Research 3

তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিশ্লেষণ

পরীক্ষণ বা জরিপ কিংবা প্রশ্নমালার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য প্রায়শ সংখ্যা-রাশি মাত্র। তথ্য বিশ্লেষণ একটি নির্দিষ্ট পন্থাকে বুঝায় না বরং একাধিক পর্যায়ে, প্রক্রিয়া ও কর্মকৌশলকে ব্যক্ত করে। গবেষণার মূল উদ্দেশ্যের নিরীক্ষে তথ্যকে বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষক যখন তথ্য সংগ্রহ করেন তখন সেই সকল তথ্যগুলো এলোমেলো অবস্থায় থাকে। এইগুলোকে সঠিকভাবে প্রকিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

৪.১ তথ্য উপস্থাপনঃ
গবেষকের সংগৃহীত এলোমেলো এবং স্তুপকৃত তথ্যগুলোর দ্বারা কোন গবেষক বা অনুসন্ধানকারী অতি সামান্যয় উপকৃত হতে পারেন। কারণ সংগৃহীত তথ্য প্রাথমিক অবস্থায় বিশৃঙ্খল এবং অনেক সময় বৃহৎ কলেবর যুক্ত থাকে বলে তা থেকে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না। তাই ব্যাখ্যা এবং সংখ্যাগুলোর
অন্তর্নিহিত তথ্য প্রকাশের সুবিধার্তে সংখ্যাগুলোর কোন না কোন
শ্রেণীবদ্ধকরণ এবং বর্ণনা প্রয়োজন। কোন কোন অবস্থায় পৌণঃপুণ্যের বণ্টণের আকারে উপাত্তের শ্রেণীবদ্ধকরণ, ঐ উপাত্তের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ঠ্যসমূহ বুঝতে গবেষককে সাহায্য করে থাকে। কোন কোন সময় আবার সারণীবদ্ধকরণ এবং লেখ চিত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে ঐ তথ্যের অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ঠ্যাবলী বুঝা সহজ হয়।

আমি এই গবেষণার জন্য বিভিন্ন উৎস হতে সংগৃহীত প্রাথমিক এবং গৌণ তথ্যগুলোকে বিভিন্ন টেবিল, চিত্র, ছক ইত্যাদির মাধ্যমে উপস্থাপন এবং বিশ্লেষণ করেছি।

৪.২ তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিশ্লেষণঃ
কোন গবেষণা প্রশ্নাবলীর উত্তর পাবার জন্য গবেষক প্রথমে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং পরে তা বিশ্লেষণ করেন।

এ সম্পর্কে গ্যালটাংগ (১৯৬৭) বলেন, “তথ্যের বিশ্লেষণ হলো গবেষণার প্রশ্ন, প্রকল্প অথবা প্রচলিত তথ্যের আলোকে সংগৃহীত তথ্যগুলোকে বিচার করা হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যাতে এসব সিদ্ধান্ত তত্ত্ব গঠণের কাজে লাগে।”
সামাজিক গবেষণা তত্ত্বগুলো সাধারণত গাণিতিক ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তথ্য সমূহের সাধারণ বৈশিষ্ঠ্য, বিচ্যুতি, সম্পর্ক, পার্থক্য ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়।
টেবিল-১
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম

মাধ্যম ব্যবহারকারির সংখ্যা শতকরা হার

ফেসবুক ১৮ ৯০%

টুইটার ১ ৫%

গুগল প্লাস ১ ৫%

মোট ২০ ১০০%

উপরোক্ত তথ্যগুলোর আলোকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সামাজিক যোগাযোগের অনেকগুলো মাধ্যম আছে। আর এগুলো শতকরা ৯০% ব্যবহার করে ফেসবুক। ৫% ব্যবহার করে টুইটার এবং ৫% ব্যবহার করে গুগল প্লাস।
এ তথ্যগুলো বিশ্লেষণে আমরা এ ধারণায় উপনিত হতে পারি যে, ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হেসেবে বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীরাই ফেসবুক ব্যবহার করে। এ থেকে এটিই প্রমাণিত হয় যে, ফেসবুকের প্রতি তারা কতটুকু ঝুকে আছে।

টেবিল-২
ফেসবুকে পছন্দের কাজ

কাজ সংখ্যা শতকরা হার

চ্যাটিং ১৪ ৬৫%

গেম খোলা ৪ ২০%

কমেন্ট লেখা ৩ ১৫%

মোট ২০ ১০০%

চার্ট-২

ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন ধরণের কাজ করতে পছন্দ করে, যেমন- টেক্সট চ্যাটিং, ভিডিও চ্যাটিং, গেম খেলা, কমেন্ট লিখা ইত্যাদি। আমি আমার গবেষণা প্রশ্নমালায় ফেসবুকের সবচেয়ে জনপ্রিয় একাজগুলোর বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ৬৫% চ্যাটিং, ২০% গেম খেলা এবং ১৫% কমেন্ট লিখতে পছন্দে করে।
টেবিল-৩
ফেসবুকে বন্ধুর সংখ্যা

পরিমান সংখ্যা শতকরা হার

১০০-এর নিচে ৯ ৪৫%

১০০-২০০ ৫ ২৫%

২০০-৫০০ ৪ ২০%

৫০০-এর উপর ২ ১০%

ফেসবুকে অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো বন্ধু। মূলত বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনদের সাথে যোগাযোগের জন্যই ফেসবুক ব্যবহার করা হয়। ফেসবুকে কার কত বন্ধু আছে এ বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করেছিলাম। তথ্যগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ৪৫% ছাত্র-ছাত্রীর বন্ধুর সংখ্যা ১০০ এর নীচে। ২৫% ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০-২০০ জনের মধ্যে। ২০% ছাত্র-ছাত্রী বন্ধুর সংখ্যা ২০০-৫০০ জন এর মধ্যে। ১০% এর বন্ধুর সংখ্যা ৫০০ জন এর ঊর্ধ্বে।
টেবিল-৪
শিক্ষাক্ষেত্রে ফেসবুক ব্যবহারের প্রভাব

প্রভাব সংখ্যা শতকরা হার

হ্যাঁ ১২ ৬০%

না ৮ ৪০%

মোট ২০ ১০০%

চার্ট-৪

একজন ছাত্র ছাত্রী হিসাবে লেখা পড়া করা প্রধান কাজ। আমি গবেষণার মাধ্যমে দেখতে চেয়েছিলাম ফেসবুক ব্যবহারের ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার উপর কোন প্রভাব পড়ছে কিনা? মতামত প্রদানকারীদের প্রদত্ত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ৬০% ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপাড়ার ওপর প্রভাব পড়ে এবং ৪০% এর ওপর প্রভাব পড়ে না।

টেবিল-৫
ফেসবুক ব্যবহার করতে না পারার অনুভূতি

অনুভূতি সংখ্যা শতকরা হার

খারাপ লাগে ৮ ৪০%

খুব খারাপ লাগে ৪ ২০%

হতাশ লাগে ৩ ১৫%

কিছুই মনে হয় না ৫ ২৫%

মোট ২০ ১০০%

চার্ট-৫

অনেক সময় আমরা দেখতে পাই যে, ইন্টারনেট সংযোগ বা অন্যকোন কারণে কয়েকদিন বা কিছু সময় অনেক ছাত্র-ছাত্রী ফেসবুক ব্যবহার করতে পারে না। আমি পরীক্ষণ পাত্রের কাছে জানত চেয়েছিলাম যে, এই সময়টুকু অর্থাৎ যে সময় তারা ফেসবুক ব্যবহার করতে পারে না সে সময় তাদের কেন লাগে বা অনুভূতি কেমন হয়? তারা যে তথ্য গুলো দিয়েছে তা থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ৪০% পরীক্ষণ পাত্রের খারাপ লাগে, ২০% খুব খারাপ লাগে, ১৫% হতাশায় ভোগে এবং ২৫% পরীক্ষণ পাত্রের কোন কিছু মনে হয় না।
টেবিল-৬
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক যথেষ্ট কিনা?

উত্তর সংখ্যা শতকরা হার

হ্যাঁ ১২ ৬০%

না ৮ ৪০%

মোট ২০ ১০০%

ইন্টারনেট জগতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হেসেবে অনেকগুলো জনপ্রিয় সাইট রয়েছে, যেমন- ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস, মাই স্পেস ইত্যাদি। এ সাইটগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় হল ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ছাত্র-ছাত্রীদের চাহিদা মেটাতে পারে কিনা বা তারা ফেসবুক ব্যবহার করে সন্তুস্ট কিনা সে বিষয়ে জানার জন্য প্রশ্ন করেছিলাম। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে শতকরা ৬০% ছাত্র-ছাত্রীর চাহিদা মিটে এবং ৪০% এর চাহিদা মিটে না বা তারা সন্তুষ্ট নয়।
টেবিল-৭
অফলাইনে ফেসবুক নিয়ে চিন্তা ভাবনা

প্রকিক্রিয়া সংখ্যা শতকরা হার

হ্যাঁ ১৩ ৬৫%

না ৭ ৩৫%

মোট ২০ ১০০%

নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের নানা বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় যে, ব্যবহারী যখন অফলাইনে থাকে তখন তাদের অনেকে ভাবে যে, তাদের কোন বন্ধু স্ট্যাটাস আপডেট করেছে কিনা বা কমেন্ট লিখেছে কিনা। আমি পরীক্ষণ পাত্রের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের শতকরা ৬৫% এর পক্ষে মত প্রদান করে এবং ৩৫% বিপক্ষে মত প্রদান করে।
টেবলি-৮
ফেসবুকের প্রতি নির্ভরশলীতা

মতামত সংখ্যা শতকরা হার

হ্যাঁ ৮ ৪০%

না ১২ ৬০%

মোট ২০ ১০০%

তরুণ-তরুণীরা বর্তমানে ফেসবুকের প্রতি ব্যাপক মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। নিজের অজান্তে অনেকেই এ প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এর ফলে তাদের সমস্যাগুলো সবার কাছে প্রকাশ করতে পারে না। আমি ফেসবুক নির্ভরশীলতার ব্যাপারে তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। মতামত প্রদানকারীর ৪০% এর পক্ষে মত প্রদান করে এবং ৬০% এর বিপক্ষে মত প্রদান করে।
টেবিল-৯
মানসিক প্রশান্তি বা দুঃখ কষ্ট ভোলার জন্য ফেসবুকের ব্যবহার

মতামত সংখ্যা শতকরা হার

হ্যাঁ ৮ ৪০%

না ১২ ৬০%

মোট ২০ ১০০%

ফেসবুক এমন একটি যোগাযোগের মাধ্যম যার মাধ্যমে ফেসবুকের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা তাদের মনের কথা, আবেগ ইত্যাদি শেয়ার করতে পারে। আমি
ছাত্র-ছাত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম দুঃখ কষ্ট বা সব সমস্যা ভুলে থাকার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করে কিনা। ৪০% ছাত্র-ছাত্রীরা ফেসবুককে এ
সমস্যাগুলোর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে এবং ৬০% সেই হিসাবে ব্যবহার করে না।
টেবিল-১০
ফেসবুকের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনা

মতামত সংখ্যা শতকরা হার

হ্যাঁ ১৩ ৬৫%

না ৭ ৩৫%

মোট ২০ ১০০%

চার্ট-১০

অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের ফেসবুক ব্যবহারের ব্যাপারে সচেতন। অনেকে বুঝতে পারে যে, তাদের ফেসবুক ব্যবহারের পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে যা তাদের বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলছে। তাই তারা সেটি কমিয়ে বা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এর ফলে তাদের আবেগ অনুভূতি পরিবর্তন বা বিষণ্ণতা কিংবা উত্তেজনার সৃষ্টি হয় কিনা সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছিলাম। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে ৬৫% ব্যক্তি এটিকে সমর্থন করে এবং ৩৫% মতামত প্রদানকারী এটি সমর্থন করে না।
টেবিল-১১
ফেসবুক আসক্তির বিষয়ে সচেতনতা

অভিমত সংখ্যা শতকরা হার

হ্যাঁ ৬ ৩০%

না ১৪ ৭০%

মোট ২০ ১০০%

বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহার এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে, অনেকে এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। আবার অনেকে ফেসবুকের প্রতি যে নেশার মত আসক্ত হয়ে পড়ছে সে বিষয়ে জানে না কিংবা ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলোর ব্যাপারে সচেতন না। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এই সচেতনতার বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম এবং জানতে চেয়েছিলাম তারা এই বিষয়ে কতটুকু সচেতন?

তাদের প্রদত্ত মতামত থেকে দেখা গেল অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীরাই এ বিষয়ে সচেতন নয়। মতকরা ৭০% ছাত্র-ছাত্রীরা ফেসবুকের ক্ষতিকর বিষয়গুলো সম্পর্কে জানেনা বা সচেতন নয়। আর ৩০% এ বিষয়ে কিছুটা জ্ঞান রাখে। ন্নিবি

5 Responses

  1. Still upgrading my writing. Thanks for this tips

    Like

  2. Who cares about Demi changing her name on twitter; Demi needs to grow up and act her age and gain some weight. When a person regresses which is some dangerous business. Demi needs to prepare for bouncing a grand child on her knee in the few years and prevent chasing after young men.

    Like

  3. Great guide! When they send me my invite, I’ll connect with your account.

    Like

  4. own my own radio station

    Like

  5. When I originally commented I clicked the “Notify me when new comments are added” checkbox and now each time a comment is added I get three e-mails with the same comment. Is there any way you can remove people from that service? Cheers!

    Like

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: