Research 2

গবেষণার মৌলিক প্রত্যয়সমূহ

ইন্টারনেটে গড়ে উঠেছে সামাজিক সম্পর্কের শক্তিশালী এক নেটওয়ার্ক। যে নেটওয়ার্কে বসে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা আপন মানুষটির সাথে মনের কথা বলা যায়। খুজে বের করা যায় হারিয়ে যাওয়া পুরোনো বন্ধুটিকে। নিম্নে আমার গবেষণায় ব্যবহৃত মৌলিক প্রত্যয় সমূহের বর্ণনা দেয়া হলো।

৩.১ ফেসবুকঃ
“ফেসবুক” বিশ্ব-সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি ওয়েবসাইট, যা ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিতে বিনামূল্যে সদস্য হওয়া যায়। ব্যবহারকারীগণ বন্ধু সংযোজন, বার্তা প্রেরণ এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী হালনাগাদ ও আদান প্রদান করতে পারেন, সেই সাথে একজন ব্যবহারকারী শহর, কর্মস্থল, বিদ্যালয় এবং অঞ্চল-ভিক্তিক নেটওয়ার্কেও যুক্ত হতে পারেন। শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যকার উত্তম জানাশোনাকে উপলক্ষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক প্রদত্ত বইয়ের নাম থেকে এই ওয়েবসাইটটির নামকরণ করা হয়েছে।

চিত্রঃ ফেসবুক আইকন
মার্ক জুকেরবার্গ হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তার কক্ষনিবাসী ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন
মস্কোভিত্‌স এবং ক্রিস হিউজেসের যৌথ প্রচেষ্টায় ফেসবুক নির্মাণ করেন। ওয়েবসাইটটির সদস্য প্রাথমিকভাবে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু পরে সেটা বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লীগ এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। আরো পরে এটা সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, হাই স্কুল এবং ১৩ বছর বা ততোধিক বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

চিত্রঃ নমুনা ফেসবুক
ফেসবুক তার চলার পথে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছে। সিরিয়া, চায়না এবং ইরান সহ বেশ কয়েকটি দেশে এটা আংশিকভাবে কার্যকর আছে। এটার ব্যবহার সময় অপচয় ব্যাখ্যা দিয়ে কর্মচারীদের নিরুৎসাহিত করে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফেসবুক ওয়েবসাইট কে আইন জটিলতায় পড়তে হয়েছে বেশ কয়েকবার জুকেরবার্গের সহপাঠী কর্তৃক, তারা অভিযোগ এনেছেন যে ফেসবুক তাদের সোর্স কোড এবং অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে।
৩.২ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতাঃ
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ জন্ম নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনসে ১৯৮৪ সালের ১৪ মে। মনোবিজ্ঞানী মা এবং দন্তবিশেষজ্ঞ বাবার একমাত্র ছেলে মার্ক শৈশব থেকেই প্রোগ্রামিংয়ের দারুণ ভক্ত। দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটত তাঁর কম্পিউটারের সামনে। আর্ডসলে হাইস্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন মার্ক। ফেঞ্চ, হিব্রু, লাতিন ও প্রাচীন গ্রিক ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন অল্প সময়ের মধ্যে। শুরুর দিকে পড়াশোনার বিষয় হিসেবে বেছে নেন সাহিত্য। তবে প্রোগ্রামিংই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। বাবাও এ ক্ষেত্রে উৎসাহ দিতে কার্পণ্য করতেন না। শিক্ষক ডেভিড নিউম্যানের কাছে কম্পিউটার পাঠ নিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে পরিপক্ব করে তোলেন মার্ক। করতে থাকেন নানা রকম গেম তৈরি এবং বিভিন্ন সফটওয়্যারের উন্নতির কাজ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে এ চর্চা বেড়ে যায় আরও কয়েক গুণ। এ সময় তাঁর পড়াশোনার বিষয় ছিল কম্পিউটার বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান। পড়াশোনার বাইরে প্রোগ্রাম তৈরির কাজেই নিজেকে বেশি ব্যস্ত রাখতেন মার্ক।

চিত্রঃ মার্ক জুকারবার্গ
এত অল্প বয়সে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ মাথা ঘুরিয়ে দেয়নি মার্কের। উচ্চাভিলাষী কোনো চিন্তাভাবনা নেই তাঁর। হতে চান একজন সাদাসিধা মানুষ। সুযোগ পেলে মা-বাবা, ভাই-বোনকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেটের মতো ধনকুবেরদের সঙ্গে মিলে তরুণ এই প্রযুক্তিবিদ একটি চুক্তি সই করেছেন। নৈতিক ওই চুক্তিতে মার্ক জাকারবার্গ তাঁর জীবনের অর্ধেক সম্পত্তি দাতব্য কাজে দান করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। ফেসবুকের মতোই শ্রেণীবৈষম্যহীন এক বিশ্বের স্বপ্ন দেখেন জাকারবার্গ, যেখানে মানুষের মধ্যে মানবিক গুণগুলো আরও জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠবে।
৩.৩ ফেসবুকের ঐতিহাসিক পটভূমিঃ
 ফেসবুকের জন্মঃ
হার্ভার্ডে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের ওপর পড়াশোনা শুরু করেন জাকারবার্গ। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়ক ‘কোর্সম্যাচ’ নামের একটি সফটওয়্যার তৈরি করেন। কলেজের সুদর্শন তরুণ-তরুণী বাছাই করতে অল্পদিনের মাথায় ‘ফেসম্যাশ’ নামের আরেকটি সফটওয়্যার বানান মার্ক। ছবি দেখে আবেদনময় তরুণ-তরুণী বাছাইয়ের হিড়িক পড়ে যায় গোটা কলেজে। এতে কলেজের ওয়েব সার্ভারে বাড়তি চাপ পড়ে। কর্তৃপক্ষ সাইটটি বন্ধ করে দেয়। শিক্ষার্থীরা দাবি তুললেন, ওই রকম একটি ওয়েবসাইট তাঁদের চাই। যেখানে শিক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা, ছবি ও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য থাকবে। এ কথা শুনে মার্ক প্রতিজ্ঞা করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ করে না দিলে তিনি নিজে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়েই জাকারবার্গের হাতে জন্ম নেয় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের সাইটটি।২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ফেসবুকের উদ্বোধন করেন জাকারবার্গ। গোটা দুনিয়ায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৫৫ কোটি।

 বিকাশঃ
২০০৪:ফেব্রুয়ারিতে হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ফেসবুকের উদ্বোধন করেন এর চার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ, ডাস্টিন মস্কোভিৎজ, চেরিস হুগেস ও এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন। জুনে প্যালো আল্টোতে অফিস নেওয়া হয়। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছায়।
২০০৫: আগস্টে ‘দ্য ফেসবুক ডটকম’ নাম পাল্টে কোম্পানির নাম রাখা হয় শুধু ‘ফেসবুক’। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ লাখ।
২০০৬: কৌশলগত কারণে আগস্টে ফেসবুকের সঙ্গে মাইক্রোসফট সম্পর্ক স্থাপন করে। সেপ্টেম্বর থেকে সর্বসাধারণের জন্য ফেসবুক উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আগে শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই ছিলেন এর ব্যবহারকারী। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি ২০ লাখে।
২০০৭:ফেব্রুয়ারিতে ভার্চুয়াল গিফট শপ চালু হয়। এপ্রিলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছায় দুই কোটি।
২০০৮: কানাডা ও ব্রিটেনের পর ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স ও স্পেনে ফেসবুকের ব্যবহার শুরু হয়।
 ফেসবুক কার্যালয়ঃ
ক্যালিফোর্নিয়ার প্যালো আল্টোতে ফেসবুকের বিশাল কার্যালয়। টাইম ম্যাগাজিনের এক সাংবাদিক সেখানে গিয়েছিলেন জাকারবার্গের সাক্ষাৎকার নিতে। তাঁর বর্ণনা এমন—অ্যাকুরিয়ামে (সম্মেলনকক্ষটির এমনই নাম দেওয়া হয়েছে) সহকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন মার্ক। সামনে কাগজপত্র নেই। হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছেন। তিন দিকে কাচ দিয়ে ঘেরা বিশাল কক্ষটি গোটা অফিসে তাঁদের গোপনীয়তা রক্ষার একমাত্র স্থান। কারণ অফিসটা একেবারে খোলামেলা। পর্দা ও দেয়ালহীন একটি অফিস। কর্মীরা যেন একজন আরেকজনকে সহজে দেখতে পান, পারস্পরিক ভাব বিনিময় করতে পারেন এ জন্যই এমন ব্যবস্থা। সবার জন্য একই ধাঁচের কম্পিউটার ও আসবাব। এমনকি মার্কের জন্য আলাদা বসার কোনো কামরা নেই। অফিসের ছাদ থেকে ঝুলছে বাহারি রঙের শোপিস। না অফিস, না বাড়ি—এমনই একটি আবহ বিরাজ করছে অফিসজুড়ে।

 এশিয়ার দেশগুলোতে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহারকারীর তুলনামূলক চিত্রঃ সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর অন্তর্নিহিত শক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে নেই এশিয়ার দেশগুলো। আর্থ-সামাজিক দিক থেকে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও সোস্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহারে বরং এই দেশগুলো অনেক এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের চেয়েও। যেমন গত বছর গ্লোবাল ওয়েব ইনডেক্স-এর তথ্য অনুযায়ী সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহারকারীর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীন, যাদের মোট ব্যবহারকারী ১৫৫ মিলিয়নেরও বেশি। এর পরের স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
পরের স্থানগুলোতেও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ। ব্যবহারকারীর সংখ্যার পরিবর্তে জনসংখ্যার শতকরা হারের প্রসঙ্গে আবার রয়েছে এশিয়ার দেশগুলোর ভালো প্রাধান্য। যেমন সোস্যাল নেটওয়ার্ক সার্ভিস ব্যবহারকারীর সংখ্যা ইন্দোনেশিয়ার মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রায় ৮০ ভাগ। এসব সোস্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছে ফেসবুকের মতো সোস্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম, বিভিন্ন ব্লগিং সাইট, টুইটারের মতো মাইক্রোব্লগিং সাইট প্রভৃতি। এর পরের দুইটি স্থানও এশিয়ার দুইটি দেশের দখলে। এই দুইটি দেশ হচ্ছে ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়া। ফিলিপাইনে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৭৮.৮৮ শতাংশ ব্যবহার করে সোস্যাল নেটওর্য়াকিং সাইট। আর মালয়েশিয়াতে এই সংখ্যা ৭২.৫৭ শতাংশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এদিকে আরো এগিয়ে রয়েছে ভারত (৬৮.৩৫%), চীন (৬৭.৫২%), সিঙ্গাপুর ৬৩%), হংকং (৫৮.৭২%), দক্ষিণ কোরিয়ার (৫০%) প্রভৃতি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সার্ভিস ব্যবহারকারীর সংখ্যা মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর যথাক্রমে ৫৫% এবং ৪৮%।

 বাংলাদেশের অবস্থানঃ
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশেও ইন্টারনেটের ব্যবহারের বিস্তৃতি ঘটেছে। শুধু ইন্টারনেটই নয়, সামগ্রিকভাবেও বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের এগিয়ে গেছে অনেকটাই। তারপরেও বৈশ্বিক বিবেচনায় এই অগ্রগতি অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব বেশি নয়। দেশের ঢাকা, চট্টগ্রামের বাইরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য না হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। তবে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে মোবাইল ব্রডব্যান্ড এবং
ওয়াইম্যাক্স দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এর প্রভাব পড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যায় এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যাতেও। গত বছরের আগস্টেও যেখানে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ০.৬%, বর্তমানে এই পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ১%। অর্থাৎ এই সময়ে প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে ফেসবুক ব্যবহারকারী। বাংলাদেশেও ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একে ব্যবহার করছেন নিজেদের মত প্রকাশের অন্যতম প্রধান একটি মাধ্যম হিসেবেই। সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর অগ্রগামী ভূমিকা তাই এদেশের জন্যও ইতিবাচক হয়ে দেখা দিতে পারে।

 ফেসবুক তথ্য কণিকাঃ
মার্ক জুকারবার্গ বর্ণান্ধ। লাল-সবুজ রং ভালো দেখতে পান না। তবে নীল রংটা ভালো দেখেন। তাই ফেসবুকে নীল রঙের এত আধিক্য। সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫ কোটি। এর মধ্যে সাড়ে তিন কোটি ব্যবহারকারী রোজ তাদের স্ট্যাটাস হালানাগাদ করে। প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি স্ট্যাটাস আপডেট হয়। মাসে ২৫০ কোটির বেশি ছবি রাখা হয় ফেসবুককে। মার্কিনরা ফেসবুকের পেছনে বছরে এক হাজার ৩৯০ কোটি মিনিট ব্যয় করে। ফেসবুক একটি দেশ হলে এটি হতো চীন ও ভারতের পর পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যা-অধ্যুষিত দেশ। সিরিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও ইরানে ফেসবুক নিষিদ্ধ।
৩.৪ ফেসবুকের মৌলিক প্রত্যয়ঃ
 চ্যাটিং: ফেসবুকের অন্যতম উপাদান হলো চ্যাটিং অপশন। এটি হলো অনলাইনে থাকা কোন বন্ধুর সাথে টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের একটি মাধ্যম।

চিত্রঃ চ্যাটিং অপশন
 স্ট্যাটাসঃ
এটি হলো ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনের কথা জানানোর অন্যতম মাধ্যম। এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী তার সকল বন্ধুর কাছে একসাথে কোন কিছু জানাতে পারে।
 ফটো এবং ভিডিও শেয়ারিং:
এটির মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারী তার বন্ধুদের কাছে ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করতে পারে।

গবেষণার মৌলিক প্রত্যয়সমূহ

ইন্টারনেটে গড়ে উঠেছে সামাজিক সম্পর্কের শক্তিশালী এক নেটওয়ার্ক। যে নেটওয়ার্কে বসে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা আপন মানুষটির সাথে মনের কথা বলা যায়। খুজে বের করা যায় হারিয়ে যাওয়া পুরোনো বন্ধুটিকে। নিম্নে আমার গবেষণায় ব্যবহৃত মৌলিক প্রত্যয় সমূহের বর্ণনা দেয়া হলো।

৩.১ ফেসবুকঃ
“ফেসবুক” বিশ্ব-সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি ওয়েবসাইট, যা ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিতে বিনামূল্যে সদস্য হওয়া যায়। ব্যবহারকারীগণ বন্ধু সংযোজন, বার্তা প্রেরণ এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী হালনাগাদ ও আদান প্রদান করতে পারেন, সেই সাথে একজন ব্যবহারকারী শহর, কর্মস্থল, বিদ্যালয় এবং অঞ্চল-ভিক্তিক নেটওয়ার্কেও যুক্ত হতে পারেন। শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যকার উত্তম জানাশোনাকে উপলক্ষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক প্রদত্ত বইয়ের নাম থেকে এই ওয়েবসাইটটির নামকরণ করা হয়েছে।

চিত্রঃ ফেসবুক আইকন
মার্ক জুকেরবার্গ হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তার কক্ষনিবাসী ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন
মস্কোভিত্‌স এবং ক্রিস হিউজেসের যৌথ প্রচেষ্টায় ফেসবুক নির্মাণ করেন। ওয়েবসাইটটির সদস্য প্রাথমিকভাবে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু পরে সেটা বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লীগ এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। আরো পরে এটা সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, হাই স্কুল এবং ১৩ বছর বা ততোধিক বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

চিত্রঃ নমুনা ফেসবুক
ফেসবুক তার চলার পথে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছে। সিরিয়া, চায়না এবং ইরান সহ বেশ কয়েকটি দেশে এটা আংশিকভাবে কার্যকর আছে। এটার ব্যবহার সময় অপচয় ব্যাখ্যা দিয়ে কর্মচারীদের নিরুৎসাহিত করে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফেসবুক ওয়েবসাইট কে আইন জটিলতায় পড়তে হয়েছে বেশ কয়েকবার জুকেরবার্গের সহপাঠী কর্তৃক, তারা অভিযোগ এনেছেন যে ফেসবুক তাদের সোর্স কোড এবং অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে।
৩.২ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতাঃ
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ জন্ম নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনসে ১৯৮৪ সালের ১৪ মে। মনোবিজ্ঞানী মা এবং দন্তবিশেষজ্ঞ বাবার একমাত্র ছেলে মার্ক শৈশব থেকেই প্রোগ্রামিংয়ের দারুণ ভক্ত। দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটত তাঁর কম্পিউটারের সামনে। আর্ডসলে হাইস্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন মার্ক। ফেঞ্চ, হিব্রু, লাতিন ও প্রাচীন গ্রিক ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন অল্প সময়ের মধ্যে। শুরুর দিকে পড়াশোনার বিষয় হিসেবে বেছে নেন সাহিত্য। তবে প্রোগ্রামিংই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। বাবাও এ ক্ষেত্রে উৎসাহ দিতে কার্পণ্য করতেন না। শিক্ষক ডেভিড নিউম্যানের কাছে কম্পিউটার পাঠ নিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে পরিপক্ব করে তোলেন মার্ক। করতে থাকেন নানা রকম গেম তৈরি এবং বিভিন্ন সফটওয়্যারের উন্নতির কাজ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে এ চর্চা বেড়ে যায় আরও কয়েক গুণ। এ সময় তাঁর পড়াশোনার বিষয় ছিল কম্পিউটার বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান। পড়াশোনার বাইরে প্রোগ্রাম তৈরির কাজেই নিজেকে বেশি ব্যস্ত রাখতেন মার্ক।

চিত্রঃ মার্ক জুকারবার্গ
এত অল্প বয়সে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ মাথা ঘুরিয়ে দেয়নি মার্কের। উচ্চাভিলাষী কোনো চিন্তাভাবনা নেই তাঁর। হতে চান একজন সাদাসিধা মানুষ। সুযোগ পেলে মা-বাবা, ভাই-বোনকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেটের মতো ধনকুবেরদের সঙ্গে মিলে তরুণ এই প্রযুক্তিবিদ একটি চুক্তি সই করেছেন। নৈতিক ওই চুক্তিতে মার্ক জাকারবার্গ তাঁর জীবনের অর্ধেক সম্পত্তি দাতব্য কাজে দান করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। ফেসবুকের মতোই শ্রেণীবৈষম্যহীন এক বিশ্বের স্বপ্ন দেখেন জাকারবার্গ, যেখানে মানুষের মধ্যে মানবিক গুণগুলো আরও জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠবে।
৩.৩ ফেসবুকের ঐতিহাসিক পটভূমিঃ
 ফেসবুকের জন্মঃ
হার্ভার্ডে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের ওপর পড়াশোনা শুরু করেন জাকারবার্গ। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়ক ‘কোর্সম্যাচ’ নামের একটি সফটওয়্যার তৈরি করেন। কলেজের সুদর্শন তরুণ-তরুণী বাছাই করতে অল্পদিনের মাথায় ‘ফেসম্যাশ’ নামের আরেকটি সফটওয়্যার বানান মার্ক। ছবি দেখে আবেদনময় তরুণ-তরুণী বাছাইয়ের হিড়িক পড়ে যায় গোটা কলেজে। এতে কলেজের ওয়েব সার্ভারে বাড়তি চাপ পড়ে। কর্তৃপক্ষ সাইটটি বন্ধ করে দেয়। শিক্ষার্থীরা দাবি তুললেন, ওই রকম একটি ওয়েবসাইট তাঁদের চাই। যেখানে শিক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা, ছবি ও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য থাকবে। এ কথা শুনে মার্ক প্রতিজ্ঞা করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ করে না দিলে তিনি নিজে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়েই জাকারবার্গের হাতে জন্ম নেয় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের সাইটটি।২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ফেসবুকের উদ্বোধন করেন জাকারবার্গ। গোটা দুনিয়ায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৫৫ কোটি।

 বিকাশঃ
২০০৪:ফেব্রুয়ারিতে হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ফেসবুকের উদ্বোধন করেন এর চার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ, ডাস্টিন মস্কোভিৎজ, চেরিস হুগেস ও এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন। জুনে প্যালো আল্টোতে অফিস নেওয়া হয়। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছায়।
২০০৫: আগস্টে ‘দ্য ফেসবুক ডটকম’ নাম পাল্টে কোম্পানির নাম রাখা হয় শুধু ‘ফেসবুক’। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ লাখ।
২০০৬: কৌশলগত কারণে আগস্টে ফেসবুকের সঙ্গে মাইক্রোসফট সম্পর্ক স্থাপন করে। সেপ্টেম্বর থেকে সর্বসাধারণের জন্য ফেসবুক উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আগে শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই ছিলেন এর ব্যবহারকারী। ডিসেম্বরে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি ২০ লাখে।
২০০৭:ফেব্রুয়ারিতে ভার্চুয়াল গিফট শপ চালু হয়। এপ্রিলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছায় দুই কোটি।
২০০৮: কানাডা ও ব্রিটেনের পর ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স ও স্পেনে ফেসবুকের ব্যবহার শুরু হয়।
 ফেসবুক কার্যালয়ঃ
ক্যালিফোর্নিয়ার প্যালো আল্টোতে ফেসবুকের বিশাল কার্যালয়। টাইম ম্যাগাজিনের এক সাংবাদিক সেখানে গিয়েছিলেন জাকারবার্গের সাক্ষাৎকার নিতে। তাঁর বর্ণনা এমন—অ্যাকুরিয়ামে (সম্মেলনকক্ষটির এমনই নাম দেওয়া হয়েছে) সহকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন মার্ক। সামনে কাগজপত্র নেই। হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছেন। তিন দিকে কাচ দিয়ে ঘেরা বিশাল কক্ষটি গোটা অফিসে তাঁদের গোপনীয়তা রক্ষার একমাত্র স্থান। কারণ অফিসটা একেবারে খোলামেলা। পর্দা ও দেয়ালহীন একটি অফিস। কর্মীরা যেন একজন আরেকজনকে সহজে দেখতে পান, পারস্পরিক ভাব বিনিময় করতে পারেন এ জন্যই এমন ব্যবস্থা। সবার জন্য একই ধাঁচের কম্পিউটার ও আসবাব। এমনকি মার্কের জন্য আলাদা বসার কোনো কামরা নেই। অফিসের ছাদ থেকে ঝুলছে বাহারি রঙের শোপিস। না অফিস, না বাড়ি—এমনই একটি আবহ বিরাজ করছে অফিসজুড়ে।

 এশিয়ার দেশগুলোতে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহারকারীর তুলনামূলক চিত্রঃ সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর অন্তর্নিহিত শক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে নেই এশিয়ার দেশগুলো। আর্থ-সামাজিক দিক থেকে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও সোস্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহারে বরং এই দেশগুলো অনেক এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের চেয়েও। যেমন গত বছর গ্লোবাল ওয়েব ইনডেক্স-এর তথ্য অনুযায়ী সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহারকারীর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীন, যাদের মোট ব্যবহারকারী ১৫৫ মিলিয়নেরও বেশি। এর পরের স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
পরের স্থানগুলোতেও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ। ব্যবহারকারীর সংখ্যার পরিবর্তে জনসংখ্যার শতকরা হারের প্রসঙ্গে আবার রয়েছে এশিয়ার দেশগুলোর ভালো প্রাধান্য। যেমন সোস্যাল নেটওয়ার্ক সার্ভিস ব্যবহারকারীর সংখ্যা ইন্দোনেশিয়ার মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রায় ৮০ ভাগ। এসব সোস্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছে ফেসবুকের মতো সোস্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম, বিভিন্ন ব্লগিং সাইট, টুইটারের মতো মাইক্রোব্লগিং সাইট প্রভৃতি। এর পরের দুইটি স্থানও এশিয়ার দুইটি দেশের দখলে। এই দুইটি দেশ হচ্ছে ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়া। ফিলিপাইনে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৭৮.৮৮ শতাংশ ব্যবহার করে সোস্যাল নেটওর্য়াকিং সাইট। আর মালয়েশিয়াতে এই সংখ্যা ৭২.৫৭ শতাংশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এদিকে আরো এগিয়ে রয়েছে ভারত (৬৮.৩৫%), চীন (৬৭.৫২%), সিঙ্গাপুর ৬৩%), হংকং (৫৮.৭২%), দক্ষিণ কোরিয়ার (৫০%) প্রভৃতি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সার্ভিস ব্যবহারকারীর সংখ্যা মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর যথাক্রমে ৫৫% এবং ৪৮%।

 বাংলাদেশের অবস্থানঃ
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশেও ইন্টারনেটের ব্যবহারের বিস্তৃতি ঘটেছে। শুধু ইন্টারনেটই নয়, সামগ্রিকভাবেও বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের এগিয়ে গেছে অনেকটাই। তারপরেও বৈশ্বিক বিবেচনায় এই অগ্রগতি অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব বেশি নয়। দেশের ঢাকা, চট্টগ্রামের বাইরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য না হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। তবে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে মোবাইল ব্রডব্যান্ড এবং
ওয়াইম্যাক্স দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এর প্রভাব পড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যায় এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যাতেও। গত বছরের আগস্টেও যেখানে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ০.৬%, বর্তমানে এই পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ১%। অর্থাৎ এই সময়ে প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে ফেসবুক ব্যবহারকারী। বাংলাদেশেও ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একে ব্যবহার করছেন নিজেদের মত প্রকাশের অন্যতম প্রধান একটি মাধ্যম হিসেবেই। সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর অগ্রগামী ভূমিকা তাই এদেশের জন্যও ইতিবাচক হয়ে দেখা দিতে পারে।

 ফেসবুক তথ্য কণিকাঃ
মার্ক জুকারবার্গ বর্ণান্ধ। লাল-সবুজ রং ভালো দেখতে পান না। তবে নীল রংটা ভালো দেখেন। তাই ফেসবুকে নীল রঙের এত আধিক্য। সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫ কোটি। এর মধ্যে সাড়ে তিন কোটি ব্যবহারকারী রোজ তাদের স্ট্যাটাস হালানাগাদ করে। প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি স্ট্যাটাস আপডেট হয়। মাসে ২৫০ কোটির বেশি ছবি রাখা হয় ফেসবুককে। মার্কিনরা ফেসবুকের পেছনে বছরে এক হাজার ৩৯০ কোটি মিনিট ব্যয় করে। ফেসবুক একটি দেশ হলে এটি হতো চীন ও ভারতের পর পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যা-অধ্যুষিত দেশ। সিরিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও ইরানে ফেসবুক নিষিদ্ধ।
৩.৪ ফেসবুকের মৌলিক প্রত্যয়ঃ
 চ্যাটিং: ফেসবুকের অন্যতম উপাদান হলো চ্যাটিং অপশন। এটি হলো অনলাইনে থাকা কোন বন্ধুর সাথে টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের একটি মাধ্যম।

চিত্রঃ চ্যাটিং অপশন
 স্ট্যাটাসঃ
এটি হলো ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনের কথা জানানোর অন্যতম মাধ্যম। এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী তার সকল বন্ধুর কাছে একসাথে কোন কিছু জানাতে পারে।
 ফটো এবং ভিডিও শেয়ারিং:
এটির মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারী তার বন্ধুদের কাছে ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করতে পারে।

চিত্রঃ ফেসবুক আসক্তি
বেশীক্ষণ অফ-লাইন থাকলে তাদের মাঝে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়, মাদকাসক্তদের যেমন কয়েক ঘন্টা মাদক না নিলে দেখা দেয় শারীরিক-মানসিক নানা উপসর্গ বা ‘উইথড্রল সিম্পটম’- চলতি বাংলায় আসক্তরা যাকে বলে ‘ব্যাড়া ওঠা’। মাদক আবার গ্রহণ করলেই যেমন উইথড্রল সিম্পটম চলে যায়, ফেসবুক -আসক্তরা আবার অন-লাইন হলেই স্বস্তি বোধ করে। অনেক মাদকাসক্ত যেমন বাস্তব-জীবনের বেদনা-কষ্টকে ভুলে থাকতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও অন্য জগতে হারিয়ে যাওয়ার জন্য মাদকের আশ্রয় নেয়, তেমনি এই ভার্চুয়াল জগতও বাস্তব থেকে পালিয়ে ফ্যান্টাসীতে বুদ হয়ে থাকার অনন্য মাধ্যম।

6 Responses

  1. What a awesome blog this is. Look forward to reading this again tomorrow.

    Like

  2. I am a keen letter writer, and would appreciate to know if there is anyway of creating a letter writing community by means of this. Creative letter writers writing to creative letter writers the earth over. I will reply to all those who wish to write and not just receive. 51 Lavender Sweep, London SW11 1DY. England

    Like

  3. Fantastic job Karen. Truly I like social media and it’s plugin connects me much better with targeting visitors and let them know you treatment. I got the idea seriously spectacular. I guess it’s truly important to know that all of us. Many thanks!
    Chelsea Roberts recently posted..Selling Cars > Could Selling Your Car Provide Much Needed Cash?

    Like

  4. Hey there, I think your website might be having browser compatibility issues. When I look at your website in Chrome, it looks fine but when opening in Internet Explorer, it has some overlapping. I just wanted to give you a quick heads up! Other then that, great blog!

    Like

  5. Hey just wanted to give you a quick heads up. The words in your content seem to be running off the screen in Safari. I’m not sure if this is a format issue or something to do with web browser compatibility but I thought I’d post to let you know. The design and style look great though! Hope you get the problem fixed soon. Thanks

    Like

  6. Woah! I’m really loving the template/theme of this blog. It’s simple, yet effective. A lot of times it’s tough to get that “perfect balance” between superb usability and appearance. I must say that you’ve done a superb job with this. In addition, the blog loads extremely fast for me on Chrome. Excellent Blog!

    Like

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: