Corporate Governance

যৌথ শাসন ব্যবস্থা (Corporate Governance)

ভূমিকাঃ
পূর্বে যৌথ শাসন ব্যবস্থা বলতে বোঝানো হতো শুধুমাত্র মালিক এবং ব্যবস্থাপনার মধ্যে ক্ষমতা বন্টনের প্রক্রিয়াকে।

যৌথ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এমন একটি ধারণা যা অনেকগুলো বিষয়ের সাথে জড়িত। এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের প্রকাশনা; শেয়ার হোল্ডারদের অধিকার রক্ষা; ব্যবস্থাপক, শেয়ার হোল্ডার এবং ষ্টোক হোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় সাধন; পরিচালনা পর্ষদের স্বাধীনতা রক্ষা; অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ (পরিচালনা পর্ষদ কমিটি) এবং নিরীক্ষকদের কার্যাবলী বর্ণনা করে।

 Corporate Governance is not a buzzword
১৯৩০ এর দশকের দিকে মালিকানা এবং ব্যবস্থাপনার বিভাজনের জন্য সমস্যার সৃষ্টি হয় ফলে পারিবারিক ব্যবসা ভেঙ্গে পড়ে। ১৯৮০ দশকের শেষের দিকে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী যেমন-
 California Public Employees’ Retirement System (CalPERS)
 Pension fund and the Teachers Insurance and Annuity Association College Retirement Equities Fund (TIAA/CREF).
এদের প্রভাবে আমেরিকায় যৌথ শাসন ব্যবস্থার কিছু নীতি তৈরি করা হয়।

একই সময় গ্রেট ব্রিটেনে যৌথ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্র বৃদ্ধি পাচ্ছিল, এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন দেউলিয়াত্বের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনাস্থা বৃদ্ধি পেতে থাকে। লন্ডন সিটি Cadbury Committee- কে পুনরায় বাজারে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করতে, পরিচালনা পর্ষদের কাজের উন্নতি এবং কোম্পানীর হিসাবের স্বচ্ছতা আনতে পরামর্শ প্রদান করে। এই প্রতিবেদনটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর গ্রেট ব্রিটেন এবং বাইরের দেশগুলোতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে নতুন নির্দেশনা অনেক শিল্পোন্নত দেশে চালু করা হয়। ১৯৯৮ সালে OECD এর যৌথ ব্যবস্থাপনা নীতি প্রকাশ করে। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য ছিল OECD-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় শাসন কাঠামোর মূল্যায়ন এবং উন্নয়নে সাহায্য করা। এভাবে OECD শেয়ার বাজার তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারী এবং কোম্পানীগুলোকে তাদের
নীতিমালাগুলোর সর্বাধিক সঠিক ব্যবহার করার আহ্বান জানায়।

Corporate Governance, defined by Standard & Poor’s as “the way in which a company organizes and manages itself to ensure that all financial stakeholders receive their share of a company’s earnings and assets.”

প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন ধরণের যৌথ শাসন ব্যবস্থা থাকলেও এগুলো নিম্নলিখিত উপাদানগুলোকে অনুসরণ করে।
 কোম্পানীর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।
 কোম্পানীর বোর্ড/শেয়ারহোল্ডার/ষ্টোকহোল্ডারদের মধ্যে সম্পর্ক।  কোম্পানী কর্তৃক শেয়ারহোল্ডারদের (ষ্টোকহোল্ডার) স্বার্থ রক্ষা।  যৌথ তথ্য ব্যবহারকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবসাটি সঠিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। উপরোক্ত সংজ্ঞাগুলো ব্যাখ্যা করে যে, যদিও সংজ্ঞাগুলো বিভিন্ন ধরণের কিন্তু এগুলোর ধারণা একই।
 Cadbury (1992): সকল নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, আর্থিক এবং অন্যান্য উভয়ই যার দ্বারা একটি কোম্পানী পরিচালিত হয়।
 OECD (1998): একটি কোম্পানীর বোর্ডের শেয়ার হোল্ডার এবং অন্যান্য ষ্টোকহোল্ডারদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন। এটা একটি কাঠামো প্রদান করে যার মাধ্যমে কোম্পানীর উদ্দেশ্যগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং সেই সকল
উদ্দেশ্যগুলো নির্ধারণ ও অর্জন তা করা হয়।
 Shleifer and Vishny (1997): যে পদ্ধতিতে কর্পোরেশন গুলোতে অর্থ সরবরাহকারীরা অর্থের যোগান দেয় তাদের বিনিয়োগ হতে আয়ের নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

 যৌথ শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নের পরিচালক (Drivers):
কিছু মূল উপাদান যৌথ ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করতে পরিচালিনা করে –

 প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ের ধস আর্থিক এবং অনার্থিক উভয়ের ক্ষেত্রে যেমন-Polli Peck BCCI and later Baring নিয়ন্ত্রণের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করে।  অংশীদারী মালিকানার ধরণ পরিবর্তন, বিশেষ করে ব্রিটেন এবং আমেরিকা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশীদারী মালিকানায় অধিক মনযোগ প্রদান করেন।
 প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিদেশে তাদের বিনিয়োগ করতে চায়। তারপরও তারা আশা করে যে, তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে।
 প্রযুক্তিগত সুবিধার সাথে সাথে যোগাযোগ এবং বাজার ব্যবস্থায় যে কোন ধারণা অধিকতর দ্রুত এবং বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয় এবং
প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীরা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে একটি সাধারণ মত গঠন করতে পারে।
 জাতীয় অথবা আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পারিবারিক এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাহ্যিক তহবিল গঠনের চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে যৌথ শাসন ব্যবস্থা ঐ কোম্পানীগুলোকে সাহায্য করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ কম খরচে বাহ্যিক আর্থিক তহবিল গঠণ করতে সহায়তা করতে পারে।
 পরিশেষে একটি দেশের মধ্যে যৌথ সুশাসন ব্যবস্থা শেয়ার বাজার এবং অর্থনৈতিক পরিবেশের সার্বিকভাবে উন্নয়ন ঘটাতে পারে, যা বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

 যৌথ শাসন ব্যবস্থার কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন (Landmark):

The Cadbury Report:
যৌথ শাসন ব্যবস্থায় আর্থিক ধারণার উপর United Kingdom Committee ১৯৯২ সালে (Cadbury 2002) একটি রিপোর্ট পেশ করে যার প্রধান ছিলেন Sir Adrian Cadbury যিনি Cadbury Schweppes এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং Bank of England এর পরিচালক। Cadbury Report এর সুপারিশগুলো শুধুমাত্র
ইংল্যান্ডের যৌথ শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রভাব বিস্তার করেনা বরং এটা রাশিয়া এবং ভারত সহ অনেক দেশ প্রভাব বিস্তার করে।
 কোম্পানীগুলোর উচিত কার্যকরী পরিচালক পর্ষদ গঠণ করা, যাদের নিয়ে এই পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে তাদের হতে হবে নন-এক্সিকিউটিভ এবং তারা পরিচালনা পর্ষদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকবে।
 নতুন পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।  সেখানে কমপক্ষে তিন জন স্বাধীন নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর থাকবে।  পরিচালনা পর্ষদকে এক্সিকিউটিভ এবং নন-এক্সিকিউটিভ পরিচালকদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে যাতে কেউই পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
 প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সদস্যদের কাজের মধ্যে পার্থক্য থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সদস্যরা বোর্ডের নিকট দায়ী থাকবে এবং প্রধান নির্বাহীগণ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে দায়ী থাকবে।

OECD এর মূলনীতিঃ
OECD যৌথ শাসন ব্যবস্থার কিছু উপাদান পেশ করে। তারা বিভিন্ন দেশ থেকে মতামত গ্রহণ করে যে, কিসের মাধ্যমে যৌথ সুশাসন গঠন করা সম্ভব। OECD রাষ্ট্রগুলোর মতে, যৌথ শাসন ব্যবস্থার পরিবেশের আকৃতি এবং পরিচালানার প্রাথমিক ভূমিকা হচ্ছে সুসঙ্গত সামাজিক মূল্যবোধ, যেটি বাজারের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করে। যার মাধ্যমে কর্পোরেশনগুলো দীর্ঘ সময় পর অর্থনৈতিক সফলতা অর্জন করতে পারে।

যৌথ শাসন ব্যবস্থায় OECD কিছু উপাদান চিহ্নিত করেছে, সেগুলো নিম্নরূপঃ  শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার এবং বাধ্যবাধকতা(The rights & obligations of shareholders)
 শেয়ারহোল্ডার সাথে ন্যায়বিচার করা(Equitable treatment of shareholders)  যৌথ শাসন ব্যবস্থায় ষ্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা(The role of stakeholders in corporate governance)
 তথ্য ও নিরীক্ষার স্বচ্ছতা উদঘাটন(Transparency, disclosure of information & audit)
 পরিচালনা পর্ষদ(The board of directors)
 বোর্ডের নন-এক্সিকিউটিভ সদস্য(Non-executive members of the board)  ক্ষতিপূরণ এবং নির্বাহীদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদন করা(Executive mgt. compensation & performance)

নিম্নে এগুলোর বর্ণনা দেয়া হলো –
 শেয়ার হোল্ডারদের অধিকার এবং বাধ্যবাধকতাঃ
 যৌথ শাসন ব্যবস্থার মূল কাঠামো হলো শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সংরক্ষণ করা এবং একটি শেয়ারের জন্য একটি ভোট নিশ্চিত করা। আরও এটা নিশ্চিত করতে হবে যে ব্যবস্থাপনা প্রাসঙ্গিক এবং যথেষ্ট তথ্য সরবরাহ করবে। এটা
শেয়ারহোল্ডারদের বার্ষিক সাধারণ সভা এবং ভোট প্রদানে উৎসাহ প্রদান করবে। শেয়ারহোল্ডাররা অবশিষ্ট লভ্যাংশ পাওয়ার অধিকার রাখে। সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। কোম্পানীর কাজের ক্ষেত্রে এটি ন্যায়পরায়নতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
 বাধ্যবাধকতা: ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

 শেয়ারহোল্ডারদের সাথে ন্যায়বিচার করাঃ
 সংখ্যালঘু এবং বিদেশী শেয়ারহোল্ডারদের যৌথ শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সকলের সমধিকার প্রদান করতে হবে।
 একই ভোটাধিকার (একই ধরণের শেয়ারের ক্ষেত্রে)।
 একই শ্রেণীর সকল শেয়ারহোল্ডারদের সাথে সমান আচরণ করতে হবে।

 যৌথ শাসন ব্যবস্থায় ষ্টেকহোল্ডারদের ভূমিকাঃ
 যৌথ শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার আইন দ্বারা নির্ধারিত থাকবে এবং এই অধিকারের সম্মান করতে হবে।
 অধিকার লঙ্ঘনের জন্য কার্যকরী প্রতিকার ব্যবস্থা প্রদান করবে।  ষ্টোকহোল্ডারদের কর্পোরেশনে দায়িত্ব গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে যা কর্পোরেশন এবং বাজারে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।
 ষ্টোকহোল্ডারদের স্বার্থে প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশ করবে।

 তথ্য ও নিরীক্ষার স্বচ্ছতা উদঘাটনঃ
 যৌথ শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সময়মত এবং সকল বিষয়ে সকল প্রকার যেমন- অর্থনৈতিক, কোম্পানীর সার্বিক অবস্থা, মালিকানা কাঠামো এবং শাসন সম্পর্কে বিস্তৃত তথ্য প্রদান করবে।
 একটি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষক কমিটি গঠন করতে হবে।
 নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে-
 অর্থনৈতিক ফলাফল
 মালিকানা কাঠামো
 পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনার সদস্য
 যৌথ লক্ষ্য নির্ধারণ
 অন্যান্য ষ্টোকহোল্ডার ও কর্মচারীদের পরিমাণগত, সংখ্যাগত এবং শাসন কাঠামো ও নীতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা উদঘাটন করতে হবে।

 পরিচালনা পর্ষদঃ
 যৌথ শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের সুপরিকল্পিত নেতৃত্ব থাকতে হবে। বোর্ডের পরিচালক কর্তৃক ব্যবস্থাপককে কার্যকরীভাবে পরিচালনা করতে হবে।
 কর্পোরেশন এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছে বোর্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।  কমপক্ষে মাসে একবার মিটিং এর আয়োজন করতে হবে।
 সদস্য এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যে দায়িত্ব এবং কর্তব্য পৃথকভাবে বণ্টন করতে হবে ইত্যাদি।

 বোর্ডের নন-এক্সিকিউটিভ সদস্যঃ
 স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে সদস্য নির্বাচন করতে হবে।
 নন-এক্সিকিউটিভ সদস্যরা নির্বাহী সদস্য বোর্ড হতে স্বাধীন থাকবে।  নন-এক্সিকিউটিভদের ব্যবসায়ের সঙ্গে কোন সম্পর্ক থাকবে না। যেটি তাদের স্বাধীন বিচারের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
 চলমান স্বৈরশাসন প্রত্যাহার।

 ক্ষতিপূরণ এবং নির্বাহীদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদন করাঃ
 কর্পোরেশনের লাভ এবং সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থাপনা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
 আর্থিক বিবৃতিতে মোট ক্ষতিপূরণ উল্লেখ করতে হবে।
 নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ প্রকাশ করতে হবে।
 মজুরি কমিটি গঠন করতে হবে।

যৌথ শাসন ব্যবস্থা বিশ্ব বাজারে প্রবেশাধিকার এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। জবাবদিহিতা এবং তথ্য প্রকাশের গুরুত্বকে সকলের সামনে তুলে ধরেছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দূর করছে এবং সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত ব্যয়গুলোকে কমিয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। এই ধরণের স্বচ্ছতার ফলে কর্মীদের সামনে কর্পোরেশনের সকল প্রকার তথ্য তুলে ধরছে। এতে করে কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হ্রাস পাচ্ছে।াবেভাবে
“If you can’t feed hundred people, then just feed one”
-Mother Teresa

7 Responses

  1. Thank you for this put up!

    Like

  2. A lot of marketing people today i know search for #tags related to the niche and after that hope that within 3 days they will abide by them and if not, un-follow them. This will help grow your network of twitter followers, if you use this technique, you might want a separate personal twitter account.

    Like

  3. This is such a very good idea. A friend of mine sent me your url. It’s such a good way to engage readers offline and get physical mail which everyone loves. I may have to do this after my blog is up and running a bit more.

    Like

  4. PAYMENT RECEIVING SOLUTION by captfaiz –

    Like

  5. Thanks for your tip Allaedin, will try it on my blog )

    Like

  6. Hey! This is kind of off topic but I need some advice from an established blog. Is it very hard to set up your own blog? I’m not very techincal but I can figure things out pretty fast. I’m thinking about creating my own but I’m not sure where to start. Do you have any points or suggestions? Cheers

    Like

  7. My developer is trying to persuade me to move to .net from PHP. I have always disliked the idea because of the costs. But he’s tryiong none the less. I’ve been using WordPress on various websites for about a year and am anxious about switching to another platform. I have heard good things about blogengine.net. Is there a way I can import all my wordpress posts into it? Any help would be really appreciated!

    Like

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: