Research

গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা

১.১ ভূমিকাঃ
বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষ বিশেষ করে যুব সমাজ প্রযুক্তির বিভিন্ন উপকরণ ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস ইত্যাদির দিকে ব্যাপকহারে ঝুকে পড়েছে। বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকরীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনের বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত করেন বিভিন্ন ধরণের সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহারের মাধ্যমে। বর্তমান সময়টা হচ্ছে ইন্টারনেটের। আর ইন্টারনেট বলতেই এখন এক কথা সর্বপ্রথম যে সাইটটির নাম চলে আসে তা হলো ফেসবুক। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগের ধারণা নিয়ে চালু হওয়া ফেসবুক পাল্টে দিয়েছে ইন্টারনেট বিশ্বকে।

সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাপনের ধারণাটি পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সাথে সাথে দৈনন্দিন জীবন যাপনের ধারায় যুক্ত হচ্ছে নিত্য নতুন অনুষঙ্গ। আর ক্রমেই বিশ্ব হয়ে উঠছে ইন্টারনেট নির্ভর। ইন্টানেটের বিস্তার গত এক দশকে পৃথিবীর আর্থ-সামাজিক অবস্থায় নিয়ে এসেছে বড় ধরণের পরিরর্তন। পাশ্চাত্যের দেশগুলো প্রযুক্তির ব্যবহারে বেশি অগ্রসর হলেও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই এশিয়ার দেশগুলো। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ যুক্ত রয়েছে ইন্টারনেটে। আর এর বড় একটি অংশই রয়েছে এশিয়ার।

১.২ গবেষণা সমস্যার বিবৃতিঃ
প্রকৃতপক্ষে একটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের শুরুই হয় একটি সমস্যা দিয়ে। এ সমস্যার একটি আবশ্যকীয় শর্ত হচ্ছে এটিকে সমাধানযোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ লভ্য যন্ত্রপাতি বা উপকরণাদির সাহায্যে গবেষকের উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভবপর হবে। এছাড়াও বিজ্ঞান বা সামাজিক বিজ্ঞানের আওতাধীন যে কোন বিষয়ের সংগেই সমস্যাটি সংশ্লিষ্ট হতে পারে। গবেষণার সমস্যা এমন কিছু ধারণা উপস্থাপন করে যা গবেষণার লক্ষ্য নির্ধারণে মূল প্রসঙ্গকে চিহ্নিত করে। তবে গবেষণা সমস্যা শুধুমাত্র কিছু সমস্যাকে নিজস্ব ধারণার আলোকে গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে দৃষ্টিকোণ বা তাত্ত্বিক কাঠামোর রূপরেখায় সমস্যার অন্তর্গত প্রশ্নগুলোর উত্তর খোজার চেষ্টা করতে চাওয়া হচ্ছে তারও উল্লেখ বুঝায়।

আমার গবেষণারও কিছু নির্দিষ্ট সমস্যার আলোকে শুরু হয়েছে। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় বিশেষ করে যুবসমাজ ইন্টারনেটের দিকে ব্যাপকভাবে ঝুকে পড়ছে। আর যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাদের অনেকেই বর্তমানে ফেসবুক নিয়ে মেতে থাকে। কিন্তু ফেসবুকের অত্যধিক ব্যবহার আমাদের জীবন ক্রমশ অভিশাপে রূপ নিচ্ছে। বিজ্ঞানের প্রতিটি অবদানই আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। কিন্তু এই আশীর্বাদ আবার অভিশাপে রূপান্তরিত হয় যখন ওই অবদানকে বেশি ব্যবহার করা হয়।
বর্তমানে শিক্ষিত সমাজ যেমন-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ফেসবুকের প্রতি বেশি মাত্রায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। আর তাই ফেসবুককে নেশার জগতে আবির্ভূত এক নতুন উপকরণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

ছাত্র-ছাত্রীরা ফেসবুকে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে। এর ফলে দেখা যাচ্ছে একদিকে যেমন তাদের মানসিক এবং শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে অপর দিকে সময়ের অপচয় হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে।

অর্থাৎ ফেসবুক ছাড়া যেন তাদের এক মুহূর্তও কাটেনা। যেখানেই যাই সেখানেই ফেসবুক চাই। আর এই প্রক্রিয়াটি আরো সহজতর হয়ে উঠেছে বর্তমানে মোবাইলে ফেসবুক ব্যবহারের সুবিধা চালু হওয়ায়।

আমার এ গবেষণার মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহার সম্পর্কিত এ সকল সমস্যাগুলো তুলে ধরার চ্ষ্টো করা হয়েছে এবং এই সমস্যাগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সুপারিশমূলক আলোচনাও করা হয়েছে।

১.৩ গবেষণার যৌক্তিকতাঃ
তরুণ তরুনীদের মধ্যে যারা মাত্রাতিরিক্ত ফেসবুকে ম্যাসেজ পাঠান কিংবা দিনের অনেক সময় ব্যয় করেন ফেসবুকের পেছনে তারা শারীরিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েন। বিশেষ করে এদের মাঝে ধূমপান, মদ্যপান এবং যৌনকর্মের প্রবণতা বেশি।

আমার গবেষণা এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়ছে। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় ইন্টারনেট ছাড়া মানুষ এক দিনও চলতে পারেনা। যদিও এই ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ আজ যারা বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনেছে। কিন্তু কেউ যদি মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেটে ফেসবুক ব্যবহার করে এবং যার কারণে তার স্বাভাবিক জীবন যাত্রা বিঘ্নিত হয় তখনই সমস্যা। আর তাই ফেসবুক আসক্তির ব্যাপারে আমাদের সমাজের মানুষকে বিশেষ করে তরুণ সমাজকে সচেতন করে তুলতে হবে এবং এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে তাদের ভালোভাবে ধারণা প্রদান করতে হবে।

আর তাই এ গবেষণা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে খুবই উপযুক্ত। কারণ গবেষণার মাধ্যমে আমি ফেসবুকের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ফেসুবকে মানুষ কিভাবে আসক্ত হতে পারে বা কাদের মাঝে এই আসক্ত থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

সুতরাং আমি বর্তমান সময়ের ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম তথা ফেসবুকের ব্যবহার এবং এর প্রতি মানুষ যে পরিমাণে আসক্ত হচ্ছে তাতে থেকে বলতে পারি যে, আমার গবেষণার যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে। আমার মনে হয়, এই গবেষণাটি বর্তমানে তরুণ-তরুণীদের ফেসবুকের প্রতি আসক্ত হওয়ার এবং এর ক্ষতিকর দিকগুলোর ব্যাপারে সচেতন হতে সাহায্য করবে।

১.৪ গবেষণার উদ্দেশ্যঃ
প্রতিটি গবেষণারই কিছু মৌলিক উদ্দেশ্য থাকে। উদ্দেশ্য ছাড়া কোন গবেষণা সফল হতে পারে না। আর সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণায় সাধারণত সমাজের বিভিন্ন সমস্যার আলোকে গবেষণা করা হয়। সামাজিক বাস্তবতার প্রকৃতি অনুসন্ধান করা হয়। নির্ভরযোগ্য, যথার্থ ও তথ্য নির্ভর প্রমাণের মাধ্যমে সমাজ জীবনকে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। এছাড়াও সামাজিক অবস্থা এবং সমস্যা সমূহের মূল্যায়ন বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সামাজিক বিভিন্নক সমূহের দ্বারা ভিবিষ্যৎ বাণী করা, সামাজিক আচরণ ও প্রক্রিয়া প্রতিক্রিয়া আন্ত প্রতিক্রিয়াকে অনুধাবনের চেষ্টা করা হয়। সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ের সমালোচনার মাধ্যমে জনগণের মুক্তি আনয়ন করা হয়। সমাজে যারা বিশেষ ভাবে অসুবিধাগ্রস্থ তাদের ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
আমার গবেষণায়েও নির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বর্তমানে ফেসবুক ব্যাপক মাত্রায় ব্যবহার হচ্ছে। আর তাই ফেসবুক নামক আসক্তি থেকে বর্তমান যুব সমাজকে কিভাবে রক্ষা করা যায় এবং এর খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে সবাইকে জানানোই মূলত আমার এ গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। আমার গবেষণার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো নিম্নরূপ-

– বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণ।
– ফেসবুক ব্যবহারের ফলে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানসিক, শারীরিক ইত্যাদির উপর প্রভাব সমূহ।
– তরুণ-তরুণীদেরকে ফেসবুক আসক্তির কুপ্রভাব থেকে রক্ষার উপায় বের করা।

১.৫ নৈতিকতা বিবেচ্য বিষয়ঃ
একজন গবেষক হিসেবে গবেষণা কার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে নৈতিক দিকগুলো বিবেচেনা করা একান্ত আবশ্যক। গবেষণার উদ্দেশ্যকে যদি সফল করতে হয় তাহলে গবেষককে তার নৈতিক আচরণের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কারণ সামাজিক গবেষণা সাধারণত সমাজে এবং সমাজে অবস্থিত মানুষের বিভিন্ন সমস্যার আলোকে হয়ে থাকে।

আর এখানে গবেষককে তার গবেষণার জন্য সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের কাছে যেতে হয়। কিন্তু সমাজের সকল মানুষের আচার-আচরণ, মূল্যবোধ, কথা-বার্তা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ইত্যাদির মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। আর একজন গবেষক যদি সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সাথে একই ব্যবহার করেন তাহলে তিনি তার গবেষণার জন্য সঠিক তথ্য নাও পেতে পারেন।

আর তাই একজন গবেষক হিসেবে সমাজের প্রতিটি শ্রেণীর মানুষের মধ্যে এ সকল বৈচিত্র্যময় বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রেখেই গবেষণা কার্য পরিচালনা করা উচিত। আমার গবেষণার ক্ষেত্রে আমি নৈতিকতার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি, বিশেষ করে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে। কারণ আমার গবেষণার বিষয়টি অনেক সংবেদনশীল। তাই তথ্য প্রদানকারীর সাথে যথাযথ আচরণ এবং শৃঙ্খলার মাধ্যমে সঠিক তথ্য উদঘাটন করার চেষ্টা করেছি যাতে করে আমার গবেষণার উদ্দেশ্য সফল হয়।

১.৬ সাহিত্য পর্যালোচনাঃ
গবেষণার সংগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো উপযুক্ত সমস্যা নির্বাচন। আর উপযুক্ত সমস্যা নির্বাচন করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান থাকা একান্ত প্রয়োজন। প্রাসঙ্গিক বই, সাময়িকী, পত্র-পত্রিকা পাঠ বা পর্যালোচনা নির্দিষ্ট ক্ষেত্র সম্পর্কে
পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান লাভের একটি উত্তম উপায়। অন্যান্য বই বা গবেষণার প্রতিবেদন পাঠের মাধ্যমে গবেষণার সমস্যা সম্পর্কে গবেষকের অস্পষ্ট ধারণা প্রায়ই অধিকতই বাস্তব রূপ লাভ করে থাকে। প্রাসঙ্গিক জ্ঞানের পর্যালোচনা থেকে গবেষক জানতে পারেন যে, নির্দিষ্ট গবেষণাটি আদৌ পরিচালনা করার প্রয়োজন আছে কিনা? প্রাথমিক অবস্থায় কোন সমস্যা নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে গবেষকদের কাছে কোন অস্পষ্ট চিন্তা থাকতে পারে, কিন্তু বই পত্র ও সাময়িকী পর্যালোচনা থেকে তিনি জানতে পারেন যে, হুবহু ঐ সমস্যা নিয়ে কেউ গবেষণা করেছে কিনা। প্রাসঙ্গিক জ্ঞানের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পর্যালোচনা পরীক্ষণ পরিকল্পনায় ভ্রান্তি বা অন্যান্য জটিলতা সম্মুখীন হওয়া থেকে গবেষককে রক্ষা করে।

সোস্যাল নেটওয়াকিং আজ বিশ্ব জুড়ে। ফেসবুক, টেক্সটিং, তড়িৎ মেসেজ- এসব বিষয় ছোট ছেলে-মেয়ে, তরুণ, টিনএজারের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। ফেসবুকের বিরূপ প্রভাব এবং এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার সম্পর্কে লিখেছেন সোস্যাল নেটওয়াকিং নিয়ে নামকরা গবেষক, ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সংস্থা।

মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ল্যারি ডি রোজেনঃ
যেসব টিনএজার ফেসবুক ব্যবহার করে, তারা আত্মপ্রেমিক বা আত্মবিলাসী হলেও যারা ফেসবুক ব্যবহার করে না, তাদের চেয়ে অনেক বেশি সহমর্মী। উদ্বিগ্ন মা-বাবার প্রতি রোজেনের পরামর্শ—বাচ্চাদের ফেসবুকে বিনিময়, ভাব প্রকাশ গোপনে তদারক করা বা তাদের বিরত করা কাজের কথা নয়। কত দিন তাদের বিরত রাখা যাবে? বরং তাদের সঙ্গে এই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করুন। বাচ্চাদের কাছ থেকেও অনেক জানার আছে,তারাও আলাপে উৎসাহিত হবে।

মার্কিন মনোবিজ্ঞানী সমিতির অধিবেশনে সম্প্রতি রোজেন সোশ্যাল
নেটওয়ার্কিংয়ের ঝুঁকি ও ভালো দিক নিয়ে কম্পিউটারনির্ভর সমীক্ষা পেশ করেন। তবে সে সমীক্ষায় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের সঙ্গে মনোগত প্রবণতার সম্পর্ক তুলে ধরা গেছে। এর কারণ ও ফলাফল এতে প্রতিফলিত হয়নি। ভালো দিক আগে বলি। এক হাজার ২০০ টিনএজার ও তরুণের মধ্যে পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেল, ফেসবুক ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং বা ত্বরিতবার্তায় যত বেশি সময় তারা অতিবাহিত করেছে, তত বেশি অনলাইনে থাকা, বাস্তব জগতে সমমর্মী হওয়া, অন্যদের অনুভূতিতে সাড়া দেওয়া, সম্পর্কিত হওয়া বেড়েছে।

ডেভিড কার্লসন,‘অনেক তরুণকে দেখেছি,তারা অনলাইনে বন্ধুদের কাছে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে,বন্ধুদের প্রতি অনেক কেয়ারিং এবং পর্যায়ক্রমে অফলাইনে এসেছে তারা,বাস্তব জগতে বন্ধুর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।’

ডিজঅ্যাবিলিটি গ্রুপের একটি অনলাইন ‘বিস্ক্যান’ তেমন একটি উদাহরণ এ দেশে। বিভিন্ন বয়সের তিন হাজার ৭০২ জনের মধ্যে সাম্প্রতিক দুটি সমীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, ৩২ বছর বয়স্ক লোক বা এর চেয়ে তরুণ বয়সী লোক ফেসবুককে যোগাযোগের মাধ্যম, যেমন—টেক্সটিং ও ফোনকোল হিসেবে ব্যবহার করে।
অনলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং লাজুক ছেলেমেয়ে ও টিনএজারদের ব্যক্তিগত দেখাদেখির চেয়ে আরও স্মার্ট কৌশল, যেমন—ফেসবুকের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্যের কাছাকাছি যেতে সহায়তা করে। এর ঝুঁকির দিকও আছে। এক হাজার ৩০ জন মা-বাবার মধ্যে ২০০৯ সালে একটি সমীক্ষায় রোজেন ও সহকর্মীরা দেখেছেন, শিশু ও টিনএজার যারা গণমাধ্যমে (অনলাইন ও অফলাইন) বেশি সময় ব্যয় করে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ-দুশ্চিন্তা, পেটব্যথা ও স্কুলে অসুস্থতার জন্য অনুপস্থিতির মাত্রা বেশি।

টিনএজ যাদের হয়নি এবং টিনএজার যারা ভিডিও গেমে বেশি সময় ব্যয় করেছে, তাদেরও রুগ্ণ স্বাস্থ্য হয়েছে বেশি। ৭৭৭ জন টিনএজার ও তরুণের মধ্যে একটি চলমান গবেষণায় দেখেছেন ড. রোজেন। গড়পড়তা যারা বেশি সময় ফেসবুকে কাটায়, তাদের মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও বাইপোলার ডিজ-অর্ডার বেশি—মনোবিজ্ঞান পরীক্ষায় দেখা গেছে। ২০১১ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৯ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে পরিচালিত আরও একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, এমন অভ্যাস যাদের আছে, তারা লেখাপড়া ও অন্যান্য কাজের ১৫ মিনিটের মধ্যে গড়ে তিন মিনিট সময় মনোযোগ হারায়। ওয়েকফিল্ড রিসার্চের সমীক্ষায় দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ কলেজছাত্র কোনো রকমের প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া অধ্যয়ন করতে পারে না, আর ৩৮ শতাংশ ছাত্র একটানা ১০ মিনিটের বেশি সময় তাদের ল্যাপটপ, ফোন বা অন্যান্য মাধ্যম চেক না করে থাকতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মডার্ন টেকনোলজি’স ইফেক্ট রিসার্চ সেন্টারঃ
-যুক্তরাষ্ট্রের হায়ার লেভেল স্কুলের ৩য় গ্রেডের একজন ছাত্র বছরে ১৮০০ ঘন্টা ফেইসবুকের রঙিন দুনিয়ার সামনে কাটিয়ে দিচ্ছে। অথচ ঐ একই ছাত্র বছরে তার বইয়ের সামনে বসছে মাত্র ১২০০ ঘন্টার সমপরিমাণ সময়। আবার নিউক্যালস মিডিয়া রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে টিনএজ অপরাধ পুরো আমেরিকায় সর্বোচ্চ। টিনএজ এ বালকরা ব্যাংক ডাকাতি থেকে খুন, গুম, ধর্ষন, ছিনতাই, বর্ণবাদসহ বিভিন্ন ধরণের মারাত্মক অপরাধ সংগঠন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আচরণ গবেষণা সংশ্লিষ্ট ফার্ম এন্টার পেরিয়েন্সেঃ -নেশার জগতে আবির্ভূত নতুন উপকরণগুলোর নাম ফেসবুক, টুইটার এবং গুগল। আর এ নেশার জগতে আচ্ছন্ন হওয়াদের মধ্যে সিংহভাগই তরুণ। অবশ্য যেভাবেই হোক এ জালে জড়িয়ে আছেন অনেক মধ্যবয়সীরা।

ইউনির্ভাসিটি অফ মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রঃ
-সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করলেও মনের অগোচরেই ব্যবহারকারীদের ক্রমেই নেশাগ্রস্ত করে তুলছে সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুক, টুইটার এবং সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল। এখানে আরও বলা হয়েছে, অনলাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ফেসবুক, টুইটার এবং গুগলের মতো সাইট পরিদর্শকদের মধ্যে গড়ে ৫৩ জন বিচলিত হয়ে পড়ে। একই কারণে একাকিত্ব যাতনায় ভোগে শতকরা ৪০ জন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নুরুল ইসলামঃ -মানুষ অনলাইনে অবস্থান তৈরি করতে এবং আবেগপূর্ণ বেদনা দূর করতে ফেসবুকের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। ফেসবুক মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে একসময় তারা আসক্তিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়বে। আর ফেসবুক মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে তাদের মস্তিষ্ক-ক্যান্সার, মানসিক রোগী ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যখন কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি ফেসবুকের প্রতি আসক্ত হয়ে যায়, তখন তার কাজের গতি কমে আসে। সঠিকভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা উচিত।

সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক হাসানুজ্জামান চৌধুরীঃ
-অফিস সময়ে ফেসবুক ব্যবহার করার ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারীদের অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এভাবে কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার ফলে একসময় অফিসের চেইন অব কমান্ড ভেঙে যেতে পারে। এ ছাড়া অফিস সময়ে ফেসবুক ব্যবহারের ফলে জনগণ ও রাষ্ট্র ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফেসবুক ব্যবহার করার বিষয়ে কঠোর হওয়া উচিত। তবে বেসরকারি কর্মকর্তারাও এর বাইরে নন।

ড. জোনাহ বার্গারঃ
-বন্ধুদের মধ্যে তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আসক্তি ও সক্রিয় অংশগ্রহণই ফেসবুকের সাফল্যের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ব্যবহারকারীদের শক্তিশালী আবেগ-অনুভূতিগুলোকে জাগিয়ে তোলে ফেসবুক। এর মধ্যে আছে সুখ, হাসি; এমনকি রাগও। অনলাইনে এ বিষয়গুলো বিনিময় করা বা অন্যকে জানানোর মধ্য দিয়ে সেগুলো অনেক সময়ই সক্রিয় হয়ে ওঠে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ফেসবুক ও টুইটারের বিস্ময়কর সাফল্যের অন্যতম কারণ হচ্ছে এগুলো সরাসরি মানুষের মনে বা চৈতন্যে আঘাত করে।
ড. বার্গারের বিশ্বাস,তাঁর এ গবেষণা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক ব্যবহারের সফলতা সম্পর্কে বুঝতে সহায়তা করবে। তাঁর মতে, ফেসবুক একই পেশা বা মতের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের আলোচনা ও বোঝাপাড়ার ক্ষেত্রটিকে আরো সহজ করে দিয়েছে। গবেষণার জন্য ড. ডার্গার সুনির্দিষ্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। তিনি ৯৩ জন শিক্ষার্থীকে সুনির্দিষ্ট আবেগ প্রকাশের জন্য দুই ধরনের সুযোগ দেন। ফলাফলে দেখা যায়,যেসব শিক্ষার্থীকে খুব আবেগঘনিষ্ঠ বিষয় দেওয়া হয়েছে,তারা ভালো করেছে। প্রথম পরীক্ষায় একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। এটি দেখে যারা অতিরিক্ত মাত্রায় উদ্বিগ্ন হয়েছে,তারা বেশি করে অন্যদের জানিয়েছে। অন্য পরীক্ষায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার বাইরের একটি প্রবন্ধ পড়তে দিয়ে অন্যদের জানাতে বা পাঠাতে বলা হয়। এ ক্ষেত্রেও দেখা যায়,এ বিষয়টি যেসব শিক্ষার্থীর স্মৃতিকে নাড়া দিয়েছে এবং যারা অন্যকে বিষয়টি জানানোর আসক্তিতে ভোগে তারাই বেশি লোককে মেইল পাঠিয়ে বা তথ্যবিনিময় করে বিষয়টি জানিয়েছে। ড. বার্গারের মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে,সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটে ইতিবাচক বিষয়গুলোতেই বেশি সাড়া পড়ে।

১.৭ গবেষণার সীমাবদ্ধতাঃ
সৃজনশীল সামাজিক গবেষণা দেশের সমস্যা নির্ণয়, চিহ্নিত করণ, নীতি নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পক্ষে জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাত্রা সর্বাধিক করতে পারেন। যেহেতু গবেষণা একটি সুদীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া তাই স্বল্প সময়ের মধ্যে এ রকম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কাজ সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা খুবই দুরূহ ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। একজন নবীন গবেষক হিসেবে অভিজ্ঞ ও সময়ের অপ্রতুলতার কারণে গবেষণাকালীন সর্বাধিক সতর্কতা ও যত্নবান হওয়া সত্ত্বেও আমার গবেষণায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিম্নে এগুলো তুলে ধরা হলোঃ
 উত্তর দাতাদের উত্তর দানে অনীহা;
 গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সময়, শ্রম ও অর্থের অভাব;
 উত্তর দাতাদের সঠিক তথ্য না দেয়ার প্রবণতা;
 উত্তর দাতাদের সকল প্রশ্নের উত্তর না দেয়ার প্রবণতা;
 প্রশ্নপত্র ফেরত না দেয়ার প্রবণতা;
‌ গবেষণা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব ইত্যাদি।

9 Responses

  1. I have created a small 1k canvas demo called Organ1k:

    Like

  2. the picture is photoshopped because the sky could hardly ever seem like that

    Like

  3. Hey there. I discovered your internet site by way of Google at the same time as searching for a comparable topic, your site got here up. It appears fantastic. I’ve bookmarked it in my google bookmarks to come again later.

    Like

  4. 30 years ago I spent my teenage many years in a NTM South Pacific base. What I found most bizzare was the amount of psycholgical control exerted. Extorted signed confessions, guilt laid on in spades. And to make it worse, some of us are not from the States, so we got a great dose of discrimination thrown in for free.
    Was a bit like foreign policy under the Bush regimes, the rest of the environment exists for Americas pleasure.
    It was a teenage total of isolation, wondering why but not daring to question.
    No doubt my comments are going to be wiped, but it feels pretty good to tell the truth and my conscience is clear.

    Like

  5. When someone unfollows you, qwitter sends you an email message saying who unfollowed you and what tweet did you article before they unfollowed you. All you need to do is, sign up. Enter your twitter username and email address.TwitDiff provides e-mail and RSS notification for accounts unsubscribing from your tweets.TwittaQuitta is by far the ideal. I used almost all of them. Qwitter, Goodbybuddy, unfollowr and TwittaQuitta. Twitta Quitta sends you an email once on a daily basis only when someone unfollowed you.

    Like

  6. An spectacular share I just given this onto a colleague who was doing a little similar analysis on this He in reality purchased me breakfast because I

    Like

  7. I am really enjoying the theme/design of your website. Do you ever run into any web browser compatibility issues? A few of my blog audience have complained about my blog not working correctly in Explorer but looks great in Chrome. Do you have any advice to help fix this problem?

    Like

  8. I’m truly enjoying the design and layout of your site. It’s a very easy on the eyes which makes it much more enjoyable for me to come here and visit more often. Did you hire out a designer to create your theme? Superb work!

    Like

  9. My programmer is trying to persuade me to move to .net from PHP. I have always disliked the idea because of the expenses. But he’s tryiong none the less. I’ve been using Movable-type on a number of websites for about a year and am nervous about switching to another platform. I have heard great things about blogengine.net. Is there a way I can import all my wordpress posts into it? Any help would be really appreciated!

    Like

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: