Corporate governance in Bangladesh

বাংলাদেশে যৌথ শাসন ব্যবস্থার অবস্থা (Corporate Governance in Bangladesh)

১৯৯৭-১৯৯৮ সালে যখন এশিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটের মুখে পড়ে “যৌথ শাসন” শব্দটি তখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এ খাতের কার্যক্রম সমগ্র অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে যার কারণে অর্থনৈতিক অবস্থায় অস্থিতিশীলতা দেখা যায়। আসলে, যৌথ শাসন পরিচালিত হয় কিছু আইন এবং নিয়ম নীতির মাধ্যমে বা কোম্পানীর দাবিদারদের সম্পর্কে ব্যবস্থাপকীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দক্ষতা প্রকাশ করে।

যাহোক, সংক্ষেপে যৌথ শাসন বলতে বলা যায় কিছু পরিচালনা পদ্ধতির সমষ্টি যার মাধ্যমে একটি দেশ বা দেশের অভ্যন্তরীণ কোন ফার্মের মালিকানা এবং ব্যবস্থাপনা পৃথকভাবে পরিচালিত হয়।

এছাড়া আরো বলা যায় যৌথ শাসন হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে কোম্পানীগুলো পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয়।যৌথ শাসন ব্যবস্থা মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং আদর্শের একটি কাঠামো যার মাধ্যমে ব্যবসায়ের সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়। যৌথ শাসন ব্যবস্থার কিছু জটিলতা রয়েছে। এই সকল জটিলতা দূর করার জন্য যৌথ শাসন ব্যবস্থা ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে-

সিদ্ধান্ত গ্রহনে স্বচ্ছতাঃ
 স্বচ্ছতার আলোকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, কারণ কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক বা না হোক দায়িত্বগুলো সুনির্দিষ্ট থাকবে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দেশের সংগঠণগুলো যৌথ শাসন ব্যবস্থার উপর তাদের বিস্তৃত নীতিমালা ও নির্দেশনা প্রকাশ করে। তাৎক্ষণিকভাবে OECD কাউন্সিল, OECD দেশগুলোকে যৌথ শাসন এর কিছু মূলনীতি এবং নির্দেশনা উন্নয়নের আহ্বান জানান এবং এটি ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়। নিচে নীতিগুলো তুলে ধরা হলো-

 শেয়ার হোল্ডারদের অধিকার
১. শেয়ার হোল্ডারদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।
২. কর্পোরেশনের মৌলিক কোন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শেয়ার হোল্ডাররা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
৩. শেয়ার হোল্ডারদের ভোটাধিকার।
৪. নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য শেয়ার হোল্ডারদের ভোটাধিকার চিহ্নিত করা। ৫. যৌথ শাসন রক্ষার্থে বাজার ব্যবস্থাকে কাজ করার অনুমোদন।
৬. শেয়ার হোল্ডাররা তাদের ভোটাধিকার পালন করার জন্য তার লাভ লোকসান বিবেচনা করবে।  শেয়ারহোল্ডারদের সাথে ন্যায়বিচার করা
১. একই শ্রেণীর সকল শেয়ারহোল্ডারদের সাথে সমান আচরণ করতে হবে। ২. গোপনীয় বাণিজ্য এবং তিক্ততাপূর্ণ স্বার্থপরতা নিষিদ্ধ করতে হবে। ৩. বোর্ড সদস্য এবং ব্যবস্থাপকদের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ করতে হবে।  ষ্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা
১. আইনের মাধ্যমে ষ্টেকহোল্ডারদের অধিকার নিশ্চিত করা।
২. ষ্টোকহোল্ডারদের অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকারের সুযোগ থাকতে হবে। ৩. স্টেকহোল্ডারদের সামর্থ্য বৃদ্ধির কর্মশালায় অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদান করতে হবে।
৪. স্টেকহোল্ডারদের যৌথ শাসন সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক তথ্য জানার অধিকার থাকবে।  স্বচ্ছতা
১. বস্তুগত তথ্য প্রকাশ করা।
২. তথ্য সমূহ উচ্চমান সম্পন্ন হিসাববিজ্ঞান প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত হবে। ৩. বৈধ, সময়মত, ফলপ্রসূ এবং কম ব্যয়ে তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
 বোর্ড এর দায়িত্ব
১. বোর্ড সদস্যদের কোম্পানীর স্বার্থে অধ্যবসায়ী এবং যত্নের সাথে কাজ করতে হবে। ২. সকল শেয়ারহোল্ডারদের সাথে বোর্ড সুন্দর আচরণ করবে।
৩. বোর্ড শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে আইন এবং হিসাবের নিশ্চয়তা প্রদান করবে। ৪. বোর্ডের মূল কার্যাবলী বর্ণনা করবে।
৫. বোর্ড স্বাধীনভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উদ্দেশ্যগত বৈধতা চর্চা করবে। ৬. বোর্ড সদস্যরা সঠিক, প্রাসঙ্গিক এবং সঠিক সময়ে তথ্য ব্যবহারের সুবিধা পাবে।

এই গবেষণা হতে জানা যায় (OECD) যে, বাংলাদেশের যৌথশাসন ব্যবস্থা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। যদিও এদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের স্বাধীন পদ্ধতি রয়েছে তদুপরি ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার তুলনায় এদেশের যৌথ শাসন খাতটি অনুন্নত রয়েছে। শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে যে কাঠামোগত বাজার ব্যবস্থা ও কৌশল দরকার তা এখানে নেই। তাই এদেশের যৌথ পরিবেশের উন্নয়নে কতকগুলো বৈধ নীতি বা আইনের চর্চা করা যায়-
১. সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশ-১৯৬৯
‌ ২. বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ-১৯৭২
৩. ব্যাংক কোম্পানী আইন-১৯৯১
৪. আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন-১৯৯৩
৫. সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন-১৯৯৩
৬. কোম্পানী আইন-১৯৯৪
৭. দেউলিয়া আইন-১৯৯৭

যৌথ শাসনের উন্নয়নে প্রথম পদক্ষেপ হলো সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক ১৯৬৯ সালে প্রনীত অধ্যাদেশ। এ অধ্যাদেশের বিভিন্ন নীতিমালা ও নির্দেশনা যৌথ শাসনে অন্তর্ভূক্ত করা হয় যার সঠিক চর্চার মাধ্যমে যৌথ শাসনের সামগ্রিক কাঠামো তথা বিনিয়োগ কারীদের স্বার্থ রক্ষিত হয় এবং এ খাতের দূর্বলতাগুলো খুজে বের করা হয় যেন এগুলো মূলধন বাজারে আঘাত হানতে না পারে। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ কোম্পানীই তাদের মূলধনের জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরশীল, যে কারণে এদেশের বাজার পুঁজির পরিমাণ মোট জিডিপি-র মাত্র ৬.৫%। যাহোক ক্রমেই এদেশের কোম্পানী এবং প্রতিষ্ঠানে যৌথ শাসনের পরিচিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৬৬.৭% কোম্পানী ইতোমধ্যে এ ব্যবস্থা অনুসরণ করেছে এবং ৪৩.৩% কোম্পানী দেশে ও বিদেশে এ ব্যবস্থা প্রয়োগের সম্মতি প্রদান করেছে। ব্যবস্থাপনার উচ্চ পর্যায়ে যৌথ শাসন বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব রয়েছে।

পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমাদের দেশের যৌথ শাসন ব্যবস্থা পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ হলো এদেশের বেশির ভাগ কোম্পানীই পরিবার কেন্দ্রীক। এ ধরণের মালিকানা কাঠামোর কারণে যৌথ শাসনের কৌশলগুলোর কার্যকারীতা হ্রাস পাচ্ছে। দূর্বলতাগুলো আইন ও বিধির মাধ্যমে সংশোধিত হচ্ছে না। বর্তমানে বাংলাদেশে যৌথ শাসনের যে অবস্থা তাতে শেয়ারহোল্ডরগণ এটি চর্চার উৎসাহ হারাতে বসেছে। এটি বৃদ্ধি করার জন্য পর্যপ্ত বৈধ, প্রাতিষ্ঠানিক এবং অর্থনৈতকভাবে শেয়ারহোল্ডারদের প্রেষণা প্রদান করা একান্ত জরুরী।
 বাংলাদেশে যৌথ শাসনের ইস্যুসমূহঃ
পার্শ্ববর্তী দেশে ভারত, পাকিস্থান, শ্রীলংকায় যেখানে বাজার পুজিবাদের পরিমাণ ৫৬%, ৩০%, ১৮% সেখানে এ দেশে মাত্র ৬.৫% যার কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীগণ পুঁজি বিনিয়োগ করে দুশ্চিন্তায় ভুগেন। এ ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। যেমন-

 Deregulation:
অথনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে শুধুমাত্র প্রত্যাশা অর্জন করা যায় না সাথে সাথে বাজারকে প্রতিযোগিতামূলকও করে তোলা যায়। কোম্পানীগুলোকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই বৃহৎ পরিমাণ বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে।

 Disinter-mediation:
আর্থিক সংস্কারের মাধ্যমে পুজিবাদকে সহায়ক মূলধনের উপর নির্ভর রাখা খুবই জরুরী।

 Institutionalization:
যুগপৎভাবে পুজিবাদের প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ বাজারের নিয়মসংক্রান্ত ক্ষমতা বৃদ্ধি।

 Globalization:
বাংলাদেশের বাজারগুলোর বিশ্বায়নের ফলে বিনিয়োগকারী, ব্যবহারকারী ও মধ্যস্থাতাকারীর জন্য উচ্চ বিনিয়োগের নীতি উদঘাটন করা ও যৌথ শাসন ব্যবস্থা অধিক উন্নত পুজিবাদ আয়ত্ব করতে পারবে।

উপরোক্ত উপাদানগুলো বাজার ব্যবস্থাপকে আরো কার্যকরী ও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে। আহমেদ এবং ইউসুফ ২০০৫ সালে যুক্তি দেন যে বাংলাদেশের যৌথ শাসনের বেশিরভাগ উপাদান অকার্যকারী। তাদের মতে, উপাদানগুলো হলো-

১. যৌথ মালিকানা কাঠামোঃ
সকল যৌথ শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে চারটি মূল নীতি হচ্ছে- বৈধতা, জবাবদিহিতা, দায়িত্বশীলতা এবং স্বচ্ছতা। এর প্রতিটি মূলনীতি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে যৌথ মালিকানা কাঠামোর উপর। কিন্তু বাংলাদেশে সাধারণত দেখা যায় যে, যৌথ মালিকানা কাঠামো পরিবারের সদস্যদের উপর নির্ভর করে। যার ফলে যৌথ শাসন ব্যবস্থার মূলনীতিগুলো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়।

২. অদক্ষ দেউলিয়াত্ব আইনঃ
কোন দেশই অদক্ষ দেউলিয়াত্ব আইন ও প্রক্রিয়া নিয়ে যৌথ শাসনের উন্নয়ন ঘটাতে পারে না। বাংলাদেশে এ আইনের কার্যকারীর অভাবে এখাতে আরও বেশি সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

৩.‌ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলোর যৌথ শাসন ব্যবস্থা পরিচালনার পদক্ষেপের অভাবঃ
এ দেশেরে বেশিরভাগ কোম্পানীই বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে
নৈরাশ্যবাদ/খারাপ কৌশল অবলম্বন করে যার কারণে বিদেশী শেয়ার বাজারে অনুপ্রবেশের সুযোগ পায়না। তবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানী (SEC) এর অনুমোদনে লন্ডন শেয়ার বাজারে অনুপ্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছে।

৪. হিসাবের মান, নিরীক্ষা এবং তথ্য প্রকাশঃ
বাংলাদেশর কোম্পানী গুলো হিসাবের মান, হিসাব নিরীক্ষণ ও প্রকাশের মধ্যে যথেষ্ট ভুল-ত্রুটি থাকে যা দেশের যৌথ শাসন এর উপর প্রভাব ফেলে। ৫. কোম্পানী আইনের অসামঞ্জস্যতাঃ
এ দেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কোম্পানী বিধি প্রণীত হয় কিন্তু পরীক্ষা করে দেখলে জানা যায় যে, প্রণীত আইনগুলোর একটির সাথে আরেকটির অবস্থা খাপ ছাড়া। তাছাড়া কিছু কিছু আইন আন্তর্জাতিক হিসাব বিজ্ঞান মান নির্ধারণ (AIS) সংস্থা এর সাথে সামঞ্জস্য নয়। এ বেহাল অবস্থার দরুন (CG) নীতিগত জটিলতার উদ্রেক হয়।

৬. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য প্রতিবন্ধকতাঃ
পক্ষসমূহের লেনদেন সম্পর্কিত যে আর্থিক বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তা সঠিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। যার কারণে বাংলাদেশে যৌথ শাসন উন্নত হয় না।

৭. দূর্বল পরিচালনা পদ্ধতিঃ
বাংলাদেশে এখনও ব্রিটিশ প্রশাসনের হাইব্রিড পদ্ধতি অনুসরণ করে। বাংলাদেশে কর্পোরেট খাতগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য অনেক আইন থাকলেও বাংলাদেশে এর তেমন কোন প্রয়োগ নেই। ফলে কর্পোরেট খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

৮. পুঁজি বাজারের ভূমিকাঃ
পুঁজি বাজারের সঠিক তথ্য এবং পরিচালনার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। কিন্তু বাংলাদেশে যে দুটি শেয়ার বাজার রয়েছে তাদের পর্যাপ্ত পুঁজি নেই ফলে তাদের দূর্বলতার জন্য যৌথ শাসন শক্তিশালী করা সম্ভব হচ্ছে না। ১৯৯৬ সালের যে শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারী তা শেয়ার হোল্ডারদের আশা অনেকাংশে দমিয়ে দেয়।তাছাড়া কোন কোম্পানী ব্যবসায় শুরু করতে বা শেয়ার বাজারের তালিকাভূক্ত হতে যে অর্থের প্রয়োজন তা কোম্পানীগুলো ব্যাংকের কাছ থেকে সহজে পেয়ে থাকে ফলে ব্যাংকের তারল্য কমে যায়। যার ফলে যৌথ শাসন এর নীতিমালা বাস্তবায়নে সম্ভব হয় না।

৯. সাধারণ সভা
কোম্পানীর বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ার হোল্ডারগণ তাদের মতামত, চাহিদা, ভবিষ্যত পরিকল্পনা ইত্যাদি প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু এ দেশের বেশির ভাগ কোম্পানী বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনে বিভিন্ন সমস্যার অজুহাত দেয়ায় যৌথ শাসন ব্যবস্থর প্রসারে বাধা সৃষ্টি করে।

১০. বোর্ড কমিটিঃ
যৌথ শাসন এর ক্ষেত্রে বোর্ড কমিটি খুবই প্রয়োজনীয়। যৌথ সুশাসন নিশ্চিত করতে নিরীক্ষক কমিটিকে অন্যতম প্রধান নীতি নির্ধারক হিসাবে ধরা হয়। এছাড়া নিরীক্ষক কমিটি অর্থনৈতিক বিবৃতির ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে। মজুরি কমিটি ও যৌথ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই অভ্যন্তরীণ কমিটিগুলো তাদের কার্যাবলীর মাধ্যমে বোর্ড কমিটি সহায়তা করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে এই অভ্যন্তরীণ কমিটিগুলোর কাজে অদক্ষতা লক্ষ্য করা যায়।

১১. পরিচালনা পর্ষদঃ
১৯৯৪ সালের কোম্পানী আইন অনুযায়ী কোম্পানীর পরিচালক বা ব্যবস্থাকদের যে কোন প্রকার অমান্যকর কাজ/ দায়িত্ব ভঙ্গের জন্য কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করে।

কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যায় যে পরিচালনা পর্ষদ সংখ্যা গরিষ্ঠ শেয়ার হোল্ডারদের দ্বারা ব্যাপক মাত্রায় শাসিত হয়। এছাড়া কোম্পানীর নিবন্ধন অথবা যে কোন ধরণের সহায়তা পাওয়ার জন্য বর্তমান বা প্রাক্তন কোন মন্ত্রীকে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যভূক্ত করা হয়। ফলে পরিচালনা পর্ষদ অদক্ষভাবে পরিচালিত হয়।

১২. শেয়ারহোল্ডারদের কার্যকারীতাঃ
বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বে শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সর্বজনস্বীকৃত। যৌথ শাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে শেয়ারহোল্ডারদের দক্ষতা খুবই প্রয়োজন।

কিন্তু বাংলাদেশে কোম্পানীর কার্যাবলী সম্পর্কে শেয়ারহোল্ডাররা ব্যবসায় প্রক্রিয়ায় কোন প্রকার অংশগ্রহণ করতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশের শেয়ারহোল্ডার তাদের অধিকার সম্পর্কে খুব কম সচেতন।

১৩. যৌথ নিয়ন্ত্রণ বাজারের অভাবঃ
একটি বাজার যৌথ শাসন ব্যবস্থার এর কার্যাবরী নিয়ন্ত্রণের জন্য যৌথ নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যার মাধ্যমে কোম্পানী তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। কিন্তু, বাংলাদেশে এই ধরণের বাজার ব্যবস্থা নেই।

১৪. দূর্বল চাপসৃষ্টিকারী দলঃ
শেয়ারহোল্ডার, বিনিয়োগকারী সংগঠণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং অর্থনৈতিক প্রচার মাধ্যম গুলো যৌথ শাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকটি চাপ সৃষ্টিকারী দলই দূর্বল। যে সকল সাংবাদিকগণ যাদের অর্থনৈতিক প্রতিবেদন সম্পর্কে জ্ঞান আছে তা খুবই সীমাবদ্ধ এবং তদারকিতে ঘাটতি থাকে।

১৫. অদক্ষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনঃ
যে সকল অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলো নিরীক্ষা করা হয় সেগুলো খুব কমই নির্ভরযোগ্য এবং তাতে মালিকের কর্তৃত্ব থাকে।

নিরীক্ষ প্রতিবেদন অনিয়মিত হওয়ার কারণে নিরীক্ষকগণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে অদক্ষ তথ্য প্রদান করে।

They may forget what you said, but they will never forget how you made them feel”
-Carl W. Bucchner
“If you can’t feed hundred people, then just feed one”
-Mother Teresa

6 Responses

  1. banksy wall stickers…

    Like

  2. I am curious to find out what blog system you’re working with? I’m having some minor security issues with my latest site and I’d like to find something more secure. Do you have any recommendations?

    Like

  3. Hmm is anyone else experiencing problems with the images on this blog loading? I’m trying to find out if its a problem on my end or if it’s the blog. Any responses would be greatly appreciated.

    Like

  4. swwmh…

    tmhryvmnl xisrj wmfqarh cckp tideeixwxkwoouz…

    Like

  5. Hi, i think that i saw you visited my website so i came to “return the favor”.I’m trying to find things to improve my site!I suppose its ok to use a few of your ideas!!

    Like

  6. there should be more sites like yours on the net! glad to have come across your website

    Like

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: