Governance and Public Administration

Governance and Public Administration
(শাসন এবং লোক প্রশাসন)

Introduction:
লোক প্রশাসনে সাথে সুশাসনে যে সম্পর্ক তা পদ্ধতিগত ভাবে প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এটা ধারণা করা হয়েছিল যে, ভালো এবং সুসংবদ্ধ লোক প্রশাসনের উপস্থিতি ছাড়া সুশাসনের উপস্থিতি কল্পনা করা যায় না। যাই হোক লোক প্রশাসনের সাথে শাসনের যোগগুণ সঠিক ভাবে স্থাপন করতে পারলে সুশাসনের কার্যকারিতা খুজে পাওয়া বা ধরে রাখা সম্ভাব। নিম্নে প্রশালোকে আলোচনা করা গেল-

Theoretical and Conceptual Aspects:
তাত্ত্বিক আর বাস্তবতা দুটোই সরকার ও লোক প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত। যা হোক শাসন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক অধ্যায়ন যেমন- (রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যায়ন) মূলত দীর্ঘ ইতিহাসের স্বাক্ষর। পশ্চিমা সভ্যতায় এ অধ্যায়ন মূলত প্রাচীন গ্রীক ও গ্রীকের রাজনৈতিক তত্ত্বে উপস্থিত। প্লেটো (428-384 BC) যিনি আদর্শ শাসক হিসেবে “Philosopher King” মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। সরকার ব্যবস্থার তুলনামূলক অধ্যায়নের পিতা হিসেবে স্বীকৃত এরিস্টটল যিনি সর্বপ্রথম এক নায়কতন্ত্র, স্বৈরাতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসনের আচরণকে বিবেচনা করে ((384-322 BC) তে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সমূহকে বিভক্ত করেন।

অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বে লোক প্রশাসনের অধ্যায়ন তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা। ১৮৩০ সালে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে এই ধ্যায়নের উপস্থিত লক্ষণীয়। যাইহোক ১৮৮০ সালের পেশাগত জার্নালটি যুক্তরাষ্ট্রে লোক প্রশাসন এর পদ্ধতিগত অধ্যায়নকে উৎসাহিত করে।

Theory and Concepts of Public Administration:
সর্বপ্রথম লোক প্রশাসনের তাত্ত্বিক ধারণা ঊনিশ সহতকে প্রকাশিত হয়। সরকারী প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে নকশা করলে দক্ষ ও মিতব্যয়িতা সম্ভব হবে এটিই ছিল ক্ল্যাসিকাল তাত্ত্বিকদের প্রধান চিন্তা। উড্রো উইলসন যিনি সর্বপ্রথম লোক প্রশাসনে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োগের পরামর্শ দেন।

লোক প্রশাসন এর তাত্ত্বিক উন্নয়নে সর্বপ্রথম বড় পদক্ষেপ নেন সমাজ বিজ্ঞানী ক্যাক্স ওয়েবার যিনি তার আমলাতন্ত্র তত্ত্বের মাধ্যমে লোক প্রশাসন এর তাত্ত্বিক উৎকর্ষতা সাধন করেন। উইলসন ও ওয়েবার বলে লোক প্রশাসন হলো শাসন ব্যবস্থার একটি ইতিবাচক শক্তি। Karl Marx এবং Friedrich Engels ভবিষ্যৎ বাণী করেন যে আমলাতন্ত্রের কার্যকারীতা ম্লান হয়ে যাবে এবং মার্কস আরও বলেন যে, আমলাতন্ত্রের শাসন ব্যবস্থার ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে লোক প্রশাসন এর কতগুলো মানসম্মত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, যা আইন নির্বাহী ও বিচারালয়ে লোক প্রশাসন এর সকল প্রক্রিয়া। প্রতিষ্ঠান ও স্বাতন্ত্রিকতায় পরিচয় ঘটায়। সরকারী নীতি ও ব্যবস্থাপনা দ্বারাই মূলত শাসন পরিচালিত হয়।

Concepts of Governance:
(১৯৯২) বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠান যেটি শাসনের কতকগুলো দর্শ তুলে ধরে যা নিম্নে, এটি মূলত তিনটি দৃষ্টিকোণ হতে বিভক্ত-
(১) শাসন হলো রাজনৈতিক শাসনকাল যা মূলত সংসদীয়, রাষ্ট্রপতি শাসিত, সামরিক, স্বৈরতান্ত্রিক অথবা গণতান্ত্রিক হতে পারে।
(২) শাসন হলো দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদগুলো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ব্যবস্থাপনা একটি প্রক্রিয়া।
(৩) (শাসন হলো সরকারের নীতি সমূহের নকশা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করার সামর্থ্য, যা সরকারী কার্য সম্পাদনাকে চালিত করে।) ঐতিহাসিক ও
তাত্ত্বিকভাবে শাসন ব্যবস্থা বিভিন্ন প্রকৃতির হতে পারে, যেমন- রাজতন্ত্র, ধর্মতন্ত্র, বংশীয় ইত্যাদি। তবে যাই হোক না কেন জন কার্যাবলীর ব্যবস্থাপনার সামর্থ্যের উপর তাদের তুলনা ও মূল্যায়ন করা হয়।
শাসন অপেক্ষা সুশাসন প্রত্যয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ঊনিশ শতকের শেষার্ধে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ধারণা করা হত যে, রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাজন এর সাথে সুশাসন জড়িত এবং ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন মানেই জনগণকে উত্তম সেবা প্রদান করা। কিন্তু বিশেষ সমাজে এর মৌলিক বৈধ দৃষ্টিভঙ্গির কাছে প্রশাসন বিজ্ঞানকে অধীনস্থ দেখা যায়।

Evolution of Public Administration:
লোক প্রশাসন শুধুমাত্র নীতি গ্রহণ এবং সরকারী ব্যবস্থাপনাকে সম্পৃক্ত করেনি এটা অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং
বিকেন্দ্রীকরণকে সম্পৃক্ত করেছে। সরকার শুধুমাত্র যে জনগণকে পণ্য ও সেবা সরবরাহ করে তা শুধু নয় বরং এগুলো তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সরকার বেসরকারী খাতকে বাজারে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে উৎসাহিত করে। যুক্তরাষ্ট্রে শাসন ব্যবস্থায় এবং লোক প্রশাসনের পুনর্গঠণ ও পুনঃবিবেচনার ধরণ জন অসন্তুষ্ট সৃষ্টি হয়েছে। উন্নত সমাজ এই পুনর্গঠণ অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিকেই করা হয়। যদিও শক্ত উপনিবেশিক প্রশাসনিক পদ্ধতির শক্ত কাঠামো বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তানে নমনীয় তদপুরি দুটি প্রেক্ষাপটে সার্বিকভাবে এটি হয় এবং কঠিণ। এ সকল কারণে ১৯৯০ সালে দিকে লোক প্রশাসনের ভূমিকা পুনঃবিবেচনায় প্রয়োজন হয়ে পড়ে। নিম্নে তা দেওয়া হলো-

Rethinking on Public Administration in Bangladesh:
অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় প্রকার চাহিদার উন্নয়নের জন্য সারা বিশ্বে এমনকি বাংলাদেশে এ ধারণা হয়েছে যে সুশাসন এ লোক প্রশাসনের ভূমিকা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে- অংশগ্রহণের জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং বিকেন্দ্রীকরণের জন্য। এই চাহিদা সমানুপাতিক হারে উন্নয়নশীল সমাজে রাজনৈতিক নোতারা এটা গ্রহণ করেছে এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। কিন্তু কিছু কিছু বিশেষ অংশ যেটা সুশাসনের এবং লোক প্রশাসনের বিষয়বস্তু। নিম্নে বাংলাদেশের লোক প্রশাসনের ভূমিকা কি তা আলোচনা করা হলো-

1. Political Framework for Rethinking:
বাংলাদেশে প্রত্যেক সফল সরকার ক্ষমতায় এসে প্রশাসনিক কাঠামোকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাড় করানোর জন্য সুপারিশ প্রদান করেছিল যাতে করে লোক প্রশাসন ব্যবস্থা আরো উৎপাদন/গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত রেখে এ অবস্থা ১৯৭২ সাল হতে বর্তমান কাল পর্যন্ত চলছে। রাজনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবর্তন ও লোক প্রশাসনের উপর তার প্রভাব চারটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলোচনা করা হলো-

(a) Civilian Political Control of the Civil and Military Bureaucracy (1972-1975):
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে রাজনৈতিক নোতারা কোন প্রশাসনিক আদর্শ অনুসরণ করত না বা তারা জেষ্ঠ্যতা এবং পদমর্যাদার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যক্তিরা কোন প্রশাসনিক নিয়ম নীতি অনুসরণ করত না। প্রকৃতপক্ষে উচ্চ পর্যায়ে সিভিল সার্ভেন্ট বা প্রশাসকগণ ছিল জুনিয়ার সিভিল সার্ভেন্ট, নন-সিভিল সার্ভেন্ট ব্যক্তি অথবা রাজনৈতিক উপদেষ্টা। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়- পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যদের অন্তভূক্ত করা হয়েছিল এবং ব্যবসায়ী নির্বাহীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছেল এবং জাতীয় পর্যায়ে শিল্পখাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যবসায়ী ব্যাংক এবং উন্নয়নকৃত আর্থিক প্রতিষ্ঠান) এবং অধিকাংশ সরকারী এন্টারপ্রাইজে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছিল। এই সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ইচ্ছায় মিলিটারী এবং সিভিল সার্ভিস উভয়ই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। যে কোন সময়ে এটা সম্ভব ছিল যে, ব্যবসায়ী চাকুরীজিবীদের প্রতিষ্ঠান এবং রক্ষণাবেক্ষণ তাদের উপর নির্ভর করত।

নিয়োগের ক্ষেত্রে লোক প্রশাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক নেতারা কোন ঐতিহ্যগত পদ্ধতি অনুসরণ করত না এবং সিভিল সার্ভেন্টদের নিয়োগ দেয়া হতো
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে। এই সময় অসংখ্য নিয়োগপ্রপ্তরা পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছিল। নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্থলাভিষীক্তকরণ এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সেবার জন্য পুরষ্কার বড় রকমের প্রভাব বিস্তার করছিল। যখন নিয়োগ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া কাঠামোগত পদ্ধতির উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল তখন নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ৪০% মেধার ভিত্তিতে, ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা থেকে এবং ১০% লিঙ্গের ভিত্তিতে (মহিলা)। আজকের দিনেও সিভিল সার্ভিসএ নিয়োগের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া কার্যকরী আছে।

(b) Military Control of Political System and Civil Bureaucracy (1976-1981): বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয় সমাজের
ডিপোলিটিলাইজেশন ……….। এই সময় সিভিলিয়ান রাজনৈতিক নেতারা তাদের উচ্চপদস্থ অবস্থান হারিয়েছিল মিলিটারীতে এবং মিলিটারী উত্থাপিত হয়েছিল এক শক্তিশালী বাহিনী (Broker) হিসেব বাংলাদেশে।

এই সময় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বেশ কিছু প্রধান বড় গঠণমূলক পরিবর্তন আনা হয় (Major Structural Change)।
প্রথমতঃ বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কাঠামোতে একটা বড় রকমের পরিবর্তন আনা হয়। এই সময় একক সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করা হয়। এই একক সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সার্ভিস গ্রুপ এবং লেভেলের মধ্যে বিভিন্ন রকমের অবস্থান, পদমর্যাদা এবং পুরস্কার এর ব্যবস্থা করা। এই সময় “সিনিয়র সার্ভিস পুল” গঠণ করা হয়েছিল যাতে করে বিভিন্ন সার্ভিসে উচ্চ পদস্থ প্রশাসনিক এবং ব্যবস্থাকীয় অবস্থানে সাধারণ বা প্রবেশ এর সুযোগ লাভ করে।
দ্বিতীয়তঃ দুটি পাবলিক সার্ভিস গঠণ করা হয়। পাকিস্তান পিরিয়ডে কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক সরকারী সেবার জন্য যারা নিয়োগ প্রাপ্ত ছিল তারা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদেরকে উচ্চ এবং নিম্ন লেভেল ব্যবস্থাপনায় ভাগ করে দেয়া হয়েছিল। এই সময় প্রথম নিয়োগ পরীক্ষায় একটি মানসম্মত পদ্ধতি চালু ছিল যদিও এই সময় কোটা পদ্ধতি প্রভাব বিস্তার করেছিল।
তৃতীয়তঃ এই সময় সিভিল সার্ভেন্টদের জন্য চাকুরী পূর্ব এবং চাকুরী পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এই সময় অনেকগুলো প্রশিক্ষক কেন্দ্র স্থাপন করা হয় অথবা সংস্কার করা হয় পুনরায় নামকরণ করা হয় এবং প্রশাসনিক স্টাফ কলেজ National Institute of Public Administration, The Civil Officers Training Academy এবং Staff Training Institute কে উন্নীত করা হয়।

যেহেতু প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সুদৃঢ় করা হয়েছিল তাই বাংলাদেশ সরকারের সিভিল সার্ভিসের গঠনের জন্য মনযোগ ছিলনা কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে একিট নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করার জন্য কাজ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সরকার প্রশাসনিক ইউনিট বৃদ্ধিতে মনযোগ দিয়েছিল- তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যারা ১৯ থেকে ৬১ ইউনিটে ছিল। ব্রিটিশ পিরিয়ডে ভারতে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণের প্রধান চাবিকাঠি ছিল জেলা প্রশাসন। সরকারের পৌছানো জন্য চালিকাশক্তি এবং সাম্রাজ্যকে সংযুক্ত করা হয়েছিল যেটা পূর্ব বাংলায় সীমাবদ্ধ ছিল।

জেলার প্রধান নির্বাহী অফিসারের তিনটি টাইটেল/পদবী ছিল। তার ছিল জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এর ক্ষমতা, তিনি সিভিল সার্ভেন্টদের তর্কের/বিবাদের মিমাংশা করতে এবং আইন ও নির্দেশ প্রদান করতেন। তার ডেপুটি কমিশনারের দক্ষতা ছিল। তিনি অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে অনুসন্ধান করতেন। সর্বোপরি তার দক্ষতা ছিল কালেকটর হিসাবে। তিনি কর সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন। ব্রিটিশ “Steel Frame” চালু করা হয়েছিল সমগ্র জেলা প্রশাসনে এবং যারা ছিল রাজনৈতিক ভাবে স্বাধীন।

এই সময়ে প্রশাসনের নজর কেন্দ্রীয় পর্যায় হতে ব্যক্তিগত গ্রামের পর্যায়ে চলে আসে। এই সময় “গ্রাম সরকার” ব্যবস্থা চালু করা হয় যারা প্রশাসনের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেছিল। এটাই ছিল সরকারের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। যাইহোক যখন এটা মনযোগ আকর্ষণ করেছিল তখন এই সময়/রিজিম শেষ হয়ে যায়।

উল্লেখিত গঠণমূলক পরিবর্তন লোক প্রশাসন ব্যবস্থায় একটা সুদৃঢ় প্রভাব বিস্তার করেছিল যদিও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ দলের মধ্যে কিছু দ্বন্দ্ব ছিল। যাইহোক এই সময় সিনিয়র প্রশাসনে মিলিটারী ব্যক্তির অবস্থান এবং
ব্যবস্থাপকীয় অবস্থানের উন্নতী হয়েছিল। যদিও সিভিল প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এটা খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেনি তারপরও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে মিলিটারী প্রভাব বিস্তার করেছিল।

(c) Military-Civil Service Partnership (1983-89):
এই সময় লোক প্রশাসন ব্যবস্থায় বেতন, পারিতোষিক, পদপর্যাদা,
সুযোগ-সুবিধা, বিচক্ষণতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সংস্কার গ্রহণ করা হয়েছিল। একটা উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশাসনের একক কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রশ্ন ছিল যে, এটার দায়িত্বটা কি? এবং কীভাবে একে দায়িত্বশীল করা যায়। এই সময়ের সরকার ব্যবস্থায় মিলিটারী পদ্ধতি চালু করা হলেও তা সেমি-গণতন্ত্রে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। এই সময় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যে সকল পরিবর্তন আনা হয়, সেগুলো হলো-
প্রথমতঃ এই সময় একশত বেতন স্কেল এর পরিবর্তে ২০টি বেতন স্কেল চালু করা হয় এবং তাদের বেতনের হারের পার্থক্য ছিল ১:১২।
দ্বিতীয়তঃ শাসনপ্রক্রিয়া অনানুষ্ঠানিক ভাবে মিলিটারী এবং সিভিল আমলাতন্ত্রের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যমূলক পরিবর্তন হয়।

অধিক জটিল কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছিল তা হল সরকারী প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক তৈরী করা। এই স্লোগানকে সামনে রেখে “Let’s take the government to the people” এবং CARR (Committee for Administrative Reform) এর জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। সরকার এবং জনগণের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য থানাকে উপজেলা করা হয় অথবা প্রশাসনিক লেভেল এর অধীনে জেলা এবং সর্বোপরি গ্রাম এবং এটাই হল প্রশাসনিক ব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু। এটার মূল উদ্দেশ্য ছিল এদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া, সম্পদ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা দেওয়া। এই সুপারিশের আলোকে সমগ্র বাংলাদেশকে ৪৬০টি উপজেলায় বিভক্ত করা হয় এবং প্রত্যেক উপজেলায় মেম্বারদের মধ্য হতে একজন নির্বাচিত ব্যক্তি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং সে তাদের কাছে দায়ী থাকবে এছাড়া প্রত্যেক উপজেলায় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এটা ঠিকমত বাস্তবায়িত হতে পারেনি কারণ খালেদা সরকার এসে একে বাদ দিয়ে দেয়। যাই হোক এই সময় মিলিটারী আমলারা ছিল সবার উপরে (Senior Partner) হিসেবে। তারা এই সময় চরম ক্ষমতা লাভ করেছিল।

(d) Elected Civilian Political System Control of the Civil and Military Bureaucracies (1991-Present):
পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া সরকার গঠণ করে এবং আবারও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। ১৯৯৪ সালে প্রধান বিরোধীদল গুলো তার বিরোধীতা শুরু করে। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসে সে সময় প্রশাসনিক পদে বেশ কিছু দলীয় ব্যক্তির অনুপ্রবেশ পড়ে। এরপর খালেদা সরকার পুনারায় ক্ষমতায় আসে। তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে এবং বর্তমানে এ সরকার ক্ষমতায় আছে। যাই হোক বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রে লালফিতা, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভাব, বেসরকারী করণের অভাব, অবকাঠামোগত ইত্যাদি সমস্যার সমাধান করার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা দরকার।

2. Internal Attempts at Rethinking:
প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য পূর্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও কিছু সংস্কার গ্রহণ করা হয়। যেটা অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনয়ন করে। একই ভাবে এ সংস্কার বাহ্যিক গতিশীলতা আনয়ন করে। লোক প্রশাসনে অভ্যন্তরীণ সংস্কার হিসেবে ১৭টি প্রশাসনিক কমিটি গঠণ করা হয় এবং এর মধ্যে ৬টি ছিল প্রধান। এখানে লোক প্রশাসনের দুটি অভ্যন্তরীণ সংস্কার নিয়ে আলোচনা করা হলো-

(a) Martial Law Committee on Organizational Set up (1982):
এ কমিটি গঠিত হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দ্বারা। এর সভাপতি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার এনামুল হক খান। ১৯৮২ সালে তিনটি সংখ্যায় এর জন্য সুপারিশ করা হয়। এটা মন্ত্রণালয় হতে সরকারী সংগঠনের কাঠামো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়, ডিভিশন, ডিপার্টমেন্ট এর মাধ্যমে। এই কমিটি তাৎক্ষণিক ভাবে Organogram প্রকিয়া খুজছিল যার দ্বারা প্রত্যেক সরকারের এককের উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয়। কিছু প্রয়োজনীয় সরকারী একক রহিত হয়েছিল এবং অন্যগুলো (Merged) মিলে গিয়েছিল এবং একই উদ্দেশ্যের সাথে ইউনিটের সংকোচন/সংকুচিত করা হয়েছিল। কোন মৌলিক পরিবর্তন হয়নি এমন কি সম্পর্কও তৈরী হয়নি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সিভিল সার্ভেন্টদের মধ্যে। প্রথমে বাংলাদেম সরকার জেনেছিল কতগুলো সংগঠণ থাকে এবং টার্ম কী ছিল এবং তাদের মূলনীতি কি?(b) The Task Forces on Bangladesh Development Strategies for the 1990s:
প্রেসিডেন্ট এরশাদ এর পতন হওয়ার পর এক দল নাগরিক নিজেরা নিজেরা একত্রিত হলো টাস্কফোর্স গঠণের জন্য এবং বাংলাদেশের কৌশলগত উন্নয়নের সিরিজের জন্য। ১৯৯০ এর দশকে এটা প্রবেশ করছিল। তারা তাদের অনুসন্ধান এবং সুপারিশগুলো প্রকাশ করেছিল ভলিয়ামের অংশে (Sobhan. 1991) বিকেন্দ্রীকরণ, দরিদ্র দূরীকরণ এবং বেসরকারী সংগঠনের ভূমিকা ইত্যাদি অঞ্চলগুলো অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। এই প্রতিবেদনের ………. যদিও সীমিত তারপরও বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় সরকারের উপর প্রতিবেদন তৈরী করতে পেরেছিল। যেটা এই টাস্কফোর্সের বিকেন্দ্রীকরণের ধারণা হতে গ্রহণ করা হয়েছিল।

3. External Attempts at Rethinking:
চারজন Donor-sponsored এবং প্রারম্ভিক সংস্কার অধ্যায়ন করা হয়েছিল সেগুলো হলো –

(i) USAID “Public Administration Efficiency”
এরশাদ এর সময়ে লোক প্রশাসনের জন্য সুপারিশ প্রদান করা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে নভেম্বরে। এটা লোক প্রশাসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে এবং সুপারিশ প্রদান করে কিন্তু দুঃখ জনক বিষয় হল ১৯৯৩ সালে “United Nations Public Administration Sector Study” এর উপর কাজ করা শুরু করে। তখন বাংলাদেশ সরকারের কোন সংগঠন এটার বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

(ii) British ODA “Reforms in Budgeting and Expenditure Control: ব্রিটিশ ODA ১৯৯৩ সালে বাজেট এবং ব্যয়ের উপর একটা প্রতিবেদন প্রদান করে। এটা ৭৯টি সুপারিশ প্রকাশ করে এবং ৩টি অঞ্চলে ভাগ করে তাদের জন্য আলাদা আলাদা সুপারিশ প্রদান করে। সুপারিশগুলো হলো-
– সম্পদের বণ্টন
– ব্যবস্থাপনা টুলস হিসেবে বাজেট
– সরকারী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনার মাধ্যমে কিভাবে কার্যকরী উন্নয়ন ঘটানো যায়।

বাংলাদেশ সরকার এই সুপারিশগুলো গ্রহণ করেছিল এবং এর কিছু কিছু বাস্তবায়ন করা শুরু করেছিল।

(iii) UNDESD/UNDP: “Public Administration Sector Study”:
“United Nations Public Administration Sector Study” লোক প্রশাসনকে বিভিন্ন সেক্টরে বিভক্ত করে ১৯৯১ সালে একটি রিপোর্ট প্রদান করে। এখানে সরকারী ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীলতার কথা বলা হয় কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এটি গ্রহণ করেনি।

(iv) World Bank “Public Sector Reform for Improved Economic Governance”: ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিবেদন প্রকা করে তারা যে সকল বিষয়ের উপর প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেগুলো হলো –
– সরকারী সেক্টরে দক্ষ ও অদক্ষতার তুলনামূলক আলোচনা করা
– সরকারের প্রকৃতি এবং সম্পদের ব্যবহার কেমন হবে
– সরকারের পরিচালনার ভূমিকা কেমন হবে
– বেসরকারী সংগঠনের ভূমিকা কি
– স্থানীয় সরকার ইত্যাদি

এই প্রতিবেদন পরিপূর্ণভাবে অধ্যায়ন করা হয়েছিল এবং ১৯৯৪ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এ সুপারিশের খুব অল্প পরিমাণ কাজে লাগাতে পেরেছিল।

4. Restructuring Public Administration:
বাংলাদেশে সুশাসন ব্যবস্থায় লোক প্রশাসনের ভূমিকা কি এ নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় লোক প্রশাসনের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করার জন্য অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক সম্পদের একটা বড় অংশ বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান এবং প্রতিবেদনের ফলাফল বাংলাদেশের লোক প্রশাসনকে পুনর্গঠনের জন্য একটি বাধ্যতামূলক কার্যপ্রণালী প্রদান করে।

Agenda for Restructuring:
– কোন কোন কার্যক্রমকে সরকার রাখবে বা রাখবে না এটা ঠিক করা হয়েছিল। – কোন বিভাগ থাকার প্রয়োজন আছে কি না সেটা বলতে বলা হয়েছিল।
– কোন্দ্রীয় সরকার পরিচালনায় নিয়ম এবং নীতিকে আধুনিকায়ন করতে হবে। – সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তথ্য নির্ভর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করতে হবে। “If you can’t feed hundred people, then just feed one”
-Mother Teresa
They may forget what you said, but they will never forget how you made them feel”
-Carl W. Bucchner

119 Responses

  1. I like the helpful info you provide for your articles. I will bookmark your weblog and check once more here frequently.
    I’m moderately sure I’ll be informed lots of new stuff right right here!
    Best of luck for the next!

    Like

  2. Hello there! Do you know if they make any plugins to safeguard against hackers? I’m kinda paranoid about losing everything I’ve worked hard on. Any suggestions?

    Like

  3. Hi, I do think this is an excellent site. I stumbledupon it😉 I am going to come back once again since i have book-marked it. Money and freedom is the greatest way to change, may you be rich and continue to guide other people.

    Like

  4. I constantly spent my half an hour to read this website’s posts everyday along with a mug of coffee.

    Like

  5. Magnificent beat ! I would like to apprentice even as you amend your website, how can i subscribe for a weblog web site? The account aided me a applicable deal. I have been a little bit acquainted of this your broadcast offered vibrant clear idea

    Like

  6. Hi, i think that i saw you visited my blog thus i came to ?return the favor?.I’m trying to find things to improve my site!I suppose its ok to use a few of your ideas!!

    Like

  7. Powering each great male is a lady rolling her eyes.

    Like

  8. Heya i am for the first time here. I came across this board and I find It really useful & it helped me out a lot. I hope to give something back and aid others like you helped me.

    Like

  9. I really like your blog.. very nice colors & theme. Did you create this website yourself or did you hire someone to do it for you? Plz answer back as I’m looking to construct my own blog and would like to find out where u got this from. thank you

    Like

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: