটওয়ার্কে বসে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা আপন মানুষটির সাথে মনের কথা বলা যায়। খুজে বের করা যায় হারিয়ে যাওয়া পুরোনো বন্ধুটিকে। নিম্নে আমার গবেষণায় ব্যবহৃত মৌলিক প্রত্যয় সমূহের বর্ণনা দেয়া হলো।

৩.১ ফেসবুকঃ
“ফেসবুক” বিশ্ব-সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি ওয়েবসাইট, যা ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিতে বিনামূল্যে সদস্য হওয়া যায়। ব্যবহারকারীগণ বন্ধু সংযোজন, বার্তা প্রেরণ এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী হালনাগাদ ও আদান প্রদান করতে পারেন, সেই সাথে একজন ব্যবহারকারী শহর, কর্মস্থল, বিদ্যালয় এবং অঞ্চল-ভিক্তিক নেটওয়ার্কেও যুক্ত হতে পারেন। শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যকার উত্তম জানাশোনাকে উপলক্ষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক প্রদত্ত বইয়ের নাম থেকে এই ওয়েবসাইটটির নামকরণ করা হয়েছে।

চিত্রঃ ফেসবুক আইকন
মার্ক জুকেরবার্গ হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তার কক্ষনিবাসী ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিত্‌স এবং ক্রিস হিউজেসের যৌথ প্রচেষ্টায় ফেসবুক নির্মাণ করেন। ওয়েবসাইটটির সদস্য প্রাথমিকভাবে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু পরে সেটা বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লীগ এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। আরো পরে এটা সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, হাই স্কুল এবং ১৩ বছর বা ততোধিক বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

চিত্রঃ নমুনা ফেসবুক
ফেসবুক তার চলার পথে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছে। সিরিয়া, চায়না এবং ইরান সহ বেশ কয়েকটি দেশে এটা আংশিকভাবে কার্যকর আছে। এটার ব্যবহার সময় অপচয় ব্যাখ্যা দিয়ে কর্মচারীদের নিরুৎসাহিত করে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফেসবুক ওয়েবসাইট কে আইন জটিলতায় পড়তে হয়েছে বেশ কয়েকবার জুকেরবার্গের সহপাঠী কর্তৃক, তারা অভিযোগ এনেছেন যে ফেসবুক তাদের সোর্স কোড এবং অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে।
৩.২ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতাঃ
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ জন্ম নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনসে ১৯৮৪ সালের ১৪ মে। মনোবিজ্ঞানী মা এবং দন্তবিশেষজ্ঞ বাবার একমাত্র ছেলে মার্ক শৈশব থেকেই প্রোগ্রামিংয়ের দারুণ ভক্ত। দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটত তাঁর কম্পিউটারের সামনে। আর্ডসলে হাইস্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন মার্ক। ফেঞ্চ, হিব্রু, লাতিন ও প্রাচীন গ্রিক ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন অল্প সময়ের মধ্যে। শুরুর দিকে পড়াশোনার বিষয় হিসেবে বেছে নেন সাহিত্য। তবে প্রোগ্রামিংই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। বাবাও এ ক্ষেত্রে উৎসাহ দিতে কার্পণ্য করতেন না। শিক্ষক ডেভিড নিউম্যানের কাছে কম্পিউটার পাঠ নিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে পরিপক্ব করে তোলেন মার্ক। করতে থাকেন নানা রকম গেম তৈরি এবং বিভিন্ন সফটওয়্যারের উন্নতির কাজ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে এ চর্চা বেড়ে যায় আরও কয়েক গুণ। এ সময় তাঁর পড়াশোনার বিষয় ছিল কম্পিউটার বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান। পড়াশোনার বাইরে প্রোগ্রাম তৈরির কাজেই নিজেকে বেশি ব্যস্ত রাখতেন মার্ক।

চিত্রঃ মার্ক জুকারবার্গ
এত অল্প বয়সে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ মাথা ঘুরিয়ে দেয়নি মার্কের। উচ্চাভিলাষী কোনো চিন্তাভাবনা নেই তাঁর। হতে চান একজন সাদাসিধা মানুষ। সুযোগ পেলে মা-বাবা, ভাই-বোনকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেটের মতো ধনকুবেরদের সঙ্গে মিলে তরুণ এই প্রযুক্তিবিদ একটি চুক্তি সই করেছেন। নৈতিক ওই চুক্তিতে মার্ক জাকারবার্গ তাঁর জীবনের অর্ধেক সম্পত্তি দাতব্য কাজে দান করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। ফেসবুকের মতোই শ্রেণীবৈষম্যহীন এক বিশ্বের স্বপ্ন দেখেন জাকারবার্গ, যেখানে মানুষের মধ্যে মানবিক গুণগুলো আরও জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠবে।
৩.৩ ফেসবুকের ঐতিহাসিক পটভূমিঃ
 ফেসবুকের জন্মঃ
হার্ভার্ডে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের ওপর পড়াশোনা শুরু করেন জাকারবার্গ। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়ক ‘কোর্সম্যাচ’ নামের একটি সফটওয়্যার তৈরি করেন। কলেজের সুদর্শন তরুণ-তরুণী বাছাই করতে অল্পদিনের মাথায় ‘ফেসম্যাশ’ নামের আরেকটি সফটওয়্যার বানান মার্ক। ছবি দেখে আবেদনময় তরুণ-তরুণী বাছাইয়ের হিড়িক পড়ে যায় গোটা কলেজে। এতে কলেজের ওয়েব সার্ভারে বাড়তি চাপ পড়ে। কর্তৃপক্ষ সাইটটি বন্ধ করে দেয়। শিক্ষার্থীরা দাবি তুললেন, ওই রকম একটি ওয়েবসাইট তাঁদের চাই। যেখানে শিক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা, ছবি ও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য থাকবে। এ কথা শুনে মার্ক প্রতিজ্ঞা করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ করে না দিলে তিনি নিজে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়েই জাকারবার্গের হাতে জন্ম নেয় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের সাইটটি।২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ফেসবুকের উদ্বোধন করেন জাকারবার্গ। গোটা দুনিয়ায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৫৫ কোটি।

 বিকাশঃ
২০০৪:ফেব্রুয়ারিতে হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ফেসবুকের উদ্বোধন করেন এর চার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ, ডাস্টিন মস্কোভিৎজ, চেরিস হুগেস ও এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন। জুনে প্যালো আল্টোতে অফিস নেওয়া হয়। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছায়।
২০০৫: আগস্টে ‘দ্য ফেসবুক ডটকম’ নাম পাল্টে কোম্পানির নাম রাখা হয় শুধু ‘ফেসবুক’। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ লাখ।
২০০৬: কৌশলগত কারণে আগস্টে ফেসবুকের সঙ্গে মাইক্রোসফট সম্পর্ক স্থাপন করে। সেপ্টেম্বর থেকে সর্বসাধারণের জন্য ফেসবুক উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আগে শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই ছিলেন এর ব্যবহারকারী। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি ২০ লাখে।
২০০৭:ফেব্রুয়ারিতে ভার্চুয়াল গিফট শপ চালু হয়। এপ্রিলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছায় দুই কোটি।
২০০৮: কানাডা ও ব্রিটেনের পর ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স ও স্পেনে ফেসবুকের ব্যবহার শুরু হয়।
 ফেসবুক কার্যালয়ঃ
ক্যালিফোর্নিয়ার প্যালো আল্টোতে ফেসবুকের বিশাল কার্যালয়। টাইম ম্যাগাজিনের এক সাংবাদিক সেখানে গিয়েছিলেন জাকারবার্গের সাক্ষাৎকার নিতে। তাঁর বর্ণনা এমন—অ্যাকুরিয়ামে (সম্মেলনকক্ষটির এমনই নাম দেওয়া হয়েছে) সহকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন মার্ক। সামনে কাগজপত্র নেই। হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছেন। তিন দিকে কাচ দিয়ে ঘেরা বিশাল কক্ষটি গোটা অফিসে তাঁদের গোপনীয়তা রক্ষার একমাত্র স্থান। কারণ অফিসটা একেবারে খোলামেলা। পর্দা ও দেয়ালহীন একটি অফিস। কর্মীরা যেন একজন আরেকজনকে সহজে দেখতে পান, পারস্পরিক ভাব বিনিময় করতে পারেন এ জন্যই এমন ব্যবস্থা। সবার জন্য একই ধাঁচের কম্পিউটার ও আসবাব। এমনকি মার্কের জন্য আলাদা বসার কোনো কামরা নেই। অফিসের ছাদ থেকে ঝুলছে বাহারি রঙের শোপিস। না অফিস, না বাড়ি—এমনই একটি আবহ বিরাজ করছে অফিসজুড়ে।

 এশিয়ার দেশগুলোতে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহারকারীর তুলনামূলক চিত্রঃ
সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর অন্তর্নিহিত শক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে নেই এশিয়ার দেশগুলো। আর্থ-সামাজিক দিক থেকে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও সোস্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহারে বরং এই দেশগুলো অনেক এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের চেয়েও। যেমন গত বছর গ্লোবাল ওয়েব ইনডেক্স-এর তথ্য অনুযায়ী সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহারকারীর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীন, যাদের মোট ব্যবহারকারী ১৫৫ মিলিয়নেরও বেশি। এর পরের স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
পরের স্থানগুলোতেও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ। ব্যবহারকারীর সংখ্যার পরিবর্তে জনসংখ্যার শতকরা হারের প্রসঙ্গে আবার রয়েছে এশিয়ার দেশগুলোর ভালো প্রাধান্য। যেমন সোস্যাল নেটওয়ার্ক সার্ভিস ব্যবহারকারীর সংখ্যা ইন্দোনেশিয়ার মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রায় ৮০ ভাগ। এসব সোস্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছে ফেসবুকের মতো সোস্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম, বিভিন্ন ব্লগিং সাইট, টুইটারের মতো মাইক্রোব্লগিং সাইট প্রভৃতি। এর পরের দুইটি স্থানও এশিয়ার দুইটি দেশের দখলে। এই দুইটি দেশ হচ্ছে ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়া।
ফিলিপাইনে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৭৮.৮৮ শতাংশ ব্যবহার করে সোস্যাল নেটওর্য়াকিং সাইট। আর মালয়েশিয়াতে এই সংখ্যা ৭২.৫৭ শতাংশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এদিকে আরো এগিয়ে রয়েছে ভারত (৬৮.৩৫%), চীন (৬৭.৫২%), সিঙ্গাপুর ৬৩%), হংকং (৫৮.৭২%), দক্ষিণ কোরিয়ার (৫০%) প্রভৃতি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সার্ভিস ব্যবহারকারীর সংখ্যা মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর যথাক্রমে ৫৫% এবং ৪৮%।

 বাংলাদেশের অবস্থানঃ
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশেও ইন্টারনেটের ব্যবহারের বিস্তৃতি ঘটেছে। শুধু ইন্টারনেটই নয়, সামগ্রিকভাবেও বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের এগিয়ে গেছে অনেকটাই। তারপরেও বৈশ্বিক বিবেচনায় এই অগ্রগতি অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব বেশি নয়। দেশের ঢাকা, চট্টগ্রামের বাইরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য না হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। তবে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে মোবাইল ব্রডব্যান্ড এবং ওয়াইম্যাক্স দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এর প্রভাব পড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যায় এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যাতেও। গত বছরের আগস্টেও যেখানে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ০.৬%, বর্তমানে এই পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ১%। অর্থাৎ এই সময়ে প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে ফেসবুক ব্যবহারকারী। বাংলাদেশেও ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একে ব্যবহার করছেন নিজেদের মত প্রকাশের অন্যতম প্রধান একটি মাধ্যম হিসেবেই। সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর অগ্রগামী ভূমিকা তাই এদেশের জন্যও ইতিবাচক হয়ে দেখা দিতে পারে।

 ফেসবুক তথ্য কণিকাঃ
মার্ক জুকারবার্গ বর্ণান্ধ। লাল-সবুজ রং ভালো দেখতে পান না। তবে নীল রংটা ভালো দেখেন। তাই ফেসবুকে নীল রঙের এত আধিক্য। সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫ কোটি। এর মধ্যে সাড়ে তিন কোটি ব্যবহারকারী রোজ তাদের স্ট্যাটাস হালানাগাদ করে। প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি স্ট্যাটাস আপডেট হয়। মাসে ২৫০ কোটির বেশি ছবি রাখা হয় ফেসবুককে। মার্কিনরা ফেসবুকের পেছনে বছরে এক হাজার ৩৯০ কোটি মিনিট ব্যয় করে। ফেসবুক একটি দেশ হলে এটি হতো চীন ও ভারতের পর পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যা-অধ্যুষিত দেশ। সিরিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও ইরানে ফেসবুক নিষিদ্ধ।
৩.৪ ফেসবুকের মৌলিক প্রত্যয়ঃ
 চ্যাটিং: ফেসবুকের অন্যতম উপাদান হলো চ্যাটিং অপশন। এটি হলো অনলাইনে থাকা কোন বন্ধুর সাথে টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের একটি মাধ্যম।

চিত্রঃ চ্যাটিং অপশন
 স্ট্যাটাসঃ
এটি হলো ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনের কথা জানানোর অন্যতম মাধ্যম। এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী তার সকল বন্ধুর কাছে একসাথে কোন কিছু জানাতে পারে।
 ফটো এবং ভিডিও শেয়ারিং:
এটির মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারী তার বন্ধুদের কাছে ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করতে পারে।

 ভিডিও চ্যাটিং:
সম্প্রতি ফেসবুকে আরও একটি অপশন চালু হয়েছে- তা হলো ভিডিও চ্যাটিং। এর মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারী তার বন্ধুদের সাথে বিনামূল্যে ভিডিও চ্যাট করতে পারে।
 এপ্লিকেশন ও গেম:
ফেসবুকে ব্যবহৃত অপশনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো গেম এবং অ্যাপ্লিকেশন। ফেসবুকে অনেকগুলো জনপ্রিয় গেম আছে। যেগুলো ফেসবুক ব্যবহারকারী অনলাইনে খেলতে পারেন। এছাড়াও ফেসবুকে রয়েছে নানান অ্যাপ্লিকেশন।
 ই-মেইলঃ
ফেসবুকে নিবন্ধন করার জন্য একটি ই-মেইল ঠিকানা লাগে। এ ই-মেইলটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর প্রাথমিক ই-মেইল হিসেবে ব্যবহার করে। ব্যবহারকারী যদি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেলেন, তখন ফেসবুক তার হারানো পাসওয়ার্ডটি ব্যবহারকারীর ওই ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়।
 কনটাক্ট যোগ করাঃ
ফেসবুকে যোগ দেওয়ার পর ব্যবহারকারী তাঁর পরিচিত বন্ধুদের ই-মেইলের মাধ্যমে তাঁর ফেসবুক ব্যবহারের কথা জানাতে পারবেন। এ ছাড়া ফেসবুকের একটি অপশনের মাধ্যমে ই-মেইলের কন্টাক্ট তালিকায় থাকা সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো যায়। মোটামুটি জনপ্রিয় সব ওয়েবমেইল থেকেই কন্টাক্ট মানে অন্যদের তথ্য আনা যায়। তবে দ্বিতীয় কাজটি না করাই ভালো। দেখা যায়, এর মাধ্যমে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষের কাছেও আমন্ত্রণ চলে যায়।
 নেটওয়ার্কঃ
ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, প্রতিষ্ঠান. শহর, দেশভিত্তিক এসব নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারী তাঁর পরিচিত বন্ধু বা সহকর্মীকে পেয়ে যেতে পারেন।আবার সমমনা নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হতে পারে। একেকটি নেটওয়ার্ক একেক রকম। কোনোটিতে ঢুকতে হলে ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট ডোমেইনের ই-মেইল দিয়ে পরীক্ষা করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, ব্যবহারকারী তাঁর নেটওয়ার্কের সবাইকে তাঁর প্রোফাইল দেখার অনুমতি দেবেন কি না সেটি ঠিক করে দেওয়া।

 বন্ধু এবং বন্ধুর সংখ্যাঃ
আপনার বন্ধুর সংখ্যা ঠিক কত? ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা যাবে, সেখানে নিদেনপক্ষে দু’শো মুখের সারি৷ এরা সবাই বন্ধু৷ কিন্তু সত্যিই কি বন্ধু? জার্মান মনোবিদরা বলছেন, তিনের বেশি বন্ধুসংখ্যা হওয়া অসম্ভব৷ তাহলে ব্যাপারটা আসলে কী?ব্যাপারটা যাকে বলে গুরুচরণ৷ এই মুখচ্ছবি বা ফেসবুকের জগতে মানুষ বড্ড বেশি বন্ধুবৎসল হয়ে উঠেছে৷ কুমিল্লার গণ্ডগ্রাম হোক বা নিউ ইয়র্ক৷ মিসিসিপির চাষী বা মেদিনীপুরের জোতদার, সকলেই এখন এই নেট জগতে ফেসবুকে হাজির৷ চকচকে ঝকঝকে ফেসবুক প্রোফাইলে সকলেই বেশ হাসিমুখে কেবল বন্ধুসঙ্গ করে চলেছে৷ এ এক হাওয়ায় ভাসা জগত৷ সেখানে আপনার বাবা, মা, ভাই, বোন, পুত্র কন্যা, কেউই নেই৷ সকলেই বন্ধু৷ সকলেই সুহৃদ৷
কিন্তু এই যে পিতাপুত্র থেকে ভাইবোন, সব রক্ত সম্পর্ক মুছে, সব ধরণের আত্মীয়তা ভুলে গিয়ে সকলে বন্ধু, এটা কি সত্যিই সম্ভব? জার্মান মনস্তত্ববিদ মিশায়েল শেলব্যার্গের মতে, এটা অসম্ভব ব্যাপার৷ কারণ, মানুষের ঠিকঠাক বন্ধুর সংখ্যা তিনের বেশি হয় না সচরাচর৷ আর তার আগে জানতে হবে, বন্ধুত্ব কাকে বলে?বন্ধুত্ব বিষয়টাকে শেলব্যার্গ ব্যাখ্যা করে বলছেন, বন্ধু তাকেই বলা যেতে পারে, যে বন্ধুর সুখদুঃখের সাথী হবে৷ সে সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা থাকবে বটে, কিন্তু সে ভালোবাসা হবে বিশেষ যৌক্তিক৷ বিশেষ মাত্রার৷ বন্ধুর ওপরে আরেকজন নির্ভর করতে পারবে, বিশেষ প্রয়োজন বিশ্বস্ততারও৷ এইসব শর্তাবলী কি মুখচ্ছবির বন্ধুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য? এ প্রশ্নটা কিন্তু এখন খুবই দামী প্রশ্ন৷
এর জবাবে আরেক জার্মান মনস্তত্ববিদ ক্রিস্টা রোট জাখেনহাইমের ব্যাখ্যা আবার আরেকরকম৷ জার্মান মনস্তত্ত্ব সংগঠনের প্রধান ক্রিস্টা বলছেন, বন্ধু মানে সে-ই বিশেষ মানুষটি, যার সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের সাক্ষাৎ সম্পর্ক আছে এবং থাকছে৷ যে ঘনিষ্ঠতার সবকিছু একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবে৷ যাকে যেকোন সময়, যেকোন সমস্যা বা আনন্দের ভাগীদার করা যাবে৷ তবেই তাকে বলা যেতে পারে বন্ধু৷
কিন্তু এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায়, যখন হাতে কানে মোবাইল, চোখে ফেসবুক, মনে নানান আবেগের চলাফেরা, সেই ভার্চুয়ালিটিতে বাস্তব বন্ধুকে পাওয়া তো যায়ই না, বরং রাজ্যের প্রত্যাশা তৈরি হতে থাকে মানুষের মধ্যে৷ সেই প্রত্যাশায় জল ঢেলে দেয় অবশেষে সেই ভার্চুয়ালিটিই৷ অর্থাৎ বন্ধুর কর্তব্য কেউ করে না, কিন্তু বন্ধু বলে নিজেকে জাহির করে যায় সারাক্ষণ৷ আধুনিকতার এও এক ঘোর সমস্যা৷ বন্ধু তো সবাই, সুহৃদ কোথায়?

 বন্ধু বাছাইঃ
বন্ধু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে নতুনদের। ফেসবুকে মানুষকে হয়রানি করার জন্য ইচ্ছা করে অনেকে ভুয়া (ফেক)অ্যাকাউন্ট খোলেন। ফলে বন্ধু হওয়ার অনুরোধ গ্রহণ করার আগে অনুরোধকারীর প্রোফাইল ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। তাঁর সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া আছে কি না। যদি সে আপনার পরিচিত হয়, তাহলে এসব তথ্য দেখে সহজেই আপনি তাঁকে চিনতে পারবেন। এ ছাড়া তাঁর ও আপনার মধ্যে কতজন পরিচিত (মিউচুয়্যাল ফ্রেন্ড) বন্ধু আছে, তা খেয়াল করেও বন্ধু হওয়ার অনুরোধ গ্রহণ করা যেতে পারে। অনুরোধকারীর নামের ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে, সে কী ধরনের নাম ব্যবহার করছেন। তাঁর প্রোফাইলের ছবিতে নিজের ছবি দেওয়া আছে কি না, তাও খেয়াল করতে হবে। একেবারেই অপরিচিত কারও অনুরোধ গ্রহণ না করাই ভালো। এতে ধোঁকা খাওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে।
 গ্রুপস, লিংকস ও নোটসঃ
ফেসবুক ব্যবহারকারী তাঁর নিজের আগ্রহ অনুযায়ী ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের গ্রুপ তৈরি বা যোগ দিতে পারেন। ফেসবুকের সার্চ অপশনটি ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রুপস খুঁজে বের করা যায়। ব্যবহারকারীর পছন্দের কোনো ওয়েবলিংক, যা তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাইলে তা ফেসবুকে করতে পারবেন।আবার নিজের কবিতা গল্প ইত্যাদি যেকোনো কিছু ফেসবুকে শেয়ার করা যায়।
 নিরাপত্তাঃ
ফেসবুকে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা সবচেয়ে জরুরি ব্যাপার। ছবির অ্যালবাম শেয়ার করা, নিজের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার, বন্ধুদের তথ্য ইত্যাদি বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। পাসওয়ার্ড বাছাই করার ক্ষেত্রে দেখতে হবে, যাতে সহজে কেউ ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ডটি আন্দাজ করতে না পারেন। এখানে-সেখানে গিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুললে পাসওয়ার্ড চুরির আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়, তাই বেশিলোক জমায়েত হয় এমন জায়গায় ফেসবুক না খোলাই ভালো। ফেসবুক একটি চমৎকার একটি ওয়েবসাইট।তবে এটি ব্যবহারের নিয়মকানুন অনেক, যার বেশির ভাগই আমরা না পড়ে এড়িয়ে যাই। এটি আসলে ঠিক নয়। ফেসবুক ব্যবহার শুরু করার আগে এর ‘প্রাইভেসি পলিসি’ প্রত্যেক ব্যবহারকারীর ঠিকমতো পড়ে দেখা উচিত।

 ফেসবুক আসক্তিঃ
ফেসবুকে এই বাড়াবাড়ি রকমের সময়-ক্ষেপনকে আমরা ‘আসক্তি’ বলব কেন? অ্যাডিকশন (Addiction) বা আসক্তি তো একটি ব্যাধি। ফেসবুকের কারণে ব্যক্তির এই পরিবর্তন কি ব্যাধি? আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর মতে, তা-ই। “আসক্তি” আমরা কখন বলি? যখন মানুষ কোন কিছুতে, তা ভাল-মন্দ যা-ই হোক, অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, অর্থাৎ কোন কিছুর প্রতি “ডিপেনডেন্স”(Dependence) তৈরী হয়। একই সাথে তৈরী হয় টলারেন্স (Tolerance), অর্থাৎ একই সমান তৃপ্তির জন্য ধীরে ধীরে ঐ ‘কিছু’র পরিমাণ বাড়াতে হয়। এবং সেই ‘কিছু’র প্রতি এই ‘ডিপেনডেন্স’ এবং ‘টলারেন্স’ যখন মানুষের জীবনের নানাক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে থাকে।
যেমন, আমরা বলে থাকি মাদকাসক্তির কথা। মাদক নেয়ার পর ব্যক্তির মনে আনন্দের অনুভূতি হয়। ধীরে ধীরে ব্যক্তি আনন্দের জন্য মাদকের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। একই তীব্রতার আনন্দের অনুভূতির জন্য ধীরে ধীরে বাড়াতে হয় মাদকের পরিমাণ। মাদক সংগ্রহ ও গ্রহণকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় ব্যক্তির চিন্তা ও দৈনন্দিন জীবন। ধ্বংস হতে থাকে শিক্ষাজীবন, ব্যর্থতা বাড়তে থাকে কর্মক্ষেত্রে, সামাজিক জীবন বলতে কিছুই থাকে না আর। একই ঘটনা আমরা দেখতে পাই ফেসবুকের ক্ষেত্রেও। ফেসবুক-আসক্তদেরও তৈরী হয় ‘টলারেন্স’। প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়তে থাকে ফেসবুকে কাটানো সময়ের পরিমাণ। মানসিকভাবে এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তারা। ‘সাইন-আউট’ করার পর থেকে মাথায় একই চিন্তা ঘুরতে থাকে – কখন আবার ‘সাইন-ইন’ হবো, নেটে ঢোকার পর কি করবো, কিভাবে করবো ইত্যাদি।

চিত্রঃ ফেসবুক আসক্তি
বেশীক্ষণ অফ-লাইন থাকলে তাদের মাঝে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়, মাদকাসক্তদের যেমন কয়েক ঘন্টা মাদক না নিলে দেখা দেয় শারীরিক-মানসিক নানা উপসর্গ বা ‘উইথড্রল সিম্পটম’- চলতি বাংলায় আসক্তরা যাকে বলে ‘ব্যাড়া ওঠা’। মাদক আবার গ্রহণ করলেই যেমন উইথড্রল সিম্পটম চলে যায়, ফেসবুক -আসক্তরা আবার অন-লাইন হলেই স্বস্তি বোধ করে। অনেক মাদকাসক্ত যেমন বাস্তব-জীবনের বেদনা-কষ্টকে ভুলে থাকতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও অন্য জগতে হারিয়ে যাওয়ার জন্য মাদকের আশ্রয় নেয়, তেমনি এই ভার্চুয়াল জগতও বাস্তব থেকে পালিয়ে ফ্যান্টাসীতে বুদ হয়ে থাকার অনন্য মাধ্যম।

গবেষণার মৌলিক প্রত্যয়সমূহ

ইন্টারনেটে গড়ে উঠেছে সামাজিক সম্পর্কের শক্তিশালী এক নেটওয়ার্ক। যে নেটওয়ার্কে বসে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা আপন মানুষটির সাথে মনের কথা বলা যায়। খুজে বের করা যায় হারিয়ে যাওয়া পুরোনো বন্ধুটিকে। নিম্নে আমার গবেষণায় ব্যবহৃত মৌলিক প্রত্যয় সমূহের বর্ণনা দেয়া হলো।

৩.১ ফেসবুকঃ
“ফেসবুক” বিশ্ব-সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি ওয়েবসাইট, যা ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিতে বিনামূল্যে সদস্য হওয়া যায়। ব্যবহারকারীগণ বন্ধু সংযোজন, বার্তা প্রেরণ এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী হালনাগাদ ও আদান প্রদান করতে পারেন, সেই সাথে একজন ব্যবহারকারী শহর, কর্মস্থল, বিদ্যালয় এবং অঞ্চল-ভিক্তিক নেটওয়ার্কেও যুক্ত হতে পারেন। শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যকার উত্তম জানাশোনাকে উপলক্ষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক প্রদত্ত বইয়ের নাম থেকে এই ওয়েবসাইটটির নামকরণ করা হয়েছে।

চিত্রঃ ফেসবুক আইকন
মার্ক জুকেরবার্গ হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তার কক্ষনিবাসী ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিত্‌স এবং ক্রিস হিউজেসের যৌথ প্রচেষ্টায় ফেসবুক নির্মাণ করেন। ওয়েবসাইটটির সদস্য প্রাথমিকভাবে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু পরে সেটা বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লীগ এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। আরো পরে এটা সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, হাই স্কুল এবং ১৩ বছর বা ততোধিক বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

চিত্রঃ নমুনা ফেসবুক
ফেসবুক তার চলার পথে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছে। সিরিয়া, চায়না এবং ইরান সহ বেশ কয়েকটি দেশে এটা আংশিকভাবে কার্যকর আছে। এটার ব্যবহার সময় অপচয় ব্যাখ্যা দিয়ে কর্মচারীদের নিরুৎসাহিত করে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফেসবুক ওয়েবসাইট কে আইন জটিলতায় পড়তে হয়েছে বেশ কয়েকবার জুকেরবার্গের সহপাঠী কর্তৃক, তারা অভিযোগ এনেছেন যে ফেসবুক তাদের সোর্স কোড এবং অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে।
৩.২ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতাঃ
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ জন্ম নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনসে ১৯৮৪ সালের ১৪ মে। মনোবিজ্ঞানী মা এবং দন্তবিশেষজ্ঞ বাবার একমাত্র ছেলে মার্ক শৈশব থেকেই প্রোগ্রামিংয়ের দারুণ ভক্ত। দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটত তাঁর কম্পিউটারের সামনে। আর্ডসলে হাইস্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন মার্ক। ফেঞ্চ, হিব্রু, লাতিন ও প্রাচীন গ্রিক ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন অল্প সময়ের মধ্যে। শুরুর দিকে পড়াশোনার বিষয় হিসেবে বেছে নেন সাহিত্য। তবে প্রোগ্রামিংই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। বাবাও এ ক্ষেত্রে উৎসাহ দিতে কার্পণ্য করতেন না। শিক্ষক ডেভিড নিউম্যানের কাছে কম্পিউটার পাঠ নিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে পরিপক্ব করে তোলেন মার্ক। করতে থাকেন নানা রকম গেম তৈরি এবং বিভিন্ন সফটওয়্যারের উন্নতির কাজ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে এ চর্চা বেড়ে যায় আরও কয়েক গুণ। এ সময় তাঁর পড়াশোনার বিষয় ছিল কম্পিউটার বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান। পড়াশোনার বাইরে প্রোগ্রাম তৈরির কাজেই নিজেকে বেশি ব্যস্ত রাখতেন মার্ক।

চিত্রঃ মার্ক জুকারবার্গ
এত অল্প বয়সে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ মাথা ঘুরিয়ে দেয়নি মার্কের। উচ্চাভিলাষী কোনো চিন্তাভাবনা নেই তাঁর। হতে চান একজন সাদাসিধা মানুষ। সুযোগ পেলে মা-বাবা, ভাই-বোনকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেটের মতো ধনকুবেরদের সঙ্গে মিলে তরুণ এই প্রযুক্তিবিদ একটি চুক্তি সই করেছেন। নৈতিক ওই চুক্তিতে মার্ক জাকারবার্গ তাঁর জীবনের অর্ধেক সম্পত্তি দাতব্য কাজে দান করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। ফেসবুকের মতোই শ্রেণীবৈষম্যহীন এক বিশ্বের স্বপ্ন দেখেন জাকারবার্গ, যেখানে মানুষের মধ্যে মানবিক গুণগুলো আরও জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠবে।
৩.৩ ফেসবুকের ঐতিহাসিক পটভূমিঃ
 ফেসবুকের জন্মঃ
হার্ভার্ডে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের ওপর পড়াশোনা শুরু করেন জাকারবার্গ। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়ক ‘কোর্সম্যাচ’ নামের একটি সফটওয়্যার তৈরি করেন। কলেজের সুদর্শন তরুণ-তরুণী বাছাই করতে অল্পদিনের মাথায় ‘ফেসম্যাশ’ নামের আরেকটি সফটওয়্যার বানান মার্ক। ছবি দেখে আবেদনময় তরুণ-তরুণী বাছাইয়ের হিড়িক পড়ে যায় গোটা কলেজে। এতে কলেজের ওয়েব সার্ভারে বাড়তি চাপ পড়ে। কর্তৃপক্ষ সাইটটি বন্ধ করে দেয়। শিক্ষার্থীরা দাবি তুললেন, ওই রকম একটি ওয়েবসাইট তাঁদের চাই। যেখানে শিক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা, ছবি ও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য থাকবে। এ কথা শুনে মার্ক প্রতিজ্ঞা করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ করে না দিলে তিনি নিজে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়েই জাকারবার্গের হাতে জন্ম নেয় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের সাইটটি।২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ফেসবুকের উদ্বোধন করেন জাকারবার্গ। গোটা দুনিয়ায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৫৫ কোটি।

 বিকাশঃ
২০০৪:ফেব্রুয়ারিতে হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ফেসবুকের উদ্বোধন করেন এর চার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ, ডাস্টিন মস্কোভিৎজ, চেরিস হুগেস ও এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন। জুনে প্যালো আল্টোতে অফিস নেওয়া হয়। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছায়।
২০০৫: আগস্টে ‘দ্য ফেসবুক ডটকম’ নাম পাল্টে কোম্পানির নাম রাখা হয় শুধু ‘ফেসবুক’। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ লাখ।
২০০৬: কৌশলগত কারণে আগস্টে ফেসবুকের সঙ্গে মাইক্রোসফট সম্পর্ক স্থাপন করে। সেপ্টেম্বর থেকে সর্বসাধারণের জন্য ফেসবুক উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আগে শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই ছিলেন এর ব্যবহারকারী। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি ২০ লাখে।
২০০৭:ফেব্রুয়ারিতে ভার্চুয়াল গিফট শপ চালু হয়। এপ্রিলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছায় দুই কোটি।
২০০৮: কানাডা ও ব্রিটেনের পর ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স ও স্পেনে ফেসবুকের ব্যবহার শুরু হয়।
 ফেসবুক কার্যালয়ঃ
ক্যালিফোর্নিয়ার প্যালো আল্টোতে ফেসবুকের বিশাল কার্যালয়। টাইম ম্যাগাজিনের এক সাংবাদিক সেখানে গিয়েছিলেন জাকারবার্গের সাক্ষাৎকার নিতে। তাঁর বর্ণনা এমন—অ্যাকুরিয়ামে (সম্মেলনকক্ষটির এমনই নাম দেওয়া হয়েছে) সহকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন মার্ক। সামনে কাগজপত্র নেই। হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছেন। তিন দিকে কাচ দিয়ে ঘেরা বিশাল কক্ষটি গোটা অফিসে তাঁদের গোপনীয়তা রক্ষার একমাত্র স্থান। কারণ অফিসটা একেবারে খোলামেলা। পর্দা ও দেয়ালহীন একটি অফিস। কর্মীরা যেন একজন আরেকজনকে সহজে দেখতে পান, পারস্পরিক ভাব বিনিময় করতে পারেন এ জন্যই এমন ব্যবস্থা। সবার জন্য একই ধাঁচের কম্পিউটার ও আসবাব। এমনকি মার্কের জন্য আলাদা বসার কোনো কামরা নেই। অফিসের ছাদ থেকে ঝুলছে বাহারি রঙের শোপিস। না অফিস, না বাড়ি—এমনই একটি আবহ বিরাজ করছে অফিসজুড়ে।

 এশিয়ার দেশগুলোতে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহারকারীর তুলনামূলক চিত্রঃ
সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর অন্তর্নিহিত শক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে নেই এশিয়ার দেশগুলো। আর্থ-সামাজিক দিক থেকে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও সোস্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহারে বরং এই দেশগুলো অনেক এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের চেয়েও। যেমন গত বছর গ্লোবাল ওয়েব ইনডেক্স-এর তথ্য অনুযায়ী সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহারকারীর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীন, যাদের মোট ব্যবহারকারী ১৫৫ মিলিয়নেরও বেশি। এর পরের স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
পরের স্থানগুলোতেও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ। ব্যবহারকারীর সংখ্যার পরিবর্তে জনসংখ্যার শতকরা হারের প্রসঙ্গে আবার রয়েছে এশিয়ার দেশগুলোর ভালো প্রাধান্য। যেমন সোস্যাল নেটওয়ার্ক সার্ভিস ব্যবহারকারীর সংখ্যা ইন্দোনেশিয়ার মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রায় ৮০ ভাগ। এসব সোস্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছে ফেসবুকের মতো সোস্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম, বিভিন্ন ব্লগিং সাইট, টুইটারের মতো মাইক্রোব্লগিং সাইট প্রভৃতি। এর পরের দুইটি স্থানও এশিয়ার দুইটি দেশের দখলে। এই দুইটি দেশ হচ্ছে ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়া।
ফিলিপাইনে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৭৮.৮৮ শতাংশ ব্যবহার করে সোস্যাল নেটওর্য়াকিং সাইট। আর মালয়েশিয়াতে এই সংখ্যা ৭২.৫৭ শতাংশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এদিকে আরো এগিয়ে রয়েছে ভারত (৬৮.৩৫%), চীন (৬৭.৫২%), সিঙ্গাপুর ৬৩%), হংকং (৫৮.৭২%), দক্ষিণ কোরিয়ার (৫০%) প্রভৃতি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সার্ভিস ব্যবহারকারীর সংখ্যা মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর যথাক্রমে ৫৫% এবং ৪৮%।

 বাংলাদেশের অবস্থানঃ
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশেও ইন্টারনেটের ব্যবহারের বিস্তৃতি ঘটেছে। শুধু ইন্টারনেটই নয়, সামগ্রিকভাবেও বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের এগিয়ে গেছে অনেকটাই। তারপরেও বৈশ্বিক বিবেচনায় এই অগ্রগতি অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব বেশি নয়। দেশের ঢাকা, চট্টগ্রামের বাইরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য না হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। তবে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে মোবাইল ব্রডব্যান্ড এবং ওয়াইম্যাক্স দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এর প্রভাব পড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যায় এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যাতেও। গত বছরের আগস্টেও যেখানে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ০.৬%, বর্তমানে এই পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ১%। অর্থাৎ এই সময়ে প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে ফেসবুক ব্যবহারকারী। বাংলাদেশেও ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একে ব্যবহার করছেন নিজেদের মত প্রকাশের অন্যতম প্রধান একটি মাধ্যম হিসেবেই। সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর অগ্রগামী ভূমিকা তাই এদেশের জন্যও ইতিবাচক হয়ে দেখা দিতে পারে।

 ফেসবুক তথ্য কণিকাঃ
মার্ক জুকারবার্গ বর্ণান্ধ। লাল-সবুজ রং ভালো দেখতে পান না। তবে নীল রংটা ভালো দেখেন। তাই ফেসবুকে নীল রঙের এত আধিক্য। সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫ কোটি। এর মধ্যে সাড়ে তিন কোটি ব্যবহারকারী রোজ তাদের স্ট্যাটাস হালানাগাদ করে। প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি স্ট্যাটাস আপডেট হয়। মাসে ২৫০ কোটির বেশি ছবি রাখা হয় ফেসবুককে। মার্কিনরা ফেসবুকের পেছনে বছরে এক হাজার ৩৯০ কোটি মিনিট ব্যয় করে। ফেসবুক একটি দেশ হলে এটি হতো চীন ও ভারতের পর পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যা-অধ্যুষিত দেশ। সিরিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও ইরানে ফেসবুক নিষিদ্ধ।
৩.৪ ফেসবুকের মৌলিক প্রত্যয়ঃ
 চ্যাটিং: ফেসবুকের অন্যতম উপাদান হলো চ্যাটিং অপশন। এটি হলো অনলাইনে থাকা কোন বন্ধুর সাথে টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের একটি মাধ্যম।

চিত্রঃ চ্যাটিং অপশন
 স্ট্যাটাসঃ
এটি হলো ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনের কথা জানানোর অন্যতম মাধ্যম। এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী তার সকল বন্ধুর কাছে একসাথে কোন কিছু জানাতে পারে।
 ফটো এবং ভিডিও শেয়ারিং:
এটির মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারী তার বন্ধুদের কাছে ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করতে পারে।

 ভিডিও চ্যাটিং:
সম্প্রতি ফেসবুকে আরও একটি অপশন চালু হয়েছে- তা হলো ভিডিও চ্যাটিং। এর মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারী তার বন্ধুদের সাথে বিনামূল্যে ভিডিও চ্যাট করতে পারে।
 এপ্লিকেশন ও গেম:
ফেসবুকে ব্যবহৃত অপশনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো গেম এবং অ্যাপ্লিকেশন। ফেসবুকে অনেকগুলো জনপ্রিয় গেম আছে। যেগুলো ফেসবুক ব্যবহারকারী অনলাইনে খেলতে পারেন। এছাড়াও ফেসবুকে রয়েছে নানান অ্যাপ্লিকেশন।
 ই-মেইলঃ
ফেসবুকে নিবন্ধন করার জন্য একটি ই-মেইল ঠিকানা লাগে। এ ই-মেইলটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর প্রাথমিক ই-মেইল হিসেবে ব্যবহার করে। ব্যবহারকারী যদি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেলেন, তখন ফেসবুক তার হারানো পাসওয়ার্ডটি ব্যবহারকারীর ওই ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়।
 কনটাক্ট যোগ করাঃ
ফেসবুকে যোগ দেওয়ার পর ব্যবহারকারী তাঁর পরিচিত বন্ধুদের ই-মেইলের মাধ্যমে তাঁর ফেসবুক ব্যবহারের কথা জানাতে পারবেন। এ ছাড়া ফেসবুকের একটি অপশনের মাধ্যমে ই-মেইলের কন্টাক্ট তালিকায় থাকা সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো যায়। মোটামুটি জনপ্রিয় সব ওয়েবমেইল থেকেই কন্টাক্ট মানে অন্যদের তথ্য আনা যায়। তবে দ্বিতীয় কাজটি না করাই ভালো। দেখা যায়, এর মাধ্যমে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষের কাছেও আমন্ত্রণ চলে যায়।
 নেটওয়ার্কঃ
ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, প্রতিষ্ঠান. শহর, দেশভিত্তিক এসব নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারী তাঁর পরিচিত বন্ধু বা সহকর্মীকে পেয়ে যেতে পারেন।আবার সমমনা নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হতে পারে। একেকটি নেটওয়ার্ক একেক রকম। কোনোটিতে ঢুকতে হলে ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট ডোমেইনের ই-মেইল দিয়ে পরীক্ষা করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, ব্যবহারকারী তাঁর নেটওয়ার্কের সবাইকে তাঁর প্রোফাইল দেখার অনুমতি দেবেন কি না সেটি ঠিক করে দেওয়া।

 বন্ধু এবং বন্ধুর সংখ্যাঃ
আপনার বন্ধুর সংখ্যা ঠিক কত? ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা যাবে, সেখানে নিদেনপক্ষে দু’শো মুখের সারি৷ এরা সবাই বন্ধু৷ কিন্তু সত্যিই কি বন্ধু? জার্মান মনোবিদরা বলছেন, তিনের বেশি বন্ধুসংখ্যা হওয়া অসম্ভব৷ তাহলে ব্যাপারটা আসলে কী?ব্যাপারটা যাকে বলে গুরুচরণ৷ এই মুখচ্ছবি বা ফেসবুকের জগতে মানুষ বড্ড বেশি বন্ধুবৎসল হয়ে উঠেছে৷ কুমিল্লার গণ্ডগ্রাম হোক বা নিউ ইয়র্ক৷ মিসিসিপির চাষী বা মেদিনীপুরের জোতদার, সকলেই এখন এই নেট জগতে ফেসবুকে হাজির৷ চকচকে ঝকঝকে ফেসবুক প্রোফাইলে সকলেই বেশ হাসিমুখে কেবল বন্ধুসঙ্গ করে চলেছে৷ এ এক হাওয়ায় ভাসা জগত৷ সেখানে আপনার বাবা, মা, ভাই, বোন, পুত্র কন্যা, কেউই নেই৷ সকলেই বন্ধু৷ সকলেই সুহৃদ৷
কিন্তু এই যে পিতাপুত্র থেকে ভাইবোন, সব রক্ত সম্পর্ক মুছে, সব ধরণের আত্মীয়তা ভুলে গিয়ে সকলে বন্ধু, এটা কি সত্যিই সম্ভব? জার্মান মনস্তত্ববিদ মিশায়েল শেলব্যার্গের মতে, এটা অসম্ভব ব্যাপার৷ কারণ, মানুষের ঠিকঠাক বন্ধুর সংখ্যা তিনের বেশি হয় না সচরাচর৷ আর তার আগে জানতে হবে, বন্ধুত্ব কাকে বলে?বন্ধুত্ব বিষয়টাকে শেলব্যার্গ ব্যাখ্যা করে বলছেন, বন্ধু তাকেই বলা যেতে পারে, যে বন্ধুর সুখদুঃখের সাথী হবে৷ সে সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা থাকবে বটে, কিন্তু সে ভালোবাসা হবে বিশেষ যৌক্তিক৷ বিশেষ মাত্রার৷ বন্ধুর ওপরে আরেকজন নির্ভর করতে পারবে, বিশেষ প্রয়োজন বিশ্বস্ততারও৷ এইসব শর্তাবলী কি মুখচ্ছবির বন্ধুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য? এ প্রশ্নটা কিন্তু এখন খুবই দামী প্রশ্ন৷
এর জবাবে আরেক জার্মান মনস্তত্ববিদ ক্রিস্টা রোট জাখেনহাইমের ব্যাখ্যা আবার আরেকরকম৷ জার্মান মনস্তত্ত্ব সংগঠনের প্রধান ক্রিস্টা বলছেন, বন্ধু মানে সে-ই বিশেষ মানুষটি, যার সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের সাক্ষাৎ সম্পর্ক আছে এবং থাকছে৷ যে ঘনিষ্ঠতার সবকিছু একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবে৷ যাকে যেকোন সময়, যেকোন সমস্যা বা আনন্দের ভাগীদার করা যাবে৷ তবেই তাকে বলা যেতে পারে বন্ধু৷
কিন্তু এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায়, যখন হাতে কানে মোবাইল, চোখে ফেসবুক, মনে নানান আবেগের চলাফেরা, সেই ভার্চুয়ালিটিতে বাস্তব বন্ধুকে পাওয়া তো যায়ই না, বরং রাজ্যের প্রত্যাশা তৈরি হতে থাকে মানুষের মধ্যে৷ সেই প্রত্যাশায় জল ঢেলে দেয় অবশেষে সেই ভার্চুয়ালিটিই৷ অর্থাৎ বন্ধুর কর্তব্য কেউ করে না, কিন্তু বন্ধু বলে নিজেকে জাহির করে যায় সারাক্ষণ৷ আধুনিকতার এও এক ঘোর সমস্যা৷ বন্ধু তো সবাই, সুহৃদ কোথায়?

 বন্ধু বাছাইঃ
বন্ধু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে নতুনদের। ফেসবুকে মানুষকে হয়রানি করার জন্য ইচ্ছা করে অনেকে ভুয়া (ফেক)অ্যাকাউন্ট খোলেন। ফলে বন্ধু হওয়ার অনুরোধ গ্রহণ করার আগে অনুরোধকারীর প্রোফাইল ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। তাঁর সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া আছে কি না। যদি সে আপনার পরিচিত হয়, তাহলে এসব তথ্য দেখে সহজেই আপনি তাঁকে চিনতে পারবেন। এ ছাড়া তাঁর ও আপনার মধ্যে কতজন পরিচিত (মিউচুয়্যাল ফ্রেন্ড) বন্ধু আছে, তা খেয়াল করেও বন্ধু হওয়ার অনুরোধ গ্রহণ করা যেতে পারে। অনুরোধকারীর নামের ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে, সে কী ধরনের নাম ব্যবহার করছেন। তাঁর প্রোফাইলের ছবিতে নিজের ছবি দেওয়া আছে কি না, তাও খেয়াল করতে হবে। একেবারেই অপরিচিত কারও অনুরোধ গ্রহণ না করাই ভালো। এতে ধোঁকা খাওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে।
 গ্রুপস, লিংকস ও নোটসঃ
ফেসবুক ব্যবহারকারী তাঁর নিজের আগ্রহ অনুযায়ী ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের গ্রুপ তৈরি বা যোগ দিতে পারেন। ফেসবুকের সার্চ অপশনটি ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রুপস খুঁজে বের করা যায়। ব্যবহারকারীর পছন্দের কোনো ওয়েবলিংক, যা তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাইলে তা ফেসবুকে করতে পারবেন।আবার নিজের কবিতা গল্প ইত্যাদি যেকোনো কিছু ফেসবুকে শেয়ার করা যায়।
 নিরাপত্তাঃ
ফেসবুকে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা সবচেয়ে জরুরি ব্যাপার। ছবির অ্যালবাম শেয়ার করা, নিজের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার, বন্ধুদের তথ্য ইত্যাদি বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। পাসওয়ার্ড বাছাই করার ক্ষেত্রে দেখতে হবে, যাতে সহজে কেউ ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ডটি আন্দাজ করতে না পারেন। এখানে-সেখানে গিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুললে পাসওয়ার্ড চুরির আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়, তাই বেশিলোক জমায়েত হয় এমন জায়গায় ফেসবুক না খোলাই ভালো। ফেসবুক একটি চমৎকার একটি ওয়েবসাইট।তবে এটি ব্যবহারের নিয়মকানুন অনেক, যার বেশির ভাগই আমরা না পড়ে এড়িয়ে যাই। এটি আসলে ঠিক নয়। ফেসবুক ব্যবহার শুরু করার আগে এর ‘প্রাইভেসি পলিসি’ প্রত্যেক ব্যবহারকারীর ঠিকমতো পড়ে দেখা উচিত।

 ফেসবুক আসক্তিঃ
ফেসবুকে এই বাড়াবাড়ি রকমের সময়-ক্ষেপনকে আমরা ‘আসক্তি’ বলব কেন? অ্যাডিকশন (Addiction) বা আসক্তি তো একটি ব্যাধি। ফেসবুকের কারণে ব্যক্তির এই পরিবর্তন কি ব্যাধি? আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর মতে, তা-ই। “আসক্তি” আমরা কখন বলি? যখন মানুষ কোন কিছুতে, তা ভাল-মন্দ যা-ই হোক, অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, অর্থাৎ কোন কিছুর প্রতি “ডিপেনডেন্স”(Dependence) তৈরী হয়। একই সাথে তৈরী হয় টলারেন্স (Tolerance), অর্থাৎ একই সমান তৃপ্তির জন্য ধীরে ধীরে ঐ ‘কিছু’র পরিমাণ বাড়াতে হয়। এবং সেই ‘কিছু’র প্রতি এই ‘ডিপেনডেন্স’ এবং ‘টলারেন্স’ যখন মানুষের জীবনের নানাক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে থাকে।
যেমন, আমরা বলে থাকি মাদকাসক্তির কথা। মাদক নেয়ার পর ব্যক্তির মনে আনন্দের অনুভূতি হয়। ধীরে ধীরে ব্যক্তি আনন্দের জন্য মাদকের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। একই তীব্রতার আনন্দের অনুভূতির জন্য ধীরে ধীরে বাড়াতে হয় মাদকের পরিমাণ। মাদক সংগ্রহ ও গ্রহণকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় ব্যক্তির চিন্তা ও দৈনন্দিন জীবন। ধ্বংস হতে থাকে শিক্ষাজীবন, ব্যর্থতা বাড়তে থাকে কর্মক্ষেত্রে, সামাজিক জীবন বলতে কিছুই থাকে না আর। একই ঘটনা আমরা দেখতে পাই ফেসবুকের ক্ষেত্রেও। ফেসবুক-আসক্তদেরও তৈরী হয় ‘টলারেন্স’। প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়তে থাকে ফেসবুকে কাটানো সময়ের পরিমাণ। মানসিকভাবে এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তারা। ‘সাইন-আউট’ করার পর থেকে মাথায় একই চিন্তা ঘুরতে থাকে – কখন আবার ‘সাইন-ইন’ হবো, নেটে ঢোকার পর কি করবো, কিভাবে করবো ইত্যাদি।

চিত্রঃ ফেসবুক আসক্তি
বেশীক্ষণ অফ-লাইন থাকলে তাদের মাঝে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়, মাদকাসক্তদের যেমন কয়েক ঘন্টা মাদক না নিলে দেখা দেয় শারীরিক-মানসিক নানা উপসর্গ বা ‘উইথড্রল সিম্পটম’- চলতি বাংলায় আসক্তরা যাকে বলে ‘ব্যাড়া ওঠা’। মাদক আবার গ্রহণ করলেই যেমন উইথড্রল সিম্পটম চলে যায়, ফেসবুক -আসক্তরা আবার অন-লাইন হলেই স্বস্তি বোধ করে। অনেক মাদকাসক্ত যেমন বাস্তব-জীবনের বেদনা-কষ্টকে ভুলে থাকতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও অন্য জগতে হারিয়ে যাওয়ার জন্য মাদকের আশ্রয় নেয়, তেমনি এই ভার্চুয়াল জগতও বাস্তব থেকে পালিয়ে ফ্যান্টাসীতে বুদ হয়ে থাকার অনন্য মাধ্যম।

গবেষণার মৌলিক প্রত্যয়সমূহ

ইন্টারনেটে গড়ে উঠেছে সামাজিক সম্পর্কের শক্তিশালী এক নেটওয়ার্ক। যে নেটওয়ার্কে বসে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা আপন মানুষটির সাথে মনের কথা বলা যায়। খুজে বের করা যায় হারিয়ে যাওয়া পুরোনো বন্ধুটিকে। নিম্নে আমার গবেষণায় ব্যবহৃত মৌলিক প্রত্যয় সমূহের বর্ণনা দেয়া হলো।

৩.১ ফেসবুকঃ
“ফেসবুক” বিশ্ব-সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি ওয়েবসাইট, যা ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিতে বিনামূল্যে সদস্য হওয়া যায়। ব্যবহারকারীগণ বন্ধু সংযোজন, বার্তা প্রেরণ এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী হালনাগাদ ও আদান প্রদান করতে পারেন, সেই সাথে একজন ব্যবহারকারী শহর, কর্মস্থল, বিদ্যালয় এবং অঞ্চল-ভিক্তিক নেটওয়ার্কেও যুক্ত হতে পারেন। শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যকার উত্তম জানাশোনাকে উপলক্ষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক প্রদত্ত বইয়ের নাম থেকে এই ওয়েবসাইটটির নামকরণ করা হয়েছে।

চিত্রঃ ফেসবুক আইকন
মার্ক জুকেরবার্গ হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তার কক্ষনিবাসী ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিত্‌স এবং ক্রিস হিউজেসের যৌথ প্রচেষ্টায় ফেসবুক নির্মাণ করেন। ওয়েবসাইটটির সদস্য প্রাথমিকভাবে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু পরে সেটা বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লীগ এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। আরো পরে এটা সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, হাই স্কুল এবং ১৩ বছর বা ততোধিক বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

চিত্রঃ নমুনা ফেসবুক
ফেসবুক তার চলার পথে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছে। সিরিয়া, চায়না এবং ইরান সহ বেশ কয়েকটি দেশে এটা আংশিকভাবে কার্যকর আছে। এটার ব্যবহার সময় অপচয় ব্যাখ্যা দিয়ে কর্মচারীদের নিরুৎসাহিত করে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফেসবুক ওয়েবসাইট কে আইন জটিলতায় পড়তে হয়েছে বেশ কয়েকবার জুকেরবার্গের সহপাঠী কর্তৃক, তারা অভিযোগ এনেছেন যে ফেসবুক তাদের সোর্স কোড এবং অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে।
৩.২ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতাঃ
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ জন্ম নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনসে ১৯৮৪ সালের ১৪ মে। মনোবিজ্ঞানী মা এবং দন্তবিশেষজ্ঞ বাবার একমাত্র ছেলে মার্ক শৈশব থেকেই প্রোগ্রামিংয়ের দারুণ ভক্ত। দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটত তাঁর কম্পিউটারের সামনে। আর্ডসলে হাইস্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন মার্ক। ফেঞ্চ, হিব্রু, লাতিন ও প্রাচীন গ্রিক ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন অল্প সময়ের মধ্যে। শুরুর দিকে পড়াশোনার বিষয় হিসেবে বেছে নেন সাহিত্য। তবে প্রোগ্রামিংই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। বাবাও এ ক্ষেত্রে উৎসাহ দিতে কার্পণ্য করতেন না। শিক্ষক ডেভিড নিউম্যানের কাছে কম্পিউটার পাঠ নিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে পরিপক্ব করে তোলেন মার্ক। করতে থাকেন নানা রকম গেম তৈরি এবং বিভিন্ন সফটওয়্যারের উন্নতির কাজ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে এ চর্চা বেড়ে যায় আরও কয়েক গুণ। এ সময় তাঁর পড়াশোনার বিষয় ছিল কম্পিউটার বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান। পড়াশোনার বাইরে প্রোগ্রাম তৈরির কাজেই নিজেকে বেশি ব্যস্ত রাখতেন মার্ক।

চিত্রঃ মার্ক জুকারবার্গ
এত অল্প বয়সে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ মাথা ঘুরিয়ে দেয়নি মার্কের। উচ্চাভিলাষী কোনো চিন্তাভাবনা নেই তাঁর। হতে চান একজন সাদাসিধা মানুষ। সুযোগ পেলে মা-বাবা, ভাই-বোনকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেটের মতো ধনকুবেরদের সঙ্গে মিলে তরুণ এই প্রযুক্তিবিদ একটি চুক্তি সই করেছেন। নৈতিক ওই চুক্তিতে মার্ক জাকারবার্গ তাঁর জীবনের অর্ধেক সম্পত্তি দাতব্য কাজে দান করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। ফেসবুকের মতোই শ্রেণীবৈষম্যহীন এক বিশ্বের স্বপ্ন দেখেন জাকারবার্গ, যেখানে মানুষের মধ্যে মানবিক গুণগুলো আরও জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠবে।
৩.৩ ফেসবুকের ঐতিহাসিক পটভূমিঃ
 ফেসবুকের জন্মঃ
হার্ভার্ডে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের ওপর পড়াশোনা শুরু করেন জাকারবার্গ। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়ক ‘কোর্সম্যাচ’ নামের একটি সফটওয়্যার তৈরি করেন। কলেজের সুদর্শন তরুণ-তরুণী বাছাই করতে অল্পদিনের মাথায় ‘ফেসম্যাশ’ নামের আরেকটি সফটওয়্যার বানান মার্ক। ছবি দেখে আবেদনময় তরুণ-তরুণী বাছাইয়ের হিড়িক পড়ে যায় গোটা কলেজে। এতে কলেজের ওয়েব সার্ভারে বাড়তি চাপ পড়ে। কর্তৃপক্ষ সাইটটি বন্ধ করে দেয়। শিক্ষার্থীরা দাবি তুললেন, ওই রকম একটি ওয়েবসাইট তাঁদের চাই। যেখানে শিক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা, ছবি ও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য থাকবে। এ কথা শুনে মার্ক প্রতিজ্ঞা করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ করে না দিলে তিনি নিজে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়েই জাকারবার্গের হাতে জন্ম নেয় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের সাইটটি।২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ফেসবুকের উদ্বোধন করেন জাকারবার্গ। গোটা দুনিয়ায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৫৫ কোটি।

 বিকাশঃ
২০০৪:ফেব্রুয়ারিতে হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ফেসবুকের উদ্বোধন করেন এর চার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ, ডাস্টিন মস্কোভিৎজ, চেরিস হুগেস ও এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন। জুনে প্যালো আল্টোতে অফিস নেওয়া হয়। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছায়।
২০০৫: আগস্টে ‘দ্য ফেসবুক ডটকম’ নাম পাল্টে কোম্পানির নাম রাখা হয় শুধু ‘ফেসবুক’। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ লাখ।
২০০৬: কৌশলগত কারণে আগস্টে ফেসবুকের সঙ্গে মাইক্রোসফট সম্পর্ক স্থাপন করে। সেপ্টেম্বর থেকে সর্বসাধারণের জন্য ফেসবুক উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আগে শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই ছিলেন এর ব্যবহারকারী। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি ২০ লাখে।
২০০৭:ফেব্রুয়ারিতে ভার্চুয়াল গিফট শপ চালু হয়। এপ্রিলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছায় দুই কোটি।
২০০৮: কানাডা ও ব্রিটেনের পর ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স ও স্পেনে ফেসবুকের ব্যবহার শুরু হয়।
 ফেসবুক কার্যালয়ঃ
ক্যালিফোর্নিয়ার প্যালো আল্টোতে ফেসবুকের বিশাল কার্যালয়। টাইম ম্যাগাজিনের এক সাংবাদিক সেখানে গিয়েছিলেন জাকারবার্গের সাক্ষাৎকার নিতে। তাঁর বর্ণনা এমন—অ্যাকুরিয়ামে (সম্মেলনকক্ষটির এমনই নাম দেওয়া হয়েছে) সহকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন মার্ক। সামনে কাগজপত্র নেই। হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছেন। তিন দিকে কাচ দিয়ে ঘেরা বিশাল কক্ষটি গোটা অফিসে তাঁদের গোপনীয়তা রক্ষার একমাত্র স্থান। কারণ অফিসটা একেবারে খোলামেলা। পর্দা ও দেয়ালহীন একটি অফিস। কর্মীরা যেন একজন আরেকজনকে সহজে দেখতে পান, পারস্পরিক ভাব বিনিময় করতে পারেন এ জন্যই এমন ব্যবস্থা। সবার জন্য একই ধাঁচের কম্পিউটার ও আসবাব। এমনকি মার্কের জন্য আলাদা বসার কোনো কামরা নেই। অফিসের ছাদ থেকে ঝুলছে বাহারি রঙের শোপিস। না অফিস, না বাড়ি—এমনই একটি আবহ বিরাজ করছে অফিসজুড়ে।

 এশিয়ার দেশগুলোতে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহারকারীর তুলনামূলক চিত্রঃ
সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর অন্তর্নিহিত শক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে নেই এশিয়ার দেশগুলো। আর্থ-সামাজিক দিক থেকে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও সোস্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহারে বরং এই দেশগুলো অনেক এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের চেয়েও। যেমন গত বছর গ্লোবাল ওয়েব ইনডেক্স-এর তথ্য অনুযায়ী সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহারকারীর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীন, যাদের মোট ব্যবহারকারী ১৫৫ মিলিয়নেরও বেশি। এর পরের স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
পরের স্থানগুলোতেও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ। ব্যবহারকারীর সংখ্যার পরিবর্তে জনসংখ্যার শতকরা হারের প্রসঙ্গে আবার রয়েছে এশিয়ার দেশগুলোর ভালো প্রাধান্য। যেমন সোস্যাল নেটওয়ার্ক সার্ভিস ব্যবহারকারীর সংখ্যা ইন্দোনেশিয়ার মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রায় ৮০ ভাগ। এসব সোস্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছে ফেসবুকের মতো সোস্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম, বিভিন্ন ব্লগিং সাইট, টুইটারের মতো মাইক্রোব্লগিং সাইট প্রভৃতি। এর পরের দুইটি স্থানও এশিয়ার দুইটি দেশের দখলে। এই দুইটি দেশ হচ্ছে ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়া।
ফিলিপাইনে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৭৮.৮৮ শতাংশ ব্যবহার করে সোস্যাল নেটওর্য়াকিং সাইট। আর মালয়েশিয়াতে এই সংখ্যা ৭২.৫৭ শতাংশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এদিকে আরো এগিয়ে রয়েছে ভারত (৬৮.৩৫%), চীন (৬৭.৫২%), সিঙ্গাপুর ৬৩%), হংকং (৫৮.৭২%), দক্ষিণ কোরিয়ার (৫০%) প্রভৃতি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সার্ভিস ব্যবহারকারীর সংখ্যা মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর যথাক্রমে ৫৫% এবং ৪৮%।

 বাংলাদেশের অবস্থানঃ
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশেও ইন্টারনেটের ব্যবহারের বিস্তৃতি ঘটেছে। শুধু ইন্টারনেটই নয়, সামগ্রিকভাবেও বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের এগিয়ে গেছে অনেকটাই। তারপরেও বৈশ্বিক বিবেচনায় এই অগ্রগতি অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব বেশি নয়। দেশের ঢাকা, চট্টগ্রামের বাইরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য না হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। তবে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে মোবাইল ব্রডব্যান্ড এবং ওয়াইম্যাক্স দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এর প্রভাব পড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যায় এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যাতেও। গত বছরের আগস্টেও যেখানে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ০.৬%, বর্তমানে এই পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ১%। অর্থাৎ এই সময়ে প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে ফেসবুক ব্যবহারকারী। বাংলাদেশেও ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একে ব্যবহার করছেন নিজেদের মত প্রকাশের অন্যতম প্রধান একটি মাধ্যম হিসেবেই। সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর অগ্রগামী ভূমিকা তাই এদেশের জন্যও ইতিবাচক হয়ে দেখা দিতে পারে।

 ফেসবুক তথ্য কণিকাঃ
মার্ক জুকারবার্গ বর্ণান্ধ। লাল-সবুজ রং ভালো দেখতে পান না। তবে নীল রংটা ভালো দেখেন। তাই ফেসবুকে নীল রঙের এত আধিক্য। সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫ কোটি। এর মধ্যে সাড়ে তিন কোটি ব্যবহারকারী রোজ তাদের স্ট্যাটাস হালানাগাদ করে। প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি স্ট্যাটাস আপডেট হয়। মাসে ২৫০ কোটির বেশি ছবি রাখা হয় ফেসবুককে। মার্কিনরা ফেসবুকের পেছনে বছরে এক হাজার ৩৯০ কোটি মিনিট ব্যয় করে। ফেসবুক একটি দেশ হলে এটি হতো চীন ও ভারতের পর পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যা-অধ্যুষিত দেশ। সিরিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও ইরানে ফেসবুক নিষিদ্ধ।
৩.৪ ফেসবুকের মৌলিক প্রত্যয়ঃ
 চ্যাটিং: ফেসবুকের অন্যতম উপাদান হলো চ্যাটিং অপশন। এটি হলো অনলাইনে থাকা কোন বন্ধুর সাথে টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের একটি মাধ্যম।

চিত্রঃ চ্যাটিং অপশন
 স্ট্যাটাসঃ
এটি হলো ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনের কথা জানানোর অন্যতম মাধ্যম। এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী তার সকল বন্ধুর কাছে একসাথে কোন কিছু জানাতে পারে।
 ফটো এবং ভিডিও শেয়ারিং:
এটির মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারী তার বন্ধুদের কাছে ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করতে পারে।

 ভিডিও চ্যাটিং:
সম্প্রতি ফেসবুকে আরও একটি অপশন চালু হয়েছে- তা হলো ভিডিও চ্যাটিং। এর মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারী তার বন্ধুদের সাথে বিনামূল্যে ভিডিও চ্যাট করতে পারে।
 এপ্লিকেশন ও গেম:
ফেসবুকে ব্যবহৃত অপশনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো গেম এবং অ্যাপ্লিকেশন। ফেসবুকে অনেকগুলো জনপ্রিয় গেম আছে। যেগুলো ফেসবুক ব্যবহারকারী অনলাইনে খেলতে পারেন। এছাড়াও ফেসবুকে রয়েছে নানান অ্যাপ্লিকেশন।
 ই-মেইলঃ
ফেসবুকে নিবন্ধন করার জন্য একটি ই-মেইল ঠিকানা লাগে। এ ই-মেইলটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর প্রাথমিক ই-মেইল হিসেবে ব্যবহার করে। ব্যবহারকারী যদি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেলেন, তখন ফেসবুক তার হারানো পাসওয়ার্ডটি ব্যবহারকারীর ওই ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়।
 কনটাক্ট যোগ করাঃ
ফেসবুকে যোগ দেওয়ার পর ব্যবহারকারী তাঁর পরিচিত বন্ধুদের ই-মেইলের মাধ্যমে তাঁর ফেসবুক ব্যবহারের কথা জানাতে পারবেন। এ ছাড়া ফেসবুকের একটি অপশনের মাধ্যমে ই-মেইলের কন্টাক্ট তালিকায় থাকা সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো যায়। মোটামুটি জনপ্রিয় সব ওয়েবমেইল থেকেই কন্টাক্ট মানে অন্যদের তথ্য আনা যায়। তবে দ্বিতীয় কাজটি না করাই ভালো। দেখা যায়, এর মাধ্যমে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষের কাছেও আমন্ত্রণ চলে যায়।
 নেটওয়ার্কঃ
ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, প্রতিষ্ঠান. শহর, দেশভিত্তিক এসব নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারী তাঁর পরিচিত বন্ধু বা সহকর্মীকে পেয়ে যেতে পারেন।আবার সমমনা নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হতে পারে। একেকটি নেটওয়ার্ক একেক রকম। কোনোটিতে ঢুকতে হলে ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট ডোমেইনের ই-মেইল দিয়ে পরীক্ষা করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, ব্যবহারকারী তাঁর নেটওয়ার্কের সবাইকে তাঁর প্রোফাইল দেখার অনুমতি দেবেন কি না সেটি ঠিক করে দেওয়া।

 বন্ধু এবং বন্ধুর সংখ্যাঃ
আপনার বন্ধুর সংখ্যা ঠিক কত? ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা যাবে, সেখানে নিদেনপক্ষে দু’শো মুখের সারি৷ এরা সবাই বন্ধু৷ কিন্তু সত্যিই কি বন্ধু? জার্মান মনোবিদরা বলছেন, তিনের বেশি বন্ধুসংখ্যা হওয়া অসম্ভব৷ তাহলে ব্যাপারটা আসলে কী?ব্যাপারটা যাকে বলে গুরুচরণ৷ এই মুখচ্ছবি বা ফেসবুকের জগতে মানুষ বড্ড বেশি বন্ধুবৎসল হয়ে উঠেছে৷ কুমিল্লার গণ্ডগ্রাম হোক বা নিউ ইয়র্ক৷ মিসিসিপির চাষী বা মেদিনীপুরের জোতদার, সকলেই এখন এই নেট জগতে ফেসবুকে হাজির৷ চকচকে ঝকঝকে ফেসবুক প্রোফাইলে সকলেই বেশ হাসিমুখে কেবল বন্ধুসঙ্গ করে চলেছে৷ এ এক হাওয়ায় ভাসা জগত৷ সেখানে আপনার বাবা, মা, ভাই, বোন, পুত্র কন্যা, কেউই নেই৷ সকলেই বন্ধু৷ সকলেই সুহৃদ৷
কিন্তু এই যে পিতাপুত্র থেকে ভাইবোন, সব রক্ত সম্পর্ক মুছে, সব ধরণের আত্মীয়তা ভুলে গিয়ে সকলে বন্ধু, এটা কি সত্যিই সম্ভব? জার্মান মনস্তত্ববিদ মিশায়েল শেলব্যার্গের মতে, এটা অসম্ভব ব্যাপার৷ কারণ, মানুষের ঠিকঠাক বন্ধুর সংখ্যা তিনের বেশি হয় না সচরাচর৷ আর তার আগে জানতে হবে, বন্ধুত্ব কাকে বলে?বন্ধুত্ব বিষয়টাকে শেলব্যার্গ ব্যাখ্যা করে বলছেন, বন্ধু তাকেই বলা যেতে পারে, যে বন্ধুর সুখদুঃখের সাথী হবে৷ সে সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা থাকবে বটে, কিন্তু সে ভালোবাসা হবে বিশেষ যৌক্তিক৷ বিশেষ মাত্রার৷ বন্ধুর ওপরে আরেকজন নির্ভর করতে পারবে, বিশেষ প্রয়োজন বিশ্বস্ততারও৷ এইসব শর্তাবলী কি মুখচ্ছবির বন্ধুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য? এ প্রশ্নটা কিন্তু এখন খুবই দামী প্রশ্ন৷
এর জবাবে আরেক জার্মান মনস্তত্ববিদ ক্রিস্টা রোট জাখেনহাইমের ব্যাখ্যা আবার আরেকরকম৷ জার্মান মনস্তত্ত্ব সংগঠনের প্রধান ক্রিস্টা বলছেন, বন্ধু মানে সে-ই বিশেষ মানুষটি, যার সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের সাক্ষাৎ সম্পর্ক আছে এবং থাকছে৷ যে ঘনিষ্ঠতার সবকিছু একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবে৷ যাকে যেকোন সময়, যেকোন সমস্যা বা আনন্দের ভাগীদার করা যাবে৷ তবেই তাকে বলা যেতে পারে বন্ধু৷
কিন্তু এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায়, যখন হাতে কানে মোবাইল, চোখে ফেসবুক, মনে নানান আবেগের চলাফেরা, সেই ভার্চুয়ালিটিতে বাস্তব বন্ধুকে পাওয়া তো যায়ই না, বরং রাজ্যের প্রত্যাশা তৈরি হতে থাকে মানুষের মধ্যে৷ সেই প্রত্যাশায় জল ঢেলে দেয় অবশেষে সেই ভার্চুয়ালিটিই৷ অর্থাৎ বন্ধুর কর্তব্য কেউ করে না, কিন্তু বন্ধু বলে নিজেকে জাহির করে যায় সারাক্ষণ৷ আধুনিকতার এও এক ঘোর সমস্যা৷ বন্ধু তো সবাই, সুহৃদ কোথায়?

 বন্ধু বাছাইঃ
বন্ধু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে নতুনদের। ফেসবুকে মানুষকে হয়রানি করার জন্য ইচ্ছা করে অনেকে ভুয়া (ফেক)অ্যাকাউন্ট খোলেন। ফলে বন্ধু হওয়ার অনুরোধ গ্রহণ করার আগে অনুরোধকারীর প্রোফাইল ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। তাঁর সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া আছে কি না। যদি সে আপনার পরিচিত হয়, তাহলে এসব তথ্য দেখে সহজেই আপনি তাঁকে চিনতে পারবেন। এ ছাড়া তাঁর ও আপনার মধ্যে কতজন পরিচিত (মিউচুয়্যাল ফ্রেন্ড) বন্ধু আছে, তা খেয়াল করেও বন্ধু হওয়ার অনুরোধ গ্রহণ করা যেতে পারে। অনুরোধকারীর নামের ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে, সে কী ধরনের নাম ব্যবহার করছেন। তাঁর প্রোফাইলের ছবিতে নিজের ছবি দেওয়া আছে কি না, তাও খেয়াল করতে হবে। একেবারেই অপরিচিত কারও অনুরোধ গ্রহণ না করাই ভালো। এতে ধোঁকা খাওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে।
 গ্রুপস, লিংকস ও নোটসঃ
ফেসবুক ব্যবহারকারী তাঁর নিজের আগ্রহ অনুযায়ী ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের গ্রুপ তৈরি বা যোগ দিতে পারেন। ফেসবুকের সার্চ অপশনটি ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রুপস খুঁজে বের করা যায়। ব্যবহারকারীর পছন্দের কোনো ওয়েবলিংক, যা তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাইলে তা ফেসবুকে করতে পারবেন।আবার নিজের কবিতা গল্প ইত্যাদি যেকোনো কিছু ফেসবুকে শেয়ার করা যায়।
 নিরাপত্তাঃ
ফেসবুকে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা সবচেয়ে জরুরি ব্যাপার। ছবির অ্যালবাম শেয়ার করা, নিজের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার, বন্ধুদের তথ্য ইত্যাদি বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। পাসওয়ার্ড বাছাই করার ক্ষেত্রে দেখতে হবে, যাতে সহজে কেউ ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ডটি আন্দাজ করতে না পারেন। এখানে-সেখানে গিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুললে পাসওয়ার্ড চুরির আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়, তাই বেশিলোক জমায়েত হয় এমন জায়গায় ফেসবুক না খোলাই ভালো। ফেসবুক একটি চমৎকার একটি ওয়েবসাইট।তবে এটি ব্যবহারের নিয়মকানুন অনেক, যার বেশির ভাগই আমরা না পড়ে এড়িয়ে যাই। এটি আসলে ঠিক নয়। ফেসবুক ব্যবহার শুরু করার আগে এর ‘প্রাইভেসি পলিসি’ প্রত্যেক ব্যবহারকারীর ঠিকমতো পড়ে দেখা উচিত।

 ফেসবুক আসক্তিঃ
ফেসবুকে এই বাড়াবাড়ি রকমের সময়-ক্ষেপনকে আমরা ‘আসক্তি’ বলব কেন? অ্যাডিকশন (Addiction) বা আসক্তি তো একটি ব্যাধি। ফেসবুকের কারণে ব্যক্তির এই পরিবর্তন কি ব্যাধি? আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর মতে, তা-ই। “আসক্তি” আমরা কখন বলি? যখন মানুষ কোন কিছুতে, তা ভাল-মন্দ যা-ই হোক, অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, অর্থাৎ কোন কিছুর প্রতি “ডিপেনডেন্স”(Dependence) তৈরী হয়। একই সাথে তৈরী হয় টলারেন্স (Tolerance), অর্থাৎ একই সমান তৃপ্তির জন্য ধীরে ধীরে ঐ ‘কিছু’র পরিমাণ বাড়াতে হয়। এবং সেই ‘কিছু’র প্রতি এই ‘ডিপেনডেন্স’ এবং ‘টলারেন্স’ যখন মানুষের জীবনের নানাক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে থাকে।
যেমন, আমরা বলে থাকি মাদকাসক্তির কথা। মাদক নেয়ার পর ব্যক্তির মনে আনন্দের অনুভূতি হয়। ধীরে ধীরে ব্যক্তি আনন্দের জন্য মাদকের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। একই তীব্রতার আনন্দের অনুভূতির জন্য ধীরে ধীরে বাড়াতে হয় মাদকের পরিমাণ। মাদক সংগ্রহ ও গ্রহণকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় ব্যক্তির চিন্তা ও দৈনন্দিন জীবন। ধ্বংস হতে থাকে শিক্ষাজীবন, ব্যর্থতা বাড়তে থাকে কর্মক্ষেত্রে, সামাজিক জীবন বলতে কিছুই থাকে না আর। একই ঘটনা আমরা দেখতে পাই ফেসবুকের ক্ষেত্রেও। ফেসবুক-আসক্তদেরও তৈরী হয় ‘টলারেন্স’। প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়তে থাকে ফেসবুকে কাটানো সময়ের পরিমাণ। মানসিকভাবে এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তারা। ‘সাইন-আউট’ করার পর থেকে মাথায় একই চিন্তা ঘুরতে থাকে – কখন আবার ‘সাইন-ইন’ হবো, নেটে ঢোকার পর কি করবো, কিভাবে করবো ইত্যাদি।

চিত্রঃ ফেসবুক আসক্তি
বেশীক্ষণ অফ-লাইন থাকলে তাদের মাঝে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়, মাদকাসক্তদের যেমন কয়েক ঘন্টা মাদক না নিলে দেখা দেয় শারীরিক-মানসিক নানা উপসর্গ বা ‘উইথড্রল সিম্পটম’- চলতি বাংলায় আসক্তরা যাকে বলে ‘ব্যাড়া ওঠা’। মাদক আবার গ্রহণ করলেই যেমন উইথড্রল সিম্পটম চলে যায়, ফেসবুক -আসক্তরা আবার অন-লাইন হলেই স্বস্তি বোধ করে। অনেক মাদকাসক্ত যেমন বাস্তব-জীবনের বেদনা-কষ্টকে ভুলে থাকতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও অন্য জগতে হারিয়ে যাওয়ার জন্য মাদকের আশ্রয় নেয়, তেমনি এই ভার্চুয়াল জগতও বাস্তব থেকে পালিয়ে ফ্যান্টাসীতে বুদ হয়ে থাকার অনন্য মাধ্যম।

চতুর্থ অধ্যায়

তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিশ্লেষণ

পরীক্ষণ বা জরিপ কিংবা প্রশ্নমালার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য প্রায়শ সংখ্যা-রাশি মাত্র। তথ্য বিশ্লেষণ একটি নির্দিষ্ট পন্থাকে বুঝায় না বরং একাধিক পর্যায়ে, প্রক্রিয়া ও কর্মকৌশলকে ব্যক্ত করে। গবেষণার মূল উদ্দেশ্যের নিরীক্ষে তথ্যকে বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষক যখন তথ্য সংগ্রহ করেন তখন সেই সকল তথ্যগুলো এলোমেলো অবস্থায় থাকে। এইগুলোকে সঠিকভাবে প্রকিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

৪.১ তথ্য উপস্থাপনঃ
গবেষকের সংগৃহীত এলোমেলো এবং স্তুপকৃত তথ্যগুলোর দ্বারা কোন গবেষক বা অনুসন্ধানকারী অতি সামান্যয় উপকৃত হতে পারেন। কারণ সংগৃহীত তথ্য প্রাথমিক অবস্থায় বিশৃঙ্খল এবং অনেক সময় বৃহৎ কলেবর যুক্ত থাকে বলে তা থেকে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না। তাই ব্যাখ্যা এবং সংখ্যাগুলোর অন্তর্নিহিত তথ্য প্রকাশের সুবিধার্তে সংখ্যাগুলোর কোন না কোন শ্রেণীবদ্ধকরণ এবং বর্ণনা প্রয়োজন। কোন কোন অবস্থায় পৌণঃপুণ্যের বণ্টণের আকারে উপাত্তের শ্রেণীবদ্ধকরণ, ঐ উপাত্তের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ঠ্যসমূহ বুঝতে গবেষককে সাহায্য করে থাকে। কোন কোন সময় আবার সারণীবদ্ধকরণ এবং লেখ চিত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে ঐ তথ্যের অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ঠ্যাবলী বুঝা সহজ হয়।

আমি এই গবেষণার জন্য বিভিন্ন উৎস হতে সংগৃহীত প্রাথমিক এবং গৌণ তথ্যগুলোকে বিভিন্ন টেবিল, চিত্র, ছক ইত্যাদির মাধ্যমে উপস্থাপন এবং বিশ্লেষণ করেছি।

৪.২ তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিশ্লেষণঃ
কোন গবেষণা প্রশ্নাবলীর উত্তর পাবার জন্য গবেষক প্রথমে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং পরে তা বিশ্লেষণ করেন।

এ সম্পর্কে গ্যালটাংগ (১৯৬৭) বলেন, “তথ্যের বিশ্লেষণ হলো গবেষণার প্রশ্ন, প্রকল্প অথবা প্রচলিত তথ্যের আলোকে সংগৃহীত তথ্যগুলোকে বিচার করা হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যাতে এসব সিদ্ধান্ত তত্ত্ব গঠণের কাজে লাগে।”
সামাজিক গবেষণা তত্ত্বগুলো সাধারণত গাণিতিক ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তথ্য সমূহের সাধারণ বৈশিষ্ঠ্য, বিচ্যুতি, সম্পর্ক, পার্থক্য ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়।
টেবিল-১
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম
মাধ্যম ব্যবহারকারির সংখ্যা শতকরা হার
ফেসবুক ১৮ ৯০%
টুইটার ১ ৫%
গুগল প্লাস ১ ৫%
মোট ২০ ১০০%

উপরোক্ত তথ্যগুলোর আলোকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সামাজিক যোগাযোগের অনেকগুলো মাধ্যম আছে। আর এগুলো শতকরা ৯০% ব্যবহার করে ফেসবুক। ৫% ব্যবহার করে টুইটার এবং ৫% ব্যবহার করে গুগল প্লাস।
এ তথ্যগুলো বিশ্লেষণে আমরা এ ধারণায় উপনিত হতে পারি যে, ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হেসেবে বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীরাই ফেসবুক ব্যবহার করে। এ থেকে এটিই প্রমাণিত হয় যে, ফেসবুকের প্রতি তারা কতটুকু ঝুকে আছে।

টেবিল-২
ফেসবুকে পছন্দের কাজ
কাজ সংখ্যা শতকরা হার
চ্যাটিং ১৪ ৬৫%
গেম খোলা ৪ ২০%
কমেন্ট লেখা ৩ ১৫%
মোট ২০ ১০০%

চার্ট-২

ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন ধরণের কাজ করতে পছন্দ করে, যেমন- টেক্সট চ্যাটিং, ভিডিও চ্যাটিং, গেম খেলা, কমেন্ট লিখা ইত্যাদি। আমি আমার গবেষণা প্রশ্নমালায় ফেসবুকের সবচেয়ে জনপ্রিয় একাজগুলোর বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ৬৫% চ্যাটিং, ২০% গেম খেলা এবং ১৫% কমেন্ট লিখতে পছন্দে করে।
টেবিল-৩
ফেসবুকে বন্ধুর সংখ্যা
পরিমান সংখ্যা শতকরা হার
১০০-এর নিচে ৯ ৪৫%
১০০-২০০ ৫ ২৫%
২০০-৫০০ ৪ ২০%
৫০০-এর উপর ২ ১০%

ফেসবুকে অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো বন্ধু। মূলত বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনদের সাথে যোগাযোগের জন্যই ফেসবুক ব্যবহার করা হয়। ফেসবুকে কার কত বন্ধু আছে এ বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করেছিলাম। তথ্যগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ৪৫% ছাত্র-ছাত্রীর বন্ধুর সংখ্যা ১০০ এর নীচে। ২৫% ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০-২০০ জনের মধ্যে। ২০% ছাত্র-ছাত্রী বন্ধুর সংখ্যা ২০০-৫০০ জন এর মধ্যে। ১০% এর বন্ধুর সংখ্যা ৫০০ জন এর ঊর্ধ্বে।
টেবিল-৪
শিক্ষাক্ষেত্রে ফেসবুক ব্যবহারের প্রভাব
প্রভাব সংখ্যা শতকরা হার
হ্যাঁ ১২ ৬০%
না ৮ ৪০%
মোট ২০ ১০০%

চার্ট-৪

একজন ছাত্র ছাত্রী হিসাবে লেখা পড়া করা প্রধান কাজ। আমি গবেষণার মাধ্যমে দেখতে চেয়েছিলাম ফেসবুক ব্যবহারের ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার উপর কোন প্রভাব পড়ছে কিনা? মতামত প্রদানকারীদের প্রদত্ত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ৬০% ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপাড়ার ওপর প্রভাব পড়ে এবং ৪০% এর ওপর প্রভাব পড়ে না।

টেবিল-৫
ফেসবুক ব্যবহার করতে না পারার অনুভূতি
অনুভূতি সংখ্যা শতকরা হার
খারাপ লাগে ৮ ৪০%
খুব খারাপ লাগে ৪ ২০%
হতাশ লাগে ৩ ১৫%
কিছুই মনে হয় না ৫ ২৫%
মোট ২০ ১০০%

চার্ট-৫

অনেক সময় আমরা দেখতে পাই যে, ইন্টারনেট সংযোগ বা অন্যকোন কারণে কয়েকদিন বা কিছু সময় অনেক ছাত্র-ছাত্রী ফেসবুক ব্যবহার করতে পারে না। আমি পরীক্ষণ পাত্রের কাছে জানত চেয়েছিলাম যে, এই সময়টুকু অর্থাৎ যে সময় তারা ফেসবুক ব্যবহার করতে পারে না সে সময় তাদের কেন লাগে বা অনুভূতি কেমন হয়? তারা যে তথ্য গুলো দিয়েছে তা থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ৪০% পরীক্ষণ পাত্রের খারাপ লাগে, ২০% খুব খারাপ লাগে, ১৫% হতাশায় ভোগে এবং ২৫% পরীক্ষণ পাত্রের কোন কিছু মনে হয় না।
টেবিল-৬
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক যথেষ্ট কিনা?
উত্তর সংখ্যা শতকরা হার
হ্যাঁ ১২ ৬০%
না ৮ ৪০%
মোট ২০ ১০০%

ইন্টারনেট জগতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হেসেবে অনেকগুলো জনপ্রিয় সাইট রয়েছে, যেমন- ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস, মাই স্পেস ইত্যাদি। এ সাইটগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় হল ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ছাত্র-ছাত্রীদের চাহিদা মেটাতে পারে কিনা বা তারা ফেসবুক ব্যবহার করে সন্তুস্ট কিনা সে বিষয়ে জানার জন্য প্রশ্ন করেছিলাম। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে শতকরা ৬০% ছাত্র-ছাত্রীর চাহিদা মিটে এবং ৪০% এর চাহিদা মিটে না বা তারা সন্তুষ্ট নয়।
টেবিল-৭
অফলাইনে ফেসবুক নিয়ে চিন্তা ভাবনা
প্রকিক্রিয়া সংখ্যা শতকরা হার
হ্যাঁ ১৩ ৬৫%
না ৭ ৩৫%
মোট ২০ ১০০%

নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের নানা বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় যে, ব্যবহারী যখন অফলাইনে থাকে তখন তাদের অনেকে ভাবে যে, তাদের কোন বন্ধু স্ট্যাটাস আপডেট করেছে কিনা বা কমেন্ট লিখেছে কিনা। আমি পরীক্ষণ পাত্রের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের শতকরা ৬৫% এর পক্ষে মত প্রদান করে এবং ৩৫% বিপক্ষে মত প্রদান করে।
টেবলি-৮
ফেসবুকের প্রতি নির্ভরশলীতা
মতামত সংখ্যা শতকরা হার
হ্যাঁ ৮ ৪০%
না ১২ ৬০%
মোট ২০ ১০০%

তরুণ-তরুণীরা বর্তমানে ফেসবুকের প্রতি ব্যাপক মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। নিজের অজান্তে অনেকেই এ প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এর ফলে তাদের সমস্যাগুলো সবার কাছে প্রকাশ করতে পারে না। আমি ফেসবুক নির্ভরশীলতার ব্যাপারে তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। মতামত প্রদানকারীর ৪০% এর পক্ষে মত প্রদান করে এবং ৬০% এর বিপক্ষে মত প্রদান করে।
টেবিল-৯
মানসিক প্রশান্তি বা দুঃখ কষ্ট ভোলার জন্য ফেসবুকের ব্যবহার
মতামত সংখ্যা শতকরা হার
হ্যাঁ ৮ ৪০%
না ১২ ৬০%
মোট ২০ ১০০%

ফেসবুক এমন একটি যোগাযোগের মাধ্যম যার মাধ্যমে ফেসবুকের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা তাদের মনের কথা, আবেগ ইত্যাদি শেয়ার করতে পারে। আমি ছাত্র-ছাত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম দুঃখ কষ্ট বা সব সমস্যা ভুলে থাকার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করে কিনা। ৪০% ছাত্র-ছাত্রীরা ফেসবুককে এ সমস্যাগুলোর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে এবং ৬০% সেই হিসাবে ব্যবহার করে না।
টেবিল-১০
ফেসবুকের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনা
মতামত সংখ্যা শতকরা হার
হ্যাঁ ১৩ ৬৫%
না ৭ ৩৫%
মোট ২০ ১০০%

চার্ট-১০

অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের ফেসবুক ব্যবহারের ব্যাপারে সচেতন। অনেকে বুঝতে পারে যে, তাদের ফেসবুক ব্যবহারের পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে যা তাদের বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলছে। তাই তারা সেটি কমিয়ে বা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এর ফলে তাদের আবেগ অনুভূতি পরিবর্তন বা বিষণ্ণতা কিংবা উত্তেজনার সৃষ্টি হয় কিনা সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছিলাম। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে ৬৫% ব্যক্তি এটিকে সমর্থন করে এবং ৩৫% মতামত প্রদানকারী এটি সমর্থন করে না।
টেবিল-১১
ফেসবুক আসক্তির বিষয়ে সচেতনতা
অভিমত সংখ্যা শতকরা হার
হ্যাঁ ৬ ৩০%
না ১৪ ৭০%
মোট ২০ ১০০%

বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহার এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে, অনেকে এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। আবার অনেকে ফেসবুকের প্রতি যে নেশার মত আসক্ত হয়ে পড়ছে সে বিষয়ে জানে না কিংবা ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলোর ব্যাপারে সচেতন না। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এই সচেতনতার বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম এবং জানতে চেয়েছিলাম তারা এই বিষয়ে কতটুকু সচেতন?

তাদের প্রদত্ত মতামত থেকে দেখা গেল অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীরাই এ বিষয়ে সচেতন নয়। মতকরা ৭০% ছাত্র-ছাত্রীরা ফেসবুকের ক্ষতিকর বিষয়গুলো সম্পর্কে জানেনা বা সচেতন নয়। আর ৩০% এ বিষয়ে কিছুটা জ্ঞান রাখে।

পঞ্চম অধ্যায়

ফলাফল ও সুপারিশ

সঠিকভাবে যদি তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে গবেষণা কার্য সফল হবে। আমার গবেষণায় আমি প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক উৎস থেকে প্রাপ্ত উপাত্তগুলোর আলোকে যে তথ্যগুলো পেয়েছি তা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি এবং এর আলোকে কিছু সুপারিশমালা নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
৫.১ যাদের ফেসবুকে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি:
 যারা আগে থেকেই অন্য কোন কারণে উদ্বিগ্নতায় (Anxiety) ভুগছেন।
 যারা বিষন্নতায় বা একাকিত্বে ভোগছেন।
 যারা ড্রাগ, এলকোহল, জুয়াখেলা এবং বিকৃত যৌন রুচি ও মানসিকতায় আসক্ত।
 টিনএজার -যারা রোমাঞ্চপ্রিয় ও সব কিছুতে অতি উৎসাহী।
 শারীরিকভাবে যারা অলস ও ঘরকুনো।
 যারা কোন কিছুকেই হালকাভাবে নিতে পারে না, সব কিছুতেই সিরিয়াস।
 বাস্তব জীবনে যাদের বন্ধু-বান্ধব খুবই কম ও বিপদ-আপদে সাহায্য করার মত কেউ নেই।
 যারা অসামাজিক, লাজুক এবং মানুষের সাথে মিশতে ভয় পায়।
 যারা বাস্তব জীবনের সমস্যাকে এড়িয়ে চলতে চায়।
 যাদের ইন্টারনেট বা কম্পিউটারের সহজলভ্যতা বেশি।
 যারা কম্পিউটারের বা ইন্টারনেটের প্রতি বেশি আসক্ত। অর্থাৎ কম্পিউটারেই লেখাপড়া, রিপোর্ট, অ্যাসাইমেন্ট ইত্যাদি সম্পাদন করার প্রবণতা।
 যারা অধিক সময় ফেসবুকে কাটান।

চিত্রঃ ফেসবুক আসক্ত ব্যক্তি
৫.২ ফেসবুক আসক্তির প্রধান কারণঃ
 কৌতুহল ও উৎসাহ –
ফেসবু্কে নতুন ব্যবহারকারীদের অনেকেই ব্যাপক উৎসাহের সাথে প্রায় সব লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে সেখানে কী আছে। সাইট থেকে সাইটে ঘুরে ঘুরে নিত্য নতুন তথ্য-বিনোদনের আবিষ্কারে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে অনলাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়।
 তথ্য নিয়ে হিমশিম খাওয়া –
ফেসবুক এখন সব বয়সের ও সব পেশার লোকের জন্য এক বিশাল তথ্য ভান্ডার। পেশার কারণেই হোক বা সখের কারণেই হোক নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহের নেশা একজন মানুষকে এমনভাবে পেয়ে বসে যে সে বেশিরভাগ সময় ক্রমাগত ওয়েব পেজ হাতড়িয়ে পার করে দেয়।অনেক অনলাইন পত্রিকা ফেসবুকে পেজ খুলে খবর প্রকাশ করে। আর এভাবেই অনেকে নিজেদের অজান্তেই সব কিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
 সাইবার সেক্সুয়্যাল আসক্তি-
এ ক্ষেত্রে একজন মানুষের মধ্যে ফেসবুকে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত চ্যাট রুম এবং সাইবার পর্ণের প্রতি আকর্ষণ বিশেষভাবে বেড়ে যায়। তার চিন্তা-ভাবনায় স্থান করে নেয় এ ধরনের নগ্ন ও বিকৃত রুচির ছবি এবং ভিডিও। সাধারণত প্রথমদিকে কৌতুহল থাকলেও বেশিরভাগ লোকই পরবর্তীতে এগুলোতে আর আকর্ষণ বোধ করে না। এসবের প্রতি কারো কৌতুহল ও আকর্ষণ যদি স্থায়ীরুপ লাভ করে তখনই সমস্যা।

 কম্পিউটার আসক্তি-
এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির কম্পিউটার গেম, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটারে লেখাপড়া করা, বিভিন্ন রিপোর্ট বা প্রতিবেদন লেখা, অ্যাসাইমেন্ট লেখা ইত্যাদির কারণেও ফেসবুকে আসক্ত হতে পারে। এধরনের লোক হয়ে বসে থাকতে পারে না, কমপিউটার নিয়ে কিছু একটা করতে হবেই।
 ভার্চুয়াল বন্ধুবান্ধব –
ফেসবুকের সুবাদে দূর-দূরান্ত, দেশ-বিদেশের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে বন্ধুত্ব, প্রেম, ভালোবাসা। ব্লগ, ফোরাম, চার্টরুম, ফেইসবুক, টুইটার ইত্যাদিতে একজনের সাথে আরেকজনের পরিচয় হচ্ছে, বন্ধুত্ব হচ্ছে। সে কারণে ইমেইল, অনলাইন চাটিং, ফেসবুকে বন্ধুর তালিকা দিনদিন বড় হচ্ছে। সুতরাং যতই দিন যাচ্ছে ভার্চুয়াল বন্ধুবান্ধবদের সিডিউল দিতে অনলাইনে সময়ের পরিমানও বাড়ছে। আবার অনেকেই আছেন ডেটিং/ফ্রেন্ডশীপ সাইটের নিয়মিত ভিজিটর বা সদস্য, যারা জীবনসঙ্গী, যৌনসঙ্গী, প্রেমিক-প্রেমিকার সন্ধানে বেশিরভাগ সময় ফেসবুক হাতড়িয়ে পার করে দেয়।
 বিকল্প বিনোদন –
ফেসবুককে অনেকে বিকল্প বিনোদন হিসেবে বেছে নিয়েছে। গান, ভিডিও ক্লিপ, গেম, ভিডিও, ভিডিও চ্যাটিং ইত্যাদি অনেক কিছু এখন ফেসবুকে উপভোগ করা যায়। অনেকে এগুলোর প্রতি এত বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে যে জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজকে অবহেলা করতে শুরু করে। নতুন নতুন গান, ভিডিও, মুভি সংগ্রহের জন্য দিনরাত ফেসবুক হাতিয়ে বেড়াচ্ছে। যত পায় আরও চায় – এভাবে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা অনলাইনে ব্যয় করছে যা একসময় আসক্তির পর্যায়ে চলে আসে।
 বাস্তব জীবনে সমস্যা –
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার এইসব দিনরাত্রি নিয়ে আমাদের জীবন। সব দুঃখ-কষ্টকে সবাই একইভাবে মোকাবেলা করতে পারে না। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং পেশাগত জীবনে সমস্যা আসতে পারে। অনেকে এইসব দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যাকে ভুলে থাকার জন্য ফেসবুককে বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়। এভাবে বাস্তব জীবনের সমস্যাকে ভুলতে গিয়ে আরও একটি সমস্যায় পতিত হয়, যার নাম ‘ ফেসবুক আসক্তি’।

 ভার্চুয়াল জগতে প্রচার ও সেলিব্রেটি –
ফেসবুকে সহজে নিজেকে প্রচারের জন্য অনেক সুযোগ, তাই অনেকে দিনরাত এখানে সক্রিয় থাকতে চাই, অন্যান্য অনলাইন ইউজারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এরা সবসময় সব ধরনের চেষ্টা করে। এদের কার্যকলাপ ইতিবাচক বা নেতিবাচক উভয় ধরনের হতে পারে। এরা দৈনন্দিন জীবনের বিরাট একটি অংশ কাটিয়ে দেয় অনলাইনে। যখন অফলাইনে থাকে তখনও এরা অনলাইনের কার্যকলাপ ও চিন্তা-ভাবনায় মোহগ্রস্ত হয়ে থাকে। অনলাইনে সবাইকে তাক লাগানোর জন্য বা সেলিব্রেটি হওয়ার জন্য নিত্য নতুন আইডিয়া নিয়ে সবসময় ভাবতে থাকে, ফলে বাস্তব জীবন নিয়ে চিন্তাভাবনার আর সময় থাকে না।
 প্রতারণা ও ধোকাবাজি-
ফেসবুকে যেহেতু নিজের পরিচয় গোপন রেখে অনেক কিছু করা যায়, তাই এটা অনেকের কাছে ফন্দি-ফিকির ও প্রতারণার স্বর্গরাজ্য। অনেকে এসবের মাধ্যমে এক ধরনের আনন্দ পায়। অনেকের দেখা যায় হাজার হাজার বন্ধু। সেখানে মেয়ে বন্ধুর সংখ্যাই বেশি। প্রকৃতপক্ষে সেগুলো নির্দিষ্ট সেই মেয়ের অ্যাকাউন্ট নয়। অনেক ছেলেরা মেয়েদের নাম, প্রোফাইল এবং আকর্ষণীয় ছবি প্রদানের মাধ্যমে অন্যকোন মেয়ে বা ছেলেকে প্রতারিত করে থাকে।
 Status Update Anxiety (SUA) –
ফেসবু্কের কারণে সৃষ্ট নতুন মানসিক রোগ/সমস্যা সুয়া (SUA)। এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার পারিবারিক জীবন তো বটেই, বাস্তব জীবনের বন্ধুবান্ধব থেকেও বিছিন্ন হয়ে পড়ে। কেননা তার ধ্যান ধারণায় স্থান করে নেয় চ্যাট রুম, ব্লগ, ফোরাম, নিউজ গ্রুপ, ফেইসবুক, ইত্যাদির সুবাদে প্রাপ্ত ভার্চুয়াল জগতের নতুন নতুন বন্ধুবান্ধব। প্রতি মুহুর্তে ফেসবু্কে নিজের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ঘটনা নিয়মিত অন্যদের সাথে শেয়ার করতে গিয়ে অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে এক ধরনের মানসিক চাপ। তারা দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে ফেসবু্কে প্রকাশ করতে চাই এবং অন্যদের উত্তর বা প্রতিক্রিয়া জানতে অধৈর্য হয়ে পড়ে। ফলে তার পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। এরা ফেসবুক ছাড়া বেশীক্ষণ থাকতে পারে না। ধুমপানে অভ্যস্ত লোক যেমন ধুমপান করতে না পারলে চঞ্চল, বিষন্ন অথবা উত্তেজিত হয়ে ওঠে, তেমনি ফেসবুক ব্যবহার করতে না পারলে এদের অবস্থাও তাই হয়।

 নিজেকে প্রকাশ করা-
ফেসবুক একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মানুষ সংযুক্ত আছে। আর তাই অনেকেই নিজেকে প্রকাশের জন্য বা নিজের পরিচয় অন্যের কাছে তুলে ধরার জন্য ফেসবুকের প্রতি আগ্রহী হয়। এছাড়াও ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক অচেনা মানুষ সম্পর্কে জানা যায়।
 ফেসবুকে চ্যাটিং ও ভিডিও কল-
ফেসবুকের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ঠ্য হলো চ্যাটিং। কিছু দিন পূর্বেও শুধুমাত্র টেক্সট চ্যাটিং-এ অনেকে অনেক সময় কাটাত। বর্তমানে ভিডিও কলিং সুবিধা যোগ হওয়ার ফলে এর মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকরী ভিডিও কল করার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে।
 গেম খেলা-
ফেসবুকের অন্যতম উপাদান হলো গেম। ফেসবুকে অনেক জনপ্রিয় গেম আছে। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেই গেমগুলো খেলার মাধ্যমে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়।
৫.৩ ফলাফলঃ
 বাসায় যতক্ষণ থাকা ততখন ফেসবুকেই থাকা হয়, এমনকি খাবার সময়। এর ফলে ঘুমের খুব সমস্যা হয়, আর যেহেতু ঘুমের সমস্যা তাই সেটা শরীরের উপরেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
 যেহেতু পিসি তে সারাদিন ফেসবুক পেজ খোলা থাকে ও এতে আসক্ত, তাই পিসি তে বসে যে সকল লেখাপড়া বিষয়ক কাজ যেমন এসাইন্মেন্ট, রিপোর্ট ইত্তাদি সময় মতো করা হয়ে ওঠে না। ফলে লেখাপড়ার উপরে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।
 যখন বাসায় ফেসবুক থাকেনা তখন সাইবার ক্যাফে তে গিয়ে টাকা নষ্ট করে ফেসবুক ব্যাবহার করে।
 ফেসবুকের কারনে বন্ধুদের সাথেও মাঝে মাঝে ঝগড়া বিবাদের তৈরি হয়।
 পরিবারের সদস্যরা মারাত্মক ভাবে বিরক্ত হয়।
 সারাদিন ফেসবুক ব্যাবহার এর জন্য সারাদিন পিসি অন রাখতে হয় তাই কারেন্ট বিল ও আসে অনেক।
 ফেসবুক এর কারনে লেখাপড়া চরম ভাবে বিঘ্নিত হয়।
 রাতে ঘুমানর আগ পর্যন্ত ও সকালে ঘুম থেকে উঠেই পিসি অন কয়া হয়, তাই স্বাস্থ্য টাও খারাপ হয়।
 ফেসবুকের কারনে অনেক বেশি সময় অপচয় হয়। যা মোটেই কাম্য নয়।

৫.৪ ফেসবুকে আসক্তির লক্ষণগুলোঃ

কোন ব্যক্তি ফেসবুকে আসক্ত তার কিছু লক্ষণ দেখা যায়। লক্ষণগুলো হলো-
 ফেসবুক নিয়েই সারাক্ষণ চিন্তাভাবনা করলে।
 আগের অনলাইনের ঘটনাগুলো কিংবা পরবর্তীতে কী করবে এসব চিন্তাই শুধু মাথায় ঘুরপাক খেলে।
 সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভালো ফল পেতে হলে ফেসবুকের প্রতি মনোসংযোগ আরো বাড়িয়ে দিতে হবে এরকম ধারনা।
 সাংসারিক ও সামাজিকভাবে সমূহ ক্ষতির সন্মুখীন হয়েও ফেসবুকের নির্ভরতা কমাতে না পারলে?
 যতটুকু সময় অনলাইনে ব্যস্ত থাকা যায় তার চেয়েও বেশিক্ষণ অনলাইন ব্যবহার করলে?
 ফেসবুক নির্ভরশীলতার ব্যাপারে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের কাছে সবকিছু গোপন করা অথবা মিথ্যা বলা?
 হালকা হওয়ার জন্য অথবা সব সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট ভুলবার জন্য ফেসবুককে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে নেওয়া?
 ফেসবুকের ছাড়া বিষন্ন, চঞ্চল বা বিচলিত হয়ে পড়া। ফেসবু্কে সংযুক্ত হওয়ার সাথে সাথে আর এসব সমস্যা না থাকা।
 ফেসবুক ব্যবহারের কারণে নিয়মিত ঘুমাতে না পারা।
 ফেসবুক ব্যবহারের কারণে শারীরিক ওজন কমা/বাড়া, মাথাব্যাথা, পৃষ্ঠবেদনা ইত্যাদি শারীরিক সমস্যা অনুভব করা।
 অনলাইনে বেশি সময় দেওয়ার জন্য কতোবার ঘরের দৈনন্দিন কাজ অবহেলা করলে।
 প্রিয় মানুষটি বা জীবন সঙ্গীর অন্তরঙ্গতার চেয়েও ফেসবু্কের আকর্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
 ভার্সুয়াল জগতের মানুষের সাথে নতুন নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা।
 ফেসবু্কে যতটুকু সময় ব্যবহার করে তার জন্য পরিবার ও পরিচিত লোকজন অভিযোগ করলে।
 ফেসবু্কের জন্য যতটুকু সময় দেয় তার কারণে পেশাগত কাজে পারফরমেন্স বা উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেলে।
 বাস্তব জীবনের বিরক্তিকর চিন্তাভাবনাকে বাদ দিয়ে ফেসবুক নিয়ে চিন্তাভাবনা করলে।
 ফেসবুক ছাড়া জীবন একঘেয়েমি, বিরক্তিকর ও আনন্দহীন হয়ে যাবে -এরকম ধারনা করা।
 ফেসবুক ব্যবহার সম্পর্কে কেউ বিব্রতকর কোন মন্তব্য করলে বিরক্তিত, উত্তেজিত বা রাগান্বিত হলে।
 গভীর রাত পর্যন্ত ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ততার কারণে ঘুমের ক্ষতি হলে।
 যখন অফলাইনে থাকে তখনও ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে বা কল্পনা করে যে সে অনলাইনে আছে।
 কোন কাজে, প্রয়োজনে বা অন্য কারো ডাকে সাড়া দেওয়ার পরও ফেসবু্কে আরও কয়েকটা মিনিট সময় অতিবাহিত করার চেষ্টা করলে।
 অন্যদের সাথে বাইরে যাওয়ার পরিবর্তে ফেসবু্কে সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলে।
যদি পাঁচটি লক্ষণও নিজের মধ্যে শনাক্ত হয়, তবে ধরে নেয়া যায় তার মাঝে ফেসবুক আসক্তি কাজ করছে।
৫.৫ প্রতিকার/চিকিৎসা এবং সুপারিশমালাঃ

 চিত্ত বিনোদনের অন্য উপায়গুলোর মাঝে নিজেকে পরিব্যপ্ত করা।
 পরিবারের সাথে দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আরো বেশী সময় দেয়া।
 নিজের প্রকৃত দুঃখ-কষ্ট-সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং তা দুর করার জন্য সচেষ্ট হওয়া।
 নিজের সমস্যাগুলো নিজের মাঝে গুটিয়ে না রেখে আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুবান্ধবের সাথে আলোচনা করা।
 ফেসবুক প্রযুক্তিকে নিজের সহায়ক কাজেই একমাত্র ব্যবহার করা, নির্ভরতা যেন পারিবারিক বা সামাজিক গন্ডিকে অতিক্রম না করে।
 ড্রাগ, এলকোহল বা অন্য কোন মানসিক সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করা।
 বাস্তব জীবনে বেশি মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা। তখন ফেসবু্কের সাথে সম্পর্ক কম থাকলেও চলবে।
 অসামাজিক, লাজুক বা ঘরকুনো স্বভাব থাকলে তা পরিবর্তন করা।
 প্রয়োজনে মানসিক বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হয়ে চিকিৎসা নেয়া।
 কারো স্ট্যাটাস ভালো লাগলে,হেসে বা কেঁদে ইগ্নোর করুন।
 চ্যাট করা থেকে বিরত থাকুন। সবাইকে অফ লাইনে পাঠিয়ে দিয়ে আপনি কাক বনে চলে যান। চ্যাট মারাত্নক টাইম কিলিং! তাই এই ফাঁদে পা দিসেন তো পা পড়ে যাবে। আর মেয়েদের সাথে চ্যাট করলে তো রাত কাভার হয়ে সোয়া রাতও কাভার।
 গ্রুপ আছে অনেক। বেশিরভাগই অকাজের! তাই দুই একটা যেমন স্কুল কলেজেরগুলায় থেকে বাকিগুলু থেকে কুইট করেন।
 ফেসবুক থেকে বের হলে লগ আউট করুন। নিজের বাসা হলেও। এতে লগ ইন করার ঝামেলায় বসতে ইচ্ছে করবে না।
 মেয়েদের স্ট্যাটাস থেকে দূরে থাকেন। একবার যদি কমেন্ট দিয়ে ফেলেন, তবে মন আকু পাকু করবে তার একটা ফিডব্যাক পাওয়ার জন্য। তাই দূরে থাকাই ভালো।
 ধাপে ধাপে ফেসবুক ব্যবহারের সময় ও গুরুত্ব কমিয়ে আনা:
ক) ফেসবু্কে যেসব বিষয় ও গ্রুপ বা পেজে আপনি সময় কাটান সেগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করুন: দরকারী, কম দরকারী এবং বেদরকারী। প্রথম দিকে বেদরকারীগুলো বাদ দিন, এরপরে কম দরকারীগুলো বাদ দিন এবং তারপরে দরকারীগুলোতেও সময় কমিয়ে আনুন।
খ) যে সময় ফেসবুক ব্যবহারের পরিবর্তে অন্য কিছু করার সুযোগ থাকে তখন নেট ব্যবহার করবেন না। নেটে বসার আগেই সময়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিন, সেই সময়টুকুর এক সেকেন্ড বেশিও ফেসবু্কে থাকবেন না। এ ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে। মনে রাখবেন জীবনটা আপনার, সুতরাং আপনার লাইফস্টাইল কী হবে সে সিদ্ধান্তও আপনাকেই নিতে হবে।
৫.৬ ফেসবুক এবং ইন্টারনেট আসক্তি নিরাময় কেন্দ্রঃ
১৯ বছর বয়সি বেন আলেকজান্ডার যতক্ষন জেগে থাকেন ততক্ষনই ভিডিও গেম ওয়ার্ল্ড অব ওয়ারক্রাফট খেলেন। তার এই আসক্তি এতটাই যে তাকে আইওয়া ইউনিভার্সিটি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তার এই আসক্তিকে তুলনা করা হয়েছে মদ এবং মাদকের আসক্তির সাথে এবং নিরাময়ের জন্য তাকে ভর্তি করা হয়েছে সিয়াটলের কাছে এক নিরাময় কেন্দ্রে। তাকে দিয়েই উদ্বোধন হয়েছে এই কেন্দ্রের। এর নাম ReSTART. আপনি অবাক হতেই পারেন, কিন্তু যারা অনলাইনে ভিডিও গেম, টেক্সট ব্যবহার, টুইটার, ফেসবুক, ই-বে ইত্যাদিতে দিনরাত কাটান তাদের বিষয়টি এতটায় চিন্তায় ফেলেছে অন্যদের। কেউ ইচ্ছে করলে রিষ্টার্ট থেকে চিকিৎসা নিয়ে এই বদভ্যাস থেকে মুক্ত হতে পারেন। তবে খরচের বিষয়টি উপেক্ষা করবেন না। ৪৫ দিনের চিকিৎসার খরচ ১৪ হাজার ডলার। রিষ্টার্টের একজন চিকিৎসক বলছেন, তারা কয়েক বছর ধরেই বাইরে বিভিন্ন চিকিৎসার কাজ করছেন। এটা চালু হওয়ায় নির্দিষ্ট যায়গা তৈরী হল যেখানে মানুষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারে।
৫ একর যায়গায় এই সেন্টারে একসাথে ৬ জন চিকিৎসা নিতে পারে। এখন পর্যন্ত আলেকজান্ডার সেখানে একমাত্র রোগি। তাকে প্রথাগত নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাকে সাইকোথেরাপি সেশানে উপস্থিত থাকতে হয়, বাড়ির যাবতীয় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হয়, বাগানে এবং ক্ষেতে কাজ করতে হয়, ব্যায়াম করতে হয় এবং রান্না করতে হয়। এছাড়া বাইরে যাওয়ার জন্য কিছু সময় দেয়া হয়। নিজের উন্নতি সম্পর্কে তার বক্তব্য, আবারও সেই গেমে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
ফেসবুক আসক্তির ফলে কি ক্ষতি হতে পারে সেকথা জেনে রাখা ভাল। এতে মানসিকভাবে অসুন্থ হওয়া ছাড়াও বিষন্নতা, এমনকি শারীরিক বিকলাঙ্গতাও দেখা দিতে পারে। তারা চারিদিকের মানুষের সাথে সহজভাবে চলতে পারেন না। দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হন এবং ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেন না। অনেকের ইন্টারনেট এবং ফেসবুক ব্যবহারের আশক্তি এতটাই যে তারফলে রক্তের প্রবাহ অনিয়মিত হওয়া থেকে শুরু করে সামাজিক সমস্যা তৈরী করা, বিয়ে ভেঙে যাওয়া, গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটানো, চাকরী হারানো ইত্যাদি ঘটতে পারে। সাইবার ক্যাফেতে মৃত্যুর ঘটনাও ইতিমধ্যেই ঘটেছে। অনেকেই এই বিষয়ে একমত যে ইন্টারনেট আসক্তি বাস্তব এবং বড় ধরনের সমস্যার কারন।
ফেসবু্কের সুফল ও ইতিবাচক দিক অনেক। কিন্তু সেই সুফল পেতে যেন ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং কর্মজীবনে নতুন কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয় আমাদেরকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। ফেসবু্কের ভালো দিকগুলো যেমন আমাদের জীবনকে আরো সহজ ও গতিময় করতে পারে, তেমনি এর খারাপ দিকগুলো আমাদের জীবনকে করতে পারে আরো জটিল ও বেদনাময়। “Prevention is better than cure.” সুতরাং শুরু থেকেই সাবধান। নতুন যে কোন কিছুতেই শুরুর দিকে মানুষের ব্যাপক কৌতুহল-উদ্দীপনা থাকে। একটা সময়ে এসে আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। ফেসবুকও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু কারো উৎসাহ-উদ্দীপনা যদি দিনদিন বাড়তে থাকে তখনই ভাবতে হবে এটা ফেসবুক আসক্তির পূর্ব লক্ষণ কিনা। ফেসবুক ব্যবহারের স্বাভাবিক সময়সীমা কতটুকু, তা নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। কারণ ব্যক্তি বিশেষের পেশা ও প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে তা বিভিন্ন হতে পারে।
টিনএজারদের কমপিউটার আসক্তির কারণে অনেক মা-বাবা সন্তানকে কমপিউটার কিনে দেওয়ার পর আপসোস করেন। নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভয়ে অনেকে বাসায় ফেসবুক কানেকশন নিতে চান না। ফলে ফেসবু্কের সুফল থেকেও তারা বঞ্চিত হন। অনেকে স্কুল/কলেজ/অফিস থেকে বাসায় এসে বেশিরভাগ সময় ফেসবু্কে কাঠিয়ে দেন। যার ফলে পিতা-মাতা ও সন্তানদের মধ্যে, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছেন। তারা কর্তব্য পালনকালীন অধিকাংশ সময় ব্যয় করছেন ফেসবুক চ্যাট, ফেসবুক-দেয়ালে মন্তব্য করা এবং অন্যের করা মন্তব্যের ওপর মন্তব্য করার পেছনে। অর্থাৎ ফেসবুকে যে সময় তারা ব্যয় করছেন, তা করছেন কাজে ফাঁকি দিয়ে।
অফিস সময়ে ফেসবুক ব্যবহার করার ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারীদের অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এভাবে কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার ফলে একসময় অফিসের চেইন অব কমান্ড ভেঙে যেতে পারে।
অথচ আমরা যদি একটু সচেতন হই, ফেসবু্কের বিশাল জ্ঞানভান্ডার আমাদের শিক্ষাদিক্ষার পাথেয় হতে পারে।আমরা যদি একটু বুদ্ধিমান হই, ফেসবুক আমাদের জীবনের চলার পথকে আরো গতিময় ও মসৃন করতে পারে। ফেসবুক আসক্ত হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি সৃষ্টির পরিবর্তে ফেসবু্কের বিনোদন শাখাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে আমরা দাম্পত্য জীবনকে আরো রোমান্টিক ও আকর্ষণীয় করতে পারি। ফেসবুক আসক্তি থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, ইচ্ছা, চেষ্টা এবং পারষ্পরিক সহযোগিতা। ফেসবুক আমাদের সার্বিক জীবনে অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ হোক – এটুকুই প্রত্যাশা।

ষষ্ঠ অধ্যায়

উপসংহার

উপসংহার

সময়ের প্রয়োজনে ইন্টারনেটের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। ইন্টারনেটের সংযোগ থাকা মানেই বিশ্বের সাথে একটি আন্তযোগাযোগ স্থাপিত হয়ে যাওয়া। পৃথিবীর নানান প্রান্তে কখন কি হচ্ছে, কি কি পরিবর্তন হলো, নতুন কোন সংবাদ, নতুন কোন ঘটনা সব কিছু জানতে হলে আমাদের স্মরণাপন্ন হতে হয় ইন্টারনেটের। আমরা খুব সহজেই ‌যে কোন খবর জানতে পারি, খবর পৌছে দিতে পারি সকলের কাছে।

আমাদের দেশেও বেড়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করাও অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে, কমেছে এর ব্যবহারের খরচ। বিশেষ করে মোবাইলে ইন্টারনেট চালু হওয়ার পর থেকে যে কোন স্থান থেকে যে কোন সময়ে আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি। এরপর আছে ল্যাপটপ, দিন দিন ল্যাপটপের দাম কমে যাচ্ছে কিন্তু বাড়ছে এর গতি। সব কিছু মিলিয়ে ইন্টারনেট আমাদের দুয়ার প্রান্তে এসে দাঁড়াচ্ছে।

কেউ ইন্টারনেট ব্যবহার করলে আমি তাকে প্রথম যে প্রশ্ন করি তা হলো ইন্টারনেট ব্যবহার করে সে কি কি কাজ করে। মোটামুটি আশি শতাংশ লোকের কাছ থেকে আমি একটিই উত্তর পাই, তা হলো ইন্টারনেট ব্যবহার করে তারা ফেসবুক ব্যবহার করে থাকেন। এরপর আছে মেইল করা। এ ছাড়া আর কোন ব্যবহার তারা করেনা।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের যে কয়টি ওয়েব সাইট আছে তার মধ্যে ফেসবুক একটি জনপ্রিয় ওয়েব সাইট। এর ম্যাধ্যমে আমরা সবার সাথে সহজেই যোগাযোগ রাখতে পারি, খুঁজে পেতে পারি কোন পুরনো বন্ধুকে, জানতে পারি তাদের সর্বশেষ খবর, ভাগাভাগি করতে পারি তাদের অনুভূতিকে। কিন্তু এটাই কি সব?

দিনের পর দিন নতুন প্রজন্ম আরো বেশি পরিমাণে ফেইসবুকের এ নেশায় বুদ হচ্ছে। সামজিক নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক এর ব্যবহারকারীদের উপর কি প্রভাব ফেলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এরিমধ্যে এ নিয়ে একাধিক স্বল্প মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী অনেকগুলো গবেষণা পরিচালনা করেছেন। গবেষণাগুলোর প্রভাব দেখে যে কোন সচেতন ব্যক্তিরই মাথা ঘুরে যাওয়ার উপক্রম।

আসলে ফেসবুক নিয়ে সামপ্রতিক সমাজবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের গবেষণা পরিচালনা করছেন। তারা দেখছেন আধুনিক মানুষের অস্থিরতার একটা বড় কারণ হলো ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট যেগুলোকে বলা হয় এগুলোর তৎপরতা। ফেসবুকের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো আসক্তি।
ধরেন আপনি ফেসবুকে অন্তর্ভুক্ত হলেন। আপনি কী করবেন? প্রতিদিন নিয়ম করে আপনার ফ্রেন্ডসদের আপডেটেড স্ট্যাটাস পড়তে শুরু করবেন। তারপর আপনি দেখবেন এখানে স্কুল কলেজের পুরনো বন্ধুদের বান্ধবীদের অনেককেই পেয়ে গেছেন। তাদের ছবি দেখছেন। আপনি তখন আপনার ছবিও দিতে চাইবেন- আপনার নিজের ছবি, বাড়ির ছবি, পোষা কুকুরের ছবি। সবকিছুই। এখানেই শেষ নয়। আপনি চাইবেন এ ছবিগুলোতে আপনার বন্ধুরা প্রতিদিন কমেন্ট পাঠাক। তাই আপনিও তাদের সবকিছুতে কমেন্ট পাঠাতে থাকবেন। আর ফেসবুকের সবচেয়ে আসক্তিকর দিকটি হলো এর গেমসগুলো। কাজ বাদ দিয়ে বা পরিবারের সাথে সময় না কাটিয়ে এসব গেমসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যেভাবে আমরা নষ্ট করি তাতে এটাকে আসক্তি বললেও কম বলা হয়।
আর ফেসবুকের আরেকটি ক্ষতিকর প্রবণতা হলো এখানে আপনার সবকিছুই উন্মুক্ত। একবার আপনি যখন ফেসবুকে সাইন আপ করছেন, আপনি এ পৃথিবীর কাছে নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরছেন। আপনার সম্পর্কে যে কেউ যে কোনো ধরনের তথ্য জানতে চাইলে সে তা পেয়ে যাবে ফেসবুকে। আর এটা ব্যবহার করে আপনাকে ভয় দেখানো থেকে শুরু করে আপনাকে যেকোনো স্বার্থের জন্যে ব্যবহার করা সবকিছুই সে করতে পারবে। ফেসবুকে ইউজাররা নিজেদের সম্পর্কে এত ব্যাপক তথ্যাদি দেন যে চাইলে যেকোনো ব্যক্তি এই তথ্যগুলোকে কাজে লাগিয়ে তাকে হেনস্থা করতে পারে। যেমন, আপনি হয়তো কোনো চাকরির জন্যে আবেদন করেছেন। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান যদি চায় তাহলে আপনার এমন অনেক তথ্যও সে ফেসবুক থেকে নিতে পারে যা আপনি হয়তো তাদের জানাতে পছন্দ করতেন না বা জানানোটা আপনার ঐ প্রতিষ্ঠানে ঢোকার ক্ষেত্রে হবে প্রতিবন্ধক। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে সাধারণ ইউজাররা কিন্তু নিজের অজান্তেই তুলে দিচ্ছেন নিজের সম্পর্কে এসব তথ্য যা ব্যবহৃত হচ্ছে তার নিজেরই বিরুদ্ধে। সুতরাং এ সকল বিষয়ে আমাদের এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

সহায়ক গ্রন্থাবলী এবং তথ্যসূত্র
সহায়ক গ্রন্থাবলী এবং তথ্যসূত্র

১. ডঃ আব্দুল খালেক, নীহাররঞ্জন সরকার ও ডঃ আজিজুর রহমান;- সামাজিক বিজ্ঞানে গবেষো পদ্ধতি।
২. ডাঃ সজল আশরাফ; মানসিক রোগ অজানা অধ্যায়।
৩. ডঃ শিবেন সাহা; মনের সুখ-অসুখ।
৪. নাজমির নূর বেগম; সামাজিক গবেষণা।
৫. মুহাম্মদ হাসান ইমাম; সামাজিক গবেষণা; প্রত্যয়, প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি।
৬. ডঃ এস.এম. জিল্লুর রহমান; সমাজ বিজ্ঞানে গবেষণা।
৭. K.S Young; Caught in the Net

৮. দৈনিক প্রথম আলো; ২২ ও ২৪ ডিসেম্বর ২০১০,১১ এপ্রিল ২০১১ এবং ২৪ আগষ্ট ২০১১
৯. দৈনিক সংবাদ; ১৭ জুলাই ২০১১ এবং ৮, ১৫, ও ১৭ আগষ্ট ২০১১
১০. দৈনিক ইত্তেফাক; ২৯ জুন ২০১১
১১. দৈনিক জনকণ্ঠ; ২৫ ডিসেম্বর ২০১০
১২. দৈনিক কালেরকণ্ঠ; ১ জুলাই ২০১১
১৩. সাপ্তাহিক-২০০০; ২৫ মার্চ ২০১০
১৪. ডেইলি মেইল অনলাইন।

সহায়ক ওয়েব সাইট সমূহঃ
http://bn.wikipedia.com
http://www.futurelab.net
http://www.themedguru.com
http://ew.ittefaq.com.bd
http://www.fenichel.com/facebook
http://www.somewhereinblog.net
http://www.sonarbangladesh.com
http://www.amarbornomala.com
http://www.bdinfozone.com
http://www.amardeshonline.com (4 June 2011)
http://www.gnewsbd.com (11 November2010)
http://www.bd-protidin.com (21 September 2010 & 27 July 2011)
http://www.manikganjnews.com/?p=274
http://www.quantummethod.org/node/1901
http://www.ajkersherpur.com
http://www.anandhara.net
http://www.amarkagoj.net
http://www.sachalaytan.com
http://www.bigganprpojukti.com/post-id/16134
http://www.techtunes.com.bd/news
http://www.techtunes.com.bd/internet
http://www.amarblog.com
http://www.al-ihsan.net
http://www.staranada.newsbullet.in
http://www.taiyabs.com
http://www.banglanews24.com
http://www.amrabondhu.com/nayeemewu/1251
http://www.ronrockers.blogspot.com
http://www.netaddiction.com
http://www.helpguide.org

গবেষণা প্রশ্নপত্র

লোকপ্রশাসন বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[বিঃ দ্রঃ মতামত প্রদান কারির গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং প্রদত্ত মতামত শুধু মাত্র রাজশাহী বাশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র/ছাত্রীদের গাবেষনার কাজে ব্যবহার করা হবে।]
নাম:
বিভাগ:
বর্ষ:
(১) প্রশ্ন: আপনি ফেসবুক ব্যবহার করেন কি?
উত্তর : হ্যাঁ,
 না
(২) প্রশ্ন: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কোন সাইটকে প্রাধান্য দেন?
উত্তর : ফেসবুক
 টুইটার
 গুগল প্লাস
 অন্যান্য
(৩) প্রশ্ন: আপনি কতদিন ধরে ফেসবুক ব্যবহার করেন?
উত্তর:
(৪) প্রশ্ন: ফেসবুকে আপনি কি করতে বেশি পছ্ন্দ করেন?
উত্তর : গেম খেলা
 চ্যাটিং
 কমেন্ট লেখা
(৫) প্রশ্ন: ফেসবুকে আপনি কতক্ষন চ্যাটিং করেন?
উত্তর :
(৬) প্রশ্ন : ফেসবুকে আপনার বন্ধুর সংখ্যা কত?
উত্তর :
(৭) প্রশ্ন: ছেলে এবং মেয়ে বন্ধুর সংখ্যা কত?
উত্তর :
(৮) প্রশ্ন: দিনে আপনি কত সময় ফেসবুকে কাটান?
উত্তর :
(৯) প্রশ্ন: দিনের কোন সময়টা আপনি ফেসবুকে বেশি কাটান?
উত্তর :
(১০) প্রশ্ন: ফেসবুক ব্যবহারের ফলে আপনার পড়া-শোনার উপর কোন প্রভাব পড়ে কি?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(১১) প্রশ্ন: ইন্টারনেট সংযোগ বা অন্য কোন কারণে ফেসবুক কয়েকদিন ব্যবহার করতে না পারলে আপনার কেমন লাগে?
উত্তর :
(১২) প্রশ্ন: ফেসবু্কে সামাজিক যোগযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক আপনার চাহিদা মেটাতে পারে কি?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(১৩) প্রশ্ন: আপনি কি ফেসবুক নিয়ে সারাক্ষন চিন্তা- ভাবনা করেন?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(১৪) প্রশ্ন: আপনি যখন অফলাইনে থাকেন, কোন বন্ধু কমেন্ট করছে কি না, তা নিয়ে ভাবেন?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(১৫) প্রশ্ন: আপনি ফেসবুক নির্ভরশীলতার ব্যপারে আপনার আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের কাছে সবকিছু গোপন করে যাচ্ছেন বা মিথ্যা বলছেন?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(১৬) প্রশ্ন: আপনি কি হালকা হওয়ার জন্য বা সব সমস্যা, দুঃখ কষ্ট ভুলবার জন্য ফেসবুককে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নিয়েছেন?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(১৭)প্রশ্নঃ আপনি যখন ফেসবুক ব্যবহার কমিয়ে আনা বা বন্ধ করার চেষ্টা করেন সে সময় আপনি কি চঞ্চল ভাবপ্রবন, বিষন্ন অথবা উত্তেজিত হন?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(১৮) প্রশ্নঃ আপনি কি ফেসবুকের প্রতি আপনার অদম্য আকর্ষন কমিয়ে আনার বা নিয়ন্ত্রনে আনার একাধিক ব্যর্থ উদ্দ্যোগ ইতিপূর্বে নিয়েছেন?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(১৯) প্রশ্নঃ ফেসবুক ব্যবহারের মানষিক বা শারীরিক ক্ষতির ব্যপারে আপনি কি অবগত আছেন?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(২০) প্রশ্ন: যতটুকু সময়ের উদ্দ্যেশ্যে ফেসবুক শুরু করেন, তার থেকে অনেক বেশি সময় চলে যায় – এরকম হয় কি?
উত্তর : হ্যাঁ  না
(২১) প্রশ্ন: অনলাইনে বেশি সময় দেওয়ার জন্য কতোবার ঘরের দৈনন্দিন কাজ অবহেলা করেন?
উত্তর:  কদাচিৎ
 মাঝে-মধ্যে
 বারংবার
 প্রায়ই
 সবসময়
(২২) প্রশ্ন: আপনার প্রিয় মানুষটি বা জীবন সঙ্গীর অন্তরঙ্গতার চেয়েও ফেসবু্কের আকর্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেন কি?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(২৩) প্রশ্ন: ফেসবু্কে যতটুকু সময় দেন তাতে আপনার পদমর্যাদা, গুণাগুণ বা লেখাপড়ার ক্ষতি হয় কি?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(২৪) প্রশ্ন: আপনার ফেসবুক ব্যবহার সম্পর্কে কেউ বিব্রতকর কোন মন্তব্য করলে আপনি বিরক্তিত, উত্তেজিত বা রাগান্বিত হন কি?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(২৫) প্রশ্ন: গভীর রাত পর্যন্ত ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ততার কারণে আপনার ঘুমের ক্ষতি হয় কি?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(২৬) প্রশ্ন: কোন কাজে, প্রয়োজনে বা অন্য কারো ডাকে সাড়া দেওয়ার পরও ফেসবু্কে আরও কয়েকটা মিনিট সময় অতিবাহিত করার চেষ্টা করেন কি?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(২৭) প্রশ্ন: অন্যদের সাথে বাইরে যাওয়ার পরিবর্তে ফেসবু্কে সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন কি?
উত্তর : হ্যাঁ
 না
(২৮) ফেসবুক সম্পর্কে আপনার অভিমত ব্যাক্ত করুন।

মতামত প্রদানের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ধন্যবাদান্তে
মোঃমাসুদ রানা
লোকপ্রশাসন বিভাগ
তৃতীয় বর্ষ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

278 Responses

  1. Aw, this was an extremely nice post. Taking the time and actual effort to create a very good
    article… but what can I say… I procrastinate a lot and
    don’t manage to get anything done.

    Like

  2. Thank you for your entire effort on this site. Betty really likes participating in internet research and it is easy to see why. Almost all learn all of the dynamic tactic you provide very important tips on the website and therefore cause participation from website visitors on the issue while my girl is undoubtedly studying a great deal. Enjoy the rest of the year. You’re performing a terrific job.

    Like

  3. I have feet. nike free run prezzo Peep toe shoes – Open toe or peep toe shoes will be a hot look come july 1st. You realize the things you enjoy , nor enjoy regarding it.

    This requires roller shutters manufactured from expanded metal. http://www.tuttovelavillaggio.it It’s a worker owned business having a headquarters which uses solar power. I thought maybe I had some degenerative disease — I simply couldn’t keep up with anyone!

    They are very stable but somehow neutral as well. nike air max pas cher was recently also noticed wearing colorful and extremely innovative caged boots by Balenciaga. Once this lesson plan is complete students should be able to dive into other literature lessons to increase expand these skills and their knowledge.

    Related Topics:
    http://chinate.fbg.mailxu.com/unrusticated/ubriacavo/postfixing/sirja/
    http://dj3gl.16.0t.ro/
    http://coachilievski.com/index.php/individual-work/item/20-brynjar-karl-aeversson#comment40955

    Like

  4. Hi, I actually do think this is an excellent web site.
    I stumbledupon it😉 I’m going to revisit just as before since I book-marked it.
    Money and freedom is the better approach to
    change, may you be rich and continue steadily to help some others.

    Like

  5. tonsil surgery

    tonsil surgery

    Like

  6. cyst

    cyst removal

    Like

  7. baby bathing games

    baby bathing games

    Like

  8. An outstanding share! I’ve just forwarded this
    onto a coworker who has been conducting a little homework on this.
    And he actually ordered me lunch because I stumbled upon it for
    him… lol. So allow me to reword this…. Thanks
    for the meal!! But yeah, thanks for spending time to talk about this issue here
    on your website.

    Like

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: