Research 4

ফলাফল ও সুপারিশ

সঠিকভাবে যদি তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে গবেষণা কার্য সফল হবে। আমার গবেষণায় আমি প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক উৎস থেকে প্রাপ্ত উপাত্তগুলোর আলোকে যে তথ্যগুলো পেয়েছি তা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি এবং এর আলোকে কিছু সুপারিশমালা নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
৫.১ যাদের ফেসবুকে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি:
যারা আগে থেকেই অন্য কোন কারণে উদ্বিগ্নতায় (Anxiety) ভুগছেন।
যারা বিষন্নতায় বা একাকিত্বে ভোগছেন।
যারা ড্রাগ, এলকোহল, জুয়াখেলা এবং বিকৃত যৌন রুচি ও মানসিকতায় আসক্ত। টিনএজার -যারা রোমাঞ্চপ্রিয় ও সব কিছুতে অতি উৎসাহী।
শারীরিকভাবে যারা অলস ও ঘরকুনো।
যারা কোন কিছুকেই হালকাভাবে নিতে পারে না, সব কিছুতেই সিরিয়াস। বাস্তব জীবনে যাদের বন্ধু-বান্ধব খুবই কম ও বিপদ-আপদে সাহায্য করার মত কেউ নেই। যারা অসামাজিক, লাজুক এবং মানুষের সাথে মিশতে ভয় পায়।
যারা বাস্তব জীবনের সমস্যাকে এড়িয়ে চলতে চায়।
যাদের ইন্টারনেট বা কম্পিউটারের সহজলভ্যতা বেশি।
যারা কম্পিউটারের বা ইন্টারনেটের প্রতি বেশি আসক্ত। অর্থাৎ কম্পিউটারেই লেখাপড়া, রিপোর্ট, অ্যাসাইমেন্ট ইত্যাদি সম্পাদন করার প্রবণতা। যারা অধিক সময় ফেসবুকে কাটান।

চিত্রঃ ফেসবুক আসক্ত ব্যক্তি
৫.২ ফেসবুক আসক্তির প্রধান কারণঃ
 কৌতুহল ও উৎসাহ –
ফেসবু্কে নতুন ব্যবহারকারীদের অনেকেই ব্যাপক উৎসাহের সাথে প্রায় সব লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে সেখানে কী আছে। সাইট থেকে সাইটে ঘুরে ঘুরে নিত্য নতুন তথ্য-বিনোদনের আবিষ্কারে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে অনলাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়।
 তথ্য নিয়ে হিমশিম খাওয়া –
ফেসবুক এখন সব বয়সের ও সব পেশার লোকের জন্য এক বিশাল তথ্য ভান্ডার। পেশার কারণেই হোক বা সখের কারণেই হোক নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহের নেশা একজন মানুষকে এমনভাবে পেয়ে বসে যে সে বেশিরভাগ সময় ক্রমাগত ওয়েব পেজ হাতড়িয়ে পার করে দেয়।অনেক অনলাইন পত্রিকা ফেসবুকে পেজ খুলে খবর প্রকাশ করে। আর এভাবেই অনেকে নিজেদের অজান্তেই সব কিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।  সাইবার সেক্সুয়্যাল আসক্তি-
এ ক্ষেত্রে একজন মানুষের মধ্যে ফেসবুকে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত চ্যাট রুম এবং সাইবার পর্ণের প্রতি আকর্ষণ বিশেষভাবে বেড়ে যায়। তার চিন্তা-ভাবনায় স্থান করে নেয় এ ধরনের নগ্ন ও বিকৃত রুচির ছবি এবং ভিডিও। সাধারণত প্রথমদিকে কৌতুহল থাকলেও বেশিরভাগ লোকই পরবর্তীতে এগুলোতে আর আকর্ষণ বোধ করে না। এসবের প্রতি কারো কৌতুহল ও আকর্ষণ যদি স্থায়ীরুপ লাভ করে তখনই সমস্যা।

 কম্পিউটার আসক্তি-
এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির কম্পিউটার গেম, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটারে লেখাপড়া করা, বিভিন্ন রিপোর্ট বা প্রতিবেদন লেখা,
অ্যাসাইমেন্ট লেখা ইত্যাদির কারণেও ফেসবুকে আসক্ত হতে পারে। এধরনের লোক হয়ে বসে থাকতে পারে না, কমপিউটার নিয়ে কিছু একটা করতে হবেই।
 ভার্চুয়াল বন্ধুবান্ধব –
ফেসবুকের সুবাদে দূর-দূরান্ত, দেশ-বিদেশের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে বন্ধুত্ব, প্রেম, ভালোবাসা। ব্লগ, ফোরাম, চার্টরুম, ফেইসবুক, টুইটার ইত্যাদিতে একজনের সাথে আরেকজনের পরিচয় হচ্ছে, বন্ধুত্ব হচ্ছে। সে কারণে ইমেইল, অনলাইন চাটিং, ফেসবুকে বন্ধুর তালিকা দিনদিন বড় হচ্ছে। সুতরাং যতই দিন যাচ্ছে ভার্চুয়াল বন্ধুবান্ধবদের সিডিউল দিতে অনলাইনে সময়ের পরিমানও বাড়ছে। আবার অনেকেই আছেন ডেটিং/ফ্রেন্ডশীপ সাইটের নিয়মিত ভিজিটর বা সদস্য, যারা জীবনসঙ্গী, যৌনসঙ্গী, প্রেমিক-প্রেমিকার সন্ধানে বেশিরভাগ সময় ফেসবুক হাতড়িয়ে পার করে দেয়।
 বিকল্প বিনোদন –
ফেসবুককে অনেকে বিকল্প বিনোদন হিসেবে বেছে নিয়েছে। গান, ভিডিও ক্লিপ, গেম, ভিডিও, ভিডিও চ্যাটিং ইত্যাদি অনেক কিছু এখন ফেসবুকে উপভোগ করা যায়। অনেকে এগুলোর প্রতি এত বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে যে জীবনের অন্যান্য
গুরুত্বপূর্ণ কাজকে অবহেলা করতে শুরু করে। নতুন নতুন গান, ভিডিও, মুভি সংগ্রহের জন্য দিনরাত ফেসবুক হাতিয়ে বেড়াচ্ছে। যত পায় আরও চায় – এভাবে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা অনলাইনে ব্যয় করছে যা একসময় আসক্তির পর্যায়ে চলে আসে।
 বাস্তব জীবনে সমস্যা –
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার এইসব দিনরাত্রি নিয়ে আমাদের জীবন। সব দুঃখ-কষ্টকে সবাই একইভাবে মোকাবেলা করতে পারে না। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং পেশাগত জীবনে সমস্যা আসতে পারে। অনেকে এইসব দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যাকে ভুলে থাকার জন্য ফেসবুককে বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়। এভাবে বাস্তব জীবনের সমস্যাকে ভুলতে গিয়ে আরও একটি সমস্যায় পতিত হয়, যার নাম ‘ ফেসবুক আসক্তি’।

 ভার্চুয়াল জগতে প্রচার ও সেলিব্রেটি –
ফেসবুকে সহজে নিজেকে প্রচারের জন্য অনেক সুযোগ, তাই অনেকে দিনরাত এখানে সক্রিয় থাকতে চাই, অন্যান্য অনলাইন ইউজারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এরা সবসময় সব ধরনের চেষ্টা করে। এদের কার্যকলাপ ইতিবাচক বা নেতিবাচক উভয় ধরনের হতে পারে। এরা দৈনন্দিন জীবনের বিরাট একটি অংশ কাটিয়ে দেয় অনলাইনে। যখন অফলাইনে থাকে তখনও এরা অনলাইনের কার্যকলাপ ও চিন্তা-ভাবনায় মোহগ্রস্ত হয়ে থাকে। অনলাইনে সবাইকে তাক লাগানোর জন্য বা সেলিব্রেটি হওয়ার জন্য নিত্য নতুন আইডিয়া নিয়ে সবসময় ভাবতে থাকে, ফলে বাস্তব জীবন নিয়ে চিন্তাভাবনার আর সময় থাকে না।
 প্রতারণা ও ধোকাবাজি-
ফেসবুকে যেহেতু নিজের পরিচয় গোপন রেখে অনেক কিছু করা যায়, তাই এটা অনেকের কাছে ফন্দি-ফিকির ও প্রতারণার স্বর্গরাজ্য। অনেকে এসবের মাধ্যমে এক ধরনের আনন্দ পায়। অনেকের দেখা যায় হাজার হাজার বন্ধু। সেখানে মেয়ে বন্ধুর সংখ্যাই বেশি। প্রকৃতপক্ষে সেগুলো নির্দিষ্ট সেই মেয়ের অ্যাকাউন্ট নয়। অনেক ছেলেরা মেয়েদের নাম, প্রোফাইল এবং আকর্ষণীয় ছবি প্রদানের মাধ্যমে অন্যকোন মেয়ে বা ছেলেকে প্রতারিত করে থাকে।
 Status Update Anxiety (SUA) –
ফেসবু্কের কারণে সৃষ্ট নতুন মানসিক রোগ/সমস্যা সুয়া (SUA)। এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার পারিবারিক জীবন তো বটেই, বাস্তব জীবনের বন্ধুবান্ধব থেকেও বিছিন্ন হয়ে পড়ে। কেননা তার ধ্যান ধারণায় স্থান করে নেয় চ্যাট রুম, ব্লগ, ফোরাম, নিউজ গ্রুপ, ফেইসবুক, ইত্যাদির সুবাদে প্রাপ্ত ভার্চুয়াল জগতের নতুন নতুন বন্ধুবান্ধব। প্রতি মুহুর্তে ফেসবু্কে নিজের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ঘটনা নিয়মিত অন্যদের সাথে শেয়ার করতে গিয়ে অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে এক ধরনের মানসিক চাপ। তারা দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে ফেসবু্কে প্রকাশ করতে চাই এবং অন্যদের উত্তর বা
প্রতিক্রিয়া জানতে অধৈর্য হয়ে পড়ে। ফলে তার পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। এরা ফেসবুক ছাড়া বেশীক্ষণ থাকতে পারে না। ধুমপানে অভ্যস্ত লোক যেমন ধুমপান করতে না পারলে চঞ্চল, বিষন্ন অথবা উত্তেজিত হয়ে ওঠে, তেমনি ফেসবুক ব্যবহার করতে না পারলে এদের অবস্থাও তাই হয়।

 নিজেকে প্রকাশ করা-
ফেসবুক একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মানুষ সংযুক্ত আছে। আর তাই অনেকেই নিজেকে প্রকাশের জন্য বা নিজের পরিচয় অন্যের কাছে তুলে ধরার জন্য ফেসবুকের প্রতি আগ্রহী হয়। এছাড়াও ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক অচেনা মানুষ সম্পর্কে জানা যায়।  ফেসবুকে চ্যাটিং ও ভিডিও কল-
ফেসবুকের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ঠ্য হলো চ্যাটিং। কিছু দিন পূর্বেও শুধুমাত্র টেক্সট চ্যাটিং-এ অনেকে অনেক সময় কাটাত। বর্তমানে ভিডিও কলিং সুবিধা যোগ হওয়ার ফলে এর মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকরী ভিডিও কল করার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে।
 গেম খেলা-
ফেসবুকের অন্যতম উপাদান হলো গেম। ফেসবুকে অনেক জনপ্রিয় গেম আছে। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেই গেমগুলো খেলার মাধ্যমে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়।
৫.৩ ফলাফলঃ
 বাসায় যতক্ষণ থাকা ততখন ফেসবুকেই থাকা হয়, এমনকি খাবার সময়। এর ফলে ঘুমের খুব সমস্যা হয়, আর যেহেতু ঘুমের সমস্যা তাই সেটা শরীরের উপরেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
 যেহেতু পিসি তে সারাদিন ফেসবুক পেজ খোলা থাকে ও এতে আসক্ত, তাই পিসি তে বসে যে সকল লেখাপড়া বিষয়ক কাজ যেমন এসাইন্মেন্ট, রিপোর্ট ইত্তাদি সময় মতো করা হয়ে ওঠে না। ফলে লেখাপড়ার উপরে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।  যখন বাসায় ফেসবুক থাকেনা তখন সাইবার ক্যাফে তে গিয়ে টাকা নষ্ট করে ফেসবুক ব্যাবহার করে।
 ফেসবুকের কারনে বন্ধুদের সাথেও মাঝে মাঝে ঝগড়া বিবাদের তৈরি হয়।  পরিবারের সদস্যরা মারাত্মক ভাবে বিরক্ত হয়।
 সারাদিন ফেসবুক ব্যাবহার এর জন্য সারাদিন পিসি অন রাখতে হয় তাই কারেন্ট বিল ও আসে অনেক।
 ফেসবুক এর কারনে লেখাপড়া চরম ভাবে বিঘ্নিত হয়।
 রাতে ঘুমানর আগ পর্যন্ত ও সকালে ঘুম থেকে উঠেই পিসি অন কয়া হয়, তাই স্বাস্থ্য টাও খারাপ হয়।
 ফেসবুকের কারনে অনেক বেশি সময় অপচয় হয়। যা মোটেই কাম্য নয়।

৫.৪ ফেসবুকে আসক্তির লক্ষণগুলোঃ

কোন ব্যক্তি ফেসবুকে আসক্ত তার কিছু লক্ষণ দেখা যায়। লক্ষণগুলো হলো-  ফেসবুক নিয়েই সারাক্ষণ চিন্তাভাবনা করলে।
 আগের অনলাইনের ঘটনাগুলো কিংবা পরবর্তীতে কী করবে এসব চিন্তাই শুধু মাথায় ঘুরপাক খেলে।
 সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভালো ফল পেতে হলে ফেসবুকের প্রতি মনোসংযোগ আরো বাড়িয়ে দিতে হবে এরকম ধারনা।
 সাংসারিক ও সামাজিকভাবে সমূহ ক্ষতির সন্মুখীন হয়েও ফেসবুকের নির্ভরতা কমাতে না পারলে?
 যতটুকু সময় অনলাইনে ব্যস্ত থাকা যায় তার চেয়েও বেশিক্ষণ অনলাইন ব্যবহার করলে?  ফেসবুক নির্ভরশীলতার ব্যাপারে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের কাছে সবকিছু গোপন করা অথবা মিথ্যা বলা?
 হালকা হওয়ার জন্য অথবা সব সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট ভুলবার জন্য ফেসবুককে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে নেওয়া?
 ফেসবুকের ছাড়া বিষন্ন, চঞ্চল বা বিচলিত হয়ে পড়া। ফেসবু্কে সংযুক্ত হওয়ার সাথে সাথে আর এসব সমস্যা না থাকা।
 ফেসবুক ব্যবহারের কারণে নিয়মিত ঘুমাতে না পারা।
 ফেসবুক ব্যবহারের কারণে শারীরিক ওজন কমা/বাড়া, মাথাব্যাথা, পৃষ্ঠবেদনা ইত্যাদি শারীরিক সমস্যা অনুভব করা।
 অনলাইনে বেশি সময় দেওয়ার জন্য কতোবার ঘরের দৈনন্দিন কাজ অবহেলা করলে।  প্রিয় মানুষটি বা জীবন সঙ্গীর অন্তরঙ্গতার চেয়েও ফেসবু্কের আকর্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
 ভার্সুয়াল জগতের মানুষের সাথে নতুন নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা।
 ফেসবু্কে যতটুকু সময় ব্যবহার করে তার জন্য পরিবার ও পরিচিত লোকজন অভিযোগ করলে।  ফেসবু্কের জন্য যতটুকু সময় দেয় তার কারণে পেশাগত কাজে পারফরমেন্স বা উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেলে।
 বাস্তব জীবনের বিরক্তিকর চিন্তাভাবনাকে বাদ দিয়ে ফেসবুক নিয়ে চিন্তাভাবনা করলে।  ফেসবুক ছাড়া জীবন একঘেয়েমি, বিরক্তিকর ও আনন্দহীন হয়ে যাবে -এরকম ধারনা করা।  ফেসবুক ব্যবহার সম্পর্কে কেউ বিব্রতকর কোন মন্তব্য করলে বিরক্তিত, উত্তেজিত বা রাগান্বিত হলে।
 গভীর রাত পর্যন্ত ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ততার কারণে ঘুমের ক্ষতি হলে।  যখন অফলাইনে থাকে তখনও ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে বা কল্পনা করে যে সে অনলাইনে আছে।
 কোন কাজে, প্রয়োজনে বা অন্য কারো ডাকে সাড়া দেওয়ার পরও ফেসবু্কে আরও কয়েকটা মিনিট সময় অতিবাহিত করার চেষ্টা করলে।
 অন্যদের সাথে বাইরে যাওয়ার পরিবর্তে ফেসবু্কে সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলে। যদি পাঁচটি লক্ষণও নিজের মধ্যে শনাক্ত হয়, তবে ধরে নেয়া যায় তার মাঝে ফেসবুক আসক্তি কাজ করছে।
৫.৫ প্রতিকার/চিকিৎসা এবং সুপারিশমালাঃ

চিত্ত বিনোদনের অন্য উপায়গুলোর মাঝে নিজেকে পরিব্যপ্ত করা।
পরিবারের সাথে দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আরো বেশী সময় দেয়া।
নিজের প্রকৃত দুঃখ-কষ্ট-সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং তা দুর করার জন্য সচেষ্ট হওয়া।
নিজের সমস্যাগুলো নিজের মাঝে গুটিয়ে না রেখে আত্মীয়স্বজন আর
বন্ধুবান্ধবের সাথে আলোচনা করা।
ফেসবুক প্রযুক্তিকে নিজের সহায়ক কাজেই একমাত্র ব্যবহার করা, নির্ভরতা যেন পারিবারিক বা সামাজিক গন্ডিকে অতিক্রম না করে।
ড্রাগ, এলকোহল বা অন্য কোন মানসিক সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করা। বাস্তব জীবনে বেশি মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা। তখন ফেসবু্কের সাথে সম্পর্ক কম থাকলেও চলবে।
অসামাজিক, লাজুক বা ঘরকুনো স্বভাব থাকলে তা পরিবর্তন করা।
প্রয়োজনে মানসিক বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হয়ে চিকিৎসা নেয়া।
কারো স্ট্যাটাস ভালো লাগলে,হেসে বা কেঁদে ইগ্নোর করুন।
চ্যাট করা থেকে বিরত থাকুন। সবাইকে অফ লাইনে পাঠিয়ে দিয়ে আপনি কাক বনে চলে যান। চ্যাট মারাত্নক টাইম কিলিং! তাই এই ফাঁদে পা দিসেন তো পা পড়ে যাবে। আর মেয়েদের সাথে চ্যাট করলে তো রাত কাভার হয়ে সোয়া রাতও কাভার। গ্রুপ আছে অনেক। বেশিরভাগই অকাজের! তাই দুই একটা যেমন স্কুল কলেজেরগুলায় থেকে বাকিগুলু থেকে কুইট করেন।
ফেসবুক থেকে বের হলে লগ আউট করুন। নিজের বাসা হলেও। এতে লগ ইন করার ঝামেলায় বসতে ইচ্ছে করবে না।
মেয়েদের স্ট্যাটাস থেকে দূরে থাকেন। একবার যদি কমেন্ট দিয়ে ফেলেন, তবে মন আকু পাকু করবে তার একটা ফিডব্যাক পাওয়ার জন্য। তাই দূরে থাকাই ভালো। ধাপে ধাপে ফেসবুক ব্যবহারের সময় ও গুরুত্ব কমিয়ে আনা:
ক) ফেসবু্কে যেসব বিষয় ও গ্রুপ বা পেজে আপনি সময় কাটান সেগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করুন: দরকারী, কম দরকারী এবং বেদরকারী। প্রথম দিকে বেদরকারীগুলো বাদ দিন, এরপরে কম দরকারীগুলো বাদ দিন এবং তারপরে দরকারীগুলোতেও সময় কমিয়ে আনুন।
খ) যে সময় ফেসবুক ব্যবহারের পরিবর্তে অন্য কিছু করার সুযোগ থাকে তখন নেট ব্যবহার করবেন না। নেটে বসার আগেই সময়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিন, সেই সময়টুকুর এক সেকেন্ড বেশিও ফেসবু্কে থাকবেন না। এ ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে। মনে রাখবেন জীবনটা আপনার, সুতরাং আপনার লাইফস্টাইল কী হবে সে সিদ্ধান্তও আপনাকেই নিতে হবে।
৫.৬ ফেসবুক এবং ইন্টারনেট আসক্তি নিরাময় কেন্দ্রঃ
১৯ বছর বয়সি বেন আলেকজান্ডার যতক্ষন জেগে থাকেন ততক্ষনই ভিডিও গেম ওয়ার্ল্ড অব ওয়ারক্রাফট খেলেন। তার এই আসক্তি এতটাই যে তাকে আইওয়া ইউনিভার্সিটি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তার এই আসক্তিকে তুলনা করা হয়েছে মদ এবং মাদকের আসক্তির সাথে এবং নিরাময়ের জন্য তাকে ভর্তি করা হয়েছে সিয়াটলের কাছে এক নিরাময় কেন্দ্রে। তাকে দিয়েই উদ্বোধন হয়েছে এই কেন্দ্রের। এর নাম ReSTART. আপনি অবাক হতেই পারেন, কিন্তু যারা অনলাইনে ভিডিও গেম, টেক্সট ব্যবহার, টুইটার, ফেসবুক, ই-বে ইত্যাদিতে দিনরাত কাটান তাদের বিষয়টি এতটায় চিন্তায় ফেলেছে অন্যদের। কেউ ইচ্ছে করলে রিষ্টার্ট থেকে চিকিৎসা নিয়ে এই বদভ্যাস থেকে মুক্ত হতে পারেন। তবে খরচের বিষয়টি উপেক্ষা করবেন না। ৪৫ দিনের চিকিৎসার খরচ ১৪ হাজার ডলার। রিষ্টার্টের একজন চিকিৎসক বলছেন, তারা কয়েক বছর ধরেই বাইরে বিভিন্ন চিকিৎসার কাজ করছেন। এটা চালু হওয়ায় নির্দিষ্ট যায়গা তৈরী হল যেখানে মানুষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারে।
৫ একর যায়গায় এই সেন্টারে একসাথে ৬ জন চিকিৎসা নিতে পারে। এখন পর্যন্ত আলেকজান্ডার সেখানে একমাত্র রোগি। তাকে প্রথাগত নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাকে সাইকোথেরাপি সেশানে উপস্থিত থাকতে হয়, বাড়ির যাবতীয় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হয়, বাগানে এবং ক্ষেতে কাজ করতে হয়, ব্যায়াম করতে হয় এবং রান্না করতে হয়। এছাড়া বাইরে যাওয়ার জন্য কিছু সময় দেয়া হয়। নিজের উন্নতি সম্পর্কে তার বক্তব্য, আবারও সেই গেমে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
ফেসবুক আসক্তির ফলে কি ক্ষতি হতে পারে সেকথা জেনে রাখা ভাল। এতে মানসিকভাবে অসুন্থ হওয়া ছাড়াও বিষন্নতা, এমনকি শারীরিক বিকলাঙ্গতাও দেখা দিতে পারে। তারা চারিদিকের মানুষের সাথে সহজভাবে চলতে পারেন না। দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হন এবং ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেন না। অনেকের ইন্টারনেট এবং ফেসবুক ব্যবহারের আশক্তি এতটাই যে তারফলে রক্তের প্রবাহ অনিয়মিত হওয়া থেকে শুরু করে সামাজিক সমস্যা তৈরী করা, বিয়ে ভেঙে যাওয়া, গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটানো, চাকরী হারানো ইত্যাদি ঘটতে পারে। সাইবার ক্যাফেতে মৃত্যুর ঘটনাও ইতিমধ্যেই ঘটেছে। অনেকেই এই বিষয়ে একমত যে ইন্টারনেট আসক্তি বাস্তব এবং বড় ধরনের সমস্যার কারন।
ফেসবু্কের সুফল ও ইতিবাচক দিক অনেক। কিন্তু সেই সুফল পেতে যেন ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং কর্মজীবনে নতুন কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয় আমাদেরকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। ফেসবু্কের ভালো দিকগুলো যেমন আমাদের জীবনকে আরো সহজ ও গতিময় করতে পারে, তেমনি এর খারাপ দিকগুলো আমাদের জীবনকে করতে পারে আরো জটিল ও বেদনাময়। “Prevention is better than cure.” সুতরাং শুরু থেকেই সাবধান। নতুন যে কোন কিছুতেই শুরুর দিকে মানুষের ব্যাপক কৌতুহল-উদ্দীপনা থাকে। একটা সময়ে এসে আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। ফেসবুকও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু কারো উৎসাহ-উদ্দীপনা যদি দিনদিন বাড়তে থাকে তখনই ভাবতে হবে এটা ফেসবুক আসক্তির পূর্ব লক্ষণ কিনা। ফেসবুক ব্যবহারের স্বাভাবিক সময়সীমা কতটুকু, তা নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। কারণ ব্যক্তি বিশেষের পেশা ও প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে তা বিভিন্ন হতে পারে।
টিনএজারদের কমপিউটার আসক্তির কারণে অনেক মা-বাবা সন্তানকে কমপিউটার কিনে দেওয়ার পর আপসোস করেন। নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভয়ে অনেকে বাসায় ফেসবুক কানেকশন নিতে চান না। ফলে ফেসবু্কের সুফল থেকেও তারা বঞ্চিত হন। অনেকে স্কুল/কলেজ/অফিস থেকে বাসায় এসে বেশিরভাগ সময় ফেসবু্কে কাঠিয়ে দেন। যার ফলে পিতা-মাতা ও সন্তানদের মধ্যে, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছেন। তারা কর্তব্য পালনকালীন অধিকাংশ সময় ব্যয় করছেন ফেসবুক চ্যাট, ফেসবুক-দেয়ালে মন্তব্য করা এবং অন্যের করা মন্তব্যের ওপর মন্তব্য করার পেছনে। অর্থাৎ ফেসবুকে যে সময় তারা ব্যয় করছেন, তা করছেন কাজে ফাঁকি দিয়ে।
অফিস সময়ে ফেসবুক ব্যবহার করার ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারীদের অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এভাবে কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার ফলে একসময় অফিসের চেইন অব কমান্ড ভেঙে যেতে পারে।
অথচ আমরা যদি একটু সচেতন হই, ফেসবু্কের বিশাল জ্ঞানভান্ডার আমাদের শিক্ষাদিক্ষার পাথেয় হতে পারে।আমরা যদি একটু বুদ্ধিমান হই, ফেসবুক আমাদের জীবনের চলার পথকে আরো গতিময় ও মসৃন করতে পারে। ফেসবুক আসক্ত হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি সৃষ্টির পরিবর্তে ফেসবু্কের বিনোদন শাখাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে আমরা দাম্পত্য জীবনকে আরো রোমান্টিক ও আকর্ষণীয় করতে পারি। ফেসবুক আসক্তি থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, ইচ্ছা, চেষ্টা এবং পারষ্পরিক সহযোগিতা। ফেসবুক আমাদের সার্বিক জীবনে অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ হোক – এটুকুই প্রত্যাশা।

7 Responses

  1. We have no idea what I’m doing on Pinterest. I guess I signed up, but will not know what to do. Then I went to your twitter thing (I don’t know the first thing about twitter, and don’t want to do it or learn about it), and was lost. The earth is passing me byyyyyyyy. I guess I won’t be doing this contest stuff. It’s far too much trouble to learn every little thing. I like contests that are uncomplicated for everyone to be involved in.

    Like

  2. Great video, Jeanette! Well done!

    Like

  3. Tried SSH into my account and located that I can run PHP scripts OK! Yeah.

    Like

  4. How To Remove Loads of Direct Messages on Twitter!…

    Like

  5. These are some terrific examples. Thank you for sharing.

    Like

  6. Good apps thanks. Very useful. I use some of them incredibly normally.

    Like

  7. Hello! I could have sworn I’ve been to this website before but after browsing through some of the post I realized it’s new to me. Anyways, I’m definitely happy I found it and I’ll be book-marking and checking back often!

    Like

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: