Research 1

গবেষণা পদ্ধতি

সমাজ গবেষণার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত প্রশ্ন এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। আর তাই সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণায় বিভিন্ন পদ্ধতির একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। গবেষণার স্থর ভিত্তিক উন্নয়নের উপায়, তথ্য বা উপাত্ত সংগ্রহের সাথে জড়িত নিয়ম ও কৌশল, তথ্য বিশ্লেষণের বিভিন্ন উপায় ও কৌশল গবেষণা পদ্ধতির অন্তর্ভূক্ত। বর্তমান অধ্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সাথে জড়িত পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

পদ্ধতি বলতে আমরা এখানে এমন কিছু পরস্পর বৈশাসদৃশ্যপূর্ণ উপায় আলোচনা করব যেগুলো একাধিক কৌশলের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ভাবে পরিচিত স্বয়ংসম্পূর্ণ উপায়। কোন বিশেষ গবেষণাকর্মে যেমন একাধিক পদ্ধতির সমাবেশ ঘটতে পারে, তেমনি আবার বিভিন্ন পদ্ধতি উপাদান হিসেবে কোন একটি কৌশল অন্তর্ভূক্ত থাকতে পারে।

২.১ গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতিঃ
গবেষণা পদ্ধতির মৌলিক উপাদান হলো গবেষণার বিষয়বস্তুকে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিচার বিশ্লেষণ করা। প্রকৃতভাবে যা পর্যবেক্ষণ করা হয় তার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই গবেষণা পদ্ধতির দ্বারা সামাজিক আচার আচরণের ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। সামাজিক বাস্তবতাকে কিভাবে দেখা উচিত, এর স্বরূপ কেমন করে দেখা যুক্তি সঙ্গত হবে এবং কি ধরণের তাত্ত্বিক অভিমূখীতা তথ্য সংগ্রহের জন্য গবেষককে অনুপ্রাণিত করবে- সে বিষয়ে আলাদা কিছু দৃষ্টিকোণকে পদ্ধতি তাত্ত্বিক অভিমূখীতা আলোচনায় আনা হবে।

আমরা পদ্ধতি ও পদ্ধতি তাত্ত্বিক অভিমূখীতা আলাদা ভাবে সজ্জিত না করলেও উভয় প্রকৃতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরার চেষ্টা করব। সামাজিক সমস্যাবলী পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের জন্য কতগুলো গবেষণা বিদ্যমান-  মৌলিক গবেষণা
 ফলিত গবেষণা
 সংখ্যাত্মক গবেষণা
 গুণাত্মক গবেষণা
 উদঘাটনমূলক গবেষণা
 ব্যাখ্যামূলক গবেষণা
 বর্ণনামূলক গবেষণা
 বিশ্লেষণমূলক গবেষণা
 আন্তসম্পর্কীয় গবেষণা

আমার গবেষণার বিষয়বস্তু বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ শ্রেণীর অর্থাৎ যারা ফেসবুক ব্যবহার করে তাদের নিয়ে করা হয়েছে। আমি আমার গবেষণায় মূলত ফেসবুকের প্রতি মানুষের আসক্ত হওয়ার করণগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি এবং ফেসবুকের প্রতি মানুষ কেন আসক্ত হচ্ছে অর্থাৎ ফেসবুকে কি এমন জিনিস বা উপাদান আছে যার জন্য মানুষ এত ব্যাপকহারে ফেসবুকের প্রতি নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে তার কারণগুলো বের করে তার বিশ্লেষণমূলক আলোচনাও আছে।

২.২ গবেষণা এলাকাঃ
বর্তমানে ফেসবুক সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে আছে। যুবসমাজ থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর মানুষ ফেসবুকের সাথে পরিচিত আছে। আর্থ-সামাজিক দিক থেকে ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো অন্তর্নিহিত শক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে নেই এশিয়ার দেশগুলোর।

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশেও ইন্টারনেট ব্যবহারে বিস্তৃতি লাভ করেছে। বাংলাদেশেও ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ফেসবুককে মত প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে নিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাও এদিক থেকে পিছিয়ে নেই। বর্তমানে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং মোবাইলে ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ায় তারা ব্যাপকভাবে ফেসবুক ব্যবহারের প্রতি ঝুকে পড়েছে। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আমার গবেষণার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নিয়েছি।

২.৩ গবেষণার সময়কালঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের একজন নিয়মিত ছাত্র হিসেবে গবেষণা কার্য পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গবেষণার জন্য প্রথমেই আমার শ্রদ্ধেয় স্যারের নেতৃত্বে গবেষণার বিষয়বস্তু ঠিক করে নেই। অবশ্য বিষয়বস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়। এরপর গবেষণা প্রস্তাবনা পেশ করি। তারপর প্রস্তাবনার কিছু ভুল ত্রুটি ধরা পড়ে, এবং সেগুলো সংশোধনের পর গবেষণার তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশ্নমালা তৈরী করি। প্রশ্নমালা তৈরী করে তথ্য সংগ্রহ করতে প্রায় ৯-১০ দিন সময় লাগে। তথ্যগুলো সংগ্রহের পর সেগুলো বিশ্লেষণ করতে ৫-৬ দিন সময় লাগে। তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে পরবর্তীতে গবেষণা রিপোর্ট পেশ করি।

২.৪ নমুনায়নঃ
সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণায় নমুনা নির্বাচন প্রায় অবিচ্ছেদ্য। ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষেও এখন সমগ্র জনসংখ্যার উপর জরিপ বা শুমারী ব্যয়বহুল ব্যাপার। যে পদ্ধতিতে গবেষণার জন্য চিহ্নিত জনসংখ্যার মধ্য থেকে নমুনা নির্বাচন করা হয় তাকে নমুনায়ন বলে। আবার এভাবেও বলা যায়, নমুনায়ন হলো এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় সমগ্রকের একটি অংশের উপর গবেষণা পরিচালনা করে সমগ্রকের কোন বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য এবং যথার্থ অনুমান করা হয়। কোন বিষয় বা সমস্যা, বিশেষ করে সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে গবেষণা দুভাবে করা হয়-

 ঐ সমস্যার সাথে সম্পর্কিত জনসমষ্টির উপর অনুসন্ধান বা জরিপ।  উক্ত সমস্যার সাথে সম্পর্কিত জনসমষ্টির প্রতিনিধিত্বমূলক অংশের উপর জরিপ।

 সমগ্রকঃ াবে একটি অনুসন্ধানের আওতাভূক্ত বিশ্লেষণের একক সমুদয় হল সমগ্রক। অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট গুণাবলী বিশিষ্ট প্রাণী, বস্তু, বিষয় বা ঘটনা সমারোহকে সমগ্রক বলা হয়।
 এককঃ একটি নমুনায়ন নির্বাচিত কোন সমগ্রকের প্রতিটি উপাদানকে একক বলা হয়।
আমার গবেষণাও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নমুনায়ন ব্যবহার করা হয়েছে। আমার এ গবেষণায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী সমগ্রক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত ছিল। কিন্তু এত বিশাল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর কাছে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা যেমন ব্যয়বহুল তেমনি সময় সাপেক্ষ। তাই আমি নমুনায়ন হিসেবে ২০ জন ছাত্র ছাত্রীর উপর গবেষণা কার্য পরিচালনা করেছি।

২.৫ চলকঃ
গবেষণার মাধ্যমে প্রাণী ও বস্তু জগতের বিভিন্ন বিষয় বা বস্তুর বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই বৈশিষ্ঠ্যগুলো একটি একক হতে অন্য এককে পরিবর্তনযোগ্য। একটি পরিমাণগত বৈশিষ্ঠ্য যা এক ব্যক্তি হতে অপর ব্যক্তিতে পরিবর্তনযোগ্য তাকে চলক বলা হয়। যেমন- উচ্চতা, ওজন, আয়, বয়স ইত্যাদি বৈশিষ্ঠ্যগুলো এক ব্যক্তি হতে অন্য ব্যক্তিতে পার্থক্য থাকতে পারে এবং এগুলোর পরিমাণ সংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা সম্ভব- তাই এগুলোকে চলক বলা হয়।

কিন্তু এমন কতগুলো বৈশিষ্ঠ্য যা সংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা যায় না, যেমন- মানুষের গোত্র, বর্ণ, চোখের রং, চুলের বর্ণ ইত্যাদি, এগুলো চলকের আওতায় পড়ে না।

এই গবেষণায় কিছু চলকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যেমন- মানসিক অশান্তি, অনিন্দ্রা, নোশাগ্রস্থ হওয়া, উচ্ছৃঙ্খলতা, অতিমাত্রায় ফেসবুকের প্রতি আসক্তি ইত্যাদি। চলক সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে-
 স্বাধীন চলক
 অধীন চলক

 স্বাধীন চলকঃ স্বাধীন চলক হলো, সেই সমস্ত বিষয়, অবস্থা বা বৈশিষ্ঠ্য যা গবেষক অন্য বিষয়, অবস্থা বা বৈশিষ্ঠ্যের উপর তা প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া বা সম্পর্ক নির্ধারণের জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে ব্যবহার করেন বা নিয়ন্ত্রণ করেন।

আমার এই গবেষনায় উল্লেখযোগ্য স্বাধীন চলকগুলো হলো- অতিমাত্রায় ফেসবুকের প্রতি আসক্তি, মানসিক অশান্তি, সামাজিক বা পারিবারিক কলহ, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ইত্যাদি।

 অধীন চলকঃ অধীন চলক হলো সেই সমস্ত অবস্থা বা বৈশিষ্ঠ্য যা স্বাধীন চলকের প্রভাবে সৃষ্টি হয়, পিরিবর্তিত হয় বা অদৃশ্য হয়।

এই গবেষণার উল্লেখযোগ্য অধীন চলকগুলো হলো- নেশাগ্রস্থ হওয়া, সামাজিক অপকর্ম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব, হতাশা, উচ্চ আকাঙ্খা ইত্যাদি।

২.৬ তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিঃ
সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণায় তথ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিক এবং নির্ভুল তথ্যই গবেষণাকে সফল করতে পারে। সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণায় মানুষের প্রতিক্রিয়া লিপিবদ্ধ করণ প্রক্রিয়ার ফলাফলই হলো তথ্য। অর্থাৎ যন্ত্রপাতি বা প্রশ্নমালার মাধ্যমে মানুষের আচরণ বা বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে আমরা যা সংগ্রহ করি তাই হলো তথ্য। তবে তথ্যের দুটি উৎস থাকতে পারে –  প্রাথমিক উৎস
 গৌণ উৎস

 প্রাথমিক উৎসঃ পরীক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণ থেকে সরাসরিভাবে প্রাপ্ত তথ্যকে প্রাথমিক তথ্য বলা হয়।

 গৌণ উৎসঃ বই, পত্র, সাময়িকী গবেষণার প্রতিবেদন ইত্যাদিতে লিখিত আকারে প্রাপ্ত তথ্যকে গৌণ তথ্য বলা হয়।

আমার গবেষণায় এই দুই ধরণের তথ্যই ব্যবহার করা হয়েছে। রাজশাহী
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিভিন্ন বই, পত্র, পত্রিকা, সাময়িকী গবেষণা পত্র, ওয়েবসাইট ইত্যাদির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহের কৌশল হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞানে কতগুলো পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। যেসব পদ্ধতি সামাজিক বিজ্ঞানে বেশি ব্যবহৃত হয় এখানে সেগুলো দেয়া হলো –  পরীক্ষণ পদ্ধতি
 পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি
 সাক্ষাৎকার পদ্ধতি
 প্রশ্নমালা পদ্ধতি
 ঘটনা অনুধাবন পদ্ধতি
 বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ পদ্ধতি

আমার এ গবেষণার তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রধানত প্রশ্নমালা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। যেহেতু এই গবেষণার তথ্য প্রদান কারীরা শিক্ষিত তাই আমি কিছু নির্ধারিত প্রশ্নমালা এবং উন্মুক্ত প্রশ্নমালা ব্যবহার করেছি।প

32 Responses

  1. Wow, incredible blog layout! How long have you been blogging for? you made blogging look easy. The overall look of your website is fantastic, let alone the content!. Thanks For Your article about Research 1 | wifibd .

    Like

  2. Wow, wonderful blog layout! How long have you been blogging for? you make blogging look easy. The overall look of your website is magnificent, let alone the content!. Thanks For Your article about Research 1 | wifibd .

    Like

Leave a comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: