Good governance

Good Governance

“Good governance is perhaps the single most important factor in e eradicating poverty and promoting development.”
-UN Secretary General – Kofi Annan-
সুশাসন Good Governance) সম্পর্কে জানতে (হলে প্রথমেই আমাদের
শাসন(Governance) কি? এই সম্পর্কে জানতে হবে। সাধারণভাবে আমরা বলতে পারি যে সুশাসন (Good Governance) হলো সেই সকল শক্তি বা ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব যার মাধ্যমে সরকার সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণের এবং তাদের আশা-আকাঙ্খা মেটানোর জন্য ব্যবহার করে। আর তাই শাসন (Governance) কে মনে করা হয় ক্ষমতা, কৌশল, নীতি, পরিকল্পনা এবং প্রজেক্ট যার উদ্দেশ্য হলো (জীবনের) জীবন-যাত্রার মানকে উন্নত করা।
জনগণ সরকারের কাছে সর্বনিম্ন খরচ বা বিনিয়োগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ফলাফল আশা করে। শাসন(Governance) তখনই ভালো হয় যখন সরকারের সিদ্ধান্ত ও কাজকর্মগুলো জনগণের অনুকূলে হয়, বৈধ এবং জনগণের কাছে দায়ী থাকে। আর তাই সুশাসনকে সরকারের এর High quality হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সমাজের সকল স্তর (sections) সরকারকে তাদের শাসন দ্বারা বিচার করে।
পূর্বে Coercive (বাধ্যকারী বা একনায়কতন্ত্র) রাষ্ট্রকে সুশাসন এর সবচেয়ে ভালো মাধ্যম (Effective instrument) হিসেবে বিবেচনা করা হত। প্রাচীন এবং মধ্য ভারতের রাজাদেরকে (জনগণের) চাহিদা প্রতি (needs of subjects) সবেচেয়ে বেশি বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন ও সহানুভূতিশীল মনে করা হত, যদিও তারা ছিলো কর্তৃত্বসম্পন্ন (Authoritarian)।
আধুনিক সময়ে সুশাসন আলোকিত নাগরিকত্ব (Enlightened citizenship) এবং দায়িত্বশীল ও সাংবিধানিক সরকার হিসেবে মনে করা হয়। তাছাড়া সুশাসন ধারণাটি উন্নয়নের চাবিকাঠি। কিভাবে উন্নয়ন করা যাবে এটিই হচ্ছে সবচেয়ে এবং একমাত্র বিতর্কের বিষয়। যদিও এই ধারণাটি একটি ইতিবাচক ধারণা। প্রকৃত পক্ষে এই ইতিবাচক এবং inclusive ধারণাটি অনেক দূরের ব্যাপার কারণ উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশ গ্রহণই এর লক্ষ্য। এভাবে উন্নয়ন কেবল মাত্র people oriented নয় বা তা জগনণ কেন্দ্রীক (People centered)। উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন দক্ষতা জ্ঞান ও সাপোর্ট বৃদ্ধি করা ইতিবাচক দিক।

 Features of good governance:
সুশাসন এর আলোচনা পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সুশাসন এর প্রধান বৈশিষ্ঠ্য বা উপাদানগুলো কি? বৈশিষ্ঠ্যগুলো খুজে বের করার জন্য বিভিন্ন রিপোর্ট ও গবেষণা প্রকাশ করা হয়েছে।

কৌটিল্য সুশাসন এর নিম্নোক্ত বৈশিষ্ঠ্যের কথা বলেছেন-
 Law and order
 People caring administration
 Justice and rationality as the basis of decision
 Corruption free governance

বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ এবং ১৯৯২ সালের রিপোর্টে OECD, UNDP, ১৯৯৭ সালে এবং Commission on Global Governance (1995) প্রত্যেকে সুশাসন এর উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
Asian Development Basic Report কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে সুশাসন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিয়েছে-
 জনগণ কি সম্পূর্ণভাবে শাসনে অংশগ্রহণ করতে পারে?
 জনগণ কি সকল তথ্য সম্পর্কে অবগত?
 জনগণ কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বা অন্তত পক্ষে যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তারা কি জনগণের কাছে দায়ী থাকে?
 শাসন এ নারী এবং পুরুষ কি সমান?
 দারিদ্রদের চাহিদা ও অসুবিধা কি দূর হয়?
 মানবাধকার কি নিশ্চিত হয়?
 বর্তমানে যে সকল নীতিমালা প্রনয়ণ করা হয় তাতে কি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়?
 শাসন এর কাঠামো জনগণ কি নিজের মনে করে? (Do people won their structures of governance?)

 Definition:
বর্তমানে এটি সত্য যে সকল উন্নয়নের জন্য সুশাসন একান্ত প্রয়োজন। আর এটি স্বাভাবিক ভাবেই সবা মনে প্রশ্ন জাগায় সুশাসন কি? সুশাসন হচ্ছে এক ধরণের প্রক্রিয়া কিন্তু ফলাফল (ends) নয়।
সাধারণভাবে বরা যায় শাসন হলো এক ধরণের “প্রক্রিয়া” যার মাধ্যমে ক্ষমতা চর্চা করা হয়, কোন ধরণের স্পষ্টবাবে সর্বশেষ ফলাফল/অনুসন্ধান আকারে। শাসন (Governance) শব্দটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিভিন্ন ধরণের অর্থ বহন করে। বিভিন্ন ব্যক্তিও প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে শাসন (Governance) সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।

1. UNDP:
UNDP এর মতে, সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং উপযুক্ত সংজ্ঞা হলো- “অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চা যার মাধ্যমে একটি দেশের সকল স্তরের কার্যাবলী পরিচালনা করা যায়।”
এটিকে প্রক্রিয়া, প্রতিষ্ঠান এবং গঠণ কাঠামোর সাথে তুলনা করা হয় যার মাধ্যমে নাগরিক এবং দল তাদের আগ্রহ বা আশা-আকাঙ্খাকে প্রকাশ করতে পারে, তাদের অধিকার ভোগ করে এবং তাদের চাহিদাগুলো মেটাতে পারে।
সুশাসন অন্য কথায় অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীল, ন্যায়পরায়ন এবং এটি আইনের শাসন নিশ্চিত করে। এছাড়াও এটি সমাজে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক অগ্রগণ্যতাকে প্রাধান্য দেয় যা উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তাতে দরিদ্র এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
UNDP -এর সংজ্ঞাটি শুধুমাত্র সাষ্ট্রকেই প্রাধান্য দেয়নি, বিশেষ ক্ষেত্রে এটি বেসকারী সেক্টর এবং সুশীল সমাজকেও প্রাধান্য দিয়েছে। এই তিন সেক্টরকে টেকশই মানব উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচেনা করা হয়। রাষ্ট্রের ভূমিকা হলো একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে উন্নয়নকে টেকসই করা অন্যদিকে সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাকে রাজনৈতক এবং সামাজিক সম্পর্কের যোগসূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং বিভিন্ন শ্রেণীকে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক কাজে অংশগ্রহণের জন্য গতিশীল করা হয়।
2. World Bank:
বিশ্বব্যাংকের মতে- “Governance is the manner in which power is exercised in the management of a country’s economic and social resources for development.”
অর্থাৎ সরকারি এবং বেসরকারী সেক্টরের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনার সাথে শাসন (Governance) সরাসরি জড়িত।
এটি সরকারী সেক্টরের কাজ এবং সামর্থ্যের সাথে জড়িত এবং নিয়ম ও প্রতিষ্ঠান যা সরকারী এবং বেসরকারী কাঠামোর সৃষ্টি করে।

সুতরাং আমরা বলতে পারে যে শাসন (Governance) হলো প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ যার মাধ্যমে নাগরিক নিজেদের সাথে এবং সরকারী অফিসার বা এজেন্সির সাথে একত্রে কাজ করতে পারে। (Interact)

 Elements of good governance:
UNDP, World Bank সহ অন্যান্য বৃহৎ প্রতিষ্ঠান সুশাসন (Good Governance) এবং উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। নিম্নে সুশাসন (Good Governance) এর প্রধান বৈশিষ্ঠ্যগুলো আলোচনা করা হলো-

 Core characteristics of good governance:
১) অংশগ্রহণঃ
প্রত্যেক নারী পুরুস সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ গ্রহণ করে। তাদের মতামত প্রদান করবে। এর মাধ্যমে বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।

২) আইনের শাসনঃ
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে যাতে করে মানবাধিকার রক্ষা পায়।

৩) স্বচ্ছতাঃ
স্বচ্ছতা হচ্ছে স্বাধীনভাবে তথ্য জানা অধিকার। প্রতিটি ক্ষেত্রে এই তথ্যের ব্যবস্থা থাকবে অর্থাৎ স্বচ্ছতা থাকবে।

৪) মতামতঃ
সুশাসন (Good Governance) বিভিন্ন নীতি প্রণয়নে জনগণের মতামত নেবে।

৫) সমতাঃ
সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমান সুযোগ থাকবে।

৬) দক্ষতাঃ
সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে মাধ্যমে জনগণের চাহিদা মেটাবে।

৭) দায়িত্বশীলতাঃ
সরকারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাইভেট সেক্টর এবং সুশীল সমাজের জনগণের কাছে দায়ী থাকবে।

৮) কৌশলগত লক্ষ্যঃ
কিভাবে উন্নয়ন করা যায় তার একটি ভিশন সরকার এবং জনগণের মাঝে থাকবে।

Key dimension of good governance:
 সরকারী সেক্টর ব্যবস্থাপনা।
 জবাবদিহিতা।
 উন্নয়নের জন্য আইনগত কাঠামো এবং
 স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।
“If you can’t feed hundred people, then just feed one”
-Mother Teresa
E-Governance in Bangladesh

ই-গভর্নেন্স হলো ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ই-গভর্নেন্সে জনগণ, সুশীল সমাজ, বেসরকারী খাত এবং রাষ্ট্রের সরকারী সেবা,
সরকারী-প্রশাসন ও গণতন্ত্রের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তিগত যোগাযোগ স্থাপন করে।

প্রায়োগিক দিক থেকে ই-গভর্নেন্স কে নিম্ন লিখিত ভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়

 ই-গভর্নেন্স হচ্ছে সরকারী ও জনগণ এবং সরকার ও ব্যবসায়ের মধ্যে সম্পর্ক, এছাড়া সরকারের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং ব্যবসায়ী খাতকে সহজ ও উন্নত করার প্রক্রিয়া।

 সরকারী উৎপাদন এবং সেবা প্রদান, তথ্যের আদান-প্রদান, যোগাযোগ, লেনদেন এবং এগুলোর সমন্বয়ের উপর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শব্দটি
প্রতিষ্ঠিত।

 UNESCO (2003) ই-গভর্নেন্সকে সংজ্ঞায়িত করে এভাবে, “Governance refers to the exercise of political, economic and administrative authority in the management of a country’s affairs, including citizens’
articulation of their interests and exercise of their legal rights and obligations. E-Governance may be understood as the performance of this governance via the electronic medium in order to facilitate and efficient, speedy and transparent process of disseminating to the public, and other agencies, and for performing government
administration activities.” (শাসন বলতে বোঝায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার যেটি একটি দেশেকে পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার মধ্যে অন্তভূক্ত থাকে জনগণের স্পষ্ট চাহিদা এবং তাদের বৈধ অধিকার ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা। ই-গভর্নেন্স বলতে বোঝায় সরকারের এই সকল কার্যাবলী ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সম্পাদন করা যার মাধ্যমে নাগরিক এবং তাদের সংগঠন ও সরকারী প্রশাসনের কার্যাবলীগুলো দক্ষতা, দ্রুততা এবং স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদিত হয় এবং নাগরিকরা যেন সহজেই তাদের তথ্য অধিকার পায়।)

 ই-গভর্নেন্স এর উদ্দেশ্যঃ
ই-গভর্নন্স এর উদ্দেশ্য সমূহ নিম্নরূপ-
১. সরকার, জনগণ এবং ব্যবসায় খাতকে সহায়তা প্রদানঃ
ই-গভর্নেন্সের কৌশলগত উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকার, জনগণ এবং ব্যবসায় খাতকে সহায়তা প্রদান করা এবং শাসন ব্যবস্থাকে সকলের সামনে সহজ ভাবে তুলে ধরা।

২. সুশাসন প্রতিষ্ঠাঃ
ই-গভর্নেন্স ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ব্যবহারের মাধ্যমে সুশাসনে সহায়তা এবং তার উন্নতি সাধন করে।

৩. দক্ষতার সাথে কার্য সম্পাদনঃ
ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে দেশের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সকল প্রকার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কার্যাবলী সঠিকভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হয়।

৪. শাসন ব্যবস্থার তিনটি অংশের মধ্যে সংযোগ সাধনঃ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের তিনটি অংশের মধ্যে সহজেই যোগাযোগ সম্ভব হবে। এই পদ্ধতি সরকারে কার্যাবলী সম্পাদনে একটি এবং বাস্তবায়নে একটি সাধারণ কাঠামো প্রদান করে তা হচ্ছে –
 সরকার ও শাসন এর মধ্যে যোগাযোগ (G2G)
 সরকার ও ব্যবসায়ের মধ্যে যোগাযোগ (G2B)
 সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগ (G2C)

 বাংলাদেশে ই-গভর্নেন্সের প্রতিবন্ধকতা সমূহঃ

১. আইনগত কাঠামোঃ
ইলেকট্রনিক বিশ্বের ক্রমবর্ধমান চাহিদা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সরকারী অফিসগুলোতে ই-মেইলকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং একে যোগাযোগরে মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা করা হয় না। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের জন্য তেমন কোন আইন নেই এবং ইলেকট্রনিক ক্ষেত্রে বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য কোন আইন নেই।

২. অপর্যাপ্ত মানবসম্পদঃ
১৪ কোটিরও বেশি লোক আমাদের দেশে বসবাস করলেও তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ লোক খুবই কম। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১৬৩০ জন বেসরকারী
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৩৭০ জন এবং পলিটেকনিক থেকে ১১২০ জন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রী তথ্য প্রযুক্তি খাতে কাজ করছে।

অবশেষে দক্ষ ছাত্র ছাত্রীরা বাংলাদেশে কাজের স্বল্প সুবিধা থাকার কারণে দেশ ত্যাগ করছে।

৩. স্থানীয় কোম্পানীর দূর্বলতাঃ
এছাড়া দেশের স্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পানী এখন পর্যন্ত তেমন উন্নত পযায়ে পৌছাতে পারেনি এবং সরকারের বড় ধরণের প্রকল্পে তারা দক্ষতার প্রয়োগ করতে পারে না। চারদিকে তথ্য প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও দেশের কোম্পানীগুলো পেশাদারিত্ব এবং অভিজ্ঞতার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।

৪. অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধাঃ
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩০% লোক বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছে এমন কি যারা এই সুবিধা পাচ্ছে তাদেরও প্রতিনিয়ত লোডশেডিং ভোগ করতে হচ্ছে। ফলে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না এবং এখনও পর্যন্ত কম খরচে কম্পিউটার ব্যবহারের বিপরীত উৎস খুজে বেরা করা সম্ভব হচ্ছে না। তথ্য প্রযুক্তি সুবিধা চারিদিকে ছড়িয়ে দেওয়া তখনই সম্ভব যখন বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান করা হবে।

৫. ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য ও কম নির্ভরশীলতাঃ
দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ অনেক বেশি। সামান্য জায়গা জুড়ে নেট ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় অধিক দূরত্বের জায়গাগুলোতে কল করার সুযোগ থাকে না। অধিকাংশ ISP নির্ভর করে VSAT ট্রান্সমিশনের উপর। 60% ISP গতি থাকে 128 kbps এবং 1 MBPS যা প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় খুবই কম। বর্তমানে নেট সুবিধা খুব নিম্নমানের যার ফলে দেশে তথ্য প্রযুক্তিগত সুবিধা ভোগ করতে পারছে না এবং ই-গভর্নেন্সের সুবিধা পাচ্ছেনা জনগণ।

 ই-গভর্নেন্সের সুপারিশসমূহঃ

১. জরুরীভিত্তিক ই-গভর্নেন্সের জন্য নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো গঠনঃ ই-গভর্নন্সের গুরুত্ব বৃদ্ধির জন্য দেশে জরুরী ভিত্তিতে
নিয়ন্ত্রণমূলক/আইন কাঠামো গঠন করতে হবে। এসকল আইনগুলোর মধ্যে রয়েছে IPR যার মাধ্যমে মেধা পাচার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সকল ধরণের তথ্যগুলো ইলেকট্রনিক আকারে গ্রহণ করার আইন তৈরী করতে হবে। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ আইন তৈরী করতে হবে। সরকার অনুমোদিত ইলেকট্রনিক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে, যারা কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ইলেকট্রনিক নিবন্ধন সরবরাহ করবে।

২. তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষতা সম্পন্ন মানবসম্পদ সৃষ্টিঃ
দেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির জন্য সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। এর জন্য দেশের সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল বিভাগগুলোর আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মান যাচাইয়ের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও বাংলাদেশ প্রতি বছর তথ্য প্রযুক্তি খাত হতে যে দক্ষ মানব সম্পদ হারাচ্ছে তার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৩. সরকারী তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগঃ
স্কুলগুলোতে তথ্য-প্রযুক্তি কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে হবে, যাতে শিশুরা তথ্য এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে সহজেই জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
তথ্য-প্রযুক্তি-শিক্ষিত সমাজ গঠনের জন্য সরকারকে কারিগরী প্রশিক্ষণের জন্য উৎসাহিত, সহায়তা এবং আয়োজন করতে হবে।

৪. স্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পানীগুলোকে উৎসাহিত করতে হবেঃ
সরকারের তথ্য প্রযুক্তি প্রকল্প পরিচালনা, বিশেষ করে প্রকল্প
ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পনীগুলোকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পনীগুলোকে ই-গভর্মেন্ট প্রকল্প পরিচালানার জন্য নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সরকারকে স্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পনীগুলোকে সরকারী প্রকল্পগুলো প্রদান করতে হবে, যার মাধ্যমে তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।

৫. নির্ভরযোগ্য বৈদ্যুতিক খাতে বিনিয়োগঃ
শক্তির বিকল্প উৎসগুলো খুজে বের করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশগুলো সৌরশক্তি ছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করছে। বাংলাদেশেরও এই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৬. ISP এবং টেলিফোন সেবা প্রদানকারী কোম্পানীগুলোর আইন সংশোধন করতে হবেঃ বাজারে প্রতিযোগীতা বৃদ্ধির জন্য ভোক্তাদের স্বল্প খরচে সেবা প্রদান করতে ISP এবং টেলিফোন সেবা প্রদানকারী কোম্পানীগুলোর আইন সংশোধন করতে হবে। এছাড়া VoIP একটি জনপ্রিয় মাধ্যম, যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোন দেশে স্বল্প খরচে যোগাযোগ করা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত এটি অবৈধ হিসাবে গণ্য করা হয়। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব VoIP যোগাযোগের ব্যবস্থার মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটারের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং সাধারণ জনগণকে তথ্য প্রযুক্তির সেবার আওতায় আনতে হবে।

“They may forget what you said, but they will never forget how you made them feel”
-Carl W. Bucchner

35 Responses

  1. What a material of un-ambiguity and preserveness of precious experience about unpredicted emotions.

    Like

  2. I have learn some excellent stuff here. Definitely worth bookmarking for revisiting.
    I surprise how so much attempt you set to create such a fantastic informative site.

    Like

  3. you are in point of fact a just right webmaster.
    The web site loading velocity is amazing. It kind of feels that you
    are doing any distinctive trick. Also, The contents are
    masterpiece. you have performed a fantastic activity in this
    topic!

    Like

  4. What’s up to all, since I am genuinely keen of reading this webpage’s post to be updated daily.
    It consists of pleasant information.

    Like

  5. “Hey! Someone in my Myspace group shared this site with us so I came to take a look. I’m definitely loving the information. I’m bookmarking and will be tweeting this to my followers! Fantastic blog and outstanding design.”

    Like

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: